📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 কুরআন তিলাওয়াত চালু করে অন্য কাজ করা

📄 কুরআন তিলাওয়াত চালু করে অন্য কাজ করা


অনেক মানুষকে দেখা যায় ক্যাসেট বা কম্পিউটারে কুরআন তিলাওয়াত চালু করে অন্য কাজ করতে থাকে। তিলাওয়াত একেবারেই শুনছে না বা কাজের কারণে তিলাওয়াতের প্রতি মনোযোগ দিতে পারছে না। বা একটা কিছু শুনতে শুনতে কাজ করার অভ্যাস তাই তিলাওয়াত ছেড়ে রেখেছে। শোনা উদ্দেশ্য নয়। এ কাজটি ঠিক নয়। কুরআন তিলাওয়াত শোনা একটি স্বতন্ত্র আমল। আল কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, (অর্থ) যখন কুরআন তিলাওয়াত হয় তখন তোমরা মনোযোগ সহকারে তা শ্রবণ কর এবং চুপ থাক। যাতে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হয় (সূরা আরাফ, ২০৪) কিন্তু তিলাওয়াত ছেড়ে তা না শোনা এবং অন্য কাজে লিপ্ত থাকা কুরআনের এই হুকুমের খেলাফ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও অন্যের থেকে তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করতেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, আমাকে তিলাওয়াত করে শোনাও। বললাম, আপনাকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাব, কুরআন তো আপনার উপরই নাযিল হয়েছে! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি অন্যের কাছ থেকে তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করি। আমি সূরা নিসা তিলাওয়াত করতে শুরু করলাম। যখন এই আয়াতে পৌছলাম-(অর্থ) "যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং আপনাকে উপস্থিত করব তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে, তখন কী অবস্থা হবে?” তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, থাম (হে আব্দুল্লাহ!)। আমি নবীজীর দিকে তাকিয়ে দেখি তার দুগন্ড বেয়ে অশ্রু ঝড়ছে। (দ্র. সহীহ বুখারী, হাদীস ৪৫৮২)
আল্লাহর কালাম তিলাওয়াত হচ্ছে আর আমি অন্যদিকে মনোযোগ দিব তা হয় না। সুতরাং তিলাওয়াত যখন শুনব তো মনোযোগ দিয়ে তিলাওয়াতই শুনব। আর কাজ করার সময় যদি কিছু শুনতেই হয় তাহলে গুনাহের কিছু না শুনে শরীয়তসম্মত গযল সংগীত শোনা যেতে পারে।

অনেক মানুষকে দেখা যায় ক্যাসেট বা কম্পিউটারে কুরআন তিলাওয়াত চালু করে অন্য কাজ করতে থাকে। তিলাওয়াত একেবারেই শুনছে না বা কাজের কারণে তিলাওয়াতের প্রতি মনোযোগ দিতে পারছে না। বা একটা কিছু শুনতে শুনতে কাজ করার অভ্যাস তাই তিলাওয়াত ছেড়ে রেখেছে। শোনা উদ্দেশ্য নয়। এ কাজটি ঠিক নয়। কুরআন তিলাওয়াত শোনা একটি স্বতন্ত্র আমল। আল কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, (অর্থ) যখন কুরআন তিলাওয়াত হয় তখন তোমরা মনোযোগ সহকারে তা শ্রবণ কর এবং চুপ থাক। যাতে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হয় (সূরা আরাফ, ২০৪) কিন্তু তিলাওয়াত ছেড়ে তা না শোনা এবং অন্য কাজে লিপ্ত থাকা কুরআনের এই হুকুমের খেলাফ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও অন্যের থেকে তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করতেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, আমাকে তিলাওয়াত করে শোনাও। বললাম, আপনাকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাব, কুরআন তো আপনার উপরই নাযিল হয়েছে! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি অন্যের কাছ থেকে তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করি। আমি সূরা নিসা তিলাওয়াত করতে শুরু করলাম। যখন এই আয়াতে পৌছলাম-(অর্থ) "যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং আপনাকে উপস্থিত করব তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে, তখন কী অবস্থা হবে?” তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, থাম (হে আব্দুল্লাহ!)। আমি নবীজীর দিকে তাকিয়ে দেখি তার দুগন্ড বেয়ে অশ্রু ঝড়ছে। (দ্র. সহীহ বুখারী, হাদীস ৪৫৮২)
আল্লাহর কালাম তিলাওয়াত হচ্ছে আর আমি অন্যদিকে মনোযোগ দিব তা হয় না। সুতরাং তিলাওয়াত যখন শুনব তো মনোযোগ দিয়ে তিলাওয়াতই শুনব। আর কাজ করার সময় যদি কিছু শুনতেই হয় তাহলে গুনাহের কিছু না শুনে শরীয়তসম্মত গযল সংগীত শোনা যেতে পারে।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 কোনো ঘরে পেঁচা বসলে কি সে ঘরের কেউ মারা যাবে বা বিপদ আসবে?

