📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 নবীর (সাঃ) হিজরত

📄 নবীর (সাঃ) হিজরত


ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন "আ'মার থেকে ইয়াযিদ বিন যিয়াদ মুহাম্মদ বিন কা'ব আল-কারাজির উদ্ধৃতিসহ এই ঘটনা বর্ণনা করেছেন যে, যখন কেরেশদের নির্বাচিত ব্যক্তিরা নবীয়ে আকরামের (সাঃ) গৃহ অবরোধ করলো, তখন তাদের মধ্যে আবু জেহেল বিন হিশামও শামিল ছিল। সে সাথীদেরকে বললো, "মুহম্মদের (সাঃ) ধারণা যে, তোমরা যদি তাকে অনুসরণ কর তাহলে আরব এবং আজমের মালিক হয়ে যাবে এবং অতপর এটাও যে তার ওপর ঈমান আনলে মৃত্যু পরবর্তী জীবনে তোমরা জর্দানের সর্বোত্তম বাগানের মত বাগান পাবে। আর যদি তা না কর তাহলে তার হাতে যবেহ হয়ে যাবে এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবনে তোমাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। তাতে জ্বলতে থাকবে।”
এই আলোচনা হুজুরের (সঃ) ঘরের দরজাতেই হচ্ছিল। প্রিয় নবী (সঃ) আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক নিজের ঘর থেকে বের হলেন। হাতে এক মুঠো মাটি নিলেন এবং কাফিরদের প্রতি তা নিক্ষেপ করে বললেন, "হ্যাঁ। আমি এ সব কিছুই বলে থাকি এবং এ কথাও বলি যে, তোমরা সেই সব লোকের অন্তর্ভুক্ত যাদের তকদিরে রয়েছে আগুন।” আল্লাহ পাক দুশমনদের চোখের ওপর পর্দা ফেলে দিলেন। তারা তাঁকে দেখতেই পেল না। তিনি তাদের মাথার ওপর মাটি নিক্ষেপ করলেন। সে সময় তিনি সূরায়ে ইয়াসিনের আয়াত তিলাওয়াত করছিলেন।
তিনি সেই আয়াতসমূহ তিলাওয়াত 'শেষ করলে সব কাফিরের মাথা ও মুখমন্ডল মাটিতে ভরে গিয়েছিল। তারপর তিনি নিজের পথে রওয়ানা হলেন। রাতের কোন এক অংশে কাফেরদের নিকট তাদের জনৈক সঙ্গী এলো। অবরোধের সময় সে তাদের সঙ্গে ছিল না। সে জিজ্ঞেস করলো "তোমরা এখানে কার জন্য অপেক্ষা করছ?” তারা বললো, "মুহাম্মদের জন্য।” বললো, "খোদা তোমাদেরকে ব্যর্থ করে দিয়েছেন। আল্লাহর কসম! মুহাম্মদ (সঃ) তো তোমাদের মধ্য থেকে সুস্থভাবেই বের হয়ে চলে গেছে এবং যাবার সময় তোমাদের সবার মাথার ওপর মাটিও নিক্ষেপ করে গেছে। যার অপেক্ষায় তোমরা দাঁড়িয়ে আছ-সে তো চলে গেছে। এখন এখানে কিকরছো।"
বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা শুনে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের মাথায় হাত রাখলো এবং তা মাটি মিশ্রিত পেলো। তারপর দেওয়ালের ওপর দিয়ে উকি মারতে লাগলো। প্রিয় নবীর (সঃ) বিছানায় আলী (রাঃ) হুজুরের (সঃ) চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়েছিলেন। তা দেখে তারা বলতে লাগলো, "খোদার কসম। মুহাম্মদ (সঃ) তো স্বগৃহে শুয়ে আছে এবং তার ওপর চাদর রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সঃ) ঘুমে নিমগ্ন রয়েছেন সকাল পর্যন্ত তারা এইটাই মনে করলো। সকালে যখন হযরত আলী (রাঃ) ঘুম থেকে জাগলেন এবং চাদর ফেলে দিলেন তখন কাফেরদের চোখ বিস্ফারিত হওয়ার মত। তারা তখন বলাবলি শুরু করলো যে, খবর দানকারীর খবর সঠিক ছিল এবং সে সত্য বলেছিল।"

