📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 পরাজিত কুবাজ

📄 পরাজিত কুবাজ


ওয়াকেদী বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর থেকে মুহাম্মদ বিন আবি হামিদ এবং তাঁর থেকে আবদুল্লাহ বিন আমর বিন উমাইয়া বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর পিতা আমর বিন উমাইয়াকে বদরের যুদ্ধে পরাজিত মুশরেকদের একজন বললো যে, এই পরাজয়ে তারা খুব বিস্মিত হয়েছিল। পরাজিত হয়ে তারা মক্কার দিকে পালাচ্ছিল এবং মনে মনে বলছিল যে, এ ধরণের পরাজয়তো মহিলারাই স্বীকার করতে পারে।
কুবাছ ইবনে আশিমুল নিকনানী বলতেন যে, সে বদরের যুদ্ধে মুশরেকদের সঙ্গে অংশ নিয়েছিল। তার বর্ণনা হলো, "আমি দেখলাম যে মুহাম্মদের (সঃ) সাথীদের সংখ্যা খুবই কম এবং আমাদের পদাতিক ও অশ্বারোহী সৈন্যের সংখ্যা অনেক বেশী। অতপর আমি পরাজয়ের দৃশ্য দেখলাম এবং আমিও পলায়নকারীদের সঙ্গে পালালাম। আমি মুশরিকদের প্রত্যেকের চেহারার দিকে তাকালাম এবং মনে মনে বললাম, "এ ধরনের পরাজয় তো আমি কখনো দেখিনি। মহিলারাইতো এভাবে পালিয়ে থাকে।”
আমি পালাচ্ছিলাম এবং ভয়ও পাচ্ছিলাম যে, কোথাও ধরা না পড়ে যাই। সাধারন রাস্তা ছাড়া আমি অপরিচিত রাস্তা ধরলাম। গাইকা নামক স্থানে আমার কওমের এক ব্যক্তির সাথে আমার দেখা হলো এবং সে আমার অবস্থার কথা জিজ্ঞাস করলো। আমি বললাম, "কি জিজ্ঞাসা করো?" আমাদের লোকজন ধরাশায়ী হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আমরা শোচনীয় ভাবে পরাজয় বরণ করেছি। তুমি কি আমাকে তোমার সওয়ারীর ওপর নেবে?”
সে আমাকে তার সওয়ারীর ওপর তুলে নিল এবং পথ চলার পাথেয় দিল। আমরা জুহফা পৌঁছলাম। অতপর আমি মক্কা প্রবেশ করলাম। মক্কা প্রবেশের পূর্বে আমি গামিম নামক স্থানে হাইসুমান ইবনে হাবিসুল খাজায়ী কে দেখলাম। আমার জানা ছিল যে, সে তাড়াতাড়ী মক্কা পৌঁছে কতলে আমের বা ব্যাপক হত্যাকান্ডের খবর দেবে। আমি ভাবলাম যে, এই দুঃসংবাদ আমার পূর্বেই তার মুখে শুনুক। আমি থেমে গেলাম এবং সে আমার পূর্বেই মক্কায় প্রবেশ করলো। সে মক্কা বাসীকে তাদের নিহতদের খবর শুনালো। তারা কান্নাকাটি ও বুক চাপড়াতে লাগলো এবং সঙ্গে সঙ্গে খাজায়ীকে গালি দিতে লাগলো। সে তাদেরকে ভালো কোন খবর শুনানোর পরিবর্তে কোমর ভেঙ্গে দেয়ার খবর শুনালো।
কুবাছ বলেন, খন্দকের যুদ্ধের পর আমার অন্তরে কিছুটা পরিবর্তন সূচিত হলো। অমি চিন্তা করলাম যে মদীনা যাবো এবং দেখবো যে মুহাম্মদ (সঃ) কি বলেন। আমার অন্তরে ইসলামের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হয়েছিল। সেখানে পৌঁছে হুজুরের (সঃ) ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। লোকজন আমাকে বললো যে, তিনি মসজিদের দেয়ালের ছায়ায় বসে আছেন। তাঁর সঙ্গে সাহাবার (রাঃ) একটি দলও ছিল। আমি সেখানে পৌঁছলাম। সাহাবীদের মধ্যে আমি তাঁকে চিনতে পারলাম না। সালাম করলাম। হুজুর (সঃ) বললেন, "হে আশিমের পুত্র কুবাছ। তুমি বদরের দিন বলে ছিলে যে, " এমন পরাজয় তো আমি কখনো দেখিনি। মহিলারাইতো এভাবে ভেগেথাকে।”
আমি তাঁর মুখে এ কথা শুনতেই কালেমায়ে শাহাদাত পড়লাম এবং বললাম, "আমিতো এই কথা মনে মনেই বলেছিলাম এবং কারোর সামনেই তা প্রকাশ করিনি। আপনি যদি আল্লাহর নবী না হতেন তাহলে এই ঘটনার খবর আপানি কখনই পেতেন না। আল্লাহ আপনাকে এ কথা বলেছেন। আপনি আপনার হাত বাড়িয়ে দিন যাতে আমি বাইয়াত করতে পারি। তিনি আমার সামনে ইসলামের মৌলিক নীতিমালা এবং শিক্ষা পেশ করলেন এবং আমি ইসলামে প্রবেশ করলাম।"

