📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 আবুল ইয়াসারের জন্য রাসূলের (সাঃ) দোয়া

📄 আবুল ইয়াসারের জন্য রাসূলের (সাঃ) দোয়া


ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন যে, বুরাইদাহ বিন সুফিয়ান আসলামী তাঁকে এই ঘটনা কয়েকজন বর্ণনাকারীর মুখ দিয়ে শুনিয়েছেন। আবুল ইয়াসার কা'ব বিন ওমর বলেন, "আমরা হুজুরে আকরামের (সাঃ) সঙ্গে খায়বারের যুদ্ধে ছিলাম। রাত হয়ে যাচ্ছিল। আমরা ইহুদীদের দূর্গ অবরোধ করেছিলাম। হঠাৎ করে ভেড়া-ছাগলের একটি দল সেখান দিয়ে অতিক্রম করলো। তার মালিক ছিল একজন ইহুদী এবং দুর্গে ফিরে যাচ্ছিল।
হুজুরে আকরাম (সাঃ) ইরশাদ করলেনঃ "এইসব বকরীর মধ্য থেকে দুচারটা আমাদের খাওয়ার জন্য কে নিয়ে আসতে পারে?” আবুল ইয়াসার বলেন, "আমি আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমি এই কাজ করতে পারি।” তিনি বললেন, "ঠিকআছে।”
আমি উট পাখীর মত গিয়ে বকরীর পালে ঢুকে পড়লাম। পালের প্রথম অংশ দুর্গে ঢুকে পড়েছিল। আমি শেষ অংশ থেকে দু'টো ধরলাম এবং তা বগলদাবা করে নিজের সৈন্যবাহনীর দিকে রওয়ানা করলাম। আমি এমনভাবে আসছিলাস যে আমার নিকট যেন কোন বোঝাই নেই।
আমি যখন বকরী নিয়ে হুজুরে আকরামের (সাঃ) খিদমতে পেশ করলাম তখন তিনি তা জবেহ করার নির্দেশ দিলেন এবং সকলেই তার গোশত খেলেন।"
রাসুলের (সাঃ) সাহাবীদের (রাঃ) মধ্যে হযরত আবুল ইয়াসারই (রাঃ) সর্বশেষে ওফাত পান। হজুরে আকরাম (সাঃ) তাঁর কল্যাণের জন্য দোয়া করেছিলেন। তিনি দীর্ঘজীবন পেয়েছিলেন। শেষ জীবনে তিনি কখনো এই ঘটনা বর্ণনা করলে অশ্রু ঝরে পড়তো এবং বলতেন, "আমার থেকে উপকৃত হও। আমার বয়সের কসম। সাহাবীদের (রাঃ) দলের আমিই রয়ে গেছি। বাকী সবাই বিদায় নিয়ে গেছেন।”

