📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 ওহোদ পাহাড়ের কম্পন

📄 ওহোদ পাহাড়ের কম্পন


ইমাম বুখারী (রঃ) রাওয়ায়েত করেছেন যে, তিনি মুহাম্মদ বিন বাশার থেকে তিনি ইয়াহিয়া বিন সাঈদ থেকে তিনি কাতাদাহ (রাঃ) থেকে এবং তিনি হযরত আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে শুনেছেন যে, একবার হুজুরে আকরাম (সাঃ) ওহোদ পহাড়ের ওপর উঠলেন। তার সঙ্গে ছিলেন আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) ওমর ফারুক (রাঃ) এবং ওসমান গনি (রাঃ)। তিনি যখন পাহাড়ে উঠলেন তখন পাহাড় কাঁপতে লাগলো। তিনি বললেন, "হে ওহোদ। অটল থাকো এবং শান্ত হও। অবশ্যই তোমার ওপর এক নবী (সাঃ) এক সিদ্দিক (রাঃ) এবং দুই শহীদ রয়েছেন।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 সুয়ায়েকের অদ্ভুত মোচন

📄 সুয়ায়েকের অদ্ভুত মোচন


ইবনে আব্দুল বার, ইবনে আমি শাইবা, মুহাম্মদ বিন বাশারুল আবদি আব্দুল আজিজ বিন ওমর এবং সালমান বিন সায়াদ এক ব্যক্তির হাওয়ালা দিয়ে বর্ণনা করেছেন যে, হাবিব বিন ফুয়ায়েকের এক ভাগেনেয় হাবিবের নিকটে নিজের পিতা ফুয়ায়েকের ব্যাপারে এই রাওয়ায়েত শুনেছেন। তিনি বলেন যে, তার পিতা ফুয়ায়েক যখন রাসূলের (সাঃ) খিদমতে হাজির হলেন, তখন তাঁর চোখ সাদা হয়ে গিয়েছিল। এবং দৃষ্টি শক্তি সম্পূর্ণরূপে লোপ পেয়েছিল।
রাসূলে পাক (সাঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তাঁর দৃষ্টি শক্তি কি করে লোপ পেয়েছে। তিনি জবাব দিলেন যে, তিনি একটি উটের উপর সওয়ার ছিলেন। এমন সময় এক স্থানে পড়ে গেলেন। নীছে ছিল সাপের ডিম। পড়তেই তার দৃষ্টি শক্তি লোপ পেয়ে গেল। একথা শুনে নবীয়ে আকরাম (সাঃ) তাঁর চোখের উপর ফুঁ দিলেন এবং সেই মুহুর্তেই তার দৃষ্টি শক্তি পুনরায় ফিরে এলো।
হাবিব বলতেন, আমি আমার পিতাকে দেখেছি। যদিও তাঁর চোখ সম্পূর্ণরূপে সাদা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু দৃষ্টি এত শক্তিশালী ছিল যে, তিনি সূঁচে সুতো পরাতেন। সে সময় তাঁর বয়স ৮০ বছর।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 পরিত্যক্ত কূপ

