📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 ইহুদীনী

📄 ইহুদীনী


ইবনে ইসহাক আব্দুর রহমান বিন আবি হুসাইনুল মাক্কী থেকে এবং তিনি শাহার বিন হাওশাবুল আশয়ারী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইহুদী আলেমদের একটি দল হজুরে আকরামের (রাঃ) নিকট এলো এবং বললো, “হে মুহাম্মদ! আমাদেরকে চারটি প্রশ্নের জবাব দাও। তুমি যদি ঠিক জবাব দাও তাহলে আমরা তোমার নবুয়াতের সত্যতা স্বীকার করবো এবং তোমার ওপর ঈমান এনে তোমার অনুসরণকরবো।”
হুজুর (সাঃ) তাদেরকে বললেন, তোমাদের ওপর আল্লাহর প্রতিশ্রুতি রইলো। আমি যদি সঠিক জবাব দেই তাহলে তোমরা কি আমাকে সত্য বলে মানবে?” তারা বললো, “অবশ্যই।” তিনি বললেন, “তাহলে তোমাদের যা ইচ্ছা তাই প্রশ্ন কর।” তারা প্রথম প্রশ্ন করলো “শিশু মায়ের সদৃশ কেমন করে হয়। সে তো সৃষ্টি হয় বীর্য থেকে। আর বীর্য তো পুরুষেরই হয়।”
হুজুর আকরাম (সাঃ) বললেন, “আমি তোমাদেরকে আল্লাহর নাম এবং বনি ইসরাইলের নিকট সংরক্ষিত আল্লাহর আয়াতের কসম দিয়ে বলছি। আমাকে বল যে তোমরা এটা জানো যে পুরুষের বীর্য সাদা রংয়ের গাঢ় হয়। পক্ষান্তরে মহিলার বীর্য পাতলা ও হলুদ রংয়ের হয়। যখন দু ধরনের বীর্য পরস্পর মিলিত হয় এবং এক বীর্য অপর বীর্যের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে তখন সেই বীর্যের সদৃশই শিশু হয়ে থাকে।"
তারা বললো, “হ্যাঁ, জবাব ঠিকই হয়েছে।”
তারা দ্বিতীয় প্রশ্ন করলোঃ “আপনি আমাদেরকে বলুন যে আপনার নিদ্রার কি অবস্থা হয়? তিনি তাদেরকে পুনরায় কসম দিলেন এবং বললেন, “তোমরা কি আমার ব্যাপারে এই ধারণা রাখো না যে আমার চক্ষু নিদ্রা যায় এবং আমার অন্তর জেগে থাকে?”
তারা বললো, “হ্যাঁ, আমরাও এই ধারণা করি।” তিনি (সাঃ) বললেন, এটা তো সম্পূর্ণ ঠিক। কেন না আমার চক্ষুর ওপর নিদ্রা আধিপত্য বিস্তার করে। কিন্তু আমার অন্তর জাগরুক থাকে।
তারা তৃতীয় প্রশ্ন করলোঃ “আপনি আমাদেরকে বলুন যে, ইয়াকুব (আঃ) কি কি বস্তু নিজের ওপর হারাম করে নিয়েছিলেন?”
তিনি (সাঃ) এবারও তাদেরক কসম দিলেন এবং তাদের প্রশ্নের জবাব দিলেন, “তোমরা কি অবহিত আছো যে, হযরত ইয়াকুব (আঃ) উটের গোশত এবং দুধ সব খাবারের চেয়ে বেশী পসন্দ করতেন? তিনি একবার কোন রোগে আক্রান্ত হলেন। অতপর আল্লাহ পাক তাকে সেই রোগ থেকে মুক্তি দিলেন। এতে তিনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনার্থে নিজের পসন্দনীয় খাদ্য ও পানীয় বস্তু নিজের ওপর হারাম বলে আখ্যায়িত করে নিয়েছিলেন।"
তারা বললো, "হ্যা এ ঘটনা এই ধরনেরই।”
তারা চতুর্থ প্রশ্ন করলো, "আমাদেরকে জিবরাইল (আঃ) সম্পর্কে বলুন।”
তিনি পুনরায় তাদেরকে কসম দিলেন এবং বললেন, "তোমরা কি জিবরাইলকে (আঃ) এবং তিনি যে আমার নিকট আগমন করে থাকেন তা কি জানো?"
তারা জবাব দিল, হ্যাঁ আমরা তা জানি। কিন্তু হে মুহাম্মদ। সে তো আমাদের শত্রু। সে এমন ফেরেশতা, যে কঠোরতা নিয়ে আগমন করে এবং রক্ত প্রবাহিত করে থাকে। যদি তোমার সঙ্গে জিবরাইলের (আঃ) সম্পর্ক না থাকতো তাহলে খোদার কসম আমরা তোমাকে অবশ্যই অনুসরণ করতাম।”
ইবনে ইসহাক বলেন, এই পটভূমিতে সূরায়ে বাকারার এই আয়াত নাযিল হয়েছিল।-কূল মান কানা আদুবান লি জিব্রিলা...............লিল মুমিনিন- (সূরায়ে বাকারাহ, ৯৭ আয়াত)
" হে মুহাম্মদ! বলে দিন, যে জিবরাইলের (আঃ) দুশমন তার জেনে রাখা উচিত যে সে আপনার (সাঃ) পবিত্র কলবের ওপর এই (কুরআন মজিদ) আল্লাহরই অনুমতিতে নাযিলকৃত কিতাবসমূহের সত্যতার স্বীকৃতি দেয় এবং ঈমান আনয়নকারীদের জন্য হেদায়াত ও সাফল্যের সুসংবাদ নিয়ে এসেছে।”

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 ফাসিক আবু লায়লা

📄 ফাসিক আবু লায়লা


ইবনে ইসহাক (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, তিনি জাফর বিন আবদুল্লাহ বিন আবিল হাকাম থেকে শুনেছেন যে, প্রিয় নবীর (সাঃ) মদীনা শুভাগমনের পর আবু আমের তাঁর নিকট এসে জিজ্ঞেস করে, "তুমি যে দীন নিয়ে এসেছ তা কি?"
তিনি (সাঃ) জবাব দিলেন, "আমি ইবরাহীমের (আঃ) দীন নিয়ে এসেছি। এই দীন শিরক থেকে পবিত্র এবং সঠিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।” সে বললো, "আমিও সেই দীনের ওপরই রয়েছি।"
হুজুর (সাঃ) বললেন, "না, তুমি সেই দীনের ওপর নেই।" সে বললো, "আমি অবশ্যই সেই দীনের ওপর রয়েছি। কিন্তু হে মুহাম্মদ! তুমি সঠিক দীনের বা দীনে হানিফে নিজের তরফ থেকে নতুন নতুন বস্তু প্রবেশ করিয়েছ। প্রকৃতপক্ষে এইসব বস্তুর সঙ্গে সেই দীনের কোন সম্পর্ক নেই।”
তিনি বললেন, "আমিতো সেই দীনে কোন ভেজাল মিশাইনি। বরং তা প্রকৃত সুরতে ও পাক সাফ অবস্থায় পেশ করেছি।”
আবু আমের বললো, "আমাদের মধ্যে যে মিথ্যুক আল্লাহ তাকে বন্ধুহীন ও সাহায্যকারীহীন হিসেবে ছেড়ে দিক এবং একাকী অবস্থায় যেন তার মৃত্যু হয়।”
প্রিয় নবী (সাঃ) ইরশাদ করলেন "সম্পূর্ণ ঠিক কথা। মিথ্যার সঙ্গে আল্লাহ পাক এই ধরনের আচরণই করে থাকেন।"
আবু আমের কিছুদিন পর মদীনা থেকে মক্কা চলে গেল। যখন মক্কা বিজয় হলো তখন সে তায়েফে পালিয়ে গেল। তায়েফও বিজিত হলে তখন সেই খোদার দুশমন সিরিয়ার পথ ধরলো। সেখানে সে বন্ধুহীন, সাহায্যকারী হীন ও একাকী মারা গেল।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 রাসূল (সাঃ) ভীতি

📄 রাসূল (সাঃ) ভীতি


ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, হুজুর নবী করিম (সাঃ) হযরত আলীকে (রাঃ) নিজের ঝান্ডা প্রদান করে বনু কুরায়জার দূর্গের ওপর হামলা করার জন্য প্রেরণ করলেন। তিনি মুসলমানদের একটি দলসহ বনু কুরায়জাকে অবরোধ করলেন। অবরোধকালে হযরত আলী (রাঃ) ইহুদীদের মুখে নবী করিম (সাঃ) সম্পর্কে কদর্য ও কষ্টদায়ক কথা ও গালি শুনলেন। হযরত আলী (রাঃ) সেখান থেকে ফিরে এলেন এবং পথিমধ্যেই হুজুরের (সাঃ) সঙ্গে সাক্ষাত করলেন। হুজুরও (সাঃ) সেদিকেই যাচ্ছিলেন। হযরত আলী (রাঃ) আরজ করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তাদের কাছে যাবেন না।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "কেন? আমার ধারণা, তাদের মুখ থেকে আমার সম্পর্কে কদর্য কথা শুনেছ?"
তিনি বললেন, "হ্যাঁ, তাই।”
তিনি বললেন, "তুমি চিন্তা করো না। তারা আমার অনুপস্থিতিতে এই কাজ করেছে। আমার সামনে তাদের এ ধরনের কথা বলার সাহস হবে না"
হুজুর (সাঃ) যখন সেখানে পৌঁছলেন তখন বললেন, "হে বানরের ভাইয়েরা। আল্লাহ তায়ালা কি তোমাদেরকে অপমানিত করেননি এবং তোমাদের ওপর কি তার শাস্তি নাযিল হয়নি?"
তারা একথা শুনে বেয়াদবী না করে শুধু বললো, "হে আবুল কাসেম! আপনিতো কখনো জাহেলী প্রদ' স্নতেন না।”

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 উমায়রের ইসলাম গ্রহণ

📄 উমায়রের ইসলাম গ্রহণ


ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন জাফর বিন যোবায়ের ওরওয়াহ বিন যোবায়েরের মুখ দিয়ে এই ঘটনা আমাকে বলেছেন। উমায়ের বিন ওয়াহাবুল জাম-হি বদরের যুদ্ধের কিছুদিন পর ছাফওয়ান বিন উমাইয়ার সঙ্গে মক্কায় বসেছিল। সে কোরেশের সেইসব লোকের অন্যতম ছিল যারা হুজুরে করিম (সাঃ) ও সাহাবীদেরকে (রাঃ) কষ্ট প্রদানে আগে আগে থাকতো। তার পুত্র ওয়াহাব বিন উমায়ের বদরের যুদ্ধে মুসলমানদের হাতে গ্রেফতার হয়ে কয়েদী হয়ে গিয়েছিল।
উমায়ের বদরের যুদ্ধের পরিস্থিতিতে আফসোস প্রকাশ করলো এবং মুসলমানদের সম্পর্কে খারাপ শব্দ ব্যবহার করলো।
ছাফওয়ান শুনে বললো, "খোদার কসম। যারা বদরে মারা গেছে তাদের ছাড়া জীবনের আর কোন সৌন্দর্য থাকলো না।" উমায়ের বললো, "খোদার কসম। তুমি ঠিকই বলেছো। খোদার কসম, আমার ওপর যদি ঋণের বোঝা না থাকতো এবং পরিবার-পরিজনের চিন্তা না হতো আমার অনুপস্থিতিতে পরিবার-পরিজন ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে-তাহলে আমি অবশ্যই মদীনা গিয়ে মুহাম্মদকে (সাঃ) কতল করে ফেলতাম (নাউজুবিল্লাহ)। মদীনায় যাওয়ার ব্যাপারে আমার একটি বাহানাও আছে। আমার পুত্র তাদের হাতে আটক রয়েছে। আমি গিয়ে বলতে পারবো যে, তার সাথে সাক্ষাত করতে এসেছি।”
ছাফওয়ান সুযোগটাকে মূল্যবান মনে করলো এবং বললো, তোমার ঋণ আমার দায়িত্ব নিচ্ছি এবং তোমার পরিবার-পরিজনকেও দেখবো।"
উমায়ের তাকে বললো, "ঠিক আছে, বিষয়টি কারোর নিকট প্রকাশ করো না।" সে বললো, "আমি কাউকে বলবো না।” তার পর উমায়ের নিজের তরবারীতে খুব শান দিল এবং তাতে বিষ মিশালো। অতপর সে মদীনার দিকে রওয়ানা হলো। মদীনা পৌঁছে সে ওমর (রাঃ) বিন খাত্তাবকে مسلمانوں একটি দলে বসে থাকতে দেখল। সে সময় তারা বদরের যুদ্ধ প্রসঙ্গে আলোচনা করছিলেন এবং সেই যুদ্ধের কারণে আল্লাহ প্রদত্ত সম্মানও তাদের আলোচনায় স্থান পেয়েছিল। তাছাড়া শত্রুপক্ষের যে শিক্ষনীয় পরাজয় হয়েছিল সে ব্যাপারেও তারা মত বিনিময় করছিলেন। ওমর (রাঃ) বিন খাত্তাব উমায়ের বিন ওয়াহাবকে তরবারীসহ সজ্জিত দেখলেন। সেনিজের উট মসজিদের দরজায় বসাচ্ছিলো।
ওমর (রাঃ) সঙ্গীদেরকে বললেন, "এতো খোদার দুশমন উমায়ের বিন ওয়াহাব। খোদার কসম! সে তো কোন অপকর্ম করার জন্য এসেছে। এতো সেই ব্যক্তি যে বদরের ময়দানে দুশমনদেরকে আমাদের ওপর চড়াও হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করিয়েছিল এবং আমাদের সংখ্যার আন্দাজ সেই তাদেরকে বলেছিল। "তারপর ওমর (রাঃ) রাসূলের (সাঃ) নিকট গেলেন এবং আরজ করলেনঃ "হে আল্লাহর নবী! খোদার কসম এই দুশমন উমায়ের বিন ওয়াহাব নিজের তরবারী নিয়ে এসেছে এবং তার মতলব ঠিক নেই।”
হুজুর (সাঃ) বললেন, "তাকে আমার নিকট নিয়ে এসো।” হযরত ওমর (রাঃ) তার কাছে গেলেন এবং টানতে টানতে হুজুরের (সাঃ) নিকট নিয়ে এলেন। তিনি আনসার সঙ্গীদেরকে রাসূলের (সাঃ) নিকট বসতে এবং এই খবিছের ওপর নজর রাখতে বললেন। কেননা তার নিয়ত ঠিক নেই।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন দেখলেন যে, ওমর (রাঃ) তাকে ধরে নিয়ে আসছেন তখন বললেন, "ওমর। তাকে ছেড়ে দাও। হে উমায়ের। আমার নিকট এসো।" উমায়ের নিকটে গেল এবং জাহেলী রীতি অনুযায়ী সালাম করলো।
হুজুর (সাঃ) বললেন, "আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সালাম ও দোয়ার উন্নত পদ্ধতি শিখিয়েছেন এবং তাই হলো জান্নাতবাসীদের পদ্ধতি। তাতে সালামত ও রহমতের দোয়া করা হয়।"
উমায়ের বললো, "হে মুহাম্মদ! খোদার কসম, তুমি জানো যে, এই পদ্ধতি বেশী দিনের নয়। এজন্য আমাকে ক্ষমা করো। আমি ঐ পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত নই।”
