📄 সালমার (রাঃ) তরবারী
ওয়াকেদী উসামা বিন যায়েদ এবং তিনি দাউদ ইবনুল হাছিনের জবানীতে বনু আব্দুল আশহালের কয়েক ব্যক্তির এই রাওয়ায়েত নকল করেছেন। বদরের যুদ্ধে সালমা বিন আসলাম বিন হারিশের তরবারী ভেঙ্গে গিয়েছিল। তিনি তরবারী ছাড়া অন্য কোন অস্ত্র রাখতেন না। বস্তুতঃ তরবারী ভেঙ্গে যাওয়ার পর তিনি সম্পূর্ণ নিরস্ত্র হয়ে পড়লেন। হুজুরে আকরাম (সাঃ) খেজুরের একটি তাজা ও পাতলা ছড়ি দিলেন এবং বললেন, "এ দিয়ে দুশমনের মুকাবিলা কর।"
তিনি ছড়ি হাতে নিলেন। তখন তা তরবারীর রূপ নিলো। এই তরবারী আজীবনকাল হযরত সালমার (রাঃ) নিকট ছিল। তিনি জাসরে আবু ওবায়েদের যুদ্ধে শহীদ হন। সেই সময় পর্যন্ত এই তরবারী তাঁর ব্যবহারে ছিল।
📄 খুলন্ত হাত
হাফেজ বাইহাকী বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু আব্দুর রহমান আস-সালমী থেকে, তিনি ইসমাইল বিন আব্দুল্লাহ আল মিকালী থেকে, তিনি আলী বিন সা'দ আল-আসকারী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন খাল্লাদুল ওয়াসতী থেকে, তিনি ইয়াযিদ বিন হারুন থেকে, তিনি আল মুসতালাম বিন সাঈদ থেকে, তিনি খাবিব বিন আব্দুর রহমান বিন খাবিব বিন আসাফ থেকে তিনি নিজের পিতা থেকে এবং তিনি নিজের পিতা থেকে অর্থাৎ খাবিব বিন আসাফ থেকে শুনেছেন। তিনি বলতেন যে,
"আমি আমার কওমের অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে হযরত নবী করিমের (সাঃ) খিদমতে হাজির হলাম। তিনি (সাঃ) কোন যুদ্ধে গমন করছিলেন। আমি তাঁর নিকট আরজ করলাম, আমরাও আপনার সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নিতে চাই। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনারা কি মুসলমান হয়ে গেছেন?” আমরা নেতিবাচক জবাব দিলাম। এতে তিনি বললেন, "আমরা মুশরিকদের মুকাবিলায় মুশরিকদের সাহায্য চাই না।”
এই কথায় আমরা বললাম, আমরা ইসলাম গ্রহণ করছি। ফলে তিনি আমাদেরকে যুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছিলেন। যুদ্ধের সময় শত্রুর একজন আমার কাঁধের ওপর তরবারী চালালো। তাতে আমার বাহু কেটে ঝুলতে লাগলো।
আমি হুজুরের (সাঃ) খিদমতে হাজির হলাম। তিনি আমার কাটা বাহুতে লালা লাগালেন এবং তা সেলাই করে দিলেন। আমার বাহু লেগে গেল এবং আমি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলাম। অতপর আমি সেই শত্রুকে হত্যা করলাম যে তরবারী দিয়ে হামলা করে আমাকে আহত করেছিল।”
📄 হযরত আব্বাসের (রাঃ) ফিদিয়া
ইউনুস বিন বাকির মুহাম্মদ বিন ইসহাক, ইয়াযিদ বিন রুমান, উরওয়া যুহরী এবং রাবীদের এক দলের মাধ্যম দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, বদরের যুদ্ধে কোরেশের গ্রেফতারকৃতরা মুসলমানদের কয়েদ থেকে ফিদিয়া দিয়ে মুক্তি লাভ করতো। প্রত্যেক কবিলা নিজেদের কয়েদীকে ফিদিয়া দিয়ে ছাড়িয়ে নিত। আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিবও কয়েদ হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি হুজুরে আকরামের (সাঃ) নিকট আরজ করলেনঃ
