📄 পরিশিষ্ট
বিলাসীদের আয়েশী জীবন পার্থিব জীবনের ক্ষণস্থায়ী চাকচিক্য বৈ কিছু নয়। তাদের এ নেয়ামত চিরস্থায়ী নয়। অচিরেই এ নেয়ামত হাতছাড়া হয়ে যাবে। আসবে পরিবর্তন। আল্লাহ তো এসবের মাধ্যমে কেবল তাঁর বান্দাদের পরীক্ষা করেন। অবশ্য তাঁর বান্দাদের খুব কম সংখ্যকই শোকর-গুজার।
কবি বলেছেন-
إِذَا مَا كَسَاكَ الدَّهْرُ ثَوْبَ مَصَحَّةٍ وَلَمْ يَخْلُ مِنْ قُوْتِ يَحْلَى وَيَعْذِبُ فَلَا تَغْبِطَنَّ الْمُتْرَفِينَ فَإِنَّهُ عَلَى حَسْبِ مَا يُعْطِيهِمُ الدَّهْرُ يَسْلِبُ
যামানা যখন তোমাকে সুস্থতার পোশাক পরিধান করাবে এবং তুমি আহার-বিহার থেকে বঞ্চিত থাকবে না, তখন তুমি বিলাসীদের নিয়ে ঈর্ষা করো না। কেননা, যামানা তাদেরকে যা দিয়েছে, তা আবার ফিরিয়ে নেবে। [ফয়যুল কদীর: ৬/৬৮]
প্রিয় পাঠক!
আপনি অপচয়ের ক্ষতি ও বিলাসিতার পরিণতির কথা একটু ভাবুন। এ উভয়টিই দারিদ্র্য টেনে আনে। অপচয় ও বিলাসিতা অপব্যয়ী ও বিলাসীকে লাঞ্ছিত করে। অপদস্থ করে。
বিলাসিতা সবার ক্ষেত্রেই নিন্দনীয়, তবে তালিবুল ইলম ও দাঈদের ক্ষেত্রে আরও বেশি নিন্দনীয়। বিলাসিতার এ ব্যাধি বিশিষ্ট-সাধারণ সব শ্রেণির মানুষের মাঝেই ছড়িয়ে পড়েছে। খুব কম মানুষই তা থেকে বেঁচে থাকতে পারছে。
মনে রাখবেন, যেকোনো বিষয়ে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা উত্তম ও গ্রহণীয়। সকল ক্ষেত্রে সর্বদা উৎকৃষ্ট বস্তুর আবশ্যকতা বর্জনীয়। কেননা, সকল ক্ষেত্রে উৎকৃষ্টতার আবশ্যকতা মানুষকে বিলাসিতা ও ঔদ্ধত্যের দিকে নিয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে সন্দেহ ও হারামেও লিপ্ত করে দেয়। কারণ, যে লোক সকল ক্ষেত্রেই উৎকৃষ্টতাকে আবশ্যক করে নেয়, কখনও সে তাতে সক্ষম না হলে ধৈর্য ধারণ করতে অক্ষম হয়ে পড়ে; ফলে তখন সে নিষিদ্ধ পথে অগ্রসর হয়。
পরিশেষে আমরা আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের নিয়তকে শুদ্ধ করে দেন। আমাদেরকে এবং আমাদের সন্তানাদিকে সরল পথে পরিচালিত করেন। আমাদের জীবিকাকে প্রয়োজন পরিমাণ রাখেন এবং আমাদের যাবতীয় কাজকর্মকে সঠিক ও সুষ্ঠু করে দেন。
وَآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ وَصَلَّى اللهُ وَسَلَّم وَبَارَكَ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ
সমাপ্ত