📄 নৈতিক চরিত্রের পরীক্ষা
দুর্বলকে সাহায্য করা, সত্য প্রতিষ্ঠায় অগ্রগামিতা, সত্য গোপনে পশ্চাৎগামিতা, সারল্য, সদাচার, একনিষ্ঠতা, বদান্যতা, পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ, সময়ানুবর্তিতা ইত্যাদি গুণ অর্থাৎ 'অনুপম চরিত্রের' প্রতিটি গুণই প্রকৃতি তাঁকে দান করেছিল অকৃপণ হস্তে। শৈশবকাল থেকেই এসব গুণ তাঁর মধ্যে বিদ্যমান ছিল। উপরে যেসব বিপদাপদ ও প্রতিকূল অবস্থার কথা আলোচনা করা হয়েছে, তা রসূলুল্লাহ্ (সা)-কে এমনভাবে সহনশীল করে তুলেছিল, যার দরুন নবুয়ত লাভের পূর্বেই জনগণ তাঁকে 'আল-আমীন' উপাধিতে ভূষিত করে পরোক্ষভাবে তাঁর নেতৃত্বকেই স্বীকার করে নিয়েছিল।
📄 রাগের সময় আত্মসংবরণ
মানুষ কখন দয়া করবে, কখন রাগ করবে, আবার কখন ধৈর্য ধারণ করবে? মানুষ তার কোন্ অভ্যাস এবং কোন্ শক্তিকে কোন্ কাজে কি পরিমাণে নিয়োজিত করবে—সংস্কারক প্রকৃতপক্ষে তাকে সে পথেরই নির্দেশই দিয়ে থাকেন। কেননা আল্লাহ্ তা'আলার অবদানসমূহকে অকেজো করে রাখা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে সেগুলোর সদ্ব্যবহার না করা অতি অনুগত ফেরেশতা কিংবা অতি অবাধ্য শয়তানের পক্ষে মানানসই হলেও সুগঠিত দেহের অধিকারী তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের পক্ষে কখনো মানানসই হতে পারে না।
📄 আমি তো ছিলাম ভালো...
ইসলামের আবির্ভাবের ঠিক পূর্ব-মুহূর্তে তখনকার সভ্য জাতিসমূহের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে যেসব বাঞ্ছিত সদ্গুণ বিদ্যমান ছিল, তার সব কয়টিই বিদ্যমান ছিল আরববাসীদের মধ্যে। তারা ছিল একাধারে দানশীল, বীর, অভিযান-প্রিয়, কষ্টসহিষ্ণু এবং দূরদূরান্ত সফরে অভ্যস্ত। সততা ও বিশ্বস্ততা-রূপ গুণাবলীকে তারা অত্যন্ত আপন করে নিয়েছিল। অঙ্গীকার পালনেও ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠাবান। মোটকথা তাদের মধ্যে সব গুণই ছিল কিন্তু সবকিছুই যেন এক অজানা পর্দার অন্তরালে। তাদের শক্তি-সামর্থ্য ছিল কিন্তু তা সঠিকভাবে প্রয়োগ না করায় তার তেমন কোন মূল্যই ছিল না।
📄 চলুন, সম্প্রীতি গড়ি
সবার সাথে আপসের ক্ষেত্রে ইসলামের এই উদার শিক্ষার মধ্যে কোথাও বলা হয়নি যে, য়াহূদী, ঈসায়ী, সাবী এবং অন্যান্য ধর্মের লোক নিজ নিজ ধর্ম ছেড়ে দিক বরং নতুন পটভূমি দিয়ে সেগুলোকে নতুন খাতে প্রবাহিত করে কিছু নতুন জিনিসের প্রতি অধিকতর শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের শিক্ষা দেওয়া। অন্যথায় একই উৎস হতে উৎসারিত আদম ও হাওয়ার সন্তানদের একই কেন্দ্রে জড়ো করা কখনও সম্ভব নয়। রসূলুল্লাহ (সা) এভাবে নিজেকে 'সমস্ত বিশ্বের রহমত' রূপে প্রমাণিত করেছেন।