📄 ২. পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যগ্রহণে বাড়াবাড়ি
বহু মানুষ গোসল করতে বাথরুমে ঢুকে দীর্ঘ সময় ব্যয় করে ফেলে। অনেকে সেখানে বিভিন্ন রকম সুগন্ধি দ্রব্য, বাহারী সাবান, বিভিন্ন জাতের শ্যাম্পু, ফেনা ইত্যাদি বিলাসিতার নানা আধুনিক সরঞ্জাম-সামগ্রী রাখে; যা পূর্বযুগে প্রচলিত ছিল না。
হাঁ, ইসলামী শরীয়ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যগ্রহণের কথা বলেছে, এর প্রতি উৎসাহিত করেছে, বরং আদেশই দিয়েছে। যেমন, পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন- يٰبَنِىْ اٰدَمَ خُذُوْا زِيْنَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ হে বনী আদম! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় সাজসজ্জা পরিধান করো। [সূরা আ'রাফ: ৩১]
তবে তা অপচয়-অপব্যয়মুক্ত হওয়ার শর্তে শর্তযুক্ত。
ইবনে আবদুল বার বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যগ্রহণ বৈধ, যতক্ষণ তা অপচয়, অপব্যয় ও বিলাসিতা থেকে মুক্ত এবং উদ্ধত, অহংকারী ও গর্বিতদের সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। [আত-তামহীদ : ৫/৫১]
গোসল করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সাধারণ সৌন্দর্য গ্রহণ করা, ঘামের দুর্গন্ধ ও শরীরের ময়লা দূর করার জন্য সাবান ইত্যাদি ব্যবহার করা, এগুলোর কোনোটিই বিলাসিতার পর্যায়ভুক্ত নয়। বিলাসিতা হচ্ছে এ সকল ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ও বাড়াবাড়ি করা; এর জন্য বিরাট অংকের অর্থ ব্যয় করা এবং দীর্ঘ সময় নষ্ট করা।
📄 ৩. অযৌক্তিক উচ্চ মূল্যে বিখ্যাত ব্র্যান্ডের পোশাকাদি ক্রয়
খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। কিছুদিন পূর্বেও মানুষ দুই জোড়া কাপড় জোগাড় করতে পারত না। এক কাপড়ই পরতে হত। সেটি ধুয়ে পরিষ্কার করতে চাইলে বাধ্য হয়ে তাকে তা শুকানোর আগ পর্যন্ত ঘরে বসে থাকতে হত। যতক্ষণ সেটি ভেজা থাকত, ততক্ষণ মানুষের সামনে বের হতে পারত না。
পরবর্তীকালে আল্লাহ মানুষের উপর দয়া করেছেন, সামগ্রিক প্রশস্ততা ও সচ্ছলতা দান করেছেন। ফলে মানুষ দু'টি, তিনটি বরং কেউ কেউ দশটি বা তারও বেশি কাপড়ের মালিক হয়েছে。
কারও একাধিক কাপড় থাকা দোষের কিছু নয়, যদি তা প্রচলিত রীতি ও শরীয়তের গণ্ডি অতিক্রম করে না যায়。
কিন্তু অনেককে দেখা যায়, নির্দিষ্ট কোম্পানির, নির্দিষ্ট ব্রান্ডের পোশাক ছাড়া অন্য কোনো পোশাক গায়ে তোলে না। এভাবে তারা মানুষের মাঝে নিজেদের জন্য আলাদা একটা বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্য তৈরি করতে চায়। যেন মানুষ তাদেরকে বিশেষ দৃষ্টিতে দেখে। একটু আলাদাভাবে চিনে। এটা ঠিক নয়। এটা বিলাসিতা। এটা নিষিদ্ধ। এটা যদি বিলাসিতা না হয়, তা হলে বিলাসিতা আর কাকে বলা হবে?!
তবে এটা ঠিক, আমরা উত্তম পোশাকাদি পরিধানে আদিষ্ট। শরীয়ত আমাদের সে আদেশই করেছে। যেন আমাদের উপর আল্লাহ -র নেয়ামতের কিছুটা প্রকাশ ঘটে। তবে তা হতে হবে অবশ্যই মধ্যম পন্থায় পরিমিত পর্যায়ে এবং শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত গণ্ডির ভিতরে থেকে。
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম ইরশাদ করেছেন-
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ
যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। [সহিহ মুসলিম : ২৭৭]
এ কথা শুনে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, মানুষ চায়, তার পোশাক সুন্দর হোক, তার জুতা সুন্দর হোক, [এ-ও কি অহংকারের অন্তর্ভুক্ত?] নবীজী বললেন-
إِنَّ اللَّهَ جَمِيلٌ يُحِبُّ الْجَمَالَ الْكِبْرُ بَطَرُ الْحَقِّ وَغَمْطُ النَّاسِ.
