📘 বিলাসিতা করবেন না > 📄 পানাহারে বিলাসিতার চিত্র

📄 পানাহারে বিলাসিতার চিত্র


অনেকে একদম তাজা ও টাটকা খাবার না হলে খায় না। ফ্রিজে রাখা খাবার তাদের মুখে ওঠে না। সেই খাবারের স্থান হয় ডাস্টবিনে; ময়লা-আবর্জনার স্তূপে। তারা হয়তো ভাবে, ফ্রিজে রাখা বাসি খাবার তাদের যোগ্য নয়; তারা এর অনেক ঊর্ধ্বে। এমনকি ফ্রিজে রাখা খাবারের স্বাদ-গন্ধ ও রূপে কোনো ধরনের পরিবর্তন না এলেও তারা সে খাবারে হাত দেয় না。
- একে বিলাসিতা ছাড়া আর কী বলা যেতে পারে?! আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজত করুন。

তবে হাঁ, মাঝে-মধ্যে উন্নত ও উৎকৃষ্ট খাবারের ব্যবস্থা করায় কোনো দোষ নেই। এমনকি কখনও কখনও উচ্চ মূল্য ও সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন খাবার ক্রয়েও কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এটা কারও প্রতিদিনের এবং সবসময়ের অভ্যাসে পরিণত হওয়া অযৌক্তিক, অগ্রহণযোগ্য ও অননুমোদিত। শরীয়ত ও সুস্থ বিবেক কোনোটিই এর সমর্থন করে না।

📘 বিলাসিতা করবেন না > 📄 পানাহার-পাত্রাদিতে বিলাসিতার চিত্র

📄 পানাহার-পাত্রাদিতে বিলাসিতার চিত্র


অনেকে পানাহারে উচ্চমানসম্পন্ন ও উচ্চমূল্যের পাত্রাদি ব্যবহার করে থাকে। আপনি দেখবেন, বিলাসী পরিবারগুলো বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানি ও নামিদামি ব্রান্ডের পণ্য ছাড়া অন্যকোনো পণ্য ব্যবহার করে না। থালা, বাটি, জগ, গ্লাস, চামচ ইত্যাদিসহ তাদের যাবতীয় আসবাবপত্র সর্বोत्कृष्ट ও সর্বোচ্চ মূল্যের হতে হয়। সাধারণ কোনো কোম্পানির পণ্য বা মধ্যম পর্যায়ের আসবাবপত্রের জন্য তাদের ঘরে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ。

শুধু তাই নয়, আল্লাহ মাফ করুন, অনেকে স্বর্ণ-রূপার তৈরি তৈজসপত্রও ব্যবহার করে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপঢৌকন হিসেবেও দিয়ে থাকে। অথচ ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক এ জাতীয় পাত্রাদি ব্যবহার করা সম্পূর্ণরূপে হারাম। এ জাতীয় পাত্র ব্যবহার প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীসে কঠোর শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে。

যেমন, উম্মে সালামা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন-

أَنَّ الَّذِي يَأْكُلُ أَوْ يَشْرَبُ فِي آنِيَةِ الْفِضَّةِ وَالذَّهَبِ إِنَّمَا يُجَرْجِرُ فِي بَطْنِهِ نَارَ جَهَنَّمَ.
যে ব্যক্তি রূপা ও সোনার পাত্রে খায় কিংবা পান করে, সে যেন তার পেটে জাহান্নামের আগুনই প্রবেশ করায়। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৫০৯]

এ হুকুম খাবারের পাত্রসহ যেকোনো ধরনের সোনা-রূপার পাত্রাদির জন্যই প্রযোজ্য। যেমন, থালা-বাটি, প্লেট-ডিস, চামচ, কাঁটা চামচ, ছুরি, মেহমানদারির জন্য প্রস্তুত খাদ্য প্রদানের পাত্র, বিবাহ ইত্যাদি অনুষ্ঠানে মিষ্টি প্রভৃতি পরিবেশনের ডালা ইত্যাদি।

📘 বিলাসিতা করবেন না > 📄 পানাহারালয় সংক্রান্ত বিলাসিতার চিত্র

📄 পানাহারালয় সংক্রান্ত বিলাসিতার চিত্র


অনেকে নামিদামি ও বিখ্যাত হোটেল-রেস্তোরাঁ ছাড়া অন্যকোনো স্থানের খাবার মুখে তোলে না। সেটা তারা ভাবতেই পারে না। বরং নিয়মিত সেসব হোটেল-রেস্তোরাঁয়ই যাতায়াত করে। যা খায় সেখানে গিয়ে খায় কিংবা সেখান থেকে আনিয়ে খায়। এ ক্ষেত্রে তারা অযথাই অযৌক্তিক অর্থ ব্যয় করে থাকে। অথচ বাস্তবতায় দেখা যায়, সেসব নামিদামি হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবার আর অন্যান্য হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারের মাঝে নামদাম, প্রসিদ্ধি আর ভিতরের ডেকোরেশন ছাড়া তেমন কোনো পার্থক্যই নেই।

📘 বিলাসিতা করবেন না > 📄 পানীয় ও ড্রিংকসে বিলাসিতার চিত্র

📄 পানীয় ও ড্রিংকসে বিলাসিতার চিত্র


অনেকে বিভিন্ন জাতের পানীয় ও ড্রিংকসে আসক্ত থাকে। ব্যাপক হারে তা পান করে। সেগুলো পান করাকে অনেকটা আবশ্যক বলেই মনে করে থাকে। প্রতি বেলায় খাবারের সাথে তাদের তা লাগেই লাগে。

তাদের তা লাগবেই না বা কেন?! যে পরিমাণ খাবার তারা খায়, যেভাবে পেটে বদহজমের গণ্ডগোল বাধায়, বিভিন্ন জাতের খাবার দিয়ে যেভাবে পেট বোঝাই করে, তা হজম করানোর জন্য তো হজমকারক কিছু লাগবেই!

ইবনে সীরীন থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি ইবনে উমর -কে বলল, আমি কি আপনার জন্য 'জাওয়ারিশ' [পাচক, হজমি ইত্যাদি] তৈরি করে দিব.?

তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, 'জাওয়ারিশ' কী?

লোকটি বলল, যখন আপনার পেট খাবারে বেশি ভরে যাবে, তখন এটি আপনাকে স্বস্তি দেবে এবং হজমে সহায়তা করবে。

বর্ণনাকারী বলেন, লোকটির কথা শুনে ইবনে উমর বললেন, আমি বিগত চার মাস যাবত কোনোদিন পেট পূর্ণ করে খাবার খাইনি। [তা হলে আমার পাচকের দরকার কী!] আর এটা এ জন্য নয় যে, আমি খাওয়ার মতো কিছু পাইনি। বরং আমি এমন এক সম্প্রদায় সম্পর্কে জানি, এমন এক সম্প্রদায়ে আমি লালিত-পালিত হয়েছি, যারা একবার তৃপ্তিসহকারে আহার করে আরেকবার উপোস করে। [আয-যুহদ লিল ইমাম আহমাদ : ১৮৯]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00