📄 উতবার (রাঃ) খোঁপড়ু
সাঈদ বিন নাছার ইবনে আবি ওয়ালিম, ইবনে ওয়াজাহ, আলী বিন আছিম, হাছিল বিন আবদুর রহমানের মাধ্যমে এই রাওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন যে, হযরত উতবাহ বিন ফারকাদের (রাঃ) স্ত্রী উম্মে আছেম বলেছেন, উতবাহ'র গৃহে আমরা তিন বিবি ছিলাম। সতীনের ওপর বাজী নেওয়ার জন্য আমরা প্রত্যেক্যেই ভালো খোশবু ব্যবহার করতাম। উতবাহ বিন ফারকাদ তেল ব্যবহার করতেন। কখনো খোশবু ব্যবহার করতেন না। কিন্তু তা সত্বেও আমাদের চেয়ে বেশী খোশবু তার শরীর থেকেই আসতো।
একবার আমি তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, রাসূলের (সাঃ) জীবদ্দশায় আমার শরীরে খোশ পাঁচড়া হয়েছিল। তাতে আমি খুব কষ্ট পেতাম। হুজুর (সাঃ) একথা জানতে পেরে আমাকে ডাকালেন এবং নিজের সামনে বসালেন। সতর ছাড়া সমগ্র শরীর ল্যাংটা করার জন্য আমাকে নির্দেশ দিলেন। সুতরাং আমি কাপড় খুলে ফেললাম।
হুজুর (সাঃ) কিছু পড়লেন এবং নিজের হাতে ফুঁ দিলেন। অতপর দুহাতের তালুতে ঘষা দিলেন। তারপর তিনি (সাঃ) দুই হাত অমার পিঠ, পেট এবং সমগ্র শরীরে ডলে দিলেন। আমার অসুখ ভালো হয়ে গেল এবং সেদিন থেকেই আমার শরীর খোশবুদার হয়ে গেল। যেমন তোমরা দেখে থাকো।
📄 ওহোদ পাহাড়ের কম্পন
ইমাম বুখারী (রঃ) রাওয়ায়েত করেছেন যে, তিনি মুহাম্মদ বিন বাশার থেকে তিনি ইয়াহিয়া বিন সাঈদ থেকে তিনি কাতাদাহ (রাঃ) থেকে এবং তিনি হযরত আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে শুনেছেন যে, একবার হুজুরে আকরাম (সাঃ) ওহোদ পহাড়ের ওপর উঠলেন। তার সঙ্গে ছিলেন আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) ওমর ফারুক (রাঃ) এবং ওসমান গনি (রাঃ)। তিনি যখন পাহাড়ে উঠলেন তখন পাহাড় কাঁপতে লাগলো। তিনি বললেন, "হে ওহোদ। অটল থাকো এবং শান্ত হও। অবশ্যই তোমার ওপর এক নবী (সাঃ) এক সিদ্দিক (রাঃ) এবং দুই শহীদ রয়েছেন।
📄 সুয়ায়েকের অদ্ভুত মোচন
ইবনে আব্দুল বার, ইবনে আমি শাইবা, মুহাম্মদ বিন বাশারুল আবদি আব্দুল আজিজ বিন ওমর এবং সালমান বিন সায়াদ এক ব্যক্তির হাওয়ালা দিয়ে বর্ণনা করেছেন যে, হাবিব বিন ফুয়ায়েকের এক ভাগেনেয় হাবিবের নিকটে নিজের পিতা ফুয়ায়েকের ব্যাপারে এই রাওয়ায়েত শুনেছেন। তিনি বলেন যে, তার পিতা ফুয়ায়েক যখন রাসূলের (সাঃ) খিদমতে হাজির হলেন, তখন তাঁর চোখ সাদা হয়ে গিয়েছিল। এবং দৃষ্টি শক্তি সম্পূর্ণরূপে লোপ পেয়েছিল।
রাসূলে পাক (সাঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তাঁর দৃষ্টি শক্তি কি করে লোপ পেয়েছে। তিনি জবাব দিলেন যে, তিনি একটি উটের উপর সওয়ার ছিলেন। এমন সময় এক স্থানে পড়ে গেলেন। নীছে ছিল সাপের ডিম। পড়তেই তার দৃষ্টি শক্তি লোপ পেয়ে গেল। একথা শুনে নবীয়ে আকরাম (সাঃ) তাঁর চোখের উপর ফুঁ দিলেন এবং সেই মুহুর্তেই তার দৃষ্টি শক্তি পুনরায় ফিরে এলো।
হাবিব বলতেন, আমি আমার পিতাকে দেখেছি। যদিও তাঁর চোখ সম্পূর্ণরূপে সাদা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু দৃষ্টি এত শক্তিশালী ছিল যে, তিনি সূঁচে সুতো পরাতেন। সে সময় তাঁর বয়স ৮০ বছর।
📄 পরিত্যক্ত কূপ
যুহরী বর্ণনা করেছেন যে, হুজুরে আকরাম (সাঃ) যখন ওমরার জন্য মদীনা থেকে বের হলেন এবং রাবেগ ও মক্কার মধ্যবর্তী আসফান নামক স্থানে পৌঁছলেন তখন তিনি বাশার বিন সুফিয়ানুল কাবীকে সেখানে পেলেন। তিনি বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল।' কোরেশরা অপনার রওয়ানার কথা জেনে ফেলেছে এবং তারা আপনার পথে বাধা দানের জন্য বের হয়ে পড়েছে। তাদের সঙ্গে মহিলা ও শিশুও রয়েছে এবং তারা চিতাবাঘের চামড়ার পোশাক পরে আছে। অর্থাৎ এর মাধ্যমে তারা প্রকট শত্রুতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। তারা জিতুয়া উপত্যকায় পৌঁছেছে এবং পরস্পর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, তারা আপনাকে কোনক্রমেই মক্কায় প্রবেশ করতে দেবে না। তারা ঘোড় সওয়ার দলগুলোর কমান্ড খালিদ বিন ওয়ালিদের দায়িত্বে ন্যস্ত করেছে এবং সে তাদের আগে কিরায়ুল গামিমে পৌঁছে গেছে।
