📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 রাসূলের (সাঃ) হাতে নিহত ব্যক্তি

📄 রাসূলের (সাঃ) হাতে নিহত ব্যক্তি


ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, ওহোদের যুদ্ধে পরাজয়ের পর গুজব রটে গেল যে, রাসূলুল্লাহকে (সাঃ) শহীদ করে ফেলা হয়েছে। মুসলমানদের নিকট এই 'খবর ছিল একটি ছোট ধরনের কিয়ামত। ইবনে শিহাব আয যুহরীর বর্ণনা অনুযায়ী যে ব্যক্তি সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহকে (সাঃ) দেখেছিলেন এবং চিনেছিলেন তিনি হলেন কা'ব বিনমালিক।
কা'ব বলেন, "আমি রাসূলুল্লাহকে (সাঃ) দেখলাম। তাঁর সমগ্র মাথা এবং চেহারা লোহার টুপিতে ঢাকা ছিল এবং চোখের দ্বীপ্তি আপন ঔজ্জ্বল্যে দীপ্তমান ছিল। আমি তাঁকে চিনলাম এবং উচ্চৈস্বরে বললাম, "হে মুসলমানরা। সুসংবাদ শুনে নাও। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) জীবিত ও সহীহ সালামতে রয়েছেন।" এই কথার পর হুজুর (সাঃ) ইঙ্গিতে আমাকে চুপ থাকতে বললেন।
ইবনে ইসহাক আরো বর্ণনা করেন, মুসলমানরা যখন হুজুরকে (সাঃ) দেখলেন তখন তাদের জীবন ফিরে এলো এবং তাঁর দিকে অগ্রসর হলেন। তিনি (সাঃ) একটি গিরিপথে উঠতে লাগলেন। আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ) আলী (রাঃ) বিন আবি তালিব, তালহা (রাঃ) বিন ওবায়দুল্লাহ, যোবায়ের (রাঃ) ইবনুল আওয়ام, হারিছ (রাঃ) বিন ছামতা এবং মুসলমানদের একটি দল তাঁর সঙ্গে ছিলেন। হুজুর (সাঃ) গিরিপথের একটি স্থানে পৌঁছলেন। এ সময় ইসলামের দুশমন উবাই বিন খালফ তাঁর দিকে অগ্রসর হয়ে বললো, "হে মুহাম্মদ! তুমি যদি বেঁচে যাও তাহলে অবশ্যই আমার নিস্তার নেই।”
সাহাবীরা (রাঃ) আরজ করলেনঃ "হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে কেউ কি তাকে শেষ করে দেবে?" তিনি বললেন, "না, তাকে ছেড়ে দাও। কিছুটা সামনে আসুক।"
সে এগিয়ে এলে হুজুর (সাঃ) হারিছ বিন হাম্মার হাত থেকে তার অস্ত্র নিলেন। যখন তিনি অস্ত্র নিলেন তখন তার মধ্যে ভীতির সঞ্চার হলো। অতপর তিনি ইসলামের দুশমনের দিকে অগ্রসর হলেন এবং তার গর্দানে আঘাত হানলেন। ঘোড়ার ওপর সে কয়েকবার কেঁপে উঠলো। কিন্তু পালিয়ে যেতে সক্ষম হলো। তার গর্দানে সামান্য ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল।
ইবনে ইসহাক বলেন, উবাই বিন খালফ মক্কায় যদি কখনো হুজুরের (সাঃ) সঙ্গে সাক্ষাত করতো তখন সে হুজুরকে (সাঃ) হুমকি দিত। সে সব সময় বলতো, "হে মুহাম্মদ। আমার নিকট একটি উত্তম ঘোড়া রয়েছে। আমি তাকে ভালোভাবে পেলে রেখেছি। প্রতিদিন তাকে দানা খাওয়াই। তাতে চড়েই আমি তোমাকে হত্যা করবো।"
ওহোদ থেকে উবাই বিন খালফ পালিয়ে কোরেশ বাহিনীর সঙ্গে মিলিত হলো। সে খুশী খুশী মক্কা যাচ্ছিল। উবাই-এর ঘাড়ে সামান্য ধরনের যখম ছিল। একে নখের আচর বললেই ভালো হয়। তা থেকে সামান্য রক্ত বের হলো। সে লোকদেরকে বলতে লাগলো, "খোদার কসম! মুহাম্মদ আমাকে হত্যা করে ফেলেছে।” তার কথা শুনে তার সাথীরা বললো, "খোদার কসম! তোমার মাথা তো খারাব হয়ে গেছে। তোমার কোন আঘাতও লাগেনি। তোমার জীবনেরও কোন ভয় নেই।”
সে বললো, "মক্কায় আমাকে বলতো যে, সে আমাকে মেরে ফেলবে। খোদার কসম। সে যদি আমার ওপর থুথুও নিক্ষেপ করতো তাহলে তাই আমাকে শেষ করে ফেলতো।” মক্কায় যাওয়ার সময় এই খোদার দুশমন পথেই মারা যায়।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 কায়মানের আত্মহত্যা

📄 কায়মানের আত্মহত্যা


ইবনে ইসহাক আছেম বিন ওমর কাতাদার (রাঃ) উদ্ধৃতিসহ বর্ণনা করেছেন যে, আমাদের মধ্যে একজন অপরিচিত মানুষ ছিল। তাকে আমরা চিনতাম না। তার নাম বলা হতো কাযমান। হুজুরের (সাঃ) সামনে তার কথা উল্লেখ হলে তিনি বলতেন, "সে দোযখবাসী।"
ওহোদের যুদ্ধের দিন যখন প্রচন্ড লড়াই চলছিলো তখন কাযমান মুসলমানদের সঙ্গে মিলিত হয়ে কাফেরদের বিরুদ্ধে ভয়ানকভাবে যুদ্ধ করলো। সে একাই সাত অথবা আট জন কাফের খতম করে ফেললো। সে ছিল যুদ্ধবাজ। যুদ্ধে সেও মারাত্মক আঘাত পেয়েছিল। বনি জাফরের একটি গৃহে তাকে রাখা হয়।
হুজুরের (সাঃ) মজলিসে তার উল্লেখ হলে সাহাবার (রাঃ) একটি দল তাকে খুব প্রশংসা করলো। হুজুর (সাঃ) পুনরায় তার জাহান্নামী হওয়ার কথা উল্লেখ করলেন। সাহাবারা (রাঃ) খুব আশ্চর্যান্বিত হলেন যে, ব্যাপার কি। তাকে দেখতে তো সম্পূর্ণ রূপে জান্নাতী মনে হয়। আর হুজুর (সাঃ) তাকে জাহান্নামী আখ্যায়িত করছেন। লোকদের মনে এক আশ্চর্য ধরনের দ্বন্দ্ব চলছিলো।
কিছু মানুষ সেবা শুশ্রুষার জন্য কাযমানের নিকট গেলো এবং বললো, "হে কাযমান। আল্লাহর কসম, তুমি আজ কামাল করে দেখিয়েছ এবং বিরাট পরীক্ষাও সহ্য করেছ। তুমি সুসংবাদ ও মুবারকবাদের যোগ্য।”
সে বললো, "কিসের সুসংবাদ? খোদার কসম, আমি তো স্ব কওমের ইজ্জত এবং নিজের গোত্রের গৌরবের জন্য লড়াই করে থাকি এই আবেগই যদি না থাকতো তাহলে আমি যুদ্ধের ময়দানে কেন কুদে বেড়াবো?”
ইবনে ইসহাক আরো বলেন, তার ক্ষতের ব্যথা যখন প্রচন্ড রূপ নিলো এবং তা সহ্য করতে পারলো না তখন সে তুনির থেকে তীর বের করে আত্মহত্যা করলো। সাহাবীরা (রাঃ) এই ঘটনা দেখে হুজুরের (সাঃ) নিকট ফিরে গেলেন। তাঁরা একবাক্যে বলতে লাগলেন, "আমরা আমাদের সাক্ষ্যের পুনরুক্তি করছি যে, আপনি -আল্লাহর সত্য রাসূল' এরপর তারা কাযমানের ঘটনা বর্ণনা করলেন।
তিনি ইরশাদ করলেন, "আল্লাহ পাক অনেক সময় এই দীনের সাহায্য কোন কাফেরের মাধ্যমেও করে থাকেন।"

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 আব্দুল্লাহর (রাঃ) তরবারী

📄 আব্দুল্লাহর (রাঃ) তরবারী


যুহায়ের বর্ণনা করেছেন, যুদ্ধের ময়দানে হযরত আব্দুল্লাহ (রাঃ) বিন জাহাশের তরবারী ভেঙ্গে গেল। হুজুরে আকরাম (সাঃ) তাঁকে খেজুরের এক লাঠি দান করলেন। এই লাঠি তাঁর হাতে তরবারী হয়ে গেল। তার হাতলও খেজুরেরই ছিল। এই তরবারী উরজুল নামে খ্যাত ছিল।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 কুলসুমের মাজযুব

📄 কুলসুমের মাজযুব


ইবনে আব্দুল বার বর্ণনা করেছেন যে, আবু রাহাম কুলসুম বিন হাছিন বিন গালফ বিন উবাইদুল গিফারী যিনি বেশীর ভাগ নিজের আবু রাহাম কুনিয়তে মশহুর ছিলেন। রাসূলের (সাঃ) মদীনা আগমনের পর তিনি মুসলমান হন। তিনি বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। কিন্তু ওহোদ ও তার পরের যুদ্ধসমূহে অংশগ্রহণ করেন। বাইয়াতে রিদওয়ানেও তিনি উপস্থিত ছিলেন। হজুরে আকরাম (সাঃ) মদীনায় তাঁকে দুবার নিজের স্থলাভিষিক্ত করেন।
ওহোদের যুদ্ধে শত্রুর একটি তীর তার গলায় বিদ্ধ হয়। তিনি সেই অবস্থাতেই হুজুরের (সাঃ) খিদমতে হাজির হলেন। হুজুর (সাঃ) তীর খুলে দিলেন এবং ক্ষতের ওপর মুখের পবিত্র লালা লাগিয়ে দিলেন। ক্ষত শুকিয়ে গেল। কিন্তু তারপর থেকে হযরত আবু রাহামের নামই "আল মানহর" অর্থাৎ গলাকাটা বলে খ্যাত হয়ে গেল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00