📄 কোনো ঘরে পেঁচা বসলে কি সে ঘরের কেউ মারা যাবে বা বিপদ আসবে?


কোনো কোনো এলাকার মানুষ মনে করে, যে ঘর-বাড়িতে পেঁচা বসবে সে ঘরের বা বাড়ির কেউ মারা যাবে বা বিপদ আসবে। এটি একটি ভুল বিশ্বাস।
পেঁচাকে কুলক্ষণে মনে করা জাহেলী যুগের ভ্রান্ত ধারণা। হাদীস শরীফে পেঁচা বা অন্য কোনো কিছুকে কুলক্ষণে মনে করতে নিষেধ করা হয়েছে। পেঁচা দেখা কুলক্ষণে নয়, পেঁচার অনিষ্ট করার কোনো ক্ষমতা নেই। লাভ-ক্ষতির মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। এ ধরনের অলীক ধারণা-বিশ্বাস থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

কোনো কোনো এলাকার মানুষ মনে করে, যে ঘর-বাড়িতে পেঁচা বসবে সে ঘরের বা বাড়ির কেউ মারা যাবে বা বিপদ আসবে। এটি একটি ভুল বিশ্বাস।
পেঁচাকে কুলক্ষণে মনে করা জাহেলী যুগের ভ্রান্ত ধারণা। হাদীস শরীফে পেঁচা বা অন্য কোনো কিছুকে কুলক্ষণে মনে করতে নিষেধ করা হয়েছে। পেঁচা দেখা কুলক্ষণে নয়, পেঁচার অনিষ্ট করার কোনো ক্ষমতা নেই। লাভ-ক্ষতির মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। এ ধরনের অলীক ধারণা-বিশ্বাস থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 মাজীদ পড়ে গেলে কি তা ওজন করে চাল সদকা করতে হয়?

📄 মাজীদ পড়ে গেলে কি তা ওজন করে চাল সদকা করতে হয়?


কিছু কিছু মানুষের ধারণা, হাত থেকে যদি কুরআন মাজীদ পড়ে যায় তাহলে ঐ কুরআন মাজীদের (মুসহাফের) ওজনে চাল সদকা করতে হয়। এটি কুরআনের প্রতি আযমত ও মুহাব্বতের কারণে হলেও তা একটি ভুল প্রচলন।
এছাড়াও এখানে আরেকটি আপত্তিকর ও কুরআনের প্রতি এক ধরনের অসম্মানের বিষয় রয়েছে। তা হল, কুরআন মাজীদ (মুসহাফ) ওজন করা। কুরআন মাজীদের সম্মান করতে গিয়ে মনগড়া পন্থা অবলম্বনের কারণে কুরআনের বেহুরমতি-অসম্মান হয়ে যাচ্ছে। চিন্তাশীল মানুষ মাত্রই তা উপলব্ধি করতে সক্ষম।
আমরা সাবধান থাকব, যাতে হাত থেকে মুসহাফ পড়ে না যায়। মুসহাফ এমনভাবে ধরব না বা এমন স্থানে রাখব না, যার কারণে তা পড়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। আর নিজের অসাবধানতার কারণে যদি পড়ে যায় তাহলে এস্তেগফার করব এবং চাইলে এমনিতেই কিছু সদকাও করতে পারি।
কুরআন মাজীদের প্রতি আজমত ও মুহাব্বত মুমিনের ঈমানী বৈশিষ্ট্য। কিন্তু এ আযমত ও মুহাব্বতের প্রকাশও হতে হবে শরীয়ত নির্দেশিত পন্থায়। তাহলেই তা নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য হবে। প্রসঙ্গত এটাও স্মরণ রাখি, কুরআন মাজীদের প্রতি আসল আজমত ও মুহাব্বত হল, কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করা, এর ইলম হাসিল করা এবং কুরআন নির্দেশিত পন্থায় জীবন পরিচালনা করার চেষ্টা করা।