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 উম্মে মা'বাদের তাঁবু

📄 উম্মে মা'বাদের তাঁবু


উম্মে মা'বাদ একটি প্রসিদ্ধ নাম। ইতিহাসে তার অনেক উল্লেখ রয়েছে। এই মহিলার আসল নাম ছিল আতিকা বিনতে খালেদ। কথিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সঃ) হযরত আবু বকর (রাঃ) এবং তাঁর গোলাম আমের বিন ফুহাইরা সমভিব্যাহারে হিজরতের সফরের সময় উম্মে মা'বাদের তাঁবুর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তিনি তার কাছ থেকে গোশত এবং খেজুর ক্রয় করতে চাইলেন। কিন্তু তার নিকট এসব পণ্য ছিল না। কবিলা দুর্ভিক্ষ কবলিত এবং ক্ষুধার্থ। হুজুরে করিম (সঃ) তাঁবুর খুঁটির সঙ্গে একটি বকরী বাঁধা দেখলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, "হে উম্মে মা'বাদ! এই বকরী এখানে কেন বেঁধে রেখেছ?”
সে বললো, "বকরীটি দুর্বল এবং অসুস্থ। পালের সঙ্গে যেতে পারে না। এজন্য এখানে রয়েছে।” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "দুধ দেয় কি?” সে জবাব দিল, "বেচারী কি দুধ দেবে। তার জীবন নিয়েই টানাটানি।” তিনি বললেন, "তার দুধ দোহনের অনুমতি কি আমি পাবো?” আমার মাতা-পিতা আপনার ওপর কোরবান হোক। আপনি যদি দুধ দেখেন তাহলে দুয়ে নিন" সে বলল।
তিনি সেই দুর্বল বকরীর ওলানের ওপর হাত ঘোরালেন এবং বিসমিল্লাহ পড়লেন এবং বকরীকে আদর করলেন। খোদার কুদরতে তার শুকনো ওলানে দুধ এলো এবং দুধে তা ফুলে গেল। তিনি একটি বড় পাত্র চাইলেন। এই পাত্র যদি ভরে যেত তাহলে উপস্থিত সবার জন্য যথেষ্ট ছিল। তিনি সেই পাত্রে দুধ দোহন শুরু করলেন এবং পাত্র সম্পূর্ণরূপে ভরে গেল। তার ওপর সাদা ফেনা উঠতে লাগলো। তিনি সর্বপ্রথম উম্মে মা'বাদকে পান করালেন। তিনি আসুদা হয়ে পান করলেন। অতপর তিনি সাহাবীদের (রাঃ) পান করালেন। তাঁরাও পেট পুরে পান করলেন। সবশেষে তিনি নিজে পান করলেন।
পাত্র খালি করার পর তিনি দ্বিতীয়বার বকরী দোহন করলেন এবং পুনরায় তা পূর্ণ হয়ে গেল। তিনি সেই পূর্ণ পাত্র উম্মে মা'বাদকে দিলেন। তার নিকট থেকে ইসলামের বাইয়াত নিলেন। অতপর সেখান থেকে সামনের মঞ্জিলের দিকে রওয়ানা দিলেন। উম্মে মা'বাদ এতক্ষণে মুসলমান হয়ে গিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর আবু মা'বাদ জঙ্গল থেকে বকরী তাড়িয়ে নিয়ে বাড়ী ফিরলো। দুর্ভিক্ষের কারণে বকরীগুলোর পেট ছিল খালি এবং দুর্বল। আবু মা'বাদ দুধ দেখে আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "উম্মে মা'বাদ! এই দুধ কোথা থেকে এসেছে? বাড়ীতে তো দুর্বল ও অসুস্থ বকরী ছিল এবং দুধ দানকারী কোন পশু ছিল না।"
উম্মে মা'বাদ বললেন, "খোদার কসম! ব্যাপারটি অত্যন্ত আশ্চর্য ধরনের। একজন বরকতওয়ালা মানুষ এখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর অবয়ব ও গুণাবলী এমন ধরনের ছিল।” (উম্মে মা'বাদ হুজুরের (সঃ) ব্যাপারে দীর্ঘ আলোচনা করেন) আবু মা'বাদ বললো, "সেই পবিত্র ব্যক্তিত্বের আরো গুণাবলী বর্ণনা কর।" উম্মে মা'বাদ বিস্তারিতভাবে আরো গুণাবলী বর্ণনা করলেন। আবু মা'বাদ তা শুনে বললোঃ
"খোদার কসম! এতো সেই কোরেশ। যার ব্যাপারে আমরা শুনেছি যে তিনি মক্কায় আবির্ভূত হয়েছেন। আমি তাঁর সান্নিধ্য লাভের দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করছি। সুযোগ পেলে আমি অবশ্যই তাঁর খিদমতে উপস্থিত হবো।"

