📄 কুসংস্কার : রাতে নিম্নের কাজগুলো করা যাবে না
১. রাতে বাঁশ কাটা যাবে না।
২. রাতে গাছের পাতা ছেঁড়া যাবে না।
৩. রাতে নখ, চুল, গোঁফ ইত্যাদি কাটা যাবে না।
৪. রাতে কোনো প্রকার ফল-ফসল তোলা যাবে না ইত্যাদি।
অনেক এলাকার মানুষের মাঝেই এগুলো এবং রাতকেন্দ্রিক এরকম আরো কিছু বিষয়ের প্রচলন রয়েছে। কিন্তু এসব মনগড়া কথা, শরীয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই। কুরআন-হাদীসের কোথাও এ ধরনের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। সুতরাং এ ধরনের বিশ্বাস পোষণ করা যাবে না।
এগুলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়। কারো যদি দাফন ইত্যাদি কাজের জন্য রাতেই বাঁশ কাটার প্রয়োজন হয়, তিনি কি তাহলে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন? এরকম অমূলক ধারণার কারণে দেখা যাবে তিনি বেশ পেরেশানীর শিকার হবেন। তেমনি কারো যদি রাতে গাছ থেকে কোনো ফল বা কোনো সবজি তোলার প্রয়োজন হয়, তাহলে কি তিনি সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন? মোটকথা এ ধরনের অমূলক ধারণার পিছে পড়া যাবে না。
১. রাতে বাঁশ কাটা যাবে না।
২. রাতে গাছের পাতা ছেঁড়া যাবে না।
৩. রাতে নখ, চুল, গোঁফ ইত্যাদি কাটা যাবে না।
৪. রাতে কোনো প্রকার ফল-ফসল তোলা যাবে না ইত্যাদি।
অনেক এলাকার মানুষের মাঝেই এগুলো এবং রাতকেন্দ্রিক এরকম আরো কিছু বিষয়ের প্রচলন রয়েছে। কিন্তু এসব মনগড়া কথা, শরীয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই। কুরআন-হাদীসের কোথাও এ ধরনের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। সুতরাং এ ধরনের বিশ্বাস পোষণ করা যাবে না।
এগুলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়। কারো যদি দাফন ইত্যাদি কাজের জন্য রাতেই বাঁশ কাটার প্রয়োজন হয়, তিনি কি তাহলে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন? এরকম অমূলক ধারণার কারণে দেখা যাবে তিনি বেশ পেরেশানীর শিকার হবেন। তেমনি কারো যদি রাতে গাছ থেকে কোনো ফল বা কোনো সবজি তোলার প্রয়োজন হয়, তাহলে কি তিনি সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন? মোটকথা এ ধরনের অমূলক ধারণার পিছে পড়া যাবে না。
📄 মায়ের মাথা ছুয়ে কসম করা
অনেক সময় কোনো বিষয় কাউকে বিশ্বাস করানোর উদ্দেশ্যে কেউ কেউ মায়ের মাথা ছুয়ে কসম করে। কখনো নিজের মাথা ছুয়ে কসম করে। এটি একটি কুসংস্কার, এটা থেকে বিরত থাকা জরুরি। মায়ের মাথা হোক আর নিজের মাথা হোক এভাবে কসম করা ঠিক নয়।
অনেক সময় কোনো বিষয় কাউকে বিশ্বাস করানোর উদ্দেশ্যে কেউ কেউ মায়ের মাথা ছুয়ে কসম করে। কখনো নিজের মাথা ছুয়ে কসম করে। এটি একটি কুসংস্কার, এটা থেকে বিরত থাকা জরুরি। মায়ের মাথা হোক আর নিজের মাথা হোক এভাবে কসম করা ঠিক নয়।