কিছু কিছু মানুষের ধারণা, হাত থেকে যদি কুরআন মাজীদ পড়ে যায় তাহলে ঐ কুরআন মাজীদের (মুসহাফের) ওজনে চাল সদকা করতে হয়। এটি কুরআনের প্রতি আযমত ও মুহাব্বতের কারণে হলেও তা একটি ভুল প্রচলন।
এছাড়াও এখানে আরেকটি আপত্তিকর ও কুরআনের প্রতি এক ধরনের অসম্মানের বিষয় রয়েছে। তা হল, কুরআন মাজীদ (মুসহাফ) ওজন করা। কুরআন মাজীদের সম্মান করতে গিয়ে মনগড়া পন্থা অবলম্বনের কারণে কুরআনের বেহুরমতি-অসম্মান হয়ে যাচ্ছে। চিন্তাশীল মানুষ মাত্রই তা উপলব্ধি করতে সক্ষম।
আমরা সাবধান থাকব, যাতে হাত থেকে মুসহাফ পড়ে না যায়। মুসহাফ এমনভাবে ধরব না বা এমন স্থানে রাখব না, যার কারণে তা পড়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। আর নিজের অসাবধানতার কারণে যদি পড়ে যায় তাহলে এস্তেগফার করব এবং চাইলে এমনিতেই কিছু সদকাও করতে পারি।
কুরআন মাজীদের প্রতি আজমত ও মুহাব্বত মুমিনের ঈমানী বৈশিষ্ট্য। কিন্তু এ আযমত ও মুহাব্বতের প্রকাশও হতে হবে শরীয়ত নির্দেশিত পন্থায়। তাহলেই তা নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য হবে। প্রসঙ্গত এটাও স্মরণ রাখি, কুরআন মাজীদের প্রতি আসল আজমত ও মুহাব্বত হল, কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করা, এর ইলম হাসিল করা এবং কুরআন নির্দেশিত পন্থায় জীবন পরিচালনা করার চেষ্টা করা।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 কুসংস্কার : রাতে নিম্নের কাজগুলো করা যাবে না

📄 কুসংস্কার : রাতে নিম্নের কাজগুলো করা যাবে না


১. রাতে বাঁশ কাটা যাবে না।
২. রাতে গাছের পাতা ছেঁড়া যাবে না।
৩. রাতে নখ, চুল, গোঁফ ইত্যাদি কাটা যাবে না।
৪. রাতে কোনো প্রকার ফল-ফসল তোলা যাবে না ইত্যাদি।
অনেক এলাকার মানুষের মাঝেই এগুলো এবং রাতকেন্দ্রিক এরকম আরো কিছু বিষয়ের প্রচলন রয়েছে। কিন্তু এসব মনগড়া কথা, শরীয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই। কুরআন-হাদীসের কোথাও এ ধরনের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। সুতরাং এ ধরনের বিশ্বাস পোষণ করা যাবে না।
এগুলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়। কারো যদি দাফন ইত্যাদি কাজের জন্য রাতেই বাঁশ কাটার প্রয়োজন হয়, তিনি কি তাহলে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন? এরকম অমূলক ধারণার কারণে দেখা যাবে তিনি বেশ পেরেশানীর শিকার হবেন। তেমনি কারো যদি রাতে গাছ থেকে কোনো ফল বা কোনো সবজি তোলার প্রয়োজন হয়, তাহলে কি তিনি সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন? মোটকথা এ ধরনের অমূলক ধারণার পিছে পড়া যাবে না。

১. রাতে বাঁশ কাটা যাবে না।
২. রাতে গাছের পাতা ছেঁড়া যাবে না।
৩. রাতে নখ, চুল, গোঁফ ইত্যাদি কাটা যাবে না।
৪. রাতে কোনো প্রকার ফল-ফসল তোলা যাবে না ইত্যাদি।
অনেক এলাকার মানুষের মাঝেই এগুলো এবং রাতকেন্দ্রিক এরকম আরো কিছু বিষয়ের প্রচলন রয়েছে। কিন্তু এসব মনগড়া কথা, শরীয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই। কুরআন-হাদীসের কোথাও এ ধরনের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। সুতরাং এ ধরনের বিশ্বাস পোষণ করা যাবে না।
এগুলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়। কারো যদি দাফন ইত্যাদি কাজের জন্য রাতেই বাঁশ কাটার প্রয়োজন হয়, তিনি কি তাহলে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন? এরকম অমূলক ধারণার কারণে দেখা যাবে তিনি বেশ পেরেশানীর শিকার হবেন। তেমনি কারো যদি রাতে গাছ থেকে কোনো ফল বা কোনো সবজি তোলার প্রয়োজন হয়, তাহলে কি তিনি সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন? মোটকথা এ ধরনের অমূলক ধারণার পিছে পড়া যাবে না。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00