📘 বিলাসিতা করবেন না > 📄 ৮. বাড়ি নির্মাণ ও ডেকোরেশনে অতিরঞ্জন

📄 ৮. বাড়ি নির্মাণ ও ডেকোরেশনে অতিরঞ্জন


বহু বিলাসী পরিবার কিছুদিন পর পর তাদের ঘরের আসবাবপত্র ও ডেকোরেশন পরিবর্তন করে সর্বশেষ ও আধুনিকতমরূপে সজ্জিত করে। কোনো কোনো পরিবার এ কাজ করে ছয় মাস পর পর। কোনো কোনো পরিবার করে এক বছর অন্তর অন্তর। আবার কেউ কেউ হয়তো করে দু'চার বছর পর পর। প্রত্যেকে তাদের আর্থিক সামর্থ্য ও সঙ্গতির ভিত্তিতে এ পরিবর্তন করে থাকে。

ঘরে সৌন্দর্য ও বৈচিত্র আনয়ন কোনো দোষের বিষয় নয়। তবে তা আর বিলাসিতা এক কথা নয়。

অনেকে ঘরের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে কল্পনাতীত অর্থ ব্যয় করে বিভিন্ন বস্তুসামগ্রী আমদানি করে থাকে। আবার এসবের যথাযথ স্থাপন ও পরিকল্পিত ডেকোরেশনের জন্য বিশেষজ্ঞ ও পারদর্শী লোকের দলও থাকে, যাদেরকে এ কাজের জন্য মোটা অংকের অর্থ প্রদান করতে হয়。

বর্তমানে তো অনেকে তাদের টয়লেটগুলোও এতটাই উন্নত ও জাঁকজমকপূর্ণ করে তৈরি করে, যা দেখলে মনে হয় যেন কোনো শাহী বৈঠকখানা। সেখানে মোজাইক-টাইলস থেকে শুরু করে শ্বেত মর্মর, মার্বেল পাথর ও বহুমূল্যের লাইটিংসহ কোনো কিছুই বাদ যায় না।

📘 বিলাসিতা করবেন না > 📄 ৯. চাকর-বাকর ও ভৃত্য পরিচারিকার আধিক্য

📄 ৯. চাকর-বাকর ও ভৃত্য পরিচারিকার আধিক্য


সম্প্রতি ধনী পরিবারগুলোতে একাধিক ভৃত্য-পরিচারিকা রাখার এক সংস্কৃতি গড়ে ওঠেছে। একটা সময় ছিল, যখন ঘরোয়া কাজের চাপ বেড়ে গেলে গৃহিনীকে সাহায্য করার জন্য একজন পরিচারিকা রাখা হত। এতে দোষের কিছু নেই। বরং একান্ত প্রয়োজন হলে একাধিক পরিচারিকাও রাখা যেতে পারে। কিন্তু এখানে আমি যেটা বোঝাতে চাচ্ছি, সেটা হচ্ছে, অনেক পরিবারে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে বিলাসিতাবশত গার্হস্থ্য প্রতিটি কাজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ভৃত্য- পরিচারিকা থাকে। একজন ঘর-দুয়ার পরিষ্কার করে, আরেকজন কাপড়-চোপড় ধোয়; একজন রান্নাবান্না করে আরেকজন বাচ্চাদের দেখাশুনা করে। এভাবে প্রতিটি কাজের জন্য একজন একজন করে পরিচারিকা নিয়োগ দেওয়া থাকে。

অন্যদিকে বাগান পরিচর্চা ও দেখাশুনার জন্য এক চাকর কাজ করে, পাহারাদারিতে নিযুক্ত থাকে আরেকজন। ড্রাইভার তো সম্পূর্ণ ভিন্ন ও স্বতন্ত্র。

কোনো কোনো পরিবারে প্রত্যেক সদস্যের জন্য আলাদা আলাদা ড্রাইভার থাকে。

অনেক পরিবারে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যদের তুলনায় তাদের চাকর-বাকর ও ভৃত্য-পরিচারিকার সংখ্যা বেশি।

📘 বিলাসিতা করবেন না > 📄 ১০. খেলাধুলা, বিনোদন ও আমোদ-প্রমোদে বাড়াবাড়ি

📄 ১০. খেলাধুলা, বিনোদন ও আমোদ-প্রমোদে বাড়াবাড়ি


বর্তমানে আমোদ-প্রমোদ ও বিনোদনের জন্য এমন সব বিশেষায়িত হোটেল ও শহর তৈরি করা হয়েছে এবং হচ্ছে, যাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হচ্ছে。

মানুষ সেখানে গিয়ে কিছু সময় কাটাতে, কিছুক্ষণ অবস্থান করতে এবং সেখানকার সুযোগ-সুবিধা ও ফায়দা ভোগ করতে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাওয়ার মতো উড়াচ্ছে। এর পাশাপাদি খাদ্য, পানীয় ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অর্থ-অপচয়ের বিষয় তো থাকছেই。

আপনি চিন্তাও করতে পারবেন না, এ সকল স্থানে অবস্থান করতে, সময় কাটাতে, সেখানকার সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়!

📘 বিলাসিতা করবেন না > 📄 ১১. বিখ্যাত ব্যক্তি ও সেলিব্রেটিদের ব্যবহৃত বস্তু কেনায়

📄 ১১. বিখ্যাত ব্যক্তি ও সেলিব্রেটিদের ব্যবহৃত বস্তু কেনায়


উম্মে কুলসুমের ব্যবহৃত রুমাল বিক্রি হয়েছে পাঁচ মিলিয়ন ডলারে。

নাজিব মাহফুজের কলম, যা দিয়ে ধর্মহীনতার কথা লেখা হয়েছে, বিক্রি হয়েছে ছয় হাজার ডলারে。

প্রিন্সেস ডায়নার পোশাক... বিক্রেতা সংস্থা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার পোশাককে বহু খণ্ডে খণ্ডিত করবে। প্রতিটি খণ্ডের মাপ হবে দুই মিলিমিটার। প্রতিটি খণ্ড বিক্রি করা হবে পঁচিশ ডলারে। এভাবে তার পোশাকের মূল্য গিয়ে দাঁড়ায় এক শ' মিলিয়ন ডলারে。
-অদ্ভুত!!!

এই হচ্ছে আমাদের সমাজে প্রচলিত বিলাসিতার কিছু খণ্ডচিত্র। এটা খুবই ভয়ংকর চিত্র। এ থেকে বেঁচে থাকা এবং এর সংশোধনে দৃষ্টি দেওয়া আমাদের সকলের জন্যই জরুরি; খুবই জরুরি এবং তা করতে হবে সময় ফুরিয়ে যাবার আগেই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00