📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 হযরত আব্বাসের (রাঃ) ফিদিয়া

📄 হযরত আব্বাসের (রাঃ) ফিদিয়া


ইউনুস বিন বাকির মুহাম্মদ বিন ইসহাক, ইয়াযিদ বিন রুমান, উরওয়া যুহরী এবং রাবীদের এক দলের মাধ্যম দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, বদরের যুদ্ধে কোরেশের গ্রেফতারকৃতরা মুসলমানদের কয়েদ থেকে ফিদিয়া দিয়ে মুক্তি লাভ করতো। প্রত্যেক কবিলা নিজেদের কয়েদীকে ফিদিয়া দিয়ে ছাড়িয়ে নিত। আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিবও কয়েদ হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি হুজুরে আকরামের (সাঃ) নিকট আরজ করলেনঃ
"হে আল্লাহর রাসুল। আমিতো অন্তরে মুসলমান ছিলাম। কিন্তু বাধ্য হয়ে কাফের বাহিনীর সঙ্গে এসে গেছি।” রাসুলে পাক (সাঃ) ইরশাদ করলেন, "তোমার ইসলামের ব্যাপারে আল্লাহই ভালো জানেন। যদি ব্যাপার তাই হয়, যেমন আপনি বলেছেন, তাহলে ফিদিয়ার বদলায় আল্লাহ তায়ালা আপনাকে জাযায়ে খায়ের দিবেন। আমরা বাহ্যিক অবস্থাই দেখে থাকি। অতএব, আপনি আপনার ফিদিয়াও দিন এবং দুই ভ্রাতৃপূত্র নওফিল বিন হারিছ বিন আব্দুল মুত্তালিব ও আকিল বিন আবি তালিব বিন আব্দুল মুত্তালিব এবং মিত্র উতবাহ বিন আমরের ফিদিয়াও দিয়ে দিন।"
আব্বাস বললেন, "আমার নিকট এত অর্থ কোথায়? তিনি বললেন, "সেই মালের ব্যাপারে আপনার কি ধারণা যা আপনি ও উম্মুল ফজল মাটিতে পুঁতে ফেলেছিলেন এবং আপনি উম্মুল ফজলকে বলেছিলেন যে যদি সফরকালে আমার কিছু হয় তাহলে এই মাল আমার পুত্র ফজল, আব্দুল্লাহ ও কাছাম-এর হবে।” একথা শুনে আবাস বললেন, "খোদার কসম। আমি জানি যে, আপনি আল্লাহর সত্য রাসূল (সাঃ)। এটা এমন একটি কথা যা আমি ও উম্মুল ফজল ছাড়া কেউ জানতো না। হে আল্লাহর রাসূল। আমার নিকট বিশ আওকিয়া মাল ছিল। যুদ্ধের পর আপনার বাহিনী তা দখল করে নিয়েছে। তা আপনি ফিদিয়া হিসাবে গণ্য করুন এবং আমাদেরকে মুক্ত করে দিন।
তিনি (সাঃ) বললেন, "তা হয় না। আল্লাহ সেই মালতো আমাদেরকে গনিমতের মাল হিসেবে দিয়েছেন।” অবশেষে হযরত আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব নিজের ভ্রাতৃস্পুত্রদের এবং মিত্রের ফিদিয়া আদায় করেন ও সকলেই মুক্ত হয়ে যায়।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 ক্বাদদার (রাঃ) চোখ

📄 ক্বাদদার (রাঃ) চোখ


ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, ওহোদের যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় যখন পরাজয়ে পরিবর্তিত হলো এবং مسلمانوں ব্যূহ বিশৃংখল হয়ে পড়লো তখন দুশমনরা হুজুরকে (সাঃ) ঘিরে নিল। দুশমনদের হামলা মুকাবিলায় হযরত আবু দুজানা (রাঃ) ঢাল স্বরূপ হয়ে গেলেন। নিজের পিঠে তীর খেতে লাগলেন। কিন্তু হুজুরের (সাঃ) প্রতিরক্ষার জন্য তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়লে তীরে পিঠ ভরে গেল। কিন্তু তিনি নিজের স্থান থেকে মোটেই সরলেন না। সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) হুজুরে আকরামের (সাঃ) নিকট দাঁড়িয়ে শত্রুদের ওপর তীর বর্ষণ শুরু করলেন।
সা'দ স্বয়ং বর্ণনা করেন যে, হুজুরে আকরাম (সাঃ) নিজের হাতে আমাকে তীর দিতেন এবং বলতেন, "সা'দ। দুশমনের উপর তীর নিক্ষেপ কর। আমার মাতা-পিতা তোমার ওপর কুরবান।” তিনি আমাকে শেষে এমন তীর দিলেন যার ফাল ছিল না এবং বললেন, "দুশমনের ওপর এটাও নিক্ষেপ কর।”
কাতাদা বিন নু'মান (রাঃ) অত্যন্ত বীরত্বের সঙ্গে শত্রুর মুকাবিলা করলেন এবং হুজুরকে (সাঃ) রক্ষা করতে লাগলেন। আছেম বিন ওমর বিন কাতাদার জবানীতে ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন যে, হুজুর (সাঃ) তীর চালাচ্ছিলেন। অতপর তাঁর ধনুক ভেঙ্গে গেল।
কাতাদা বিন নু'মান সেই ধনুক নিজে নিলেন এবং তা তার নিকট অনেক দিন ছিল।
ওহোদের যুদ্ধে কাতাদা বিন নু'মানের চোখ আহত হয়েছিল এবং মনি বের হয়ে তাঁর গালের ওপর ঝুলতে লাগলো। কাতাদা (রাঃ) বলতেন, হুজুরে আকরাম (সাঃ) নিজের হাতে মনি চোখের মধ্যে রেখে দিলেন। এই চোখ দ্বিতীয় চোখ থেকেও বেশী তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন এবং উত্তম ছিল। ওহোদের যুদ্ধের কিছুদিন পূর্বেই হযরত কাতাদার, বিয়েহয়েছিল।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 রাসূলের (সাঃ) হাতে নিহত ব্যক্তি

