📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 দুই টেন্ট ঘটনা

📄 দুই টেন্ট ঘটনা


ইবনে হিশাম বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বনি মুসতালিকের যুদ্ধ শেষে ফিরে এলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে জুয়ায়রিয়া বিনতিল হারিছও ছিলো। সে ছিলো বনুল মুসতালিকের সরদার তনয়া। তিনি (সঃ) জুয়ায়রিয়াকে আনসারের এক ব্যক্তির নিকট আমানত হিসেবে পাঠিয়ে দিলেন এবং তাকে হিফাজত করার জন্য বলে পাঠালেন। হুজুর (সঃ) গণিমতের মালসহ মদীনা ফিরে এলেন।
এদিকে জুয়ায়রিয়ার পিতা হারিচ বিন আবি জিরার কন্যার ফিদিয়া দেয়ার জন্য মদীনা রওয়ানা হলো। আকীক নামক উপত্যকায় পৌঁছে ফিদিয়ার জন্য আনীত উটের প্রতি সে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো। উটগুলোর মধ্যে দু'টি খুব পছন্দ হলো। সুতরাং সেই উট দু'টিকে সে আকীক উপত্যকার একটি গিরিপথে গায়েব করে দিল এবং হুজুরের (সাঃ) খিদমতে বাকী উট পেশ করে বললো, "হে মুহাম্মদ। তুমি আমার কন্যাকে কয়েদী বানিয়েছ আর এ হলো তার ফিদিয়া। হুজুর (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, "আকীক উপত্যকার অমুক গিরিপথে তুমি যে উট দু'টি গায়েব করে এসেছ তা এখন কোথায়?"
হারিছ এ কথা শুনতেই কালেমায়ে শাহাদাত পড়লেন এবং বললেনঃ "খোদার কসম। আপনি আল্লাহর রাসুল এবং আল্লাহই আপনাকে সেই উটের ব্যাপারে খবর দিয়েছেন।” হারিছ এবং তার দুই পুত্র ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং তার কওমের অনেক মানুষও ইসলাম কবুল করলেন। অতপর তিনি কাউকে প্রেরণ করে সেই উট দু'টিও আনালেন এবং হুজুরের (সাঃ) খিদমতে কন্যার জন্য ফিদিয়া হিসেবে তা পেশ করলেন। জুয়ায়রিয়াও (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করলেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) হারিছ বিন আবি জিয়ারের নিকট জুয়ায়রিয়ার (রাঃ) বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। বস্তুত তিনি নিজের কন্যার বিয়ে রাসুলের (সাঃ) সঙ্গে দিয়ে দিলেন। হজুরে করিম (সাঃ) চারশ' দিরহাম মোহরানা আদায় করলেন।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 ইহুদীদের ষড়যন্ত্র

📄 ইহুদীদের ষড়যন্ত্র


ইবনে ইসহাক ইয়াযিদ বিন রুমানের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বনু নজির কবিলায় তাশরীফ বিলেন। বনু আমেরের দুই ব্যক্তি আমের বিন উমাইয়া জাতারীর হাতে নিহত হয়েছিল। তাদের রক্তের বদলার বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়াই উদ্দেশ্য ছিল। বনু আমের বনু নজিরের মিত্র ছিল।
ইহুদীরা হুজুরকে (সাঃ) এক উঁচু প্রাচীরের ছায়ায় বসিয়ে দিল এবং পরস্পর একটি ষড়যন্ত্র আটলো। তারা একে অপরকে বললো," এ ধরনের সোনালী সুযোগ আর পাওয়া যাবে না। কেউ ঘরের ছাদে চড়বে এবং মুহাম্মদের মাথার ওপর ভারী পাথর নিক্ষেপ করবে। তাতে আমরা তার থেকে মুক্তি পাবো।” সকলেই তার মত পছন্দ করলো এবং আমর বিন জাহাশ বিন কায়াব ইহুদী বললো, " আমিই এই কাজ করবো।” ষড়যন্ত্র অনুযায়ী সে ঘরের ছাদে চড়লো এবং একটি ভারী পাথর গড়িয়ে ফেলার জন্য তৈরী হয়ে গেল। সে সময় রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবার (রাঃ) একটি দলসহ প্রাচীরের ছায়ায় বসে ছিলেন। সেই মজলিসে হযরত আবু বকর (রাঃ), হযরত ওমর (রাঃ) এবং হযরত আলীও (রাঃ) উপস্থিত ছিলেন। আসমান থেকে হুজুর (সাঃ) খবর পেলেন যে, ইহুদীরা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এঁটেছে। সুতরাং তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং মদীনা রওয়ানা হয়ে গেলেন। সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) কিছুক্ষণ পর্যন্ত যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) ফিরে এলেন না তখন তাঁরা তাঁর সন্ধানে বেরিয়ে পড়লেন। মদীনা থেকে আগমনকারী এক ব্যক্তিকে তারা দেখলেন। সাহাবীরা (রাঃ) তাকে হুজুরের (সাঃ) ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। সে বললো, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মদীনা পৌঁছে গেছেন। অতএব, সাহাবীরাও (রাঃ) মদীনা ফিরে গেলেন। যখন তাঁরা হুজুরের (সাঃ) খিদমতে হাজির হলেন তখন তিনি (সাঃ) তাঁদেরকে ইহুদীদের ষড়যন্ত্রের কথা অবহিত করলেন। অতপর হজুর (সাঃ) সাহাবীদেরকে (রাঃ) যুদ্ধের প্রস্তুতির নির্দেশ দিলেন এবং বনু নজিরের দিকে নিজের বাহিনীসহ রওয়ানা হয়ে গেলেন।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 আবু আওয়াশের (রাঃ) ঘোড়া

📄 আবু আওয়াশের (রাঃ) ঘোড়া


ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, রসুলের (সাঃ) উট মদীনার বাইরে চরতো।
ইবনে হাসান এইসব উট হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য হামলা করে বসলো। সাইয়াহ ইবনুল আকওয়া মদীনা এসে প্রিয় নবীকে (সাঃ) এই খবর দিলেন। তিনি (সাঃ) ভয়ের ঘোষণা প্রচার করে দিলেন। হুজুরের (সাঃ) কন্ঠস্বর শুনে অনেক সাহাবা (রাঃ) দৌড়ে এলেন। তারা সকলেই ভালো ঘোড়সওয়ার ছিলেন। সর্বপ্রথম আগমনকারী সাহাবীদের মধ্যে হযরত মিকদাদ (রাঃ) বিন আসওয়াদ, উবাদ (রাঃ) বিন বাশার সায়াদ (রাঃ) বিন যায়েদ (রাঃ) উসায়েদ (রাঃ) বিন হুজায়ের উকাশা (রাঃ) বিন মিহসান, মাহরাজ (রাঃ) বিন ফুজলাহ, আবু কাতাদাহ (রাঃ), হারিছ (রাঃ) বিন রাবয়ী এবং আবু আয়আশ উবায়েদ বিন যায়েদ বিন ছামিত অন্তর্ভূক্ত ছিলেন।
রাসূলে পাক (সাঃ) সায়াদ (রাঃ) বিন যায়েদকে এইসব সাহাবীর (রাঃ) আমীর নিয়োগ করলেন এবং দুশমনদের পিছু ধাওয়া করা এবং তাদেরকে ধরার নির্দেশ দিলেন। এ সময় হুজুরে আকরাম (সাঃ) অবু আয়াশকে (রাঃ) বললেন, " হে আবু আয়াশ! কতই না ভালো হতো যদি নিজের ঘোড়াকে তুমি কোন ভালো সওয়ারকে দিয়ে দিতে। ফলে সে তাড়াতাড়ি দুশমন পর্যন্ত পৌঁছতে পারতো।
আবু আয়াশ (রাঃ) অরজ করলো, "হে আল্লাহর রাসূল! আমি সবার চেয়ে ভালো ঘোড় সওয়ার।” এই ঘটনাকে আবু আয়াশ (রাঃ) স্বয়ং এভাবে বর্ননা করেছেন, সে যখন নিজের ঘোড়ার ওপর সওয়ার হয়ে দুশমনের পিছু ধাওয়াতে বের হলো এবং ঘোড়া দৌড়ালো তখন ঘোড়া বড় কষ্টে ৫০ গজই দৌড়েছিল। সে সময় সে তাকে ফেলে দিল। সে খুব হয়রান হলো এবং লজ্জিতও। তার স্মরণ হলো যে, হুজুর (সাঃ) তাকে নিজের চেয়ে ভালো সওয়ারকে ঘোড়া দিয়ে দিতে বলেছিলেন। তার জবাবে তিনি বলেছিলেন, "আমি সবচেয়ে ভালো সওয়ার।"
তিনি যখন ঘোড়া থেকে পড়ে গেলেন তখন হুজুর (সাঃ) তাঁর থেকে ঘোড়া নিলেন এবং হযরত মায়াজকে (রাঃ) দিয়ে দিলেন।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 নবুয়তের বাতি

📄 নবুয়তের বাতি


ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন, "মায়াজ বিন হিশাম নিজের পিতা থেকে তিনি কাতাদাহ থেকে এবং তিনি আনাস (রাঃ) বিন মালিক থেকে এই হাদিস শুনেছেন।"
এক অন্ধকার রাতে রাসূলের (সাঃ) দুই সাহাবী (রাঃ) তাঁর মজলিস থেকে উঠে গেলেন। ঘন ঘোর অন্ধকার ছিল। কিন্তু তাঁদের অগে আগে দুটি মশাল আলো ছড়াচ্ছিল। যখন তাঁরা উভয়ে পৃথক হলো, তখন প্রত্যেকের সঙ্গে একটি মশাল রয়ে গেল। তার অলোতে তাঁরা স্ব স্ব বাড়ী পৌঁছে গেলেন।
আল ইসাবাহর লিখক সেই দুই সাহাবীর নাম বর্ণনা করেেিছন। একজনের নাম ছিল উসায়েদ (রাঃ) বিন হুজায়ের এবং অপরজন ছিলেন ওবাদ (রাঃ) বিন বাশার। তিনি বলেন যে, অন্ধকার রাতে তাদের মধ্যেকার একজনের লাঠি আলোকিত হয়ে গিয়েছিল এবং যখন পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন তখন অপর সাহাবীর লাঠিও আলো ছড়াতে লাগলো।
আবু সালমা (রাঃ) হযরত আবু সাইদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী পাক (সাঃ) এক অন্ধকার রাতে এশার নামাযের জন্য বের হলেন। আকাশে মেঘ ছেয়েছিল এবং অন্ধকার ছিল মারাত্মক। হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চমকালো এবং হুজুর (সাঃ) বিদ্যুতের আলোতে কাতাদাহ বিন নুমানকে (রাঃ) দেখতে পেলেন। তিনি বললেন, "কাতাদাহ।” তিনি জবাব দিলেন, জি, হে আল্লাহর রাসুল।
আমি ধারণা করেছিলাম যে, এই অন্ধকার রাতে খুব কম মানুষই এশার নামাযে হাজির হবেন। এ জন্য আমি অবশ্যই মসজিদে পৌঁছে যেতে চাইলাম।
হুজুর (সাঃ) বললেন, " নামাযের পর যাওয়ার সময় আমার সঙ্গে দেখা করে যেও।
সুতরাং নামায থেকে ফারিগ হয়ে কাতাদাহ (রাঃ) তাঁর খিদমতে হাজির হলেন। তিনি তাকে খেজুরের একটি হালকা ধরনের ছড়ি দিলেন এবং বললেন, "নাও, এটা ধরো। অন্ধকারে তোমার দশ কদম আগে এবং দশ কদম পেছনে আলো দেবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00