📄 সমালোচনা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ
হযরত মুহাম্মদ (সা) যৌবনে অন্যের ব্যবসা পরিচালনা করে কিংবা ব্যবসা- প্রতিনিধি নিযুক্ত হয়ে নিজের বৈধ ও হালাল জীবিকা অর্জন করতেন। অসহায় ও অক্ষমদের সাহায্যার্থেও তিনি সদা-সচেষ্ট থাকতেন। হিজরী-পূর্ব ১৩ সালে চল্লিশ বছর বয়সে নবুওয়ত প্রচারের জন্য যখন আদিষ্ট হন, তখন থেকে পূর্ণ সময়টাই তিনি প্রচার ও সংস্কারমূলক কাজে ব্যয় করেন। এ দায়িত্ব পালনে তিনি রাত দিন নিজেকে ব্যস্ত রাখতেন।
এ জগতটাই আসলে কাজের জগত। এখানে নবী-রসূলদের পবিত্র কাজেও 'কুন্ ফা-ইয়াকুন' অর্থাৎ বললাম, 'হও এবং হয়ে গেল' ভিত্তিতে সম্পন্ন হয় না। কাজে কাজেই পৃথিবীর প্রত্যেকটি নতুন সংস্কার আন্দোলনের ন্যায় ইসলাম প্রচার আন্দোলনের জন্যেও প্রয়োজন ছিল অগণিত মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা তথা ত্যাগ-তিতিক্ষার। এ ব্যাপারে ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলিম মহিলারাও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। আমাদের ঐতিহাসিকরা এ ব্যাপারে যেসব তথ্য রেখে গেছেন, তা নিতান্তই অপ্রতুল। তবু বিষয়টি যেহেতু শিক্ষণীয়, তাই আমরা প্রাপ্ত তথ্যাদির উপরই এ সম্পর্কে কিছুটা আলোচনা করছি।
খাদীজা বিনতে খুওয়ায়লিদ
এ প্রসঙ্গে সর্বপ্রথম মুসলিম জননী খাদীজাতুল কুবরা (রা) সম্পর্কে আলোচনা করতে হয়। কেননা তিনি শুধুমাত্র বিশ্বনবীর সম্মানিতা জীবন সঙ্গিনীই ছিলেন না, নবুওতের প্রাথমিক যুগে অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্তে ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রেও রেখেছিলেন এক বিরাট অবদান। আমীর-উমারা ও বন্ধু-বান্ধবদের ভূরিভোজের মাধ্যমে নয়, বরং দরিদ্রের সাহায্য ও অক্ষমদের সেবার মাধ্যমেই প্রকৃত সম্মান ও মর্যাদা লাভ করা যায়। প্রাক-নবুওয়ত যুগে বিবি খাদীজা (রা) তাঁর সমস্ত সম্পত্তি য়াতিম, বিধবা ও অনাথদের সেবায় আপন স্বামীর জন্য ওয়াকফ্ করে দিয়েছিলেন। কাজে কাজেই তা ব্যয়িত হয়েছিল ইয়াতিম, বিধবা ও অনাথদের সেবায়। এভাবে বিবি খাদীজা (রা) আমীর-ফকীর- সবার কাছেই আপন স্বামীকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তাঁর এ মর্যাদা দীনের প্রচার কার্যে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছিল।
ইসলামের প্রাথমিক যুগে বিভিন্নমুখী সমস্যার কারণে যখন রসূলে করীম (সা) পরিশ্রান্ত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়তেন তখন তাঁর খাদীজা (রা)-এর মত একজন সান্ত্বনাদানকারিণী রমণীর সাহচর্যের খুবই প্রয়োজন ছিল। মানবসুলভ দুর্বলতার কারণে রসূলুল্লাহ্ (সা) ঘাবড়ে গেলে বিবি খাদীজা (রা) তাঁকে সান্ত্বনা দিতেন এবং ইসলামের মহান আন্দোলন পরিচালনার উপর তাঁকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করতেন। ইতিহাসে এ জাতীয় বেশ কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। ইসলামের আবির্ভাবের সংবাদ বিবি খাদীজা (রা) কর্তৃক তাঁর পিতৃব্যপুত্র ওরাকা বিন নওফেলের কাছে পৌঁছানো ও আপন স্বামীকে তাঁর কাছে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা তো সর্বজনবিদিত। কোন কোন বর্ণনা থেকে জানা যায়, বিবি খাদীজা মক্কার জনৈক খ্রীস্টানের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছিয়েছিলেন। নিজে ইসলাম গ্রহণের সাথে সাথে পরিবারের সকল দাসদাসীকে ইসলামে বায়আত করানো বিবি খাদীজার জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তাঁর ইসলাম গ্রহণ তাঁর গোত্রের উপর বিরাট প্রভাব বিস্তার করেছিল। কুরায়শদের অমানবিক সামাজিক বয়কটের সময় বিবি খাদীজাও মুসলমানদের সাথে 'আবু তালিব উপত্যকায়' বন্দী ছিলেন। তাই সেই সংকটময় অবস্থায়ও কুরায়শদের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে তাঁকে তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র হাকীম বিন হাজাম মাঝে মাঝে কিছু না কিছু খাদ্যদ্রব্য পাঠাত। এতে প্রমাণিত হয় যে, তাঁর গোত্রের লোকেরা পুরোপুরি ইসলাম গ্রহণ না করলেও হযরত খাদীজা (রা)-এর কারণে মুসলমানদের বিরোধিতা না করে বরং সময় ও সুযোগমত কিছুটা সহযোগিতাই করেছে।
বিবি গুযাইয়াহ্ (রা)
মুহাম্মদ বিন হাবীব আল-বাগদাদী (মৃত্যু ২৪৫ হি.) স্বীয় গ্রন্থ "আল-মুহাব্বর'- এ উল্লেখ করেছেন, বিবি গুযাইয়াহ্ (রা) মুসলমান হওয়ার পর প্রচারকার্য চালিয়ে মক্কার অনেক মহিলাকে ইসলামে বায়আত করেন। এতে কুরায়শরা দারুণভাবে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। যেহেতু গুযাইয়াহ (রা) কুরায়শী ছিলেন না, বরং ছিলেন একজন মরুচারিণী বেদুঈন ; তাই কুরায়শরা তাঁকে শহর থেকে বের করে দেওয়াকেই শ্রেয় মনে করে। তারা তাঁকে একটি কাফেলার হাতে সোপর্দ করে যাতে ঐ কাফেলা হাত পা বাঁধা অবস্থায়ই তাঁকে তাঁর গোত্রের কাছে পৌঁছিয়ে দেয়। বিবি গুযাইয়াহ্ বর্ণনা করেছেন, 'এই লোকেরা একবারও আমাকে পানাহারের সুযোগ দেয় নি, বরং যখনই তারা কোন মনযিলে অবতরণ করত, তখন আমাকে হাত পা বাঁধা অবস্থায়ই রোদের মধ্যে ফেলে রাখত। এভাবে তিনদিন অতিবাহিত হওয়ার পর আমার অবস্থা শোচনীয় হয়ে উঠে এবং আমি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ি। এক রাতে আমি ঐ অবস্থায়ই আছি-এমন একটি অদৃশ্য বস্তু এসে আমার মুখে লাগে ; আমি তা থেকে কিছু পানি চুষে খেয়ে চেতনা লাভ করি। তারপর পেট পুরেই পানি পান করি। সকালে উঠে লোকেরা আমার এই পরিবর্তিত উন্নত অবস্থা দেখে সন্দেহ করলো, নিশ্চয়ই আমি বাঁধনমুক্ত হয়ে চুরি করে কাফেলার পানি পান করেছি। কিন্তু যখন লক্ষ্য করলো যে, আমার দড়ি যেমনটি ছিল ঠিক তেমনটিই রয়েছে এবং তাদের মশকসমূহের মুখও যেভাবে বাঁধা ছিল অবিকল সেভাবেই বাঁধা রয়েছে তখন তারা বুঝতে পারলো যে, এটা আমার প্রতি আল্লাহ্ তা'আলার অসীম করুণা ও অদৃশ্য সাহায্য ছাড়া কিছু নয়। এই ঘটনা দ্বারা কাফেলার লোকেরা যারপর নাই প্রভাবান্বিত হল এবং সকলে একসাথে তওবা করে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিল। আল্লাহর রসূলের প্রতি বিবি গুযাইয়াহর বিশ্বাস এতই প্রগাঢ় ছিল যে, "কোন বিশ্বাসী নারী নবীর নিকট নিজেকে নিবেদন করলে"-এই আয়াতটি তাঁরই সম্পর্কে নাযিল হয়।
