📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 উমায়রের ইসলাম গ্রহণ

📄 উমায়রের ইসলাম গ্রহণ


ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন জাফর বিন যোবায়ের ওরওয়াহ বিন যোবায়েরের মুখ দিয়ে এই ঘটনা আমাকে বলেছেন। উমায়ের বিন ওয়াহাবুল জাম-হি বদরের যুদ্ধের কিছুদিন পর ছাফওয়ান বিন উমাইয়ার সঙ্গে মক্কায় বসেছিল। সে কোরেশের সেইসব লোকের অন্যতম ছিল যারা হুজুরে করিম (সাঃ) ও সাহাবীদেরকে (রাঃ) কষ্ট প্রদানে আগে আগে থাকতো। তার পুত্র ওয়াহাব বিন উমায়ের বদরের যুদ্ধে মুসলমানদের হাতে গ্রেফতার হয়ে কয়েদী হয়ে গিয়েছিল।
উমায়ের বদরের যুদ্ধের পরিস্থিতিতে আফসোস প্রকাশ করলো এবং মুসলমানদের সম্পর্কে খারাপ শব্দ ব্যবহার করলো।
ছাফওয়ান শুনে বললো, "খোদার কসম। যারা বদরে মারা গেছে তাদের ছাড়া জীবনের আর কোন সৌন্দর্য থাকলো না।" উমায়ের বললো, "খোদার কসম। তুমি ঠিকই বলেছো। খোদার কসম, আমার ওপর যদি ঋণের বোঝা না থাকতো এবং পরিবার-পরিজনের চিন্তা না হতো আমার অনুপস্থিতিতে পরিবার-পরিজন ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে-তাহলে আমি অবশ্যই মদীনা গিয়ে মুহাম্মদকে (সাঃ) কতল করে ফেলতাম (নাউজুবিল্লাহ)। মদীনায় যাওয়ার ব্যাপারে আমার একটি বাহানাও আছে। আমার পুত্র তাদের হাতে আটক রয়েছে। আমি গিয়ে বলতে পারবো যে, তার সাথে সাক্ষাত করতে এসেছি।”
ছাফওয়ান সুযোগটাকে মূল্যবান মনে করলো এবং বললো, তোমার ঋণ আমার দায়িত্ব নিচ্ছি এবং তোমার পরিবার-পরিজনকেও দেখবো।"
উমায়ের তাকে বললো, "ঠিক আছে, বিষয়টি কারোর নিকট প্রকাশ করো না।" সে বললো, "আমি কাউকে বলবো না।” তার পর উমায়ের নিজের তরবারীতে খুব শান দিল এবং তাতে বিষ মিশালো। অতপর সে মদীনার দিকে রওয়ানা হলো। মদীনা পৌঁছে সে ওমর (রাঃ) বিন খাত্তাবকে مسلمانوں একটি দলে বসে থাকতে দেখল। সে সময় তারা বদরের যুদ্ধ প্রসঙ্গে আলোচনা করছিলেন এবং সেই যুদ্ধের কারণে আল্লাহ প্রদত্ত সম্মানও তাদের আলোচনায় স্থান পেয়েছিল। তাছাড়া শত্রুপক্ষের যে শিক্ষনীয় পরাজয় হয়েছিল সে ব্যাপারেও তারা মত বিনিময় করছিলেন। ওমর (রাঃ) বিন খাত্তাব উমায়ের বিন ওয়াহাবকে তরবারীসহ সজ্জিত দেখলেন। সেনিজের উট মসজিদের দরজায় বসাচ্ছিলো।
ওমর (রাঃ) সঙ্গীদেরকে বললেন, "এতো খোদার দুশমন উমায়ের বিন ওয়াহাব। খোদার কসম! সে তো কোন অপকর্ম করার জন্য এসেছে। এতো সেই ব্যক্তি যে বদরের ময়দানে দুশমনদেরকে আমাদের ওপর চড়াও হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করিয়েছিল এবং আমাদের সংখ্যার আন্দাজ সেই তাদেরকে বলেছিল। "তারপর ওমর (রাঃ) রাসূলের (সাঃ) নিকট গেলেন এবং আরজ করলেনঃ "হে আল্লাহর নবী! খোদার কসম এই দুশমন উমায়ের বিন ওয়াহাব নিজের তরবারী নিয়ে এসেছে এবং তার মতলব ঠিক নেই।”