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 বিষমিশ্রিত বকরী

📄 বিষমিশ্রিত বকরী


ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন যে, হুজুরে আকরাম (সাঃ) খায়বারের দুর্গ জয় করে যখন সেখানে ইতমিনানের সঙ্গে অবস্থান করলেন তখন সাল্লাম বিন মাশকাম ইহুদীর স্ত্রী যয়নব বিনতিল হারিছ প্রিয় নবীকে (সাঃ) একটি হাদিয়া পাঠালো। হাদিয়াটি ছিল মুসাল্লাম গোশতের আকারে একটি বকরী। মহিলাটি হাদিয়া প্রেরণের পূর্বে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, হুজুর (সাঃ) বকরীর কোন অংশের গোশত বেশী পছন্দ করেন। তাকে বলা হয়েছিল দস্তির গোশত তিনি বেশী পছন্দ করেন।
মহিলাটি বকরীর গোশতে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিল এবং বিশেষভাবে দস্তিকে বেশী করে ভুনেছিল। অতপর এই তুনা বকরী নিয়ে সে হুজুরের (সাঃ) সামনে রেখে দিলো। হুজুর (সা:) দস্তির গোশত নিলেন। কিন্তু তিনি তা তখনো খাননি। তার পাশে সাহাবী হযরত বাশার (রাঃ) বিন বারা' বিন মরুরও বসেছিলেন। তিনি গোশতের একটি টুকরো নিলেন এবং খেয়ে ফেললেন। প্রিয় নবী (সাঃ) মুখে লোকমা তো নিলেন কিন্তু না গিলে উগড়ে দিলেন। অতপর বললেন, বকরীর হাড় আমাকে খবর দিচ্ছে যে এটা বিষাক্ত।
সেই মহিলাতো বকরী রেখে চলে গিয়েছিল। তিনি তাকে তৎক্ষণাৎ ডেকে পাঠালেন। সে আসার পর তিনি তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন। সে অপরাধ স্বীকার করলো। তিনি তাকে এই অপরাধমূলক কাজ কেন করেছে তা জিজ্ঞাসা করলেন। জবাবে সে বললো "আপনি আমার কওমের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন তা আপনার নিকট গোপনীয় ব্যাপার নয়। আমি ধারনা করেছিলাম যে, আপনি যদি দুনিয়ার বাদশাহদের মত বাদশাহ হন তাহলে বিষ মিশ্রিত গোশত খেয়ে মারা যাবেন এবং আমি শাস্তি পাবো এবং প্রতিশোধের আগুন ঠান্ডা হবে। আর আপনি যদি নবী (সাঃ) হন তাহলে আল্লাহ আপনাকে খবরদার করবেন।"
ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেন যে, এই স্বীকৃতির পর হুজুর (সাঃ) তাকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু দ্বিতীয় রাওয়ায়েত থেকে জানা যায় যে, সে সময় তিনি তাকে ক্ষমা করে দেন। তবে পরে সেই বিষের ক্রিয়ায় হযরত বশিরের (রাঃ) ওফাত হলে তিনি ইসলামী আইন অনুযায়ী সেই মহিলার ওপর কিসাসের হদ জারি করেন এবং তাকে কতল করা হয়।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 আল-আসওয়াদ রাখাল

📄 আল-আসওয়াদ রাখাল


ইবনে ইসহাক (রাঃ) আসওয়াদ রাখালের ঘটনা বর্ণনা করে লিখেছেন, "হুজুরে আকরাম (সাঃ) যখন খায়বারের একটি দূর্গ অবরোধ করে রেখেছিলেন তখন এই রাখাল তাঁর নিকট এলো। তার কাছে একটি বকরীর পাল ছিল। আর তার মালিক ছিল একজন ইহুদী। সে হুজুরকে (সাঃ) আরজ করলো, "হে আল্লাহর রাসূল ইসলাম সম্পর্কে আমাকে কিছু বলুন। তিনি তার সামনে ইসলামের শিক্ষা পেশ করলেন। তাতে সে ইসলাম গ্রহণ করলো। হুজুর (সাঃ) যে কোন ব্যক্তির সামনে ইসলাম পেশ করতে কখনো লজ্জা অনুভব করতেন না। তা সে যত সাধারণ বা নীচই হোক না কেন। রাখাল যখন মুসলমান হলো তখন বললো, "হে আল্লাহর রাসুল! আমি অমুক ইহুদীর কাছে চাকরি করি এবং এগুলো তারই বকরী। এখন আমাকে বলুন, আমি কি করবো?” তিনি বললেন, এই সব বকরীকে পাথর মেরে ভাগিয়ে দাও। তারা নিজের মালিকের নিকট নিজেরাই চলে যাবে। আসওয়াদ রাখাল মুঠ ভরে পাথর নিল এবং বকরীদের মুখের ওপর মারতে মারতে বললো, "যাও নিজের মালিকের নিকট চলে যাও। খোদার কসম! আমি আর কখনো তোমাদের সঙ্গে যাবো না।"
বকরীগুলো একত্রিত হয়ে দুর্গের দিকে চলে গেল, আসওয়াদ রাখাল সাহাবীদের (রাঃ) সঙ্গে শামিল হয়ে গেলেন। এখন তিনি সাহাবী। মুজাহিদদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে তিনি দুর্গের ওপর হামলা করলেন এবং যুদ্ধে খুব বীরত্ব প্রদর্শন করলেন। দুর্গের ওপর থেকে ইহুদীরা পাথর নিক্ষেপ করলো। একটি পাথর হয়রত আসওয়াদের গায়ে লাগলো এবং তিনি মারাত্মকভাবে আহত হলেন এবং তখনই তিনি শাহাদাত বরণ করলেন। তার পবিত্র লাশ হুজুরের (সাঃ) নিকট আনা হালো এবং চাদর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হলো। প্রিয় নবী (সাঃ) সাহাবার (রাঃ) এক দলের সঙ্গে সামনে অগ্রসর হলেন। কিন্তু তিনি পুনরায় পিছু হটে এলেন। সাহাবীরা (রাঃ) আরজ করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল। আপনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন কেন?" তিনি বললেন, তাঁর নিকট সুন্দর চক্ষু বিশিষ্ট দু'জন হর ছিলেন। জান্নাতে তারা তাঁর স্ত্রী। আমি লজ্জার কারণে পিছু হটে এসেছি।
সেই সাহাবা (রা) না কোন নামায পড়েছিলেন। না কোন রোযা রেখেছিলেন। কিন্তু সোজা জান্নাতে পৌঁছে গিয়েছিলেন। আল্লাহ তার ওপর রাজী হয়ে গিয়েছিলেন।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 আলীর (রাঃ) চোখ

