📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 সালমানের খেজুর

📄 সালমানের খেজুর


ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন যে, হযরত সালমান ফারসী বলেন, আমাকে রাসূলে আকরাম (সাঃ) বলেছেন, "সালমান, নিজের মালিকের সঙ্গে আযাদীর জন্য শর্তাবলী ঠিক করে চুক্তি করে নাও।" অতপর আমি তার সঙ্গে কথা বললাম এবং সিদ্ধান্ত হলো যে আমি তার বাগানে তিনশ' খেজুরের গাছ লাগাবো এবং চল্লিশ আওকিয়া স্বর্ণ তাকে দিব। তার বদলায় সে আমাকে আযাদ করে দেবে।
আযাদীর চুক্তি লিপিবদ্ধ হওয়ার পর হুজুর (সাঃ) সাহাবীদেরকে (রাঃ) বললেন, "নিজের ভাইকে সাহায্য কর।” সুতরাং সাহাবীরা (রাঃ) আমাকে পুরোপুরি সাহায্য করলেন। কেউ খেজুরের ৩০টি, কেউবা ২০টি, কেউবা ১৫টি, কেউবা ১০টি চারা দিলেন। প্রত্যেকেই সামর্থ্য অনুযায়ী আমাকে সাহায্য করলেন। এভাবে আমার নিকট তিনশ' চারা জমা হলো। তখন হুজুর (সাঃ) আমাকে বাগানে গিয়ে গর্ত খুঁড়ে আসতে বললেন। তিনি (সাঃ) বলেছিলেন যে, মাটিতে চারা সে নিজের হাতে লাগাবে।
আমি সঙ্গীদের সাথে গর্ত খুঁড়লাম যখন সকল গর্ত তৈরী হয়ে গেল তখন হুজুর (সাঃ) তাশরীফ আনলেন। আমরা চারা তাঁর (সাঃ) হাতে তুলে দিচ্ছিলাম এবং তিনি তা মাটিতে লাগিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি স্বয়ং সকল চারা লাগালেন। সেই সত্ত্বার কসম। যার হাতে সালমানের জীবন রয়েছে। সেই চারার একটিও শুকায়নি। একটিও মরেনি। সব চারাই বড় হয়েছিল এবং খুব ফল দিয়েছিল।
খেজুর গাছ লাগানোর শর্ত পূরণ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ৪০ আওকিয়া স্বর্ণ প্রদান বাকী ছিল। তা কোথেকে আসবে? আমি এই চিন্তাই করছিলাম। এমন সময় সাহাবীরা (রাঃ) একটি সাররিয়াহ বা যুদ্ধ থেকে ফিরে এলেন এবং মুরগির ডিমের মত স্বর্ণের একটি ডালি নিয়ে এলেন। হুজুরের (সাঃ) হাতে যখন সেই স্বর্ণ পৌঁছলো তখন তিনি আমার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন। আমি হাজির হলে বললেন, "সালমান! এই স্বর্ণ নিয়ে যাও এবং তোমার মালিককে দিয়ে আযাদী লাভ করো।"
আমি আরজ করলাম, "হে আল্লাহর রাসূল! এতে কেমন করে পূরণ হবে।" তিনি তার ওপর নিজের পবিত্র মুখ ঘুরালেন এবং বললেন, " তা নিয়ে যাও এবং মেপে দাও। তাতেই পূরণ হবে।”
আমি সেই ডালি নিয়ে আমার মালিকের নিকট গেলাম এবং তাকে স্বর্ণ মেপে দিলাম এবং তা পুরো ৪০ আওকিয়া হলো।".