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 নাজ্জাশীর মৃত্যু

📄 নাজ্জাশীর মৃত্যু


ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহায়ের বিন হারব থেকে, তিনি ইয়াকুব বিন ইবরাহীম থেকে, তিনি সালেহ থেকে এবং তিনি ইবনে শিহাব থেকে শুনেছেন।
ইবনে শিহাব এই রাওয়ায়েতে আবু সালমা বিন আবদূর রহমান এবং ইবনুল মুসাইয়িবের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন যে, তাদের উভয়কেই হযরত আবু হুরায়রাহ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, যেদিন হাবশার বাদশা নাজ্জাশীর মৃত্যু হলো সেদিন হুজুর (সঃ) সাহাবীদেরকে (রাঃ) এই ঘটনার খবর দিলেন এবং বললেন, "নিজের ভাইয়ের জন্য মাগফিরাত কামনা কর।"
মুসা বিন উকবা নিজের মাতা থেকে এবং তিনি উম্মে কুলছুম বিনতে আবি সালমা থেকে বর্ণনা করেন যে, হুজুরে পাক (সঃ) যখন হযরত উম্মে সালমাকে (রাঃ) বিয়ে করেন তখন তাঁকে বলেছিলেন যে, "আমি একটি রেশমী হুল্লাহ বা চাদর এবং কয়েক আওকিয়া মিশক উপঢৌকন স্বরূপ নাজ্জাশীর নিকট প্রেরণ করছি। কিন্তু আমার যেন মনে হয় যে, নাজ্জাশী বাদশাহর মৃত্যু ঘটেছে এবং আমার উপঢৌকন ফিরে আসবে। এই উপঢৌকন ফিরে আসলে হুল্লাহটি তুমি নেবে।
যেভাবে হুজুর (সঃ) ইরশাদ করলেন সেই অনুযায়ী নাজ্জাশী মারা গিয়েছিলেন এবং হুজুরের (সঃ) উপঢৌকন ফিরে এসেছিল। হুজুর (সঃ) নিজের প্রত্যেক স্ত্রীকে এক এক আন্তকিয়া মিশক দিলেন এবং অবশিষ্ট সকল মিশক ও হুল্লাহ উন্মে সালমাকে দিলেন।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 নজীদ মহিলা

📄 নজীদ মহিলা


তিনি হলেন উম্মে ওয়ারকা বিনতে আবদুল্লাহ বিন হারিছ বিন উয়াইম আনসারিয়া। হুজুরে আকরাম (সঃ) তাঁদের বাড়ীতে প্রায়ই যেতেন এবং তাঁকে শহীদ মহিলা হিসেবে ডাকতেন। বদর যুদ্ধের সময় তিনি হুজুরের (সঃ) নিকট আরজ করেছিলেন, " হে আল্লাহর রাসূল। আমাকে যুদ্ধে অংশ গ্রহণের সুযোগ দিন। আমি আহতদের চিকিৎসা করবো। সম্ভবত আল্লাহ তায়ালা আমাকেও শাহাদাতের মর্যাদা দিতেপারেন।"
হুজুর (সঃ) ইরশাদ করলেন, আল্লাহ তায়ালা তোমাকে শাহাদাত দান করবেন। তুমি বাড়ীতে আরামের সঙ্গে বসে থাকো। তুমি শহীদ।"
হুজুর (সঃ) এই সাহাবিয়াকে নিজের পরিবার পরিজন এবং নিকট প্রতিবেশী মহিলাদেরকে বাড়ীতে জামায়াতের সঙ্গে নামায পড়ানো এবং নিজে ইমামতি করার বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর একজন মুয়াজ্জিনও ছিল। তাঁর নিকট একজন গোলাম এবং একজন দাসী ছিল। তিনি তাদেরকে বলে রেখেছিলেন যে, তাঁর ওফাতের পর তারা আযাদ হয়ে যাবে। তারা উভয়ে ষড়যন্ত্র করে সেই সাহাবিয়াকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এটা ছিল হযরত ওমরের (রাঃ) খিলাফতকাল। তিনি হত্যাকারীদেরকে পাকড়াও করে হাজির করার নির্দেশ দিলেন। তাদেরকে গ্রেফতার করে আনা হলো এবং শূলে চড়ানো হলো। মদীনায় এটাই ছিল প্রথম ফাঁসি।
হযরত ওমর (রাঃ) উম্মে ওয়ারকার (রাঃ) শাহাদাতে বললেন, "হুজুর (স): ঠিকই বলেছিলেন। তিনি প্রায়ই বলতেন, এসো শহীদের নিকট হাজিরা দিয়ে আসি।"

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 রাসূলে পাকের (সাঃ) জ্ঞাত থাকা

📄 রাসূলে পাকের (সাঃ) জ্ঞাত থাকা


ইমাম বুখারী (রঃ) আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ, মালিক, আবিজ জিনাদ, আ'রাজ এবং হযরত আবু হুরায়রার (রাঃ) মাধ্যম দিয়ে হুজুরের (সঃ) হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ফরমিয়েছেন, "তোমরা কি এখানে আমাকে কিবলামুখী হতে দেখছো। খোদার কসম! আমার নিকট থেকে তোমাদের খুশু এবং খুজু ও রুকু-সিজদা অবশ্যই গোপন থাকেনা। আমি আমার পেছনেও দেখতে পারি।”
ইমাম বুখারী (রঃ) ইয়াহিয়া বিন সালেহ থেকে তিনি ফালিহ বিন সোলায়মান থেকে তিনি হিলাল বিন আলী থেকে তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হুজুর (সঃ) আমাদেরকে নামায পড়ালেন। অতপর তিনি মিম্বারে দাঁড়িয়ে বললেনঃ "আমি যেভাবে তোমাদেরকে সামনে দেখতে পাই তেমনি তোমাদেরকে নামাযে ও রুকুতে পেছনেও দেখতে পাই।”

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00