📄 উক্বাশার (রাঃ) তরবারী
ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেন, উকাশা (রাঃ) বিন মিহসান বিন হারতানুল আসদী বদরের যুদ্ধে অত্যন্ত বীর বিক্রমে লড়াই করেছিলেন। যুদ্ধ করতে করতে তরবারী ভেঙ্গে গেলে তিনি নবী করিমের (সাঃ) নিকট এলেন। হুজুরের (সাঃ) নিকট কাঠের একটি লাঠি ছিল। তিনি তাঁকে দিয়ে বললেন, "উকাশা তুমি যাও এবং এই লাঠি দিয়ে শত্রুর সঙ্গে লড়াই কর।"
উকাশা (রাঃ) যখন খেজুর বৃক্ষের এই লাকড়ী হুজুরের (সাঃ) হাত থেকে নিলেন এবং তা হেচকা টান দিলেন তখন তা এক লম্বা তরবারী হয়ে গেল। এই ত্রবারী ক্ষুরধার, চমকদার ও মজবুত ছিল।
বদরের যুদ্ধে উকাশা এই তরবারী ব্যবহার করলেন এমনকি আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদেরকে বিজয় দিলেন। সেই তরবারীর নাম ছিল আল-আওন। এই তরবারী হযরত উকাশার (রাঃ) নিকট দীর্ঘদিন ছিল এবং তিনি প্রত্যেক যুদ্ধের ময়দানেই তার নিপূণতা দেখাতেন। হযরত উকাশা (রাঃ) হুজুরের জীবনেও প্রত্যেক যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং ইন্তেকালের পরও মুরতাদদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছিলেন। সেই তরবারী দিয়েই তোলায়হা বিন খুয়ায়েলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে তিনি শাহাদাত প্রাপ্ত হন।
📄 নফিলের বর্শা
নওফিল বিন হারিছ বিন আবদুল মুত্তালিব হুজুরে আকরামের (সাঃ) চাচাতো ভাই ছিলেন। বদরের যুদ্ধে কাফের বাহিনীতে ছিলেন। মুসলমানদের হাতে গ্রেফতার হলেন। হুজুর (সাঃ) তাঁকে বললেন, "ফিদিয়া দিয়ে মুক্ত হয়ে যাও।" নওফিল জবাব দিলেন, "আমার নিকট এমন কিছু নেই যা আমি ফিদিয়া দিতে পারি।"
তিনি বললেন, "তোমার নিকট যে বর্শা রয়েছে তা ফিদিয়া হিসেবে দিয়ে দাও।” এতে নওফিল বলে উঠলেন, " খোদার কসম। আমার এই বর্শার ব্যাপারে আমি ও আল্লাহ ব্যতীত কারোরই জানা ছিল না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহর রাসূল।"
নওফিল সত্য ঈমানদার এবং মুখলিস মুমিন ছিলেন। হুনাইনের যুদ্ধে অটল ছিলেন। হুজুর (সাঃ) হুনাইনের উদ্দেশ্যে যখন মক্কা থেকে রওয়ানা হলেন তখন নওফিল তিন হাজার বর্শা দিয়ে সাহায্য করলেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) খুশী হয়ে বললেন, "আমি দেখছি যে, তোমার এই বর্শা মুশরিকদের কোমর ভেঙ্গে দেবে এবং তাদের পিঠে বিদ্ধ হবে।"
📄 সালমার (রাঃ) তরবারী
ওয়াকেদী উসামা বিন যায়েদ এবং তিনি দাউদ ইবনুল হাছিনের জবানীতে বনু আব্দুল আশহালের কয়েক ব্যক্তির এই রাওয়ায়েত নকল করেছেন। বদরের যুদ্ধে সালমা বিন আসলাম বিন হারিশের তরবারী ভেঙ্গে গিয়েছিল। তিনি তরবারী ছাড়া অন্য কোন অস্ত্র রাখতেন না। বস্তুতঃ তরবারী ভেঙ্গে যাওয়ার পর তিনি সম্পূর্ণ নিরস্ত্র হয়ে পড়লেন। হুজুরে আকরাম (সাঃ) খেজুরের একটি তাজা ও পাতলা ছড়ি দিলেন এবং বললেন, "এ দিয়ে দুশমনের মুকাবিলা কর।"
তিনি ছড়ি হাতে নিলেন। তখন তা তরবারীর রূপ নিলো। এই তরবারী আজীবনকাল হযরত সালমার (রাঃ) নিকট ছিল। তিনি জাসরে আবু ওবায়েদের যুদ্ধে শহীদ হন। সেই সময় পর্যন্ত এই তরবারী তাঁর ব্যবহারে ছিল।
📄 খুলন্ত হাত
হাফেজ বাইহাকী বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু আব্দুর রহমান আস-সালমী থেকে, তিনি ইসমাইল বিন আব্দুল্লাহ আল মিকালী থেকে, তিনি আলী বিন সা'দ আল-আসকারী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন খাল্লাদুল ওয়াসতী থেকে, তিনি ইয়াযিদ বিন হারুন থেকে, তিনি আল মুসতালাম বিন সাঈদ থেকে, তিনি খাবিব বিন আব্দুর রহমান বিন খাবিব বিন আসাফ থেকে তিনি নিজের পিতা থেকে এবং তিনি নিজের পিতা থেকে অর্থাৎ খাবিব বিন আসাফ থেকে শুনেছেন। তিনি বলতেন যে,
"আমি আমার কওমের অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে হযরত নবী করিমের (সাঃ) খিদমতে হাজির হলাম। তিনি (সাঃ) কোন যুদ্ধে গমন করছিলেন। আমি তাঁর নিকট আরজ করলাম, আমরাও আপনার সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নিতে চাই। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনারা কি মুসলমান হয়ে গেছেন?” আমরা নেতিবাচক জবাব দিলাম। এতে তিনি বললেন, "আমরা মুশরিকদের মুকাবিলায় মুশরিকদের সাহায্য চাই না।”
এই কথায় আমরা বললাম, আমরা ইসলাম গ্রহণ করছি। ফলে তিনি আমাদেরকে যুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছিলেন। যুদ্ধের সময় শত্রুর একজন আমার কাঁধের ওপর তরবারী চালালো। তাতে আমার বাহু কেটে ঝুলতে লাগলো।
আমি হুজুরের (সাঃ) খিদমতে হাজির হলাম। তিনি আমার কাটা বাহুতে লালা লাগালেন এবং তা সেলাই করে দিলেন। আমার বাহু লেগে গেল এবং আমি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলাম। অতপর আমি সেই শত্রুকে হত্যা করলাম যে তরবারী দিয়ে হামলা করে আমাকে আহত করেছিল।”