📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 আবু আওয়াশের (রাঃ) ঘোড়া

📄 আবু আওয়াশের (রাঃ) ঘোড়া


ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, রসুলের (সাঃ) উট মদীনার বাইরে চরতো।
ইবনে হাসান এইসব উট হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য হামলা করে বসলো। সাইয়াহ ইবনুল আকওয়া মদীনা এসে প্রিয় নবীকে (সাঃ) এই খবর দিলেন। তিনি (সাঃ) ভয়ের ঘোষণা প্রচার করে দিলেন। হুজুরের (সাঃ) কন্ঠস্বর শুনে অনেক সাহাবা (রাঃ) দৌড়ে এলেন। তারা সকলেই ভালো ঘোড়সওয়ার ছিলেন। সর্বপ্রথম আগমনকারী সাহাবীদের মধ্যে হযরত মিকদাদ (রাঃ) বিন আসওয়াদ, উবাদ (রাঃ) বিন বাশার সায়াদ (রাঃ) বিন যায়েদ (রাঃ) উসায়েদ (রাঃ) বিন হুজায়ের উকাশা (রাঃ) বিন মিহসান, মাহরাজ (রাঃ) বিন ফুজলাহ, আবু কাতাদাহ (রাঃ), হারিছ (রাঃ) বিন রাবয়ী এবং আবু আয়আশ উবায়েদ বিন যায়েদ বিন ছামিত অন্তর্ভূক্ত ছিলেন।
রাসূলে পাক (সাঃ) সায়াদ (রাঃ) বিন যায়েদকে এইসব সাহাবীর (রাঃ) আমীর নিয়োগ করলেন এবং দুশমনদের পিছু ধাওয়া করা এবং তাদেরকে ধরার নির্দেশ দিলেন। এ সময় হুজুরে আকরাম (সাঃ) অবু আয়াশকে (রাঃ) বললেন, " হে আবু আয়াশ! কতই না ভালো হতো যদি নিজের ঘোড়াকে তুমি কোন ভালো সওয়ারকে দিয়ে দিতে। ফলে সে তাড়াতাড়ি দুশমন পর্যন্ত পৌঁছতে পারতো।
আবু আয়াশ (রাঃ) অরজ করলো, "হে আল্লাহর রাসূল! আমি সবার চেয়ে ভালো ঘোড় সওয়ার।” এই ঘটনাকে আবু আয়াশ (রাঃ) স্বয়ং এভাবে বর্ননা করেছেন, সে যখন নিজের ঘোড়ার ওপর সওয়ার হয়ে দুশমনের পিছু ধাওয়াতে বের হলো এবং ঘোড়া দৌড়ালো তখন ঘোড়া বড় কষ্টে ৫০ গজই দৌড়েছিল। সে সময় সে তাকে ফেলে দিল। সে খুব হয়রান হলো এবং লজ্জিতও। তার স্মরণ হলো যে, হুজুর (সাঃ) তাকে নিজের চেয়ে ভালো সওয়ারকে ঘোড়া দিয়ে দিতে বলেছিলেন। তার জবাবে তিনি বলেছিলেন, "আমি সবচেয়ে ভালো সওয়ার।"
তিনি যখন ঘোড়া থেকে পড়ে গেলেন তখন হুজুর (সাঃ) তাঁর থেকে ঘোড়া নিলেন এবং হযরত মায়াজকে (রাঃ) দিয়ে দিলেন।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 নবুয়তের বাতি