📄 পরিত্যক্ত কূপ


যুহরী বর্ণনা করেছেন যে, হুজুরে আকরাম (সাঃ) যখন ওমরার জন্য মদীনা থেকে বের হলেন এবং রাবেগ ও মক্কার মধ্যবর্তী আসফান নামক স্থানে পৌঁছলেন তখন তিনি বাশার বিন সুফিয়ানুল কাবীকে সেখানে পেলেন। তিনি বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল।' কোরেশরা অপনার রওয়ানার কথা জেনে ফেলেছে এবং তারা আপনার পথে বাধা দানের জন্য বের হয়ে পড়েছে। তাদের সঙ্গে মহিলা ও শিশুও রয়েছে এবং তারা চিতাবাঘের চামড়ার পোশাক পরে আছে। অর্থাৎ এর মাধ্যমে তারা প্রকট শত্রুতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। তারা জিতুয়া উপত্যকায় পৌঁছেছে এবং পরস্পর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, তারা আপনাকে কোনক্রমেই মক্কায় প্রবেশ করতে দেবে না। তারা ঘোড় সওয়ার দলগুলোর কমান্ড খালিদ বিন ওয়ালিদের দায়িত্বে ন্যস্ত করেছে এবং সে তাদের আগে কিরায়ুল গামিমে পৌঁছে গেছে।
এই খবর শুনে হুজুর (রাঃ) বললেন, কোরেশদের জন্য আফসোস। যুদ্ধ আগেই তাদের মেরে ফেলেছে এবং এখনো তাদের হুশ ফেরেনি। তাদের হয়েছে কি। তারা যদি বুদ্ধি দিয়ে কাজ করতো তাহলে আমার বিরোধীতার পরিবর্তে আমাকে ছেড়ে দিত। যদি আরবের অবশিষ্ট গোত্রসমূহ এবং সরদারদের সঙ্গে আমাকে মোকাবিলা করতে দিত, তাহলে হয় সেই সব গোত্র আমাকে শেষ করে দিত এবং কোরেশের অন্তরের বাসনা পূরণ হতো। আর যদি আল্লাহ- তায়ালা আমাকে তাদের ওপর বিজয় দিতেন তাহলে এরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে ইসলামে দাখিল হতো অথবা ইসলাম গ্রহণ করতে না চাইলে লড়াইয়ের মাধ্যমে আমার মুকাবিলা করতো। এই অবস্থায় তাদের শক্তি বেশীহতো। এখন কোরেশরা কি মনে করে? খোদার কসম। আমি এই দীনেহকের জন্য জিহাদ অব্যাহত রাখবো। তাতে এই দীন হয় বিজয়ী হবে অথবা আমার জীবন শেষ হবে।"
অতপর তিনি (সাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, "এমন কোন ব্যক্তি আছে কি? যে, এমন রাস্তার সন্ধান দেবে যে, রাস্তা হবে ভিন্ন। যে রাস্তায় কোরেশরা আসছে না।”
ইবনে ইসহাক বলেন যে, আবদুল্লাহ বিন আবকার তাঁকে বললেন, বনু অসলামের এক ব্যক্তি বলেছে, "হে আল্লাহর রাসূল! আমি এই খিদমত আঞ্জাম দিব।” অতপর সেই ব্যক্তি গিরিপথের মাঝখান দিয়ে একটি কঠিন ও প্রস্তরময় রাস্তার সন্ধান দিল। লোকজন সেই রাস্তা দিয়ে চললো এবং মুসলমানদেরকে কঠিন কষ্ট স্বীকার করতে হলো। অবশেষে তারা সমতল ভূমিতে এসে পৌঁছলেন এবং উপত্যকা থেকে বাইরে বেরিয়ে এলেন।
সে সময় রাসূলে আকরাম (সাঃ) লোকদেরকে বললেন, "বেশী বেশী তওবা ও ইসতিগফার করো।” লোকজন ইসতিগফার করতে লাগলেন। তিনি বললেন, "আল্লাহ তায়ালা বনি ইসরাইলকে হিত্তার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তা প্রকৃতপক্ষে ইসতিগফারেরই নির্দেশ ছিল। কিন্তু সেই কওম সেই নির্দেশ তামিল করেনি।
ইবনে শিহাব বলেন, নবী পাক (সাঃ) লোকদেরকে ডাইনের দিকের রাস্তা ধরে আল মারারের চূডার ওপর দিয়ে মক্কার একদম নীচে হুদায়বিয়াতে পৌঁছে যাবার নির্দেশ দিলেন। মুসলমানরা সেই রাস্তা দিয়ে যখন হুদায়বিয়া পৌঁছলেন এবং কোরেশ বাহিনী মেঘের মত ধূলো উড়তে দেখলো তখন বুঝতে পারলো যে মুসলমানরা নিজেদের রাস্তা পরিবর্তন করে নিয়েছে। অতএব তারা মক্কার দিকে ফিরে গেল।
ছানিয়াতুল মারার নামক স্থানে হুজুরের (সাঃ) উটনি বসে পড়লো। লোকজন বললো শ্রান্ত হয়ে উটনি বসে পড়েছে। কিন্তু হুজুর (সাঃ) বললেনঃ "ক্লান্ত হয়ে সে বসেনি বরং সেই সত্ত্বাই তাকে বাধা দিয়েছেন যে সত্ত্বা মক্কায় হাতিদের প্রবেশে বাধা দিয়েছিলেন। কোরেশরা যদি অজও যুক্তিযুক্ত দাবী আমার নিকট করে এবং আত্মীয়তার কথা বলে তাহলে আমি তাদের দাবী মেনে নিব। অতপর তিনি লোকদেরকে সেখানে তাঁবু ফেলার নির্দেশ দিলেন।”
লোকজন বললোঃ "হে আল্লাহর রাসূল! এই উপত্যকায় তো পানি নেই।” তিনি নিজের তুনীর থেকেএকটি তীর বের করলেন এবং তা একজন সাহাবীকে (রাঃ) দিলেন। সেই সাহাবীর নাম ছিল নাজিয়া (রাঃ)। অতপর তিনি (সাঃ) বললেন, এই পরিত্যক্ত কূপে নামো এবং তার মধ্যে এই তীর গেড়ে দাও। তিনি নামলেন এবং নির্দেশ মুতাবেক তীর গেড়ে দিলেন। তা থেকে পানির ঝরনা বেরিয়ে পড়লো। সবাই খুব আসুদা হয়ে পানি পান করলেন এবং পানির কোন কমতি রইলো না।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 ক্ষকদের পানি