উম্মে শরীফ দাওসিয়াহ (রা)
'সিয়ারুস্ সাহাবীয়াত' (দারুন মুসান্নিফীন)-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, উম্মে শরীফ দাওসিয়াহ (রা) গোপনীয়তা রক্ষা করে অত্যন্ত কৌশলের সাথে মহিলাদের মধ্যে ইসলামের প্রচারকার্য চালান, ফলে কুরায়শী মহিলাদের মধ্যে ইসলামের ব্যাপক প্রসার ঘটে।
ফাতিমা বিনতে আল-খাত্তাব (রা)
ফাতিমা বিনতে আল-খাত্তাব (রা) ছিলেন উমর (রা)-এর বোন। তিনি কিভাবে হযরত উমর (রা)-কে প্রভাবান্বিত করেছিলেন, আর কিভাবে হযরত উমর (রা) ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তা তো ইসলামী ইতিহাসের একটি প্রসিদ্ধ ঘটনা। জাহিলিয়া যুগে কুরায়শদের মধ্যে যে কয়জন মহিলা পড়াশোনা জানতেন, তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম।
সা'দা বিনতে কুরায়য (রা)
ইবনে হজর তাঁর 'ইসাবা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, সা'দা বিনতে কুরায়য (রা)-এর অনুপ্রেরণায় হযরত উসমান (রা) ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। খুব সম্ভব তিনি ছিলেন হযরত উসমানের খালা। তাঁর সম্পর্কে এর অধিক কিছু জানা যায়নি।
'তৃতীয় আকাবা' (যাকে হিজরতের ভূমিকা বলা হয়)-এর সম্মিলিত শপথে দু'জন মহিলাও অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। এ তো গেল হিজরত-পূর্ব যুগের ঘটনা। হিজরত-উত্তর যুগেও কয়েকজন মহিলা দীনের প্রচার কার্যে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন। বলা হয়ে থাকে, মক্কার মহিলাদের চেয়ে মদীনার মহিলারা ছিলেন এক্ষেত্রে অধিক অগ্রণী। ইসলামের প্রচার ও প্রসারে তারা যে ভূমিকা পালন করেছিলেন তার কিছু বিবরণী নিম্নে দেওয়া গেল।
উম্মে সালীম বিনতে মালহান (রা)
উম্মে সালীম বিনতে মালহান (রা) একজন সিংহ-হৃদয়া মহিলা ছিলেন। তিনি এবং তাঁর বোন যুদ্ধের ময়দানে খঞ্জর হাতে অংশগ্রহণ করতেন বলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। হুনাইনের যুদ্ধে ইসলামী সেনাবাহিনীর পলায়নকারী মক্কী স্বেচ্ছাসেবকদেরকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের জন্যে যুদ্ধে বিজয় লাভের পর তিনি রসূলুল্লাহ (সা)-কে পরামর্শ দিয়েছিলেন। উম্মে সালীম (রা)-এর স্বামী পৌত্তলিক ছিলেন। তিনি একটি বৃক্ষের পূজা করতেন। উম্মে সালীম মুসলমান হওয়ার পর বৃক্ষপূজার কারণে স্বামীকে ধিক্কার দিতেন এবং রহস্য করে বলতেন, 'যে উদ্ভিদ মাটির ভেতর থেকে বের হয় সে আবার প্রভু হয় কিভাবে? স্বামী ধীরে ধীরে তাঁর কথা দ্বারা প্রভাবান্বিত হন এবং শেষ পর্যন্ত ইসলাম গ্রহণ করেন।