নিশ্চয় আল্লাহ সুন্দর, তিনি সুন্দরকে ভালোবাসেন। প্রকৃতপক্ষে অহংকার হচ্ছে দম্ভভরে সত্য ও ন্যায়কে অস্বীকার করা এবং মানুষকে ঘৃণা করা। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯১]
আবুল ফরজ ইবনুল জাওযী বলেন-
পূর্বসুরিগণ মধ্যম পর্যায়ের কাপড় পরিধান করতেন। একেবারে বিলাসী ও অহমিকাপূর্ণও নয়, আবার একদম নিকৃষ্ট ও নীচু মানেরও নয়। তাঁরা জুমা, ঈদ এবং ভাই-বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য উত্তম পোশাকটি বাছাই করে পরিধান করতেন। এভাবে উত্তম পোশাক বাছাই করে পরিধান করাকে তাঁরা দোষণীয় মনে করতেন না。
বাকি থাকল পরিধানকারীর তুচ্ছতা-প্রকাশক পোশাকের কথা। তো এমন পোশাক পরিধান করা, যা পরিধানকারীর তুচ্ছতা ও হীনতা প্রকাশ করে, যেহেতু এ ধরনের পোশাক যুহদ ও দারিদ্র্য প্রকাশক এবং কেমন যেন আল্লাহ-র প্রতি অভিযোগের পরিচায়ক, পাশাপাশি পরিধানকারীর হীনতারও পরিচায়ক, তাই এ ধরনের পোশাক পরিধান করা মাকরূহ, নিষিদ্ধ। [তাফসীরে কুরতুবী: ৭/১৯৭] উত্তম হচ্ছে- যেকোনো বিষয়ে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা。
বর্তমান সময়ে যেসব জিনিসের মাধ্যমে আমাদের শত্রুরা আমাদের বিরুদ্ধে [সাংস্কৃতিক] আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে, তার মধ্যে অন্যতম হল তাদের উদ্ভাবিত নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক-পরিচ্ছদ ও ফ্যাশন। এগুলো এখন মুসলমানদের মাঝেও ব্যাপক প্রচলন লাভ করেছে। অথচ এসবের সাহায্যে তারা মুসলমানদের চরিত্র ধ্বংসের কঠিন অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। সেসব পোশাকের কতক খুবই খাটো, সংকীর্ণ ও আঁটসাঁট করে তৈরি, আবার কতক এত পাতলা ও মিহি যে, তা ভেদ করে শরীরের সকল অঙ্গই দেখা যায়। ফলে পোশাক পরার আসল লক্ষ্য -সতর ঢাকা- আর তা দিয়ে হয় না। মনে রাখবেন, সেসব পোশাকের মধ্যে বহু পোশাক আছে এমন, যেগুলো পরিধান করা কোনো অবস্থাতেই জায়েয নেই; এমনকি মাহরাম পুরুষদের সামনে কিংবা একান্ত নারী মজলিসে হলেও না। রাসূলুল্লাহ ﷺ এক হাদীসে ইরশাদ করেছেন-
صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بهَا النَّاسَ وَنِسَاءُ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيْلاتُ مَائِلَاتٌ رُءُوسُهُنَّ كَأَسْنِمَةٍ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ وَلَا يَجِدْنَ رِيحَهَا وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ مَسِيْرَةِ كَذَا وَكَذَا.
