📄 মহররমের রাত্র কি শবে কদরের রাত্রির মতো?
প্রায় ক্ষেত্রে কিছু কিছু মহিলাদেরকে এই কথাটি বলতে শোনা যায় যে, মুহাররমের রাত্র শবে কদরের সমতুল্য। আসলে মহিলাদের আবেগপ্রবণতা অনেকটাই বেশি। তারা বেশি আবেগ ও ফজিলতপূর্ণ বুঝাতে গিয়ে এমন কিছু কথা বলে ফেলে যেটা আদও কোন হাদিস-কোরআনের বর্ণনামতে পাওয়া যায় না। যে আমলের যে ফজিলত সেটাই মানুষের কাছে বর্ণনা করা এবং প্রচার করা। শরীয়ত সে আমলের ব্যাপারে যতটুকু ফজিলত বর্ণনা করেছেন মানুষের মাঝে ততটুকুই তুলে ধরা। আমল করার প্রতি মানুষকে উদ্যমশীল করা এবং ইসলাম প্রচার করা দোষণীয় নয় কিন্তু ইসলামের নামে বানোয়াট কথাবার্তা বলাটাই দূষণীয়। নিজের মনগড়া বানিয়ে কোন কথা বলে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা ঠিক নয়।
আফসোসের বিষয়! বলার ক্ষেত্রে মহিলারা কোনো চিন্তা-ভাবনা করে না। আসলে বোঝা উচিত ছিল যে, নিজের মনগড়া এবং বানোয়াট কথাবার্তার দায়ভার কে নিবে? সে তো আপনার নিজের মনগড়া কথা বার্তা এবং বানোয়াট ফযিলতের কথা শুনে আমল করল; আপনি কি পারবেন তাকে সে ভিত্তিহীন কথাবার্তা প্রতিদান দিতে? তাই লক্ষণীয় বিষয় হলো যেখানে যেটা বর্ণিত আছে সেটাই পেশ করা এবং ভিত্তিহীন ও বানোয়াট কথাবার্তা থেকে বেঁচে থাকা। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুক ।
প্রায় ক্ষেত্রে কিছু কিছু মহিলাদেরকে এই কথাটি বলতে শোনা যায় যে, মুহাররমের রাত্র শবে কদরের সমতুল্য। আসলে মহিলাদের আবেগপ্রবণতা অনেকটাই বেশি। তারা বেশি আবেগ ও ফজিলতপূর্ণ বুঝাতে গিয়ে এমন কিছু কথা বলে ফেলে যেটা আদও কোন হাদিস-কোরআনের বর্ণনামতে পাওয়া যায় না। যে আমলের যে ফজিলত সেটাই মানুষের কাছে বর্ণনা করা এবং প্রচার করা। শরীয়ত সে আমলের ব্যাপারে যতটুকু ফজিলত বর্ণনা করেছেন মানুষের মাঝে ততটুকুই তুলে ধরা। আমল করার প্রতি মানুষকে উদ্যমশীল করা এবং ইসলাম প্রচার করা দোষণীয় নয় কিন্তু ইসলামের নামে বানোয়াট কথাবার্তা বলাটাই দূষণীয়। নিজের মনগড়া বানিয়ে কোন কথা বলে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা ঠিক নয়।
আফসোসের বিষয়! বলার ক্ষেত্রে মহিলারা কোনো চিন্তা-ভাবনা করে না। আসলে বোঝা উচিত ছিল যে, নিজের মনগড়া এবং বানোয়াট কথাবার্তার দায়ভার কে নিবে? সে তো আপনার নিজের মনগড়া কথা বার্তা এবং বানোয়াট ফযিলতের কথা শুনে আমল করল; আপনি কি পারবেন তাকে সে ভিত্তিহীন কথাবার্তা প্রতিদান দিতে? তাই লক্ষণীয় বিষয় হলো যেখানে যেটা বর্ণিত আছে সেটাই পেশ করা এবং ভিত্তিহীন ও বানোয়াট কথাবার্তা থেকে বেঁচে থাকা। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুক ।
📄 জিবরীলের চার প্রশ্ন ... আপনি বড় না দ্বীন বড়?
লোকমুখে শোনা যায়, একবার জিবরীল আমীন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করেন, ১. আপনি বড় না আমি বড়? নবীজী বললেন, আমি বড়, কারণ আমার কাছে আপনাকে পাঠানো হয়। ২. আপনি বড় না কুরআন বড়? নবীজী বললেন, আমি বড়, কারণ কুরআন আমার উপর নাযিল হয়েছে। ৩. আপনি বড় না আরশ বড়? নবীজী বললেন, আমি বড়, কারণ আমাকে আরশে জুতা পায়ে দিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ৪. আপনি বড় না দ্বীন বড়? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবার বললেন, দ্বীন বড়, কারণ দ্বীনের জন্যই আমাকে পাঠানো হযেছে।
এটি কোন হাদীসও নয় কোন হাদীসের ভাষ্যও নয়। জিবরীল, কুরআন, আরশ, দ্বীন-এর প্রতিটির মর্যাদা আপন স্থানে প্রতিষ্ঠিত। এর একটিকে আরেকটির সাথে তুলনা করা বা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এর কোনটির মর্যাদা তুলনা করা একেবারেই অনর্থক কাজ। যা কোন মুমিনের জন্য শোভনীয় নয়। না ঈমানের সাথে এর কোন সম্পর্ক আছে না আমলের সাথে। তাছাড়া এই বর্ণনার মাঝে আরো জাল বর্ণনার সমাবেশ ঘটেছে যা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে এটি একটি জাল বর্ণনা। যেমন এখানে জুতা পায়ে নবীজীর আরশ গমনের কথাটি এসেছে যা সর্বসম্মতিক্রমে জাল ও ভিত্তিহীন।
লোকমুখে শোনা যায়, একবার জিবরীল আমীন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করেন, ১. আপনি বড় না আমি বড়? নবীজী বললেন, আমি বড়, কারণ আমার কাছে আপনাকে পাঠানো হয়। ২. আপনি বড় না কুরআন বড়? নবীজী বললেন, আমি বড়, কারণ কুরআন আমার উপর নাযিল হয়েছে। ৩. আপনি বড় না আরশ বড়? নবীজী বললেন, আমি বড়, কারণ আমাকে আরশে জুতা পায়ে দিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ৪. আপনি বড় না দ্বীন বড়? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবার বললেন, দ্বীন বড়, কারণ দ্বীনের জন্যই আমাকে পাঠানো হযেছে।
এটি কোন হাদীসও নয় কোন হাদীসের ভাষ্যও নয়। জিবরীল, কুরআন, আরশ, দ্বীন-এর প্রতিটির মর্যাদা আপন স্থানে প্রতিষ্ঠিত। এর একটিকে আরেকটির সাথে তুলনা করা বা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এর কোনটির মর্যাদা তুলনা করা একেবারেই অনর্থক কাজ। যা কোন মুমিনের জন্য শোভনীয় নয়। না ঈমানের সাথে এর কোন সম্পর্ক আছে না আমলের সাথে। তাছাড়া এই বর্ণনার মাঝে আরো জাল বর্ণনার সমাবেশ ঘটেছে যা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে এটি একটি জাল বর্ণনা। যেমন এখানে জুতা পায়ে নবীজীর আরশ গমনের কথাটি এসেছে যা সর্বসম্মতিক্রমে জাল ও ভিত্তিহীন।
📄 ৭৮৬ কি বিসমিল্লাহির বিকল্প
যেসব ক্ষেত্রে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' লেখা মাসনূন বা মুস্তাহাব সেসব ক্ষেত্রে অনেকেই '৭৮৬' লিখে থাকে। আবজাদের হিসেবে এটা 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম'-এর অক্ষরগুলোর সংখ্যামানের সমষ্টি। কারো কারো ধারণা আছে যে, এই সংখ্যাগুলো লিখলে বা উচ্চারণ করলে 'বিসমিল্লাহ' লেখার বা বলার কাজ হয়ে যায়। এটা একটা ভুল ধারণা। মুখে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' পাঠ করে যদি এই অংকগুলো লেখা হয় তাহলে সেটা 'বিসমিল্লাহ'র চিহ্ন গণ্য করা যেতে পারে। কিন্তু সরাসরি এই অংকটাকেই বিসমিল্লাহর বিকল্প মনে করা সম্পূর্ণ ভুল।
বলাবাহুল্য যে, একটি 'সুন্নতে মুতাওয়ারাছা' যা সর্বযুগের ওলামা-মাশাযেখ ও দ্বীনদার ব্যক্তিদের মধ্যে অনুসৃত ছিল তা বাদ দিয়ে শুধু আবজাদী অংক লেখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না。
যেসব ক্ষেত্রে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' লেখা মাসনূন বা মুস্তাহাব সেসব ক্ষেত্রে অনেকেই '৭৮৬' লিখে থাকে। আবজাদের হিসেবে এটা 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম'-এর অক্ষরগুলোর সংখ্যামানের সমষ্টি। কারো কারো ধারণা আছে যে, এই সংখ্যাগুলো লিখলে বা উচ্চারণ করলে 'বিসমিল্লাহ' লেখার বা বলার কাজ হয়ে যায়। এটা একটা ভুল ধারণা। মুখে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' পাঠ করে যদি এই অংকগুলো লেখা হয় তাহলে সেটা 'বিসমিল্লাহ'র চিহ্ন গণ্য করা যেতে পারে। কিন্তু সরাসরি এই অংকটাকেই বিসমিল্লাহর বিকল্প মনে করা সম্পূর্ণ ভুল।
বলাবাহুল্য যে, একটি 'সুন্নতে মুতাওয়ারাছা' যা সর্বযুগের ওলামা-মাশাযেখ ও দ্বীনদার ব্যক্তিদের মধ্যে অনুসৃত ছিল তা বাদ দিয়ে শুধু আবজাদী অংক লেখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না。
📄 আশুরার দিন কিয়ামত হওয়া প্রসঙ্গে
আশুরা দিবসের গুরুত্ব আলোচনা করতে গিয়ে অনেকে বলে থাকেন যে, 'হাদীস শরীফে এসেছে, এই দিনে কিয়ামত সংগঠিত হবে।' এই কথাটা ঠিক নয়। যে বর্ণনায় আশুরার দিন কিয়ামত হওয়ার কথা এসেছে তা হাদীস বিশারদদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভিত্তিহীন, জাল। আল্লামা আবুল ফরজ ইবনুল জাওযী ওই বর্ণনা সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, 'এটা নিঃসন্দেহে মওযূ বর্ণনা ...।' হাফেয সুয়ূতী রাহ. ও আল্লামা ইবনুল আররাক রাহ. ও তাঁর ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়েছেন। (কিতাবুল মওযূআত ২/২০২; আল লাআলিল মাসনূআ ২/১০৯; তানযীহুশ শরীআতিল মরফুআ ২/১৪৯)
তবে জুমআর দিন কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার কথা সহীহ হাদীসে এসেছে। দেখুন-তিরমিযী ২/৩৬২; আবু দাউদ ১/৬৩৪; সুনানে নাসায়ী ৩/১১৩-১১৪
আশুরা দিবসের গুরুত্ব আলোচনা করতে গিয়ে অনেকে বলে থাকেন যে, 'হাদীস শরীফে এসেছে, এই দিনে কিয়ামত সংগঠিত হবে।' এই কথাটা ঠিক নয়। যে বর্ণনায় আশুরার দিন কিয়ামত হওয়ার কথা এসেছে তা হাদীস বিশারদদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভিত্তিহীন, জাল। আল্লামা আবুল ফরজ ইবনুল জাওযী ওই বর্ণনা সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, 'এটা নিঃসন্দেহে মওযূ বর্ণনা ...।' হাফেয সুয়ূতী রাহ. ও আল্লামা ইবনুল আররাক রাহ. ও তাঁর ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়েছেন। (কিতাবুল মওযূআত ২/২০২; আল লাআলিল মাসনূআ ২/১০৯; তানযীহুশ শরীআতিল মরফুআ ২/১৪৯)
তবে জুমআর দিন কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার কথা সহীহ হাদীসে এসেছে। দেখুন-তিরমিযী ২/৩৬২; আবু দাউদ ১/৬৩৪; সুনানে নাসায়ী ৩/১১৩-১১৪