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 ইহুদীনী

📄 ইহুদীনী


ইবনে ইসহাক আব্দুর রহমান বিন আবি হুসাইনুল মাক্কী থেকে এবং তিনি শাহার বিন হাওশাবুল আশয়ারী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইহুদী আলেমদের একটি দল হজুরে আকরামের (রাঃ) নিকট এলো এবং বললো, “হে মুহাম্মদ! আমাদেরকে চারটি প্রশ্নের জবাব দাও। তুমি যদি ঠিক জবাব দাও তাহলে আমরা তোমার নবুয়াতের সত্যতা স্বীকার করবো এবং তোমার ওপর ঈমান এনে তোমার অনুসরণকরবো।”
হুজুর (সাঃ) তাদেরকে বললেন, তোমাদের ওপর আল্লাহর প্রতিশ্রুতি রইলো। আমি যদি সঠিক জবাব দেই তাহলে তোমরা কি আমাকে সত্য বলে মানবে?” তারা বললো, “অবশ্যই।” তিনি বললেন, “তাহলে তোমাদের যা ইচ্ছা তাই প্রশ্ন কর।” তারা প্রথম প্রশ্ন করলো “শিশু মায়ের সদৃশ কেমন করে হয়। সে তো সৃষ্টি হয় বীর্য থেকে। আর বীর্য তো পুরুষেরই হয়।”
হুজুর আকরাম (সাঃ) বললেন, “আমি তোমাদেরকে আল্লাহর নাম এবং বনি ইসরাইলের নিকট সংরক্ষিত আল্লাহর আয়াতের কসম দিয়ে বলছি। আমাকে বল যে তোমরা এটা জানো যে পুরুষের বীর্য সাদা রংয়ের গাঢ় হয়। পক্ষান্তরে মহিলার বীর্য পাতলা ও হলুদ রংয়ের হয়। যখন দু ধরনের বীর্য পরস্পর মিলিত হয় এবং এক বীর্য অপর বীর্যের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে তখন সেই বীর্যের সদৃশই শিশু হয়ে থাকে।"
তারা বললো, “হ্যাঁ, জবাব ঠিকই হয়েছে।”
তারা দ্বিতীয় প্রশ্ন করলোঃ “আপনি আমাদেরকে বলুন যে আপনার নিদ্রার কি অবস্থা হয়? তিনি তাদেরকে পুনরায় কসম দিলেন এবং বললেন, “তোমরা কি আমার ব্যাপারে এই ধারণা রাখো না যে আমার চক্ষু নিদ্রা যায় এবং আমার অন্তর জেগে থাকে?”
তারা বললো, “হ্যাঁ, আমরাও এই ধারণা করি।” তিনি (সাঃ) বললেন, এটা তো সম্পূর্ণ ঠিক। কেন না আমার চক্ষুর ওপর নিদ্রা আধিপত্য বিস্তার করে। কিন্তু আমার অন্তর জাগরুক থাকে।
তারা তৃতীয় প্রশ্ন করলোঃ “আপনি আমাদেরকে বলুন যে, ইয়াকুব (আঃ) কি কি বস্তু নিজের ওপর হারাম করে নিয়েছিলেন?”
তিনি (সাঃ) এবারও তাদেরক কসম দিলেন এবং তাদের প্রশ্নের জবাব দিলেন, “তোমরা কি অবহিত আছো যে, হযরত ইয়াকুব (আঃ) উটের গোশত এবং দুধ সব খাবারের চেয়ে বেশী পসন্দ করতেন? তিনি একবার কোন রোগে আক্রান্ত হলেন। অতপর আল্লাহ পাক তাকে সেই রোগ থেকে মুক্তি দিলেন। এতে তিনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনার্থে নিজের পসন্দনীয় খাদ্য ও পানীয় বস্তু নিজের ওপর হারাম বলে আখ্যায়িত করে নিয়েছিলেন।"
তারা বললো, "হ্যা এ ঘটনা এই ধরনেরই।”
তারা চতুর্থ প্রশ্ন করলো, "আমাদেরকে জিবরাইল (আঃ) সম্পর্কে বলুন।”
তিনি পুনরায় তাদেরকে কসম দিলেন এবং বললেন, "তোমরা কি জিবরাইলকে (আঃ) এবং তিনি যে আমার নিকট আগমন করে থাকেন তা কি জানো?"
তারা জবাব দিল, হ্যাঁ আমরা তা জানি। কিন্তু হে মুহাম্মদ। সে তো আমাদের শত্রু। সে এমন ফেরেশতা, যে কঠোরতা নিয়ে আগমন করে এবং রক্ত প্রবাহিত করে থাকে। যদি তোমার সঙ্গে জিবরাইলের (আঃ) সম্পর্ক না থাকতো তাহলে খোদার কসম আমরা তোমাকে অবশ্যই অনুসরণ করতাম।”
ইবনে ইসহাক বলেন, এই পটভূমিতে সূরায়ে বাকারার এই আয়াত নাযিল হয়েছিল।-কূল মান কানা আদুবান লি জিব্রিলা...............লিল মুমিনিন- (সূরায়ে বাকারাহ, ৯৭ আয়াত)
" হে মুহাম্মদ! বলে দিন, যে জিবরাইলের (আঃ) দুশমন তার জেনে রাখা উচিত যে সে আপনার (সাঃ) পবিত্র কলবের ওপর এই (কুরআন মজিদ) আল্লাহরই অনুমতিতে নাযিলকৃত কিতাবসমূহের সত্যতার স্বীকৃতি দেয় এবং ঈমান আনয়নকারীদের জন্য হেদায়াত ও সাফল্যের সুসংবাদ নিয়ে এসেছে।”