জাহান্নামীদের দু'টি শ্রেণি, যাদেরকে আমি [এখনও পর্যন্ত] দেখিনি। একদল মানুষ, যাদের সঙ্গে থাকবে গরুর লেজের মতো চাবুক, তা দ্বারা তারা লোকদেরকে প্রহার করবে এবং একদল স্ত্রীলোক, যারা বস্ত্র পরিহিতা অথচ উলঙ্গ, পুরুষদেরকে নিজেদের প্রতি আকর্ষণকারিণী এবং নিজেরাও পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট। তাদের মাথার চুলের অবস্থা হবে উটের হেলে পড়া কুঁজের মতো। তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না; এমনকি তার সুঘ্রাণও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ এত এত দূর থেকেও পাওয়া যায়। [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৭০৪]
একই কথা প্রযোজ্য সে সকল মহিলার ক্ষেত্রেও, যারা নীচের দিকে দীর্ঘ ফাঁকা কিংবা বিভিন্ন দিকে কাটা কাটা পোশাক পরিধান করে। এ জাতীয় পোশাক পরে যখন তারা বসে, তখন তাদের সতরের অংশবিশেষ প্রকাশ হয়ে পড়ে। এতে করে সতর প্রকাশের পাশাপাশি কাফেরদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন, তাদের কৃষ্টি-কালচারের অন্ধ অনুকরণ ও তাদের উদ্ভাবিত অশালীন পোশাক ও ফ্যাশনের অনুসরণ করা হয়。
তা ছাড়া কোনো কোনো পোশাকে শরীয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ ও অশালীন ছবিও অঙ্কিত থাকে। যেমন, গায়কদের ছবি, বাদক দলের ছবি, মদপাত্রের ছবি, প্রাণীর ছবি, ক্রুশের ছবি, অবৈধ সংস্থা ও ক্লাবের ছবি ইত্যাদি। অনেক পোশাকে এমন কিছু বিশ্রী কথাও লেখা থাকে, যা মানুষের ইজ্জত-আব্রু ও পবিত্রতায় দাগ কেটে যায়। এ ধরনের কথাগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভিন্ন ভাষায় লেখা থাকে। [হয়তো এতে উদ্দেশ্য থাকে- শয়তান ও শয়তানের দোসরদের কর্তৃক মানুষের ইজ্জত-আব্রু ও চরিত্রবিধ্বংসী এ সূক্ষ্ম ও ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের কথা যেন সকলে খুব সহজে বুঝতে না পারে।] – যা হোক, এ জাতীয় পোশাক পরিহার করা আমাদের সকলেরই জন্য অত্যাবশ্যক।
📄 ৫. বিয়ে-শাদি ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে বাড়াবাড়ি
প্রিয় পাঠক!
আমাদের সমাজে, হাঁ, আমাদের ইসলামী সমাজে, বিয়ে-শাদি ও অন্যান্য অনুষ্ঠানাদি, বিশেষত বিয়ের রাত- অপচয়, অপব্যয়, ও বাড়াবাড়ির উপমায় পরিণত হয়েছে। প্রত্যেকেই নতুনত্ব ও বৈচিত্র আনয়নে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত; কে কাকে ছাড়িয়ে যাবে এই নেশায় মত্ত。
আমাদের পার্টি সেন্টার, কমিউনিটি সেন্টার ও অনুষ্ঠানালয়গুলো আজ বিলাসিতা, অহমিকা ও গর্ব-অহংকার প্রকাশের অন্যতম ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এগুলোর ভাড়াও অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে!
অপরদিকে শুধু বিয়ের পোশাকের কথাই স্বতন্ত্র এক দাস্তানে পরিণত হয়েছে। বিয়ের একটিমাত্র পোশাক তৈরি করতে এত বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়, যা কোনোভাবেই বোধগম্য নয়। একদিকে পাত্র সমসাময়িক সবচেয়ে মূল্যবান পোশাক পরে রেকর্ড গড়তে মত্ত, অপরদিকে পাত্রী বা পাত্রীপক্ষ পোশাকাদি, গয়না-গাঁটি, প্রসাধনী ও অলঙ্কারাদি নির্দিষ্ট কোম্পানি ও বিখ্যাত ব্রান্ড ছাড়া অন্যকোনো কোম্পানির হলে তা গ্রহণে একবাক্যে অনীহ。
বিয়ের অনুষ্ঠানে এ ধরনের অপব্যয়ের ক্ষতি ও কুফল যে কেবল অর্থ-অপচয় ও মানুষের মাঝে হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে-বিষয়টি এমন নয়। বরং এর ক্ষতিকর প্রভাব যুবসমাজকে বিয়ে-বিমুখতা ও বৈরাগ্যের দিকে ঠেলে দেয়। কেননা, অসমর্থ যুবকরা যখন দেখবে, বিয়ে-শাদিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়, যার সামর্থ্য তাদের নেই, তখন তারা দুই আগুনের কোনো একটিতে জ্বলতে থাকবে। হয়তো তারা বৈরাগ্য ও পত্নীহীনতার আগুনে জ্বলবে, নয়তো বিবাহকার্য সম্পাদনে কৃত ঋণের জালে আবদ্ধ হয়ে মানসিক চাপ ও যন্ত্রণায় দগ্ধ হতে থাকবে。