বিবিধ বিষয়
রসূলুল্লাহ (সা) সদুপদেশ দানের জন্য মসজিদে নববীতে একটি পৃথক মাহফিলের ব্যবস্থা করতেন এবং সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে তা বসত। চাঁদার জন্য যখন বিশেষ আহ্বান জানানো হত তখন এ জাতীয় মাহফিল থেকে উৎসাহজনক সাড়া পাওয়া যেত। সহীহ বুখারীতে একদিনের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে : হযরত বিলাল সফ্ (নামাযের সারি)-সমূহ ঘুরে ঘুরে চাঁদা সংগ্রহ করছিলেন, আর মহিলারা রসূলুল্লাহ্ (সা)-র আহ্বানে নিজেদের কাঁকন, বালি (অলংকার) ইত্যাদি খুলে খুলে আল্লাহ্র রাস্তায় দান করছিলেন।
বাবুর্চি ও সেবিকা হয়ে মুসলিম মহিলারা যে স্বেচ্ছায় যুদ্ধে অংশ নিতেন তার উল্লেখ এখানে অপ্রাসঙ্গিক মনে হলেও বিদেশ থেকে আগত অমুসলিম রাষ্ট্রের দূতরা মদীনায় এলে আনসার মহিলারা যে তাদের মেহমানদারীর দায়িত্ব বহন করতেন তাঁর কথা তো এখানে অপ্রাসঙ্গিক হতে পারে না! ইবনে সা'দ ইত্যাদি গ্রন্থে প্রায়ই এমন একজন মহিলা আনসারীর বাড়ির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বিদেশী রাষ্ট্রদূতরা অবস্থান করতেন এবং তাঁদের পানাহারের ব্যবস্থাও সেখানেই করা হত। মোটকথা, মহিলারাও রসূলে আকরাম (সা)-এর দীনের প্রচার কার্যে যথেষ্ট অবদান রাখেন। তাঁরা তাঁদের স্বামী, ভৃত্য, দাসদাসী, আত্মীয়-স্বজন ও সখী-বান্ধবীদেরকেও ইসলাম গ্রহণে অনুপ্রাণিত করেন। ইসলামের জন্যে তাঁরা অকাতরে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন সহ্য করেন। কিছুসংখ্যক মহিলা পুরুষদের সাথে আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন। তাদের ঈমান যে অত্যন্ত মজুত ছিল তা আবিসিনিয়ার একটি ঘটনা থেকে পরিষ্কার বুঝা যায়। সেখানকার ঈসায়ী পরিবেশে অবস্থানকালে উম্মে হাবীবা (রা)-এর স্বামী উবায়দুল্লাহ বিন জুহশ এবং সওদা (রা)-এর স্বামী সুকরান ইসলাম ছেড়ে খ্রীষ্ট ধর্ম গ্রহণ করেন, কিন্তু ঐ মহিলাদ্বয় ইসলামেই অবিচল থাকেন। আর তারই পুরস্কারস্বরূপ পরবর্তী সময়ে তাঁরা 'উম্মুল মুমিনীন' (রসূলুল্লাহ্ (সা)-র পত্নী) হওয়ায় সৌভাগ্য অর্জন করেন।
হযরত উমর (রা)-এর পরিবারের দু'জন দাসী-যুনীরা (রা) ও লবিনা (রা) মক্কায় ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। হযরত 'উমর (ইসলাম গ্রহণের পূর্বে) তাঁদের উপর অকথ্য নির্যাতন চালাতেন। জানা যায়, তিনি তাঁদেরকে প্রহার করতে করতে পরিশ্রান্ত হয়ে থেমে যেতেন। অতঃপর তাঁদেরকে লক্ষ্য করে বলতেন, "তোমরা মনে করো না যে, আমি তোমাদের উপর সদয় হয়ে গেছি বরং পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ার কারণেই একটু জিরিয়ে নিচ্ছি। তৈরী হয়ে যাও। শীঘ্রই তোমাদের উপর প্রহার শুরু করবো।” মহিলা দুজন হাসিমুখে ঐ নির্যাতন সহ্য করে নেন, কিন্তু ইসলাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি। সওবিয়া (রা)-ও (যিনি রসূলুল্লাহ (সা)-কে কয়েকদিন নিজের স্তনের দুধ খাইয়েছিলেন) জুলুম নির্যাতনের কোন পরোয়া না করেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু যেহেতু তিনি ইতিপূর্বে আযাদ (মুক্ত) হয়েছিলেন তাই আবু লাহাব খুব সম্ভব তাকে শাস্তিদানের কোন সুযোগ পায়নি।