📄 আলীর (রাঃ) চোখ


ইমাম বুখারী (রঃ) বর্ণনা করেছেন, "আমাদের থেকে আবদুল্লাহ বিন মুসলিমা আল কায়ানি তাঁর থেকে আব্দুল আজীজ বিন আবি হাযিম তাঁর থেকে তাঁর পিতা এবং তাঁর থেকে সাহাল বিন সায়াদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবীয়ে আকরামের (সাঃ) পবিত্র যবান থেকে খায়বারের যুদ্ধের সময় শুনেছেন। তিনি (সাঃ) বলেছেন, "আমি ঝান্ডা সেই ব্যক্তির হাতে দিব যার হাতে অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা দুর্গ জয় করিয়ে দেবেন।"
লোকজন একথা শুনে তাঁর মজলিস থেকে বিদায় হয়ে গেলেন। তারা চিন্তা করছিল যে ঝান্ডা কাকে দেওয়া হবে। প্রত্যেকেরই আকাংখা ছিল যে ঝান্ডা সেই পাবে। দ্বিতীয় দিন তিনি (সাঃ) বললেন, "আলী কোথায়?” বলা হলো যে, সে চোখের ব্যথায় কাতরাচ্ছে। তিনি বললেন, "তাঁকে ডাকা হোক।” সে যখন হাজির হলো তখন তিনি তাঁর চোখে নিজের মুখের লালা ডলে দিলেন। তাঁর চোখ সম্পূর্ণ ঠিক হয়ে গেল। যেন তাঁর চোখে কোন অসুবিধাই ছিল না। হযরত আলী (রাঃ) ঝান্ডা নিয়ে বললেন, "আমরা তাদের সঙ্গে সেই সময় পর্যন্ত লড়াই করতে থাকবো যতক্ষণ তারা আমাদের এই দীনে দাখিল না হয়ে যায় (অথবা আমাদের রাষ্ট্রকে মেনে না নেয়)" হুজুরে আকরাম (সাঃ) বললেন, "চুপচাপ ও আরামের সঙ্গে যাও এবং তাদের বাড়ীর সামনে পৌঁছে সর্বপ্রথম তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দাও এবং ইসলামের যেসব বন্ধু ফরজ সে সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত কর। খোদার কসম। এক ব্যক্তিও যদি তোমাদের হাতে হেদায়াত পায় তা হবে তোমাদের জন্য লাল ধনাগার থেকেও উত্তম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00