📄 আব্দুল্লাহর (রাঃ) তরবারী
যুহায়ের বর্ণনা করেছেন, যুদ্ধের ময়দানে হযরত আব্দুল্লাহ (রাঃ) বিন জাহাশের তরবারী ভেঙ্গে গেল। হুজুরে আকরাম (সাঃ) তাঁকে খেজুরের এক লাঠি দান করলেন। এই লাঠি তাঁর হাতে তরবারী হয়ে গেল। তার হাতলও খেজুরেরই ছিল। এই তরবারী উরজুল নামে খ্যাত ছিল।
📄 কুলসুমের মাজযুব
ইবনে আব্দুল বার বর্ণনা করেছেন যে, আবু রাহাম কুলসুম বিন হাছিন বিন গালফ বিন উবাইদুল গিফারী যিনি বেশীর ভাগ নিজের আবু রাহাম কুনিয়তে মশহুর ছিলেন। রাসূলের (সাঃ) মদীনা আগমনের পর তিনি মুসলমান হন। তিনি বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। কিন্তু ওহোদ ও তার পরের যুদ্ধসমূহে অংশগ্রহণ করেন। বাইয়াতে রিদওয়ানেও তিনি উপস্থিত ছিলেন। হজুরে আকরাম (সাঃ) মদীনায় তাঁকে দুবার নিজের স্থলাভিষিক্ত করেন।
ওহোদের যুদ্ধে শত্রুর একটি তীর তার গলায় বিদ্ধ হয়। তিনি সেই অবস্থাতেই হুজুরের (সাঃ) খিদমতে হাজির হলেন। হুজুর (সাঃ) তীর খুলে দিলেন এবং ক্ষতের ওপর মুখের পবিত্র লালা লাগিয়ে দিলেন। ক্ষত শুকিয়ে গেল। কিন্তু তারপর থেকে হযরত আবু রাহামের নামই "আল মানহর" অর্থাৎ গলাকাটা বলে খ্যাত হয়ে গেল।
📄 নবীর (সাঃ) ধনু
ওয়াকেদী ইবনে কাতাদার উদ্ধৃতিসহ ওহোদ যুদ্ধের অবস্থা লিখতে গিয়ে বর্ণনা করেছেন, "হজুরে আকরাম (সাঃ) যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেন এবং বর্শা দিয়ে দুশমনের মুকাবিলা করতে থাকেন। এমনকি বর্শা ভেঙ্গে যায়। এছাড়া তাঁর ধনুর কাঠ ভেঙ্গে যায় এবং দড়ি ছিঁড়ে যায়।
ধনুর রশি বা দড়ি এক বিঘত পরিমাণ ছিল। তা এবং ধনুর কাঠ উকাশাহ (রাঃ) বিন মিহসান ধরলেন। তিনি কাঠের ধনু বানিয়ে তাতে দড়ি বাঁধতে লাগলেন। কিন্তু তা ছিল খুবই ছোট। অপর প্রান্ত পর্যন্ত পৌছছিল না। তিনি হজুরে পাকের (সাঃ) নিকট একথা বললেন। হুজুর (সাঃ) বললেন, "তা টানো। অপর প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।"
উকাশাহ (রাঃ) বলেন, "সেই সত্তার কসম যিনি মুহাম্মদকে (সাঃ) হক দিয়ে প্রেরণ করেছেন। আমি রশি টানলাম। তা বড় হতে লাগলো এবং কাঠের অপর দিকে লাগালাম। অতপর তা নরম হয়ে গেল। হুজুর (সাঃ) নিজের ধনু নিয়ে নিলেন এবং তা দিয়ে তীর নিক্ষেপ করতে লাগলেন। তীর নিক্ষেপে সে দিন আবু তালহা (রাঃ) খুবই পারদর্শিতা দেখালেন। তিনি হুজুরে আকরামের (সাঃ) সামনে নিজেকে ঢাল হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তীরও চালাচ্ছিলেন। অবশেষে তার ধনুও ভেঙ্গে গিয়েছিল এবং তা কাতাদাহ (রাঃ) বিন নুমান উঠিয়ে নিয়েছিলেন।
আবু তালহা (রাঃ) ওহোদের যুদ্ধে নিজের তৃণির হুজুরের (সাঃ) সামনে রেখে দিয়ে উচ্চৈস্বরে বলেছিলেন, আল্লাহর রাসুল। আপনার হিফাজতের জন্য আমার জীবন হাজির। "হজুর (সাঃ) আবু তালহাকে (রাঃ) তীর ধরিয়ে দিচ্ছিলেন এবং বলছিলেন, "আবু তালহা" তীর চালাও।” তিনি খুব ভালভাবে তীর চালালেন এবং নিপুণতার সঙ্গে সঠিক নিশানায় মারলেন। হুজুর (সাঃ) কখনো কখনো আবু তালহাকে (রাঃ) পেছন থেকে দাঁড়িয়ে দেখতেন এবং প্রত্যেক তীর নিশানায় লাগতে দেখে আনন্দ প্রকাশ করতেন। আবু তালহা (রাঃ) অব্যাহতভাবে বলে চলছিলেন, "আমার গলা আপনার গলার জন্য ঢাল স্বরূপ এবং আমার জীবন আপনার জন্য উৎসর্গীকৃত। আল্লাহ আমাকে আপনার উপর ফিদা হয়ে যাওয়ার সৌভাগ্য দিন।”
আবু তালহার (রাঃ) ছিল উচ্চ ও ভীতিপূর্ণ কণ্ঠ। হজুর (সাঃ) বললেন “আবু তালহার উচ্চস্বর এবং জিহাদের না'রা ৪০ ব্যক্তি থেকেও কার্যকর।” আবু তালহার (রাঃ) তৃণিরে ৫০টি তীর ছিল। তার সবই নিক্ষেপ করলেন। হুজুর (সাঃ) সাধারণ কাঠ তার হাতে তুলে দিলেন।
তিনি তাও শত্রুর প্রতি নিক্ষেপ করলেন এবং তা তীর হয়ে দুশমনের উপর গিয়ে আঘাত করলো।
📄 প্রস্তরময় ভূমি
ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, খন্দকের যুদ্ধের সময় পরিখা খনন করতে গিয়ে এমন কয়েকটি ঘটনা সংঘটিত হয়, যা সরাসরি শিক্ষা গ্রহণ ও রাসুলের (সাঃ) নবুয়তের সত্যতা প্রমাণ করে। মুসলমানরা সেই সব ঘটনা স্বচক্ষে দেখেছিলেন।
জাবের (রাঃ) ইবনে আব্দুল্লাহ বলতেন, খন্দক বা পরিখা খননের সময় এক জায়গায় মরুভূমির কঠিন পাথর দেখা দিল। পাথরও এমন যে কোন ক্রমেই তা ভাংছিল না। সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) হজুরে আকরামের নিকট এ ব্যাপারে অভিযোগ করলেন। তিনি বললেন, কোন পাত্রে পানি নিয়ে এসো। তিনি সেই পানিতে ফুঁ দিলেন। অতপর তিনি দীর্ঘক্ষণ আল্লাহর নিকট দোয়া করতে থাকলেন। দোয়া শেষে তিনি সেই পানি পাথরের উপর ঢেলে দিলেন। উপস্থিত সাহাবীদের (রাঃ) মধ্যে একজন বলেন "সেই সত্তার শপথ। যিনি মুহাম্মদকে (সাঃ) সত্য নবী (সাঃ) বানিয়ে প্রেরণ করেছেন। সেই পাথর দেখতে দেখতে বালির মত নরম হয়ে গেল। কোদাল অথবা অন্য অস্ত্র দিয়ে তা না ভেঙ্গে উঠিয়ে ফেলা যেত, না খন্ড বিখন্ড করা যেত।