সামাজিক সেসকল অনাচার ও গর্হিত কাজ, যেগুলো আমাদের পরিবারে অনুপ্রবেশ করে অতি সঙ্গোপনে; আমাদের অলক্ষে। কেননা, পথে-ঘাটে হাটে-বাজারে স্কুল-বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ফেতনা-ফাসাদ ও গর্হিত বিষয় খুব সহজেই আমাদের ঘরে অনুপ্রবেশ করে ফেলে। কারণ, আমাদের পরিবার-পরিজন ও সন্তানরা সেসব স্থানে যায় এবং সেখানে গিয়ে নেককার-বদকার, ভালো-মন্দ সব রকমের মানুষের সঙ্গেই মেলামেশা করে। আর সকলেরই জানা-আমাদের আশপাশে, আমাদের সমাজে ফেতনা-ফাসাদেরই ছড়াছড়ি; অন্যায়-অনাচারেরই বাড়াবাড়ি। অতএব, গৃহকর্তা ও পরিবারের দায়িত্বশীল অভিভাবকের কর্তব্য, আবশ্যক- সমাজের এ দিকটি সম্পর্কে, সমাজের এ অন্ধকার বিষয়গুলোর ব্যাপারে স্বীয় সন্তান-সন্ততি ও পরিবারবর্গকে সতর্ক করা; সাবধানতার তালীম দেওয়া। একজন কল্যাণকামী দরদী ও খাঁটি মুমিনের উচিত, সর্বদাই দোয়া করা- যেন আল্লাহ তাঁর পরিবারকে এ সকল গর্হিত বিষয়াশয় ও ক্রিয়াকর্ম থেকে সম্পূর্ণরূপে হেফাজত করেন; বর্তমান সমাজে ছড়িয়ে পড়া এ সকল ধ্বংসাত্মক উপসর্গ থেকে পরিপূর্ণরূপে রক্ষা করেন。
আল্লাহ-র নবী লুত যখন একটি ভ্রষ্ট, অসুস্থ ও বিকৃত রুচির অধিকারী সম্প্রদায়ের মাঝে ছিলেন, তিনি ও তাঁর পরিবারের অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার বিষয়টি যখন তাঁর সম্প্রদায় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিল না; সর্বোপরি এ কারণে তাঁর সম্প্রদায় যখন তাঁর উপর ও তাঁর পরিবারের উপর বিভিন্ন ধরনের চাপ ও বল প্রয়োগ করছিল, তখন লূত কী বলেছিলেন? কী করেছিলেন?
তিনি তখন আল্লাহ অভিমুখী হয়েছিলেন, আল্লাহ-র কাছে আশ্রয় চেয়েছিলেন এবং আল্লাহ-কে ডেকে বলেছিলেন-
﴿ رَبِّ نَجِّنِي وَ أَهْلِي مِمَّا يَعْمَلُونَ ﴾
হে আমার পালনকর্তা! আমাকে এবং আমার পরিবারবর্গকে তারা যা করে, তা থেকে রক্ষা কর। [সূরা শুআরা: ১৬৯]
তিনি তাঁর পরিবারকে অন্যায়-অশ্লীল ও গর্হিত কাজ থেকে দূরে ও নিরাপদে রাখতে একনিষ্ঠ ছিলেন। এখনও, বর্তমানেও প্রত্যেক সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিমের জন্য উচিত এ কথা বলা-
﴿ رَبِّ نَجِّنِي وَ أَهْلِي مِمَّا يَعْمَلُونَ ﴾
হে আমার পালনকর্তা! আমাকে এবং আমার পরিবারবর্গকে তারা যা করে, তা থেকে রক্ষা কর। [সূরা শুআরা: ১৬৯]
কেননা, আমাদের বর্তমান সমাজে বিদ্যমান গর্হিত কাজ ও অশ্লীলতা লুত-র সম্প্রদায়ের অশ্লীলতার মতোই; বরং আরও বেশি। তাই আমাদেরও তেমনই দোয়া করা উচিত, যেমন দোয়া করেছিলেন আল্লাহ-র নবী লুত। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুলও করেছিলেন। আর এটাই হল সত্যবাদিতা ও একনিষ্ঠতার প্রতিদান। আল্লাহ ইরশাদ করেছেন-
﴿ فَنَجَّيْنَهُ وَ أَهْلَهُ أَجْمَعِينَ . إِلَّا عَجُوزًا فِي الْغَبِرِينَ ﴾
অতঃপর আমি তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে রক্ষা করলাম। এক বৃদ্ধা ব্যতীত, সে ছিল ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত। [সূরা শুআরা : ১৭০-১৭১]
সে ছিল লূত-এর স্ত্রী। কারণ, সে ছিল তার সম্প্রদায়ের ধর্মের অনুসারী।
📄 ৬. মোবাইল ফোন, আসবাব ও মূল্য
হাল যামানায় নতুন করে বহু মানুষের অন্তরে যে ধ্বংসাত্মক বিলাসী মানসিকতা শিকড় গেড়ে নিয়েছে, তা হচ্ছে- কিছুদিন পর পর নতুন থেকে আরও নতুন মোবাইল সেট ক্রয় ও তা সজ্জায়নে অকাতরে অযৌক্তিক অর্থ ব্যয়。
বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ও সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র মোবাইল সেট নিলামে বিক্রির আসর জমে এবং সেখানে পরিবেশিত মোবাইল সেট এতটাই অযৌক্তিক চড়া মূল্যে বিক্রি করা হয়, যা কোনোভাবেই বোধগম্য নয়।