হুজুর (সাঃ) বললেন, "তাকে আমার নিকট নিয়ে এসো।” হযরত ওমর (রাঃ) তার কাছে গেলেন এবং টানতে টানতে হুজুরের (সাঃ) নিকট নিয়ে এলেন। তিনি আনসার সঙ্গীদেরকে রাসূলের (সাঃ) নিকট বসতে এবং এই খবিছের ওপর নজর রাখতে বললেন। কেননা তার নিয়ত ঠিক নেই।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন দেখলেন যে, ওমর (রাঃ) তাকে ধরে নিয়ে আসছেন তখন বললেন, "ওমর। তাকে ছেড়ে দাও। হে উমায়ের। আমার নিকট এসো।" উমায়ের নিকটে গেল এবং জাহেলী রীতি অনুযায়ী সালাম করলো।
হুজুর (সাঃ) বললেন, "আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সালাম ও দোয়ার উন্নত পদ্ধতি শিখিয়েছেন এবং তাই হলো জান্নাতবাসীদের পদ্ধতি। তাতে সালামত ও রহমতের দোয়া করা হয়।"
উমায়ের বললো, "হে মুহাম্মদ! খোদার কসম, তুমি জানো যে, এই পদ্ধতি বেশী দিনের নয়। এজন্য আমাকে ক্ষমা করো। আমি ঐ পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত নই।”
হজুর (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, "হে উমায়ের। কি উদ্দেশ্যে এসেছো?” সে জবাব দিল, "আমার কয়েদী তোমাদের নিকট রয়েছে। আমি সে জন্যই এসেছি। আমার সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করো এবং তাকে ছেড়ে দাও।” তিনি বললেন, তোমার গলায় তরবারী ঝুলছে। এটা কি কারণে?” জবাবে সে বললো, "আল্লাহ তায়ালা আমাদের তরবারীকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। এইসব তরবারী কি (বদরে) আমাদের কোন সাহায্য করেছে?”
হুজুর (সাঃ) বললেন, "আমাকে সত্য সত্য বলো যে, তুমি কিজন্য এসেছো?” সে জবাব দিল, "আমিতো সেই কাজের জন্য এসেছি যার উল্লেখ করেছি।” রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, "তুমি মিথ্যা বলেছ। তুমি ছাফওয়ান বিন উমাইয়ার সঙ্গে হাজারে আসওয়াদের নিকট বসেছিলে। অতপর তোমরা কোরেশের নিহতদের কথা পরস্পর উল্লেখ করেছ। এসময় তুমি ছাফওয়ানকে বলেছ যে যদি আমার ওপর ঋণের বোঝা না থাকতো এবং পরিবার-পরিজনের দায়িত্ব না হত তাহলে আমি গিয়ে মুহাম্মদকে (সাঃ) শেষ করে দিতাম।"
তোমার কথা শুনে ছাফওয়ান তোমার ঋণ তার দায়িত্বে নিয়ে নেয় এবং তোমার পরিবার-পরিজনের দেখা-শুনা করার ওয়াদাও করে। তুমি আমাকে হত্যা করার জন্য এসেছ। কিন্তু আমার ও তোমার ইচ্ছার মাঝখানে আল্লাহ তায়ালা বাধা হয়েদাঁড়িয়েছেন।"
উমায়ের বললো, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহর রাসূল!”
"হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদেরকে আসমানের যে খবর বলতেন এবং আপনার ওপর যে ওহি নাযিল হতো তা আমরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করতাম। এখন যে প্রসঙ্গে আপনি আমাকে খবর দিচ্ছেন তা আমি এবং ছাফওয়ান ছাড়া কেউই জানতো না। খোদার কসম! আমি ভালোভাবে জেনে গিয়েছি যে সে খবর আল্লাহ ছাড়া আপনাকে কেউই দেয়নি। বস্তুতঃ হামদ ও ছানা সেই আল্লাহর তিনি ইসলামের প্রতি আমাকে হেদায়াত দিয়েছেন এবং আমাকে এখান পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। আমি প্রকৃত তাৎপর্য জেনে ফেলেছি।” তারপর উমায়ের (রাঃ) কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করলেন।
নবীয়ে আকরাম (সাঃ) তার ইসলাম গ্রহণে খুব খুশী হলেন এবং সাহাবীদেরকে (রাঃ) বললেন "তোমাদের ভাইকে দীন বুঝাও ও কুরআন মজিদ পড়াও। সাহাবীরা (রাঃ) হুজুরের (সাঃ) হুকুম তামিল করলেন।
অতপর উমায়ের (রাঃ) হুজুরের (সাঃ) নিকট আরজ করলেনঃ "হে আল্লাহর রাসূল। আমি কুফুরী অবস্থায় আল্লাহর মুমিন বান্দাদেরকে কঠোর কষ্ট দিতাম এবং আল্লাহর রশ্মি নির্বাপণের জন্য তৎপর ছিলাম। আপনি এখন আমাকে মক্কা গমন এবং মক্কাবাসীদেরকে আল্লাহ ও তার রাসূল এবং দীনে হকের দাওয়াত দানের অনুমতি দিন। আল্লাহ পাক তাদেরকে হেদায়াত দিতে পারেন। তারা যদি ইসলাম কবুল না করে তাহলে আমি যেভাবে হকপন্থীদের কষ্ট দিতাম তেমনি হকের দুশমনদেরকেও কষ্ট দিব।” হুজুর (সঃ) উমায়েরকে (রাঃ) অনুমতি দিয়ে দিলেন। এবং তিনি মক্কা চলে গেলেন।
উমায়ের (রাঃ) মদীনা চলে যাওয়ার পর ছাফওয়ান বিন উমাইয়া আশা করে বসেছিলো যে, উমাইয়া শীঘ্রই কোন সুসংবাদ নিয়ে আসবে। সে মক্কাবাসীদেরকে প্রত্যেক দিন বলতো যে শীগ্রই আমি তোমাদের একটি সুসংবাদ দিব। ফলে তোমরা বদরের দুঃখ ভুলে যাবে। ছাফওয়ান প্রত্যেক কাফেলার নিকট উমায়েরের (রাঃ) ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতো। একদিন একটি সওয়ার এলো এবং ছাফওয়ানকে বললো যে, উমায়ের (রাঃ) তো মুসলমান হয়ে গেছে। ছাফওয়ানের খুব আফসোস হলো এবং কসম খেলো যে সে কখনো উমায়েরের (রাঃ) সঙ্গে কথা বলবে না ও তাকে কোন উপকারও করবে না
ইবনে ইসহাক বলেন, উমায়ের যখন মক্কা পৌঁছলেন তখন লোকদেরকে প্রকাশ্য ইসলামের দাওয়াত দিতে লাগলেন। কেউ বিরোধিতা করলে তিনি একহাত নিতেন। তিনি কাউকে ভয় করতেন না। তাঁর হাতে বহু সংখ্যক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 দুই টেন্ট ঘটনা

📄 দুই টেন্ট ঘটনা


ইবনে হিশাম বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বনি মুসতালিকের যুদ্ধ শেষে ফিরে এলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে জুয়ায়রিয়া বিনতিল হারিছও ছিলো। সে ছিলো বনুল মুসতালিকের সরদার তনয়া। তিনি (সঃ) জুয়ায়রিয়াকে আনসারের এক ব্যক্তির নিকট আমানত হিসেবে পাঠিয়ে দিলেন এবং তাকে হিফাজত করার জন্য বলে পাঠালেন। হুজুর (সঃ) গণিমতের মালসহ মদীনা ফিরে এলেন।
এদিকে জুয়ায়রিয়ার পিতা হারিচ বিন আবি জিরার কন্যার ফিদিয়া দেয়ার জন্য মদীনা রওয়ানা হলো। আকীক নামক উপত্যকায় পৌঁছে ফিদিয়ার জন্য আনীত উটের প্রতি সে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো। উটগুলোর মধ্যে দু'টি খুব পছন্দ হলো। সুতরাং সেই উট দু'টিকে সে আকীক উপত্যকার একটি গিরিপথে গায়েব করে দিল এবং হুজুরের (সাঃ) খিদমতে বাকী উট পেশ করে বললো, "হে মুহাম্মদ। তুমি আমার কন্যাকে কয়েদী বানিয়েছ আর এ হলো তার ফিদিয়া। হুজুর (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, "আকীক উপত্যকার অমুক গিরিপথে তুমি যে উট দু'টি গায়েব করে এসেছ তা এখন কোথায়?"
হারিছ এ কথা শুনতেই কালেমায়ে শাহাদাত পড়লেন এবং বললেনঃ "খোদার কসম। আপনি আল্লাহর রাসুল এবং আল্লাহই আপনাকে সেই উটের ব্যাপারে খবর দিয়েছেন।” হারিছ এবং তার দুই পুত্র ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং তার কওমের অনেক মানুষও ইসলাম কবুল করলেন। অতপর তিনি কাউকে প্রেরণ করে সেই উট দু'টিও আনালেন এবং হুজুরের (সাঃ) খিদমতে কন্যার জন্য ফিদিয়া হিসেবে তা পেশ করলেন। জুয়ায়রিয়াও (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করলেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) হারিছ বিন আবি জিয়ারের নিকট জুয়ায়রিয়ার (রাঃ) বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। বস্তুত তিনি নিজের কন্যার বিয়ে রাসুলের (সাঃ) সঙ্গে দিয়ে দিলেন। হজুরে করিম (সাঃ) চারশ' দিরহাম মোহরানা আদায় করলেন।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 ইহুদীদের ষড়যন্ত্র

📄 ইহুদীদের ষড়যন্ত্র


ইবনে ইসহাক ইয়াযিদ বিন রুমানের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বনু নজির কবিলায় তাশরীফ বিলেন। বনু আমেরের দুই ব্যক্তি আমের বিন উমাইয়া জাতারীর হাতে নিহত হয়েছিল। তাদের রক্তের বদলার বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়াই উদ্দেশ্য ছিল। বনু আমের বনু নজিরের মিত্র ছিল।
ইহুদীরা হুজুরকে (সাঃ) এক উঁচু প্রাচীরের ছায়ায় বসিয়ে দিল এবং পরস্পর একটি ষড়যন্ত্র আটলো। তারা একে অপরকে বললো," এ ধরনের সোনালী সুযোগ আর পাওয়া যাবে না। কেউ ঘরের ছাদে চড়বে এবং মুহাম্মদের মাথার ওপর ভারী পাথর নিক্ষেপ করবে। তাতে আমরা তার থেকে মুক্তি পাবো।” সকলেই তার মত পছন্দ করলো এবং আমর বিন জাহাশ বিন কায়াব ইহুদী বললো, " আমিই এই কাজ করবো।” ষড়যন্ত্র অনুযায়ী সে ঘরের ছাদে চড়লো এবং একটি ভারী পাথর গড়িয়ে ফেলার জন্য তৈরী হয়ে গেল। সে সময় রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবার (রাঃ) একটি দলসহ প্রাচীরের ছায়ায় বসে ছিলেন। সেই মজলিসে হযরত আবু বকর (রাঃ), হযরত ওমর (রাঃ) এবং হযরত আলীও (রাঃ) উপস্থিত ছিলেন। আসমান থেকে হুজুর (সাঃ) খবর পেলেন যে, ইহুদীরা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এঁটেছে। সুতরাং তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং মদীনা রওয়ানা হয়ে গেলেন। সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) কিছুক্ষণ পর্যন্ত যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) ফিরে এলেন না তখন তাঁরা তাঁর সন্ধানে বেরিয়ে পড়লেন। মদীনা থেকে আগমনকারী এক ব্যক্তিকে তারা দেখলেন। সাহাবীরা (রাঃ) তাকে হুজুরের (সাঃ) ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। সে বললো, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মদীনা পৌঁছে গেছেন। অতএব, সাহাবীরাও (রাঃ) মদীনা ফিরে গেলেন। যখন তাঁরা হুজুরের (সাঃ) খিদমতে হাজির হলেন তখন তিনি (সাঃ) তাঁদেরকে ইহুদীদের ষড়যন্ত্রের কথা অবহিত করলেন। অতপর হজুর (সাঃ) সাহাবীদেরকে (রাঃ) যুদ্ধের প্রস্তুতির নির্দেশ দিলেন এবং বনু নজিরের দিকে নিজের বাহিনীসহ রওয়ানা হয়ে গেলেন।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 আবু আওয়াশের (রাঃ) ঘোড়া

📄 আবু আওয়াশের (রাঃ) ঘোড়া


ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, রসুলের (সাঃ) উট মদীনার বাইরে চরতো।
ইবনে হাসান এইসব উট হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য হামলা করে বসলো। সাইয়াহ ইবনুল আকওয়া মদীনা এসে প্রিয় নবীকে (সাঃ) এই খবর দিলেন। তিনি (সাঃ) ভয়ের ঘোষণা প্রচার করে দিলেন। হুজুরের (সাঃ) কন্ঠস্বর শুনে অনেক সাহাবা (রাঃ) দৌড়ে এলেন। তারা সকলেই ভালো ঘোড়সওয়ার ছিলেন। সর্বপ্রথম আগমনকারী সাহাবীদের মধ্যে হযরত মিকদাদ (রাঃ) বিন আসওয়াদ, উবাদ (রাঃ) বিন বাশার সায়াদ (রাঃ) বিন যায়েদ (রাঃ) উসায়েদ (রাঃ) বিন হুজায়ের উকাশা (রাঃ) বিন মিহসান, মাহরাজ (রাঃ) বিন ফুজলাহ, আবু কাতাদাহ (রাঃ), হারিছ (রাঃ) বিন রাবয়ী এবং আবু আয়আশ উবায়েদ বিন যায়েদ বিন ছামিত অন্তর্ভূক্ত ছিলেন।
রাসূলে পাক (সাঃ) সায়াদ (রাঃ) বিন যায়েদকে এইসব সাহাবীর (রাঃ) আমীর নিয়োগ করলেন এবং দুশমনদের পিছু ধাওয়া করা এবং তাদেরকে ধরার নির্দেশ দিলেন। এ সময় হুজুরে আকরাম (সাঃ) অবু আয়াশকে (রাঃ) বললেন, " হে আবু আয়াশ! কতই না ভালো হতো যদি নিজের ঘোড়াকে তুমি কোন ভালো সওয়ারকে দিয়ে দিতে। ফলে সে তাড়াতাড়ি দুশমন পর্যন্ত পৌঁছতে পারতো।
আবু আয়াশ (রাঃ) অরজ করলো, "হে আল্লাহর রাসূল! আমি সবার চেয়ে ভালো ঘোড় সওয়ার।” এই ঘটনাকে আবু আয়াশ (রাঃ) স্বয়ং এভাবে বর্ননা করেছেন, সে যখন নিজের ঘোড়ার ওপর সওয়ার হয়ে দুশমনের পিছু ধাওয়াতে বের হলো এবং ঘোড়া দৌড়ালো তখন ঘোড়া বড় কষ্টে ৫০ গজই দৌড়েছিল। সে সময় সে তাকে ফেলে দিল। সে খুব হয়রান হলো এবং লজ্জিতও। তার স্মরণ হলো যে, হুজুর (সাঃ) তাকে নিজের চেয়ে ভালো সওয়ারকে ঘোড়া দিয়ে দিতে বলেছিলেন। তার জবাবে তিনি বলেছিলেন, "আমি সবচেয়ে ভালো সওয়ার।"
তিনি যখন ঘোড়া থেকে পড়ে গেলেন তখন হুজুর (সাঃ) তাঁর থেকে ঘোড়া নিলেন এবং হযরত মায়াজকে (রাঃ) দিয়ে দিলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00