📄 নবুয়তের বাতি


ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন, "মায়াজ বিন হিশাম নিজের পিতা থেকে তিনি কাতাদাহ থেকে এবং তিনি আনাস (রাঃ) বিন মালিক থেকে এই হাদিস শুনেছেন।"
এক অন্ধকার রাতে রাসূলের (সাঃ) দুই সাহাবী (রাঃ) তাঁর মজলিস থেকে উঠে গেলেন। ঘন ঘোর অন্ধকার ছিল। কিন্তু তাঁদের অগে আগে দুটি মশাল আলো ছড়াচ্ছিল। যখন তাঁরা উভয়ে পৃথক হলো, তখন প্রত্যেকের সঙ্গে একটি মশাল রয়ে গেল। তার অলোতে তাঁরা স্ব স্ব বাড়ী পৌঁছে গেলেন।
আল ইসাবাহর লিখক সেই দুই সাহাবীর নাম বর্ণনা করেেিছন। একজনের নাম ছিল উসায়েদ (রাঃ) বিন হুজায়ের এবং অপরজন ছিলেন ওবাদ (রাঃ) বিন বাশার। তিনি বলেন যে, অন্ধকার রাতে তাদের মধ্যেকার একজনের লাঠি আলোকিত হয়ে গিয়েছিল এবং যখন পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন তখন অপর সাহাবীর লাঠিও আলো ছড়াতে লাগলো।
আবু সালমা (রাঃ) হযরত আবু সাইদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী পাক (সাঃ) এক অন্ধকার রাতে এশার নামাযের জন্য বের হলেন। আকাশে মেঘ ছেয়েছিল এবং অন্ধকার ছিল মারাত্মক। হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চমকালো এবং হুজুর (সাঃ) বিদ্যুতের আলোতে কাতাদাহ বিন নুমানকে (রাঃ) দেখতে পেলেন। তিনি বললেন, "কাতাদাহ।” তিনি জবাব দিলেন, জি, হে আল্লাহর রাসুল।
আমি ধারণা করেছিলাম যে, এই অন্ধকার রাতে খুব কম মানুষই এশার নামাযে হাজির হবেন। এ জন্য আমি অবশ্যই মসজিদে পৌঁছে যেতে চাইলাম।
হুজুর (সাঃ) বললেন, " নামাযের পর যাওয়ার সময় আমার সঙ্গে দেখা করে যেও।
সুতরাং নামায থেকে ফারিগ হয়ে কাতাদাহ (রাঃ) তাঁর খিদমতে হাজির হলেন। তিনি তাকে খেজুরের একটি হালকা ধরনের ছড়ি দিলেন এবং বললেন, "নাও, এটা ধরো। অন্ধকারে তোমার দশ কদম আগে এবং দশ কদম পেছনে আলো দেবে।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 উতবার (রাঃ) খোঁপড়ু

📄 উতবার (রাঃ) খোঁপড়ু


সাঈদ বিন নাছার ইবনে আবি ওয়ালিম, ইবনে ওয়াজাহ, আলী বিন আছিম, হাছিল বিন আবদুর রহমানের মাধ্যমে এই রাওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন যে, হযরত উতবাহ বিন ফারকাদের (রাঃ) স্ত্রী উম্মে আছেম বলেছেন, উতবাহ'র গৃহে আমরা তিন বিবি ছিলাম। সতীনের ওপর বাজী নেওয়ার জন্য আমরা প্রত্যেক্যেই ভালো খোশবু ব্যবহার করতাম। উতবাহ বিন ফারকাদ তেল ব্যবহার করতেন। কখনো খোশবু ব্যবহার করতেন না। কিন্তু তা সত্বেও আমাদের চেয়ে বেশী খোশবু তার শরীর থেকেই আসতো।
একবার আমি তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, রাসূলের (সাঃ) জীবদ্দশায় আমার শরীরে খোশ পাঁচড়া হয়েছিল। তাতে আমি খুব কষ্ট পেতাম। হুজুর (সাঃ) একথা জানতে পেরে আমাকে ডাকালেন এবং নিজের সামনে বসালেন। সতর ছাড়া সমগ্র শরীর ল্যাংটা করার জন্য আমাকে নির্দেশ দিলেন। সুতরাং আমি কাপড় খুলে ফেললাম।
হুজুর (সাঃ) কিছু পড়লেন এবং নিজের হাতে ফুঁ দিলেন। অতপর দুহাতের তালুতে ঘষা দিলেন। তারপর তিনি (সাঃ) দুই হাত অমার পিঠ, পেট এবং সমগ্র শরীরে ডলে দিলেন। আমার অসুখ ভালো হয়ে গেল এবং সেদিন থেকেই আমার শরীর খোশবুদার হয়ে গেল। যেমন তোমরা দেখে থাকো।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 ওহোদ পাহাড়ের কম্পন

📄 ওহোদ পাহাড়ের কম্পন


ইমাম বুখারী (রঃ) রাওয়ায়েত করেছেন যে, তিনি মুহাম্মদ বিন বাশার থেকে তিনি ইয়াহিয়া বিন সাঈদ থেকে তিনি কাতাদাহ (রাঃ) থেকে এবং তিনি হযরত আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে শুনেছেন যে, একবার হুজুরে আকরাম (সাঃ) ওহোদ পহাড়ের ওপর উঠলেন। তার সঙ্গে ছিলেন আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) ওমর ফারুক (রাঃ) এবং ওসমান গনি (রাঃ)। তিনি যখন পাহাড়ে উঠলেন তখন পাহাড় কাঁপতে লাগলো। তিনি বললেন, "হে ওহোদ। অটল থাকো এবং শান্ত হও। অবশ্যই তোমার ওপর এক নবী (সাঃ) এক সিদ্দিক (রাঃ) এবং দুই শহীদ রয়েছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00