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 সুরাকার ঘোড়া

📄 সুরাকার ঘোড়া


ইবনে ইসহাক যাহরীর উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুর রহমান বিন মালিক বিন জা'শম সুরাকা বিন মালিক বিন জা'শম থেকে শুনেছেন যে, তিনি বলতেন, "রাসুলুল্লাহ (সঃ) যখন হিজরত করে মক্কা থেকে মদীনা রওয়ানা হলেন, তখন কোরেশরা ঘোষণা করে ছিল যে, যে ব্যক্তি মুহাম্মদ (সঃ) বিন আবদুল্লাহকে ধরে তাদের নিকট নিয়ে আসবে তাকে একশ' উট পুরস্কার দেওয়া হবে। আমি আমার কওমের বৈঠক স্থলে বসেছিলাম এবং এ ব্যাপারেই আলোচনা চলছিল। ঠিক সেই সময় কবিলার জনৈক ব্যক্তি দরজায় এসে দাঁড়ালো এবং বললো, "খোদার কসম। আমি তিন ব্যক্তির একটি কাফেলা দেখেছি। এই কাফেলা কেবলমাত্র আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করে গেল। আমার বদ্ধমূল ধারণা যে, তারা মুহাম্মদ (সাঃ) এবং তাঁর সঙ্গীরাই হবেন।"
আমি সেই ব্যক্তিকে চুপ করার জন্য চোখ দিয়ে ইশারা করলাম। অতপর আমি লোকদেরকে বললাম যে, সে অমুক কবিলার মানুষ এবং হারিয়ে যাওয়া উট তালাশ করছিল। সংবাদদানকারী লোকটি বললো, সম্ভবতঃ তাই হবে। এরপর সে চুপ মেরে গেল। আমি কিছুক্ষণ মজলিশে বসে রলাম এবং বিভিন্ন ধরনের কথা হতে লাগলো। আমি উঠে বাড়ী চলে গেলাম। আমি নির্দেশ দিলাম যে, আমার ঘোড়া প্রস্তুত করা হোক এবং আমার অস্ত্র বের করা হোক। ঘোড়া তৈরী করে উপত্যকার মাঝে পৌঁছে দেওয়া হলো এবং আমি বাড়ীর পেছন দরজা দিয়ে অস্ত্র সমেত বের হয়ে ঘোড়ার নিকট গিয়ে পৌঁছলাম।
তারপর তীরের মাধ্যমে শুভ-অশুভ নির্বাচন করলাম। এই পরীক্ষা আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেল। যে তীর বের হলো তার ওপর লিখা ছিল, তাকে ক্ষতি করো না। কিন্তু আমিতো শত উটের লোভে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আমি শুভ-অশুভ নির্ধারণকে উপেক্ষা করে রওয়ানা হলাম। কাফেলার সন্ধান পেয়ে গেলাম এবং তার পদচিহ্ন ধরে এগুতে লাগল্পম। হঠাৎ করে ঘোড়ার পা ফসকে গেল। আমি তার পিঠ থেকে নীচে পড়ে গেলাম। এ ধরনের কোন সময় হয়নি। আমি ধারণা করলাম এটা. আবার কি হলো। আমি তীর বের করলাম এবং পুনরায় শুভ-অশুভ জানতে চাইলাম। এবারও সেই কথাই বের হলো যা পূর্বে দেখেছিলাম।
আমি এবারও এই পরীক্ষায় কান না দিয়ে পশ্চাদ্ভাবন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমি তাদের পেছনে যাচ্ছিলাম। অতপর আমার ঘোড়ার একই অবস্থা হলো এবং আমি মাটিতে পড়ে গেলাম। খুব তাজ্জব হলাম এবং বললাম, এটা কি হচ্ছে? তারপর তৃতীয়বার আমি শুভ-অশুভ নির্ধারণ করলাম। আশ্চর্যের ব্যাপার সেই একই ধরনের জবাব পেলাম, তাকে ক্ষতি করো না। আমি তখনো আমার ইচ্ছা পরিবর্তন করলাম না এবং কাফেলার পেছনে চলতে লাগলাম। এমনকি তারা আমার নজরে এসে গেল। এখন আমার ঘোড়া পিছলে যাওয়ার পরিবর্তে অন্য আরেক মুসিবতে আটকে গেল। তার সামনের দু'পা মাটিতে গেড়ে গেল আমি মাটিতে এসে পড়লাম। অত্যন্ত কষ্টে ঘোড়া মাটি থেকে পা বের করলো এবং তা করতেই মাটি থেকে ধোঁয়ার মত কি যেন বের হলো। এতক্ষণে আমি বুঝলাম যে, মুহাম্মদের (সাঃ) হিফাজত (খোদার পক্ষ থেকে) করা হয়েছে এবং তিনি বিজয়ী। বিজিত হতে পারেন না।
তারপর আমি তাদেরকে ডেকে বললাম, আমি সুরাকা বিন জা'শম। একটু দাঁড়াও। আমি তোমাদের সঙ্গে কথা বলতে চাই। খোদার কসম। আমি তোমাদেরকে ধোকা দিব না এবং আমার তরফ থেকে তোমাদের কোন ক্ষতিও হবে না।
প্রিয় নবী (সাঃ) আবু বকরকে (রাঃ) বললেন, "তাকে জিজ্ঞেস কর, কি চায়।” আবু বকর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলে আমি বললাম, "আমাকে লিখিত কিছু দিন যা আমার ও আপনার মধ্যে দলিল ও চিহ্ন হিসেবে থাকবে। তিনি বললেন, "আবু বকর! তাকে লিখে দাও।” আবু বকর (রাঃ) একটি হাড়ের ওপর লিখে আমার দিকে নিক্ষেপ করলেন। আমি তা উঠিয়ে তুলে রেখে দিলাম। আমি ফিরে এলাম। কিন্তু এই ঘটনার কথা কারোর নিকটই উল্লেখ করলাম না। এ অবস্থাতেই মক্কা বিজয় হলো।
হুজুর (সাঃ) মক্কা বিজয় শেষে হুনাইন ও তায়েফের যুদ্ধও সমাপ্তি করেছিলেন এবং আমি লিখা নিয়ে তাঁর খিদমতে হাজির হওয়ার জন্য চললাম। মক্কা ও তায়েফের মধ্যেকার জি'রানা'র ঝর্ণার নিকট আমি তাঁর খিদমতে উপস্থিত হলাম। আনসারদের একটি ঘোড় সওয়ার দল আমাকে দেখে বর্শা উচিয়ে চীৎকার করে জিজ্ঞাসা করলো, "তুমি কে? কি চাও?”
আমি আল্লাহ আল্লাহ করে রাসূলের (সাঃ) নিকট পৌঁছলাম। তিনি উটনীর ওপর সওয়ার ছিলেন। আমি তাঁর পায়ের গোছা দেখলাম। খোদার কসম। তা এতো লাল ও সাদা ছিল যেন আগুনের অঙ্গার। আমি লিখা হাতে নিয়ে হাত ওপরে তুলে বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! এটা আপনার লিখা এবং আমি হলাম সুরাকা বিন জা'শম।" তিনি ইরশাদ করলেন "আজ নেকী ও হৃদ্যতার দিন। তাকে নিকটে আসতে দাও।" অতপর আমি তাঁর নিকট কতিপয় প্রশ্ন করলাম। এইসব প্রশ্নের মধ্যে আমার স্মরণে আছে এই প্রশ্নটিঃ "হে আল্লাহর রাসূল। আমি যদি নিজের হাওজকে উট ও চতুষ্পদ জন্তুর জন্য পানিতে পূর্ণ করে দিই। অতপর কোন অপরিচিত উট এসে যদি সেখান থেকে পানি পান করে নেয় তাহলে কি আমি কোন সওয়াব পাবো?” তিনি বললেনঃ
"হাঁ, প্রত্যেক পশুর খাওয়ানো ও পানি পান করানোতে সওয়াব রয়েছে।"
তারপর আমি আমার কওমের নিকট ফিরে এলাম এবং হুজুরের (সাঃ) খিদমতে সাদকা প্রেরণ অব্যাহত রাখলাম।

