📄 রাগের সময় আত্মসংবরণ
মানুষ কখন দয়া করবে, কখন রাগ করবে, আবার কখন ধৈর্য ধারণ করবে? মানুষ তার কোন্ অভ্যাস এবং কোন্ শক্তিকে কোন্ কাজে কি পরিমাণে নিয়োজিত করবে—সংস্কারক প্রকৃতপক্ষে তাকে সে পথেরই নির্দেশই দিয়ে থাকেন। কেননা আল্লাহ্ তা'আলার অবদানসমূহকে অকেজো করে রাখা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে সেগুলোর সদ্ব্যবহার না করা অতি অনুগত ফেরেশতা কিংবা অতি অবাধ্য শয়তানের পক্ষে মানানসই হলেও সুগঠিত দেহের অধিকারী তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের পক্ষে কখনো মানানসই হতে পারে না।
📄 আমি তো ছিলাম ভালো...
ইসলামের আবির্ভাবের ঠিক পূর্ব-মুহূর্তে তখনকার সভ্য জাতিসমূহের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে যেসব বাঞ্ছিত সদ্গুণ বিদ্যমান ছিল, তার সব কয়টিই বিদ্যমান ছিল আরববাসীদের মধ্যে। তারা ছিল একাধারে দানশীল, বীর, অভিযান-প্রিয়, কষ্টসহিষ্ণু এবং দূরদূরান্ত সফরে অভ্যস্ত। সততা ও বিশ্বস্ততা-রূপ গুণাবলীকে তারা অত্যন্ত আপন করে নিয়েছিল। অঙ্গীকার পালনেও ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠাবান। মোটকথা তাদের মধ্যে সব গুণই ছিল কিন্তু সবকিছুই যেন এক অজানা পর্দার অন্তরালে। তাদের শক্তি-সামর্থ্য ছিল কিন্তু তা সঠিকভাবে প্রয়োগ না করায় তার তেমন কোন মূল্যই ছিল না।
📄 চলুন, সম্প্রীতি গড়ি
সবার সাথে আপসের ক্ষেত্রে ইসলামের এই উদার শিক্ষার মধ্যে কোথাও বলা হয়নি যে, য়াহূদী, ঈসায়ী, সাবী এবং অন্যান্য ধর্মের লোক নিজ নিজ ধর্ম ছেড়ে দিক বরং নতুন পটভূমি দিয়ে সেগুলোকে নতুন খাতে প্রবাহিত করে কিছু নতুন জিনিসের প্রতি অধিকতর শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের শিক্ষা দেওয়া। অন্যথায় একই উৎস হতে উৎসারিত আদম ও হাওয়ার সন্তানদের একই কেন্দ্রে জড়ো করা কখনও সম্ভব নয়। রসূলুল্লাহ (সা) এভাবে নিজেকে 'সমস্ত বিশ্বের রহমত' রূপে প্রমাণিত করেছেন।
📄 লেখক পরিচিতি
একজন সুপণ্ডিত ও চিন্তাবিদ হিসাবে ডঃ হামীদুল্লাহর নাম মুসলিম বিশ্বে সুপরিচিত। বিশ্বের প্রধান প্রধান সাতটি ভাষায় ইসলাম সম্পর্কিত তাঁর তথ্যবহুল মৌলিক রচনাদি প্রকাশিত হয়েছে। 'রসূলে আকরম কী সিয়াসী যিন্দেগী' শীর্ষক পুস্তকে তিনি রসূল জীবনের, প্রধানত রাজনৈতিক দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়সহ বিশ্বনবী (সা) কিভাবে বিভিন্ন অমুসলিম রাজশক্তি ও জনগোষ্ঠীর সাথে চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন, কিভাবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমস্যার সন্তোষজনক সমাধান দিয়েছিলেন তারও একটি ধারাবাহিক ও পরিপূর্ণ বর্ণনা রয়েছে। শুধু বাংলায় কেন, অন্য যে-কোন ভাষায়ও এ ধরনের তথ্যসমৃদ্ধ পুস্তক বিরল।