📄 রাসূলের (সাঃ) হাতে নিহত ব্যক্তি


ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, ওহোদের যুদ্ধে পরাজয়ের পর গুজব রটে গেল যে, রাসূলুল্লাহকে (সাঃ) শহীদ করে ফেলা হয়েছে। মুসলমানদের নিকট এই 'খবর ছিল একটি ছোট ধরনের কিয়ামত। ইবনে শিহাব আয যুহরীর বর্ণনা অনুযায়ী যে ব্যক্তি সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহকে (সাঃ) দেখেছিলেন এবং চিনেছিলেন তিনি হলেন কা'ব বিনমালিক।
কা'ব বলেন, "আমি রাসূলুল্লাহকে (সাঃ) দেখলাম। তাঁর সমগ্র মাথা এবং চেহারা লোহার টুপিতে ঢাকা ছিল এবং চোখের দ্বীপ্তি আপন ঔজ্জ্বল্যে দীপ্তমান ছিল। আমি তাঁকে চিনলাম এবং উচ্চৈস্বরে বললাম, "হে মুসলমানরা। সুসংবাদ শুনে নাও। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) জীবিত ও সহীহ সালামতে রয়েছেন।" এই কথার পর হুজুর (সাঃ) ইঙ্গিতে আমাকে চুপ থাকতে বললেন।
ইবনে ইসহাক আরো বর্ণনা করেন, মুসলমানরা যখন হুজুরকে (সাঃ) দেখলেন তখন তাদের জীবন ফিরে এলো এবং তাঁর দিকে অগ্রসর হলেন। তিনি (সাঃ) একটি গিরিপথে উঠতে লাগলেন। আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ) আলী (রাঃ) বিন আবি তালিব, তালহা (রাঃ) বিন ওবায়দুল্লাহ, যোবায়ের (রাঃ) ইবনুল আওয়ام, হারিছ (রাঃ) বিন ছামতা এবং মুসলমানদের একটি দল তাঁর সঙ্গে ছিলেন। হুজুর (সাঃ) গিরিপথের একটি স্থানে পৌঁছলেন। এ সময় ইসলামের দুশমন উবাই বিন খালফ তাঁর দিকে অগ্রসর হয়ে বললো, "হে মুহাম্মদ! তুমি যদি বেঁচে যাও তাহলে অবশ্যই আমার নিস্তার নেই।”
সাহাবীরা (রাঃ) আরজ করলেনঃ "হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে কেউ কি তাকে শেষ করে দেবে?" তিনি বললেন, "না, তাকে ছেড়ে দাও। কিছুটা সামনে আসুক।"
সে এগিয়ে এলে হুজুর (সাঃ) হারিছ বিন হাম্মার হাত থেকে তার অস্ত্র নিলেন। যখন তিনি অস্ত্র নিলেন তখন তার মধ্যে ভীতির সঞ্চার হলো। অতপর তিনি ইসলামের দুশমনের দিকে অগ্রসর হলেন এবং তার গর্দানে আঘাত হানলেন। ঘোড়ার ওপর সে কয়েকবার কেঁপে উঠলো। কিন্তু পালিয়ে যেতে সক্ষম হলো। তার গর্দানে সামান্য ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল।
ইবনে ইসহাক বলেন, উবাই বিন খালফ মক্কায় যদি কখনো হুজুরের (সাঃ) সঙ্গে সাক্ষাত করতো তখন সে হুজুরকে (সাঃ) হুমকি দিত। সে সব সময় বলতো, "হে মুহাম্মদ। আমার নিকট একটি উত্তম ঘোড়া রয়েছে। আমি তাকে ভালোভাবে পেলে রেখেছি। প্রতিদিন তাকে দানা খাওয়াই। তাতে চড়েই আমি তোমাকে হত্যা করবো।"
ওহোদ থেকে উবাই বিন খালফ পালিয়ে কোরেশ বাহিনীর সঙ্গে মিলিত হলো। সে খুশী খুশী মক্কা যাচ্ছিল। উবাই-এর ঘাড়ে সামান্য ধরনের যখম ছিল। একে নখের আচর বললেই ভালো হয়। তা থেকে সামান্য রক্ত বের হলো। সে লোকদেরকে বলতে লাগলো, "খোদার কসম! মুহাম্মদ আমাকে হত্যা করে ফেলেছে।” তার কথা শুনে তার সাথীরা বললো, "খোদার কসম! তোমার মাথা তো খারাব হয়ে গেছে। তোমার কোন আঘাতও লাগেনি। তোমার জীবনেরও কোন ভয় নেই।”
সে বললো, "মক্কায় আমাকে বলতো যে, সে আমাকে মেরে ফেলবে। খোদার কসম। সে যদি আমার ওপর থুথুও নিক্ষেপ করতো তাহলে তাই আমাকে শেষ করে ফেলতো।” মক্কায় যাওয়ার সময় এই খোদার দুশমন পথেই মারা যায়।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 কায়মানের আত্মহত্যা

