📄 নবুয়তের বাতি
ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন, "মায়াজ বিন হিশাম নিজের পিতা থেকে তিনি কাতাদাহ থেকে এবং তিনি আনাস (রাঃ) বিন মালিক থেকে এই হাদিস শুনেছেন।"
এক অন্ধকার রাতে রাসূলের (সাঃ) দুই সাহাবী (রাঃ) তাঁর মজলিস থেকে উঠে গেলেন। ঘন ঘোর অন্ধকার ছিল। কিন্তু তাঁদের অগে আগে দুটি মশাল আলো ছড়াচ্ছিল। যখন তাঁরা উভয়ে পৃথক হলো, তখন প্রত্যেকের সঙ্গে একটি মশাল রয়ে গেল। তার অলোতে তাঁরা স্ব স্ব বাড়ী পৌঁছে গেলেন।
আল ইসাবাহর লিখক সেই দুই সাহাবীর নাম বর্ণনা করেেিছন। একজনের নাম ছিল উসায়েদ (রাঃ) বিন হুজায়ের এবং অপরজন ছিলেন ওবাদ (রাঃ) বিন বাশার। তিনি বলেন যে, অন্ধকার রাতে তাদের মধ্যেকার একজনের লাঠি আলোকিত হয়ে গিয়েছিল এবং যখন পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন তখন অপর সাহাবীর লাঠিও আলো ছড়াতে লাগলো।
আবু সালমা (রাঃ) হযরত আবু সাইদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী পাক (সাঃ) এক অন্ধকার রাতে এশার নামাযের জন্য বের হলেন। আকাশে মেঘ ছেয়েছিল এবং অন্ধকার ছিল মারাত্মক। হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চমকালো এবং হুজুর (সাঃ) বিদ্যুতের আলোতে কাতাদাহ বিন নুমানকে (রাঃ) দেখতে পেলেন। তিনি বললেন, "কাতাদাহ।” তিনি জবাব দিলেন, জি, হে আল্লাহর রাসুল।
আমি ধারণা করেছিলাম যে, এই অন্ধকার রাতে খুব কম মানুষই এশার নামাযে হাজির হবেন। এ জন্য আমি অবশ্যই মসজিদে পৌঁছে যেতে চাইলাম।
হুজুর (সাঃ) বললেন, " নামাযের পর যাওয়ার সময় আমার সঙ্গে দেখা করে যেও।
সুতরাং নামায থেকে ফারিগ হয়ে কাতাদাহ (রাঃ) তাঁর খিদমতে হাজির হলেন। তিনি তাকে খেজুরের একটি হালকা ধরনের ছড়ি দিলেন এবং বললেন, "নাও, এটা ধরো। অন্ধকারে তোমার দশ কদম আগে এবং দশ কদম পেছনে আলো দেবে।
📄 উতবার (রাঃ) খোঁপড়ু
সাঈদ বিন নাছার ইবনে আবি ওয়ালিম, ইবনে ওয়াজাহ, আলী বিন আছিম, হাছিল বিন আবদুর রহমানের মাধ্যমে এই রাওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন যে, হযরত উতবাহ বিন ফারকাদের (রাঃ) স্ত্রী উম্মে আছেম বলেছেন, উতবাহ'র গৃহে আমরা তিন বিবি ছিলাম। সতীনের ওপর বাজী নেওয়ার জন্য আমরা প্রত্যেক্যেই ভালো খোশবু ব্যবহার করতাম। উতবাহ বিন ফারকাদ তেল ব্যবহার করতেন। কখনো খোশবু ব্যবহার করতেন না। কিন্তু তা সত্বেও আমাদের চেয়ে বেশী খোশবু তার শরীর থেকেই আসতো।
একবার আমি তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, রাসূলের (সাঃ) জীবদ্দশায় আমার শরীরে খোশ পাঁচড়া হয়েছিল। তাতে আমি খুব কষ্ট পেতাম। হুজুর (সাঃ) একথা জানতে পেরে আমাকে ডাকালেন এবং নিজের সামনে বসালেন। সতর ছাড়া সমগ্র শরীর ল্যাংটা করার জন্য আমাকে নির্দেশ দিলেন। সুতরাং আমি কাপড় খুলে ফেললাম।
হুজুর (সাঃ) কিছু পড়লেন এবং নিজের হাতে ফুঁ দিলেন। অতপর দুহাতের তালুতে ঘষা দিলেন। তারপর তিনি (সাঃ) দুই হাত অমার পিঠ, পেট এবং সমগ্র শরীরে ডলে দিলেন। আমার অসুখ ভালো হয়ে গেল এবং সেদিন থেকেই আমার শরীর খোশবুদার হয়ে গেল। যেমন তোমরা দেখে থাকো।
📄 ওহোদ পাহাড়ের কম্পন
ইমাম বুখারী (রঃ) রাওয়ায়েত করেছেন যে, তিনি মুহাম্মদ বিন বাশার থেকে তিনি ইয়াহিয়া বিন সাঈদ থেকে তিনি কাতাদাহ (রাঃ) থেকে এবং তিনি হযরত আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে শুনেছেন যে, একবার হুজুরে আকরাম (সাঃ) ওহোদ পহাড়ের ওপর উঠলেন। তার সঙ্গে ছিলেন আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) ওমর ফারুক (রাঃ) এবং ওসমান গনি (রাঃ)। তিনি যখন পাহাড়ে উঠলেন তখন পাহাড় কাঁপতে লাগলো। তিনি বললেন, "হে ওহোদ। অটল থাকো এবং শান্ত হও। অবশ্যই তোমার ওপর এক নবী (সাঃ) এক সিদ্দিক (রাঃ) এবং দুই শহীদ রয়েছেন।
📄 সুয়ায়েকের অদ্ভুত মোচন
ইবনে আব্দুল বার, ইবনে আমি শাইবা, মুহাম্মদ বিন বাশারুল আবদি আব্দুল আজিজ বিন ওমর এবং সালমান বিন সায়াদ এক ব্যক্তির হাওয়ালা দিয়ে বর্ণনা করেছেন যে, হাবিব বিন ফুয়ায়েকের এক ভাগেনেয় হাবিবের নিকটে নিজের পিতা ফুয়ায়েকের ব্যাপারে এই রাওয়ায়েত শুনেছেন। তিনি বলেন যে, তার পিতা ফুয়ায়েক যখন রাসূলের (সাঃ) খিদমতে হাজির হলেন, তখন তাঁর চোখ সাদা হয়ে গিয়েছিল। এবং দৃষ্টি শক্তি সম্পূর্ণরূপে লোপ পেয়েছিল।
রাসূলে পাক (সাঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তাঁর দৃষ্টি শক্তি কি করে লোপ পেয়েছে। তিনি জবাব দিলেন যে, তিনি একটি উটের উপর সওয়ার ছিলেন। এমন সময় এক স্থানে পড়ে গেলেন। নীছে ছিল সাপের ডিম। পড়তেই তার দৃষ্টি শক্তি লোপ পেয়ে গেল। একথা শুনে নবীয়ে আকরাম (সাঃ) তাঁর চোখের উপর ফুঁ দিলেন এবং সেই মুহুর্তেই তার দৃষ্টি শক্তি পুনরায় ফিরে এলো।
হাবিব বলতেন, আমি আমার পিতাকে দেখেছি। যদিও তাঁর চোখ সম্পূর্ণরূপে সাদা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু দৃষ্টি এত শক্তিশালী ছিল যে, তিনি সূঁচে সুতো পরাতেন। সে সময় তাঁর বয়স ৮০ বছর।