📄 ক্ষকদের পানি


ইমাম বুখারী (রাঃ) মুসাদ্দাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন যে, ইয়াহিয়া বিন সাঈদ আওফ থেকে এবং তিনি আবু রিজা থেকে এবং তিনি ইমরান থেকে শুনেছেন। তিনি বলতেন, "আমরা রাসূলের (সঃ) সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। আমরা সারা রাত হাঁটলাম। এমনকি রাত শেষ হয়ে এলো। আমাদের প্রচণ্ড ঘুম পেল। এমন অবস্থায় মুসাফিরের জন্য ঘুমের চেয়ে বেশী মিষ্টি বস্তু আর হয় না। অতএব আমরা ঘুমিয়ে গেলাম। সূর্যের তাপ আমাদের না জাগানো পর্যন্ত আমরা ঘুমিয়ে রইলাম।
সর্ব প্রথম অমুক অমুক এবং অমুক উঠলো। চতুর্থ নবরে ওমর (রাঃ) বিন খাত্তাবের চোখ খুললো। রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন ঘুমাতেন তখন আমাদের মধ্য থেকে কেউ তাকে জাগাতে সাহস পেতো না। কেননা স্বপ্নে আল্লাহ পাক হুজুরকে (সঃ) কি দেখাতেন তা আমরা জানতাম না। হযরত ওমর (রাঃ) যখন জাগলেন তখন দেখলেন যে ঘুমের কারণে নামাযের সময় চলে গেছে। এই অবস্থায় তিনি উচ্চৈস্বরে আল্লাহু আকবার তাকবির বলা শুরু করলেন এবং অব্যাহতভাবে তাকবির দোহরাতে লাগলেন। এমনকি তাঁর আওয়াজ শুনে রাসূলুল্লাহ (সঃ) জেগে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন ঘুম থেকে জাগলেন তখন লোকজন তাঁর সামনে এই অবস্থায় পেরেশানী প্রকাশ করলো। তিনি বললেন, "কোন চিন্তা নেই, সফরের জন্য তৈরী হও। অতপর লোকজন সফরে রওনা হলো। কিছুদূর যাওয়ার পরই হুজুর (সঃ) নিজের সওয়ারী থেকে নামলেন এবং ওজুর জন্য পানি চাইলেন। ওজুর পর আযান দেওয়া হলো এবং রাসূলুল্লাহ (সঃ) নামায পড়ালেন। তিনি যখন নামায থেকে ফারেগ হলেন তখন দেখলেন যে এক ব্যক্তি পৃথক বসে আছে। নামাযে শামিল হয়নি। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "হে অমুক ব্যক্তি! তোমাকে কিসে নামায থেকে বিরত রেখেছে? সে জবাব দিল, জনাব। আমার শুক্রক্ষরণ হয়েছে। গোসলের জন্য পানি নেই। তিনি (সঃ) বললেন, "মাটি দিয়ে তাইয়াম্মুম কর। তোমার পবিত্রতার জন্য এটাই যথেষ্ট।"
তারপর লোকজন আবার চলা শুরু কললো এবং কিছু দূর গেয়ে পিপাসার কথা জানালো। হুজুর (সঃ) সওয়ারী থেকে নামলেন এবং হযরত আলী (রাঃ) ও অন্য একজন সাহাবীকে ডাকলেন এবং বললেন, "যাও এবং পানি তালাশ করো।” সুতরাং তাঁরা উভয়ে গেলেন এবং কিছু দূরে 'তারা একজন মহিলাকে দেখতে পেলেন। মহিলাটি উটের ওপর সওয়ার ছিল। সে উটের ওপর বড় বড় দুটি মশকে পানি ভরে রেখেছিল। তাঁরা সেই মহিলাকে জিজ্ঞেস করলেন যে পানি কোথায়? সে জবাব দিল, "কাল এই সময় আমি পানি নিয়ে পুকুর থেকে রওনা দিয়েছিলাম। তাঁরা