সাফা বিনতে আবদুল্লাহ আলআদভিয়াহ্ (রা) কখন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তা সঠিকভাবে জানা যায়নি। তিনি হযরত উমর (রা)-এর আত্মীয়া ছিলেন এবং ভাল লেখাপড়া জানতেন। রসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁকে মুসলিম-জননী বিবি হাফসা (রা)-কে শিক্ষাদানের কাজে নিয়োগ করেছিলেন। ঐ মহিলা নানা দিক দিয়ে মুসলমানদের উন্নতির জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পলন করেন।
📄 ব্যক্তিগত দায়িত্ব
ইসলামের নবী ঘোষণা করলেন, ধর্ম একটি সহজ ও সহজাত বস্তু। এর সাথে প্রতিটি মানুষ সরাসরি সম্পর্কিত। তিনি একটি মৌলিক ধর্ম তথা সকল ধর্মের সারকথাও মানুষের সামনে পেশ করলেন। আর তা হলো, মানুষ জন্ম থেকে, অন্ততঃপক্ষে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নিজের জন্য নিজেই দায়ী। তাঁর ধর্ম হলো, "কেউ আল্লাহ্ ও পরকালে বিশ্বাস করলে এবং সৎকাজ করলে তার কোন ভয় নেই এবং সে দুঃখিতও হবে না"-(৫ঃ ৬৯), আর "আল্লাহ কারো উপর এমন কোন কষ্টদায়ক দায়িত্ব অর্পণ করেন না যা তার সাধ্যাতীত...।" (২: ২৮৬)
📄 মনে রবে কি না রবে আমারে?
বিবি খাদীজার সাথে রসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বৈবাহিক জীবন যে কত মধুর ও সুখময় ছিল তা দশ বছরের মধ্যে ছয়-সাতটি সন্তান লাভের মাধ্যমেই নয় বরং বিবি খাদীজার ইন্তেকালের পর রসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁকে যেরূপ আবেগ-উচ্ছ্বাসের সাথে স্মরণ করতেন, তা থেকেও অতি সহজে অনুমান করা যায়। রসূলুল্লাহ্ (সা) বিবি খাদীজাকে এত বেশি স্মরণ করতেন—যা তাঁর সবচেয়ে প্রিয়তমা পত্নী হযরত আয়েশার কাছেও ছিল দস্তুরমত ঈর্যার ব্যাপার।
📄 শান্তসৌম্য
রসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর জীবনে প্রথমবার যখন ঘোষণা করেন, "আমি সমগ্র বিশ্বের রহমতরূপে এসেছি এবং যে দীন ইসলাম (শান্তির ধর্ম) নিয়ে এসেছি তাঁর অনুসরণ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে ইহকাল পরকালের মঙ্গল লাভ সম্ভব নয়"—তখন উদ্ধত স্বভাবের লোকেরা কূট তর্কে লিপ্ত হয় এবং বিরোধিতা করতে থাকে। কিন্তু শান্ত স্বভাবের লোকেরা অনুরূপ না করে বরং রসূলুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করে: ইসলাম কাকে বলে এবং আপনার মতে আমাদের কি করা উচিত? এই জিজ্ঞাসার জওয়াব পাওয়ার পর তারা আবার ঠাণ্ডা মাথায় বিষয়টি সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে এবং যুক্তিযুক্ত বিবেচিত হলে তা বিনা দ্বিধায় গ্রহণও করে।