"হে আল্লাহর রাসুল। আমিতো অন্তরে মুসলমান ছিলাম। কিন্তু বাধ্য হয়ে কাফের বাহিনীর সঙ্গে এসে গেছি।” রাসুলে পাক (সাঃ) ইরশাদ করলেন, "তোমার ইসলামের ব্যাপারে আল্লাহই ভালো জানেন। যদি ব্যাপার তাই হয়, যেমন আপনি বলেছেন, তাহলে ফিদিয়ার বদলায় আল্লাহ তায়ালা আপনাকে জাযায়ে খায়ের দিবেন। আমরা বাহ্যিক অবস্থাই দেখে থাকি। অতএব, আপনি আপনার ফিদিয়াও দিন এবং দুই ভ্রাতৃপূত্র নওফিল বিন হারিছ বিন আব্দুল মুত্তালিব ও আকিল বিন আবি তালিব বিন আব্দুল মুত্তালিব এবং মিত্র উতবাহ বিন আমরের ফিদিয়াও দিয়ে দিন।"
আব্বাস বললেন, "আমার নিকট এত অর্থ কোথায়? তিনি বললেন, "সেই মালের ব্যাপারে আপনার কি ধারণা যা আপনি ও উম্মুল ফজল মাটিতে পুঁতে ফেলেছিলেন এবং আপনি উম্মুল ফজলকে বলেছিলেন যে যদি সফরকালে আমার কিছু হয় তাহলে এই মাল আমার পুত্র ফজল, আব্দুল্লাহ ও কাছাম-এর হবে।” একথা শুনে আবাস বললেন, "খোদার কসম। আমি জানি যে, আপনি আল্লাহর সত্য রাসূল (সাঃ)। এটা এমন একটি কথা যা আমি ও উম্মুল ফজল ছাড়া কেউ জানতো না। হে আল্লাহর রাসূল। আমার নিকট বিশ আওকিয়া মাল ছিল। যুদ্ধের পর আপনার বাহিনী তা দখল করে নিয়েছে। তা আপনি ফিদিয়া হিসাবে গণ্য করুন এবং আমাদেরকে মুক্ত করে দিন।
তিনি (সাঃ) বললেন, "তা হয় না। আল্লাহ সেই মালতো আমাদেরকে গনিমতের মাল হিসেবে দিয়েছেন।” অবশেষে হযরত আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব নিজের ভ্রাতৃস্পুত্রদের এবং মিত্রের ফিদিয়া আদায় করেন ও সকলেই মুক্ত হয়ে যায়।
📄 ক্বাদদার (রাঃ) চোখ
ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, ওহোদের যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় যখন পরাজয়ে পরিবর্তিত হলো এবং مسلمانوں ব্যূহ বিশৃংখল হয়ে পড়লো তখন দুশমনরা হুজুরকে (সাঃ) ঘিরে নিল। দুশমনদের হামলা মুকাবিলায় হযরত আবু দুজানা (রাঃ) ঢাল স্বরূপ হয়ে গেলেন। নিজের পিঠে তীর খেতে লাগলেন। কিন্তু হুজুরের (সাঃ) প্রতিরক্ষার জন্য তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়লে তীরে পিঠ ভরে গেল। কিন্তু তিনি নিজের স্থান থেকে মোটেই সরলেন না। সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) হুজুরে আকরামের (সাঃ) নিকট দাঁড়িয়ে শত্রুদের ওপর তীর বর্ষণ শুরু করলেন।
সা'দ স্বয়ং বর্ণনা করেন যে, হুজুরে আকরাম (সাঃ) নিজের হাতে আমাকে তীর দিতেন এবং বলতেন, "সা'দ। দুশমনের উপর তীর নিক্ষেপ কর। আমার মাতা-পিতা তোমার ওপর কুরবান।” তিনি আমাকে শেষে এমন তীর দিলেন যার ফাল ছিল না এবং বললেন, "দুশমনের ওপর এটাও নিক্ষেপ কর।”
কাতাদা বিন নু'মান (রাঃ) অত্যন্ত বীরত্বের সঙ্গে শত্রুর মুকাবিলা করলেন এবং হুজুরকে (সাঃ) রক্ষা করতে লাগলেন। আছেম বিন ওমর বিন কাতাদার জবানীতে ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন যে, হুজুর (সাঃ) তীর চালাচ্ছিলেন। অতপর তাঁর ধনুক ভেঙ্গে গেল।
কাতাদা বিন নু'মান সেই ধনুক নিজে নিলেন এবং তা তার নিকট অনেক দিন ছিল।
ওহোদের যুদ্ধে কাতাদা বিন নু'মানের চোখ আহত হয়েছিল এবং মনি বের হয়ে তাঁর গালের ওপর ঝুলতে লাগলো। কাতাদা (রাঃ) বলতেন, হুজুরে আকরাম (সাঃ) নিজের হাতে মনি চোখের মধ্যে রেখে দিলেন। এই চোখ দ্বিতীয় চোখ থেকেও বেশী তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন এবং উত্তম ছিল। ওহোদের যুদ্ধের কিছুদিন পূর্বেই হযরত কাতাদার, বিয়েহয়েছিল।