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 ফাসিক আবু লায়লা

📄 ফাসিক আবু লায়লা


ইবনে ইসহাক (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, তিনি জাফর বিন আবদুল্লাহ বিন আবিল হাকাম থেকে শুনেছেন যে, প্রিয় নবীর (সাঃ) মদীনা শুভাগমনের পর আবু আমের তাঁর নিকট এসে জিজ্ঞেস করে, "তুমি যে দীন নিয়ে এসেছ তা কি?"
তিনি (সাঃ) জবাব দিলেন, "আমি ইবরাহীমের (আঃ) দীন নিয়ে এসেছি। এই দীন শিরক থেকে পবিত্র এবং সঠিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।” সে বললো, "আমিও সেই দীনের ওপরই রয়েছি।"
হুজুর (সাঃ) বললেন, "না, তুমি সেই দীনের ওপর নেই।" সে বললো, "আমি অবশ্যই সেই দীনের ওপর রয়েছি। কিন্তু হে মুহাম্মদ! তুমি সঠিক দীনের বা দীনে হানিফে নিজের তরফ থেকে নতুন নতুন বস্তু প্রবেশ করিয়েছ। প্রকৃতপক্ষে এইসব বস্তুর সঙ্গে সেই দীনের কোন সম্পর্ক নেই।”
তিনি বললেন, "আমিতো সেই দীনে কোন ভেজাল মিশাইনি। বরং তা প্রকৃত সুরতে ও পাক সাফ অবস্থায় পেশ করেছি।”
আবু আমের বললো, "আমাদের মধ্যে যে মিথ্যুক আল্লাহ তাকে বন্ধুহীন ও সাহায্যকারীহীন হিসেবে ছেড়ে দিক এবং একাকী অবস্থায় যেন তার মৃত্যু হয়।”
প্রিয় নবী (সাঃ) ইরশাদ করলেন "সম্পূর্ণ ঠিক কথা। মিথ্যার সঙ্গে আল্লাহ পাক এই ধরনের আচরণই করে থাকেন।"
আবু আমের কিছুদিন পর মদীনা থেকে মক্কা চলে গেল। যখন মক্কা বিজয় হলো তখন সে তায়েফে পালিয়ে গেল। তায়েফও বিজিত হলে তখন সেই খোদার দুশমন সিরিয়ার পথ ধরলো। সেখানে সে বন্ধুহীন, সাহায্যকারী হীন ও একাকী মারা গেল।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 রাসূল (সাঃ) ভীতি

📄 রাসূল (সাঃ) ভীতি


ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, হুজুর নবী করিম (সাঃ) হযরত আলীকে (রাঃ) নিজের ঝান্ডা প্রদান করে বনু কুরায়জার দূর্গের ওপর হামলা করার জন্য প্রেরণ করলেন। তিনি মুসলমানদের একটি দলসহ বনু কুরায়জাকে অবরোধ করলেন। অবরোধকালে হযরত আলী (রাঃ) ইহুদীদের মুখে নবী করিম (সাঃ) সম্পর্কে কদর্য ও কষ্টদায়ক কথা ও গালি শুনলেন। হযরত আলী (রাঃ) সেখান থেকে ফিরে এলেন এবং পথিমধ্যেই হুজুরের (সাঃ) সঙ্গে সাক্ষাত করলেন। হুজুরও (সাঃ) সেদিকেই যাচ্ছিলেন। হযরত আলী (রাঃ) আরজ করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তাদের কাছে যাবেন না।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "কেন? আমার ধারণা, তাদের মুখ থেকে আমার সম্পর্কে কদর্য কথা শুনেছ?"
তিনি বললেন, "হ্যাঁ, তাই।”
তিনি বললেন, "তুমি চিন্তা করো না। তারা আমার অনুপস্থিতিতে এই কাজ করেছে। আমার সামনে তাদের এ ধরনের কথা বলার সাহস হবে না"
হুজুর (সাঃ) যখন সেখানে পৌঁছলেন তখন বললেন, "হে বানরের ভাইয়েরা। আল্লাহ তায়ালা কি তোমাদেরকে অপমানিত করেননি এবং তোমাদের ওপর কি তার শাস্তি নাযিল হয়নি?"
তারা একথা শুনে বেয়াদবী না করে শুধু বললো, "হে আবুল কাসেম! আপনিতো কখনো জাহেলী প্রদ' স্নতেন না।”

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00