📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 খতমসমূহ কি ইমাম ছাহেবের মাধ্যমে বখশানো জরুরি?

📄 খতমসমূহ কি ইমাম ছাহেবের মাধ্যমে বখশানো জরুরি?


গ্রামাঞ্চলের মসজিদগুলোতে এবং শহরেরও কোনো কোনো মসজিদে দেখা যায় যে, ইমাম ছাহেবের কাছে মৌখিকভাবে বা লিখিত আকারে এই আবেদন এসে থাকে যে, 'অমুক ব্যক্তি কুরআন মজীদ খতম করেছেন, তা বখশে দিবেন।' তাদের আবেদনের ভঙ্গি থেকে অনুমিত হয় যে, কুরআন মজীদ খতম করার পর ইমাম ছাহেবের মাধ্যমে বা কোনো বুযুর্গের মাধ্যমে তা বখশানোকে তারা জরুরি মনে করেন।
এই ধারণা ঠিক নয়। কুরআন মজীদ খতম করা অনেক বড় ইবাদত, যা মূলত একটি ইনফেরাদী ইবাদত। প্রযোজন ছাড়া অন্যকে এ বিষয়ে অবগত করাও মুনাসিব নয়। আল্লাহর জন্য পড়া হয়েছে, আল্লাহ তাআলা দেখেছেন, এই যথেষ্ট। যদি এই খতমের ছওয়াব কবরবাসীকে পৌঁছাতে হয় তবে মুখে বলারও প্রযোজন নেই, শুধু মনে মনে এটুকু বললেই হবে যে, ইয়া আল্লাহ, এর ছওয়াব সকল মুসলিম কবরবাসীর আমলনামা বা অমুক অমুকের আমলনামায় পৌঁছে দিন। ছওয়াব বখশানোর জিনিস নয়, যা অন্যের মাধ্যমে বখশাতে হবে। শুধু ছওয়াব রেসানী অর্থাৎ ছওয়াব পৌঁছে দেওয়ার নিয়ত করাই যথেষ্ট。

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 ঈদের জন্য কি সবকিছুর নতুন হওয়া মাসনূন?

📄 ঈদের জন্য কি সবকিছুর নতুন হওয়া মাসনূন?


সঠিক মাসআলা এই যে, ঈদের দিন বিদ্যমান কাপড়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো কাপড় পরিধান করবে এবং তা যেন অবশ্যই পরিষ্কার হয়। কিন্তু সমাজের প্রচলন বিষয়টিকে এমন বিকৃত করেছে যে, যেন ঈদ উপলক্ষে নতুন কাপড় পরা এবং ঘরের সবাইকে নতুন কাপড় পরানো একটি মাসনূন কাজ? এরপর শুধু কাপড়ই নয়; বরং জুতো-মোজা, টুপি-গেঞ্জি ইত্যাদি সবই নতুন চাই। এমনকি যথাসম্ভব ঘরের আসবাবপত্রও নতুন হওয়া চাই। মনে রাখা উচিত যে, এই ধারণা ঠিক নয়। মাসনূন শুধু এটুকু যে, ঈদের দিন গোসল করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হবে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করবে, যা বিদ্যমান কাপড়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 একটি দাড়িতে সত্তরটি ফিরিশতা থাকে

📄 একটি দাড়িতে সত্তরটি ফিরিশতা থাকে


দাড়ির বিষয়ে কিছু মানুষকে বলতে শোনা যায় যে, একটি দাড়িতে সত্তরটি ফিরিশতা থাকে। কারো একটি দাড়ি ঝরে গেলে বা ছিড়ে গেলে বলে, আহা! তোমার সাথ থেকে সত্তরজন ফিরিশতা চলে গেল। তাদের ধারণা, একটি দাড়ির সাথে যেহেতু সত্তরটি ফিরিশতা থাকে সুতরাং একটি দাড়ি তোমার থেকে পৃথক হওয়া মানে সত্তরজন ফিরিশতা তোমার থেকে চলে যাওয়া। এটি একেবারেই অমূলক একটি ধারণা। এর কোনো ভিত্তি নেই। কিন্তু দাড়ির বিষয়ে সকলেরই সঠিক ধারণা থাকা উচিত। দাড়ি ইসলামের শিআর ও পরিচয়-চিহ্ন হিসেবে গণ্য। দাড়ি লম্বা করা এবং মোচ খাটো করা দ্বীনে তাওহীদের শিক্ষা, যা সকল নবীর শরীয়তে ছিল। দাড়ি লম্বা রাখা ওয়াজিব এবং এক মুষ্ঠি থেকে খাটো করা নাজায়েজ। এ বিষয়টি সকলে জানা এবং আমলে যত্নবান হওয়া জরুরি।

দাড়ির বিষয়ে কিছু মানুষকে বলতে শোনা যায় যে, একটি দাড়িতে সত্তরটি ফিরিশতা থাকে। কারো একটি দাড়ি ঝরে গেলে বা ছিড়ে গেলে বলে, আহা! তোমার সাথ থেকে সত্তরজন ফিরিশতা চলে গেল। তাদের ধারণা, একটি দাড়ির সাথে যেহেতু সত্তরটি ফিরিশতা থাকে সুতরাং একটি দাড়ি তোমার থেকে পৃথক হওয়া মানে সত্তরজন ফিরিশতা তোমার থেকে চলে যাওয়া। এটি একেবারেই অমূলক একটি ধারণা। এর কোনো ভিত্তি নেই। কিন্তু দাড়ির বিষয়ে সকলেরই সঠিক ধারণা থাকা উচিত। দাড়ি ইসলামের শিআর ও পরিচয়-চিহ্ন হিসেবে গণ্য। দাড়ি লম্বা করা এবং মোচ খাটো করা দ্বীনে তাওহীদের শিক্ষা, যা সকল নবীর শরীয়তে ছিল। দাড়ি লম্বা রাখা ওয়াজিব এবং এক মুষ্ঠি থেকে খাটো করা নাজায়েজ। এ বিষয়টি সকলে জানা এবং আমলে যত্নবান হওয়া জরুরি।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 কুরআন তিলাওয়াত চালু করে অন্য কাজ করা

📄 কুরআন তিলাওয়াত চালু করে অন্য কাজ করা


অনেক মানুষকে দেখা যায় ক্যাসেট বা কম্পিউটারে কুরআন তিলাওয়াত চালু করে অন্য কাজ করতে থাকে। তিলাওয়াত একেবারেই শুনছে না বা কাজের কারণে তিলাওয়াতের প্রতি মনোযোগ দিতে পারছে না। বা একটা কিছু শুনতে শুনতে কাজ করার অভ্যাস তাই তিলাওয়াত ছেড়ে রেখেছে। শোনা উদ্দেশ্য নয়। এ কাজটি ঠিক নয়। কুরআন তিলাওয়াত শোনা একটি স্বতন্ত্র আমল। আল কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, (অর্থ) যখন কুরআন তিলাওয়াত হয় তখন তোমরা মনোযোগ সহকারে তা শ্রবণ কর এবং চুপ থাক। যাতে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হয় (সূরা আরাফ, ২০৪) কিন্তু তিলাওয়াত ছেড়ে তা না শোনা এবং অন্য কাজে লিপ্ত থাকা কুরআনের এই হুকুমের খেলাফ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও অন্যