📘 বিলাসিতা করবেন না > 📄 ৬. বিলাসিতা দেহেরও বহু ক্ষতি করে

📄 ৬. বিলাসিতা দেহেরও বহু ক্ষতি করে


বিলাসীদের শরীর খুবই অসহিষ্ণু হয়ে থাকে। সামান্য কষ্টও সহ্য করতে পারে না। অল্পতেই বিভিন্ন রোগ-শোক ও সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে。

আল্লাহ কষ্ট সহিষ্ণু করেই মানুষের দেহ সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু যখনই মানুষ এ সহজাত বিষয়টি উপেক্ষা করে, যেকোনো ধরনের কষ্ট ও পরিশ্রম এড়িয়ে চলে, তখনই সেখানে জানা-অজানা বিভিন্ন রোগ বাসা বাঁধতে শুরু করে। মানুষের দেহ নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে থাকে。

ইবনে রজব হাম্বলী বলেন, গায়ে সামান্যতমও ঠান্ডা লাগতে পারে না- এমনভাবে ঠান্ডা থেকে বেঁচে থাকা ঠিক নয়। কারণ, এমনটা করা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অনেক আমীর-উমারা ও শাসক নিজেদেরকে এমনভাবে ঠান্ডা-গরম থেকে দূরে রাখতেন যে, ন্যূনতম ঠান্ডা-গরমের সামান্যতম স্পর্শও তাদের গায়ে লাগতে পারত না। ফলে তাদের ভিতরটা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়েছিল। [লাতায়িফুল মাআরিফ: ৩৫৬]

তা হলে দেখা যাচ্ছে, আরাম-আয়েশ ও বিলাসিতা শরীর-স্বাস্থ্য ও সুস্থতার উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে; রোগ-প্রতিরোধ-ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। কষ্টসহিষ্ণু জীবনযাপন ও যেকোনো ধরনের কষ্টের সম্মুখীন হতে মানুষকে অক্ষম করে তোলে।

📘 বিলাসিতা করবেন না > 📄 ৭. বিলাসিতা সময় নষ্ট করে

📄 ৭. বিলাসিতা সময় নষ্ট করে


বিলাসিতা বহু সময় নষ্ট করে। আরাম-আয়েশের উপকরণ ও বিলাসিতার সামগ্রী তালাশে বহু মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যায়। বিলাসীরা যদি সময়ের মূল্য বুঝত, তা হলে তারা এ নশ্বর পৃথিবীর ক্ষণস্থায়ী বিলাসের পিছনে পড়ে মূল্যবান সময় নষ্ট করত না。

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস -র সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম ইরশাদ করেছেন-
نِعْمَتَانِ مَغْبُوْنُ فِيْهِمَا كَثِيرٌ مِنْ النَّاسِ الصِّحَّةُ وَالْفَرَاغُ.
দু'টি নেয়ামত আছে এমন, যে দু'টিতে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। [সে দু'টি নেয়ামত হচ্ছে] সুস্থতা ও অবসর। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৪১২]

📘 বিলাসিতা করবেন না > 📄 ৮. বিলাসিতা ইবাদতে অনাগ্রহী ও অলস করে তোলে

📄 ৮. বিলাসিতা ইবাদতে অনাগ্রহী ও অলস করে তোলে


বিলাসিতা বিলাসীকে ইবাদত-বন্দেগীতে অনাগ্রহী ও অলস করে তোলে। কারণ, বিলাসী চায় সর্বদাই আরাম-আয়েশ ও বিলাসব্যসনে লিপ্ত থাকতে। ফলে সে ইবাদত-বন্দেগী ও অন্যান্য নেকের কাজ করার মতো সময় বের করতে পারে না। সে কুরআনে কারীম তিলাওয়াতের সময় পায় না, দিনে রোযা রাখতে পারে না, রাতে সালাত পড়তে পারে না- ইত্যাদি কোনো ইবাদতই সে করতে পারে না।

📘 বিলাসিতা করবেন না > 📄 ৯. হারাম পন্থায় উপার্জনে আগ্রহী করে তোলে

📄 ৯. হারাম পন্থায় উপার্জনে আগ্রহী করে তোলে


যে ব্যক্তি আল্লাহ -কে ভয় করে না, সে কোথা থেকে সম্পদ আয় করে আর কোথায় তা ব্যয় করে- এ ব্যাপারে তার কোনো পরোয়াই থাকে না। বরং তার একটাই ইচ্ছা- সম্পদ বৃদ্ধি করা, চাই তা অবৈধ ও হারাম যা-ই হোক না কেন। এজন্য সে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, সুদ, ঘুষ, অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ, হারাম দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়, এতিমের মাল ভক্ষণ কিংবা যেকোনো হারাম কর্ম- যেমন, জ্যোতিষগিরি, বেশ্যাবৃত্তি, গান-বাজনা ইত্যাদি উপায়ে সম্পদ উপার্জন করে থাকে। এমনকি সরকারি কোষাগার কিংবা জনগণের সম্পদ কুক্ষিগত করা, মানুষকে বিপদে ফেলে তাদের সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া, বিনা প্রয়োজনে ভিক্ষাবৃত্তি করা ইত্যাদি যেকোনো উপায়ে অর্থ উপার্জন করে। অতঃপর সে ওই উপার্জন থেকে খায়, পরে, গাড়িতে চড়ে, বাড়ি-ঘর তৈরি করে এবং দামি দামি আসবাবপত্র দিয়ে সজ্জিত করে। এভাবে সে হারাম আর হারাম দিয়েই তার উদর পূর্তি করে। অথচ রাসূলুল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন-
كُلُّ لَحْم نَبَتَ مِنْ سُحْتٍ فَالنَّارُ أَوْلَى بِهِ.
শরীরের যতটুকু গোশত হারাম থেকে উৎপন্ন হয়েছে, তা জাহান্নামের জন্যই সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত। [তবরানী ফিল কাবীর : ১৯/১৩৬]

অচিরেই কেয়ামতের দিন তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে- কোথা থেকে সে সম্পদ উপার্জন করেছে এবং কোথায় তা ব্যয় করেছে। সুতরাং, এ শ্রেণির লোকদের জন্য সেখানে [কেয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে] শুধু ধ্বংস আর ধ্বংসই অপেক্ষা করছে。

অতএব, যার কাছে হারাম সম্পদ রয়ে গেছে, তার উচিত অনতিবিলম্বে তা থেকে নিজেকে মুক্ত করে নেওয়া। যদি মানুষের হক হয়, তবে যেন তার কাছে তা ফেরত দেওয়ার সাথে সাথে তার কাছ থেকে ক্ষমাও চেয়ে নেয়- ওই দিন আসার পূর্বে, যেদিন কোনো মানুষ কোনো টাকা-পয়সা নিয়ে আসবে না, আসবে শুধু নেক আমল আর বদ আমল নিয়ে。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00