📘 বিশ্বনবীর সাঃ মুজিযা > 📄 উক্বাশার (রাঃ) তরবারী

📄 উক্বাশার (রাঃ) তরবারী


ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেন, উকাশা (রাঃ) বিন মিহসান বিন হারতানুল আসদী বদরের যুদ্ধে অত্যন্ত বীর বিক্রমে লড়াই করেছিলেন। যুদ্ধ করতে করতে তরবারী ভেঙ্গে গেলে তিনি নবী করিমের (সাঃ) নিকট এলেন। হুজুরের (সাঃ) নিকট কাঠের একটি লাঠি ছিল। তিনি তাঁকে দিয়ে বললেন, "উকাশা তুমি যাও এবং এই লাঠি দিয়ে শত্রুর সঙ্গে লড়াই কর।"
উকাশা (রাঃ) যখন খেজুর বৃক্ষের এই লাকড়ী হুজুরের (সাঃ) হাত থেকে নিলেন এবং তা হেচকা টান দিলেন তখন তা এক লম্বা তরবারী হয়ে গেল। এই ত্রবারী ক্ষুরধার, চমকদার ও মজবুত ছিল।
বদরের যুদ্ধে উকাশা এই তরবারী ব্যবহার করলেন এমনকি আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদেরকে বিজয় দিলেন। সেই তরবারীর নাম ছিল আল-আওন। এই তরবারী হযরত উকাশার (রাঃ) নিকট দীর্ঘদিন ছিল এবং তিনি প্রত্যেক যুদ্ধের ময়দানেই তার নিপূণতা দেখাতেন। হযরত উকাশা (রাঃ) হুজুরের জীবনেও প্রত্যেক যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং ইন্তেকালের পরও মুরতাদদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছিলেন। সেই তরবারী দিয়েই তোলায়হা বিন খুয়ায়েলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে তিনি শাহাদাত প্রাপ্ত হন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00