এই খবর শুনে হুজুর (রাঃ) বললেন, কোরেশদের জন্য আফসোস। যুদ্ধ আগেই তাদের মেরে ফেলেছে এবং এখনো তাদের হুশ ফেরেনি। তাদের হয়েছে কি। তারা যদি বুদ্ধি দিয়ে কাজ করতো তাহলে আমার বিরোধীতার পরিবর্তে আমাকে ছেড়ে দিত। যদি আরবের অবশিষ্ট গোত্রসমূহ এবং সরদারদের সঙ্গে আমাকে মোকাবিলা করতে দিত, তাহলে হয় সেই সব গোত্র আমাকে শেষ করে দিত এবং কোরেশের অন্তরের বাসনা পূরণ হতো। আর যদি আল্লাহ- তায়ালা আমাকে তাদের ওপর বিজয় দিতেন তাহলে এরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে ইসলামে দাখিল হতো অথবা ইসলাম গ্রহণ করতে না চাইলে লড়াইয়ের মাধ্যমে আমার মুকাবিলা করতো। এই অবস্থায় তাদের শক্তি বেশীহতো। এখন কোরেশরা কি মনে করে? খোদার কসম। আমি এই দীনেহকের জন্য জিহাদ অব্যাহত রাখবো। তাতে এই দীন হয় বিজয়ী হবে অথবা আমার জীবন শেষ হবে।"
অতপর তিনি (সাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, "এমন কোন ব্যক্তি আছে কি? যে, এমন রাস্তার সন্ধান দেবে যে, রাস্তা হবে ভিন্ন। যে রাস্তায় কোরেশরা আসছে না।”
ইবনে ইসহাক বলেন যে, আবদুল্লাহ বিন আবকার তাঁকে বললেন, বনু অসলামের এক ব্যক্তি বলেছে, "হে আল্লাহর রাসূল! আমি এই খিদমত আঞ্জাম দিব।” অতপর সেই ব্যক্তি গিরিপথের মাঝখান দিয়ে একটি কঠিন ও প্রস্তরময় রাস্তার সন্ধান দিল। লোকজন সেই রাস্তা দিয়ে চললো এবং মুসলমানদেরকে কঠিন কষ্ট স্বীকার করতে হলো। অবশেষে তারা সমতল ভূমিতে এসে পৌঁছলেন এবং উপত্যকা থেকে বাইরে বেরিয়ে এলেন।
সে সময় রাসূলে আকরাম (সাঃ) লোকদেরকে বললেন, "বেশী বেশী তওবা ও ইসতিগফার করো।” লোকজন ইসতিগফার করতে লাগলেন। তিনি বললেন, "আল্লাহ তায়ালা বনি ইসরাইলকে হিত্তার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তা প্রকৃতপক্ষে ইসতিগফারেরই নির্দেশ ছিল। কিন্তু সেই কওম সেই নির্দেশ তামিল করেনি।
ইবনে শিহাব বলেন, নবী পাক (সাঃ) লোকদেরকে ডাইনের দিকের রাস্তা ধরে আল মারারের চূডার ওপর দিয়ে মক্কার একদম নীচে হুদায়বিয়াতে পৌঁছে যাবার নির্দেশ দিলেন। মুসলমানরা সেই রাস্তা দিয়ে যখন হুদায়বিয়া পৌঁছলেন এবং কোরেশ বাহিনী মেঘের মত ধূলো উড়তে দেখলো তখন বুঝতে পারলো যে মুসলমানরা নিজেদের রাস্তা পরিবর্তন করে নিয়েছে। অতএব তারা মক্কার দিকে ফিরে গেল।
ছানিয়াতুল মারার নামক স্থানে হুজুরের (সাঃ) উটনি বসে পড়লো। লোকজন বললো শ্রান্ত হয়ে উটনি বসে পড়েছে। কিন্তু হুজুর (সাঃ) বললেনঃ "ক্লান্ত হয়ে সে বসেনি বরং সেই সত্ত্বাই তাকে বাধা দিয়েছেন যে সত্ত্বা মক্কায় হাতিদের প্রবেশে বাধা দিয়েছিলেন। কোরেশরা যদি অজও যুক্তিযুক্ত দাবী আমার নিকট করে এবং আত্মীয়তার কথা বলে তাহলে আমি তাদের দাবী মেনে নিব। অতপর তিনি লোকদেরকে সেখানে তাঁবু ফেলার নির্দেশ দিলেন।”
লোকজন বললোঃ "হে আল্লাহর রাসূল! এই উপত্যকায় তো পানি নেই।” তিনি নিজের তুনীর থেকেএকটি তীর বের করলেন এবং তা একজন সাহাবীকে (রাঃ) দিলেন। সেই সাহাবীর নাম ছিল নাজিয়া (রাঃ)। অতপর তিনি (সাঃ) বললেন, এই পরিত্যক্ত কূপে নামো এবং তার মধ্যে এই তীর গেড়ে দাও। তিনি নামলেন এবং নির্দেশ মুতাবেক তীর গেড়ে দিলেন। তা থেকে পানির ঝরনা বেরিয়ে পড়লো। সবাই খুব আসুদা হয়ে পানি পান করলেন এবং পানির কোন কমতি রইলো না।