📄 মনে রবে কি না রবে আমারে?
বিবি খাদীজার সাথে রসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বৈবাহিক জীবন যে কত মধুর ও সুখময় ছিল তা দশ বছরের মধ্যে ছয়-সাতটি সন্তান লাভের মাধ্যমেই নয় বরং বিবি খাদীজার ইন্তেকালের পর রসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁকে যেরূপ আবেগ-উচ্ছ্বাসের সাথে স্মরণ করতেন, তা থেকেও অতি সহজে অনুমান করা যায়। রসূলুল্লাহ্ (সা) বিবি খাদীজাকে এত বেশি স্মরণ করতেন—যা তাঁর সবচেয়ে প্রিয়তমা পত্নী হযরত আয়েশার কাছেও ছিল দস্তুরমত ঈর্যার ব্যাপার।
📄 শান্তসৌম্য
রসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর জীবনে প্রথমবার যখন ঘোষণা করেন, "আমি সমগ্র বিশ্বের রহমতরূপে এসেছি এবং যে দীন ইসলাম (শান্তির ধর্ম) নিয়ে এসেছি তাঁর অনুসরণ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে ইহকাল পরকালের মঙ্গল লাভ সম্ভব নয়"—তখন উদ্ধত স্বভাবের লোকেরা কূট তর্কে লিপ্ত হয় এবং বিরোধিতা করতে থাকে। কিন্তু শান্ত স্বভাবের লোকেরা অনুরূপ না করে বরং রসূলুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করে: ইসলাম কাকে বলে এবং আপনার মতে আমাদের কি করা উচিত? এই জিজ্ঞাসার জওয়াব পাওয়ার পর তারা আবার ঠাণ্ডা মাথায় বিষয়টি সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে এবং যুক্তিযুক্ত বিবেচিত হলে তা বিনা দ্বিধায় গ্রহণও করে।
📄 নৈতিক চরিত্রের পরীক্ষা
দুর্বলকে সাহায্য করা, সত্য প্রতিষ্ঠায় অগ্রগামিতা, সত্য গোপনে পশ্চাৎগামিতা, সারল্য, সদাচার, একনিষ্ঠতা, বদান্যতা, পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ, সময়ানুবর্তিতা ইত্যাদি গুণ অর্থাৎ 'অনুপম চরিত্রের' প্রতিটি গুণই প্রকৃতি তাঁকে দান করেছিল অকৃপণ হস্তে। শৈশবকাল থেকেই এসব গুণ তাঁর মধ্যে বিদ্যমান ছিল। উপরে যেসব বিপদাপদ ও প্রতিকূল অবস্থার কথা আলোচনা করা হয়েছে, তা রসূলুল্লাহ্ (সা)-কে এমনভাবে সহনশীল করে তুলেছিল, যার দরুন নবুয়ত লাভের পূর্বেই জনগণ তাঁকে 'আল-আমীন' উপাধিতে ভূষিত করে পরোক্ষভাবে তাঁর নেতৃত্বকেই স্বীকার করে নিয়েছিল।
📄 রাগের সময় আত্মসংবরণ
মানুষ কখন দয়া করবে, কখন রাগ করবে, আবার কখন ধৈর্য ধারণ করবে? মানুষ তার কোন্ অভ্যাস এবং কোন্ শক্তিকে কোন্ কাজে কি পরিমাণে নিয়োজিত করবে—সংস্কারক প্রকৃতপক্ষে তাকে সে পথেরই নির্দেশই দিয়ে থাকেন। কেননা আল্লাহ্ তা'আলার অবদানসমূহকে অকেজো করে রাখা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে সেগুলোর সদ্ব্যবহার না করা অতি অনুগত ফেরেশতা কিংবা অতি অবাধ্য শয়তানের পক্ষে মানানসই হলেও সুগঠিত দেহের অধিকারী তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের পক্ষে কখনো মানানসই হতে পারে না।