📄 কায়মানের আত্মহত্যা


ইবনে ইসহাক আছেম বিন ওমর কাতাদার (রাঃ) উদ্ধৃতিসহ বর্ণনা করেছেন যে, আমাদের মধ্যে একজন অপরিচিত মানুষ ছিল। তাকে আমরা চিনতাম না। তার নাম বলা হতো কাযমান। হুজুরের (সাঃ) সামনে তার কথা উল্লেখ হলে তিনি বলতেন, "সে দোযখবাসী।"
ওহোদের যুদ্ধের দিন যখন প্রচন্ড লড়াই চলছিলো তখন কাযমান মুসলমানদের সঙ্গে মিলিত হয়ে কাফেরদের বিরুদ্ধে ভয়ানকভাবে যুদ্ধ করলো। সে একাই সাত অথবা আট জন কাফের খতম করে ফেললো। সে ছিল যুদ্ধবাজ। যুদ্ধে সেও মারাত্মক আঘাত পেয়েছিল। বনি জাফরের একটি গৃহে তাকে রাখা হয়।
হুজুরের (সাঃ) মজলিসে তার উল্লেখ হলে সাহাবার (রাঃ) একটি দল তাকে খুব প্রশংসা করলো। হুজুর (সাঃ) পুনরায় তার জাহান্নামী হওয়ার কথা উল্লেখ করলেন। সাহাবারা (রাঃ) খুব আশ্চর্যান্বিত হলেন যে, ব্যাপার কি। তাকে দেখতে তো সম্পূর্ণ রূপে জান্নাতী মনে হয়। আর হুজুর (সাঃ) তাকে জাহান্নামী আখ্যায়িত করছেন। লোকদের মনে এক আশ্চর্য ধরনের দ্বন্দ্ব চলছিলো।
কিছু মানুষ সেবা শুশ্রুষার জন্য কাযমানের নিকট গেলো এবং বললো, "হে কাযমান। আল্লাহর কসম, তুমি আজ কামাল করে দেখিয়েছ এবং বিরাট পরীক্ষাও সহ্য করেছ। তুমি সুসংবাদ ও মুবারকবাদের যোগ্য।”
সে বললো, "কিসের সুসংবাদ? খোদার কসম, আমি তো স্ব কওমের ইজ্জত এবং নিজের গোত্রের গৌরবের জন্য লড়াই করে থাকি এই আবেগই যদি না থাকতো তাহলে আমি যুদ্ধের ময়দানে কেন কুদে বেড়াবো?”
ইবনে ইসহাক আরো বলেন, তার ক্ষতের ব্যথা যখন প্রচন্ড রূপ নিলো এবং তা সহ্য করতে পারলো না তখন সে তুনির থেকে তীর বের করে আত্মহত্যা করলো। সাহাবীরা (রাঃ) এই ঘটনা দেখে হুজুরের (সাঃ) নিকট ফিরে গেলেন। তাঁরা একবাক্যে বলতে লাগলেন, "আমরা আমাদের সাক্ষ্যের পুনরুক্তি করছি যে, আপনি -আল্লাহর সত্য রাসূল' এরপর তারা কাযমানের ঘটনা বর্ণনা করলেন।
তিনি ইরশাদ করলেন, "আল্লাহ পাক অনেক সময় এই দীনের সাহায্য কোন কাফেরের মাধ্যমেও করে থাকেন।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00