বললেন, অমাদের সঙ্গে এসো। সে বললো কোথায়? সাহাবীরা বললেন, রাসূলুল্লাহর (সঃ) নিকট। সে বলতে লাগলো, " সে ব্যক্তি যাকে ছারি বা ধর্মদ্রোহী বলা হয়ে থাকে। তাঁরা জবাব দিলেন, "হাঁ, তুমি ঠিকই বুঝেছ। অতএব আমাদের সঙ্গে চল।” তারপর তাঁঁরা তাকে নিয়ে রসূলের (সঃ) সামনে সেই মহিলার সঙ্গে অনুষ্ঠিত কথার্বাতার কথা বর্ণনা করলেন। তিনি (সঃ) বললেন ঐ মহিলাকে উট থেকে নামাও। অতপর হুজুর (সঃ) একটি পাত্র আনালেন এবং মশক দুটির মুখ খুলে তা থেকে সামান্য পানি পাত্রটিতে ঢাললেন এবং মশকদুটির মুখ বন্ধ করে দিলেন এবং লোকদেরকে ডেকে বললেন, যার পানি পান করার প্রয়োজন সে এসে পানি পান করে নিক এবং যার পাত্রে নেওয়া দরকার সে পাত্রে ভরে নিক। এরপর যার ইচ্ছা সে পান করে নিল এবং যার ইচ্ছা পাত্রে ভরে নিল। শেষে আমি একটি পাত্র ভরে সেই ব্যক্তিকে দিলাম যে শুক্রক্ষরণের কথা বলেছিল এবং তাকে বললাম, " যাও এবং এই পানি দিয়ে গোসল কর।"
ইমরান আরো বলেন, সেই মহিলা দাঁড়িয়ে আশ্চর্য হয়ে সবকিছু দেখছিলো। খোদার কসম। সে এমন হতভম্ব হলো যে বর্ননা করা যায় না। রাসুলে (সঃ) খোদা বললেন, তাঁর জন্য কিছু খেজুর, আটা এবং ছাতু যা তোমাদের নিকট আছে জমা কর।" সাহাবীরা (রাঃ) খানাপিনার সামান্য জমা করলেন এবং তা একটি কাপড়ে বেঁধে মহিলাকে উটের ওপর সওয়ার করালেন ও পুটলী তার সামনে রেখে দিলেন। হুজুর (সঃ) বললেন, "তুমি জানো যে আমি তোমার পানি কমাইনি। বরং আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে পানি পান করিয়েছেন।"
মহিলাটি যখন নিজের পরিবার পরিজনের নিকট পৌঁছালো তখন তারা তাকে কোথায় এত দেরী করেছে সে ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলো। সে বললো, "আমি এক আশ্চর্য ও অভূতপূর্ব ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি। রাস্তায় আমার সঙ্গে দু'ব্যক্তির দেখা হয়েছিল। তারা আমাকে কথিত সেই ছাবির নিকট নিয়ে গিয়েছিল।” অতপর সে সমগ্র ঘটনা বর্ণনা করলো এবং বললো, "খোদার কসম, আসমান ও যমিনের মধ্যে হয় তার চেয়ে বড় কোন জাদুকর নেই অথবা সে আল্লাহর সত্যিকার রাসূল।"
মুসলমানরা যখন সেই এলাকায় মুশরিকদের ওপর হামলা করতেন তখন সেই মহিলা যে বস্তিতে থাকতো তার ওপর হামলা করতো না। একদিন সে নিজের কবিরার লোকদেরকে বললো যে, "তারা তোমাদের চার পাশে হামলা করেছে। কিন্তু তোমাদেরকে জেনে শুনে ছেড়ে দিচ্ছে। তার চেয়ে বরং তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম।” তারা তার কথা মেনে নিল এবং ইসলাম গ্রহণ করলো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00