হজুর (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, "হে উমায়ের। কি উদ্দেশ্যে এসেছো?” সে জবাব দিল, "আমার কয়েদী তোমাদের নিকট রয়েছে। আমি সে জন্যই এসেছি। আমার সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করো এবং তাকে ছেড়ে দাও।” তিনি বললেন, তোমার গলায় তরবারী ঝুলছে। এটা কি কারণে?” জবাবে সে বললো, "আল্লাহ তায়ালা আমাদের তরবারীকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। এইসব তরবারী কি (বদরে) আমাদের কোন সাহায্য করেছে?”
হুজুর (সাঃ) বললেন, "আমাকে সত্য সত্য বলো যে, তুমি কিজন্য এসেছো?” সে জবাব দিল, "আমিতো সেই কাজের জন্য এসেছি যার উল্লেখ করেছি।” রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, "তুমি মিথ্যা বলেছ। তুমি ছাফওয়ান বিন উমাইয়ার সঙ্গে হাজারে আসওয়াদের নিকট বসেছিলে। অতপর তোমরা কোরেশের নিহতদের কথা পরস্পর উল্লেখ করেছ। এসময় তুমি ছাফওয়ানকে বলেছ যে যদি আমার ওপর ঋণের বোঝা না থাকতো এবং পরিবার-পরিজনের দায়িত্ব না হত তাহলে আমি গিয়ে মুহাম্মদকে (সাঃ) শেষ করে দিতাম।"
তোমার কথা শুনে ছাফওয়ান তোমার ঋণ তার দায়িত্বে নিয়ে নেয় এবং তোমার পরিবার-পরিজনের দেখা-শুনা করার ওয়াদাও করে। তুমি আমাকে হত্যা করার জন্য এসেছ। কিন্তু আমার ও তোমার ইচ্ছার মাঝখানে আল্লাহ তায়ালা বাধা হয়েদাঁড়িয়েছেন।"
উমায়ের বললো, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহর রাসূল!”
"হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদেরকে আসমানের যে খবর বলতেন এবং আপনার ওপর যে ওহি নাযিল হতো তা আমরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করতাম। এখন যে প্রসঙ্গে আপনি আমাকে খবর দিচ্ছেন তা আমি এবং ছাফওয়ান ছাড়া কেউই জানতো না। খোদার কসম! আমি ভালোভাবে জেনে গিয়েছি যে সে খবর আল্লাহ ছাড়া আপনাকে কেউই দেয়নি। বস্তুতঃ হামদ ও ছানা সেই আল্লাহর তিনি ইসলামের প্রতি আমাকে হেদায়াত দিয়েছেন এবং আমাকে এখান পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। আমি প্রকৃত তাৎপর্য জেনে ফেলেছি।” তারপর উমায়ের (রাঃ) কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করলেন।
নবীয়ে আকরাম (সাঃ) তার ইসলাম গ্রহণে খুব খুশী হলেন এবং সাহাবীদেরকে (রাঃ) বললেন "তোমাদের ভাইকে দীন বুঝাও ও কুরআন মজিদ পড়াও। সাহাবীরা (রাঃ) হুজুরের (সাঃ) হুকুম তামিল করলেন।
অতপর উমায়ের (রাঃ) হুজুরের (সাঃ) নিকট আরজ করলেনঃ "হে আল্লাহর রাসূল। আমি কুফুরী অবস্থায় আল্লাহর মুমিন বান্দাদেরকে কঠোর কষ্ট দিতাম এবং আল্লাহর রশ্মি নির্বাপণের জন্য তৎপর ছিলাম। আপনি এখন আমাকে মক্কা গমন এবং মক্কাবাসীদেরকে আল্লাহ ও তার রাসূল এবং দীনে হকের দাওয়াত দানের অনুমতি দিন। আল্লাহ পাক তাদেরকে হেদায়াত দিতে পারেন। তারা যদি ইসলাম কবুল না করে তাহলে আমি যেভাবে হকপন্থীদের কষ্ট দিতাম তেমনি হকের দুশমনদেরকেও কষ্ট দিব।” হুজুর (সঃ) উমায়েরকে (রাঃ) অনুমতি দিয়ে দিলেন। এবং তিনি মক্কা চলে গেলেন।
উমায়ের (রাঃ) মদীনা চলে যাওয়ার পর ছাফওয়ান বিন উমাইয়া আশা করে বসেছিলো যে, উমাইয়া শীঘ্রই কোন সুসংবাদ নিয়ে আসবে। সে মক্কাবাসীদেরকে প্রত্যেক দিন বলতো যে শীগ্রই আমি তোমাদের একটি সুসংবাদ দিব। ফলে তোমরা বদরের দুঃখ ভুলে যাবে। ছাফওয়ান প্রত্যেক কাফেলার নিকট উমায়েরের (রাঃ) ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতো। একদিন একটি সওয়ার এলো এবং ছাফওয়ানকে বললো যে, উমায়ের (রাঃ) তো মুসলমান হয়ে গেছে। ছাফওয়ানের খুব আফসোস হলো এবং কসম খেলো যে সে কখনো উমায়েরের (রাঃ) সঙ্গে কথা বলবে না ও তাকে কোন উপকারও করবে না
ইবনে ইসহাক বলেন, উমায়ের যখন মক্কা পৌঁছলেন তখন লোকদেরকে প্রকাশ্য ইসলামের দাওয়াত দিতে লাগলেন। কেউ বিরোধিতা করলে তিনি একহাত নিতেন। তিনি কাউকে ভয় করতেন না। তাঁর হাতে বহু সংখ্যক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00