📄 সিদরাতুল মুনতাহার পাতা ও মানুষের জন্ম-মৃত্যু
লোকমুখে প্রসিদ্ধ, মানুষ জন্ম নিলে নাকি সিদরাতুল মুনতাহা গাছটিতে একটি পাতা গজায়। আবার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে ঐ পাতাটি ঝরে পড়ে। তা দেখে ফিরিশতা বুঝতে পারেন যে এই ব্যক্তির মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে।
এটি একটি ভিত্তিহীন বর্ণনা। হাদীসের নির্ভরযোগ্য কোনো গ্রন্থে এ বর্ণনা আমরা পাইনি।
লোকমুখে প্রসিদ্ধ, মানুষ জন্ম নিলে নাকি সিদরাতুল মুনতাহা গাছটিতে একটি পাতা গজায়। আবার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে ঐ পাতাটি ঝরে পড়ে। তা দেখে ফিরিশতা বুঝতে পারেন যে এই ব্যক্তির মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে।
এটি একটি ভিত্তিহীন বর্ণনা। হাদীসের নির্ভরযোগ্য কোনো গ্রন্থে এ বর্ণনা আমরা পাইনি।
📄 কিয়ামতের দিন মসজিদসমূহ বগির মত কা‘বার সাথে
কিয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে, তবে মসজিদগুলো ধ্বংস হবে না। সেগুলো একটি আরেকটির সাথে যুক্ত হবে।
কোনো কোনো মানুষ আরেকটু বৃদ্ধি করে এভাবেও বলেন, ...মসজিদগুলো ধ্বংস হবে না বরং ট্রেনের বগির মত একটি আরেকটির সাথে যুক্ত হয়ে কা'বার সাথে গিয়ে মিলিত হবে।
এটি একটি জাল বর্ণনা, যা আছরাম ইবনে হাওশাব কর্তৃক জালকৃত। ইবনুল জাওযী রাহ. তাঁর মাউযূআত কিতাবে বলেন-
هَذَا حَدِيثٍ لَا يَصِحِ ، وَالْمُتَهَم بِهِ أَصْرَم.
এটি একটি জাল বর্ণনা, যা আছরাম কর্তৃক জালকৃত। -কিতাবুল মাউযূআত ২/৯৪
জালালুদ্দীন সুয়ূতী রাহ., ইবনে আররাক রাহ., শাওকানী রাহ., মুহাম্মাদ ইবনে তাহের আলফাত্তানী রাহ. প্রমুখ হাদীস বিশারদ উলামায়ে কেরামও এটাকে জাল বলে আখ্যায়িত করেছেন। -আললাআলিল মাছনূআহ ২/১৬; তানযীহুশ শারীআহ ২/৭৯; আলফাওয়াইদুল মাজমূআহ পৃ. ২৩; তাযকিরাতুল মাউযূআত পৃ. ৩৭
কিয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে, তবে মসজিদগুলো ধ্বংস হবে না। সেগুলো একটি আরেকটির সাথে যুক্ত হবে।
কোনো কোনো মানুষ আরেকটু বৃদ্ধি করে এভাবেও বলেন, ...মসজিদগুলো ধ্বংস হবে না বরং ট্রেনের বগির মত একটি আরেকটির সাথে যুক্ত হয়ে কা'বার সাথে গিয়ে মিলিত হবে।
এটি একটি জাল বর্ণনা, যা আছরাম ইবনে হাওশাব কর্তৃক জালকৃত। ইবনুল জাওযী রাহ. তাঁর মাউযূআত কিতাবে বলেন-
هَذَا حَدِيثٍ لَا يَصِحِ ، وَالْمُتَهَم بِهِ أَصْرَم.
এটি একটি জাল বর্ণনা, যা আছরাম কর্তৃক জালকৃত। -কিতাবুল মাউযূআত ২/৯৪
জালালুদ্দীন সুয়ূতী রাহ., ইবনে আররাক রাহ., শাওকানী রাহ., মুহাম্মাদ ইবনে তাহের আলফাত্তানী রাহ. প্রমুখ হাদীস বিশারদ উলামায়ে কেরামও এটাকে জাল বলে আখ্যায়িত করেছেন। -আললাআলিল মাছনূআহ ২/১৬; তানযীহুশ শারীআহ ২/৭৯; আলফাওয়াইদুল মাজমূআহ পৃ. ২৩; তাযকিরাতুল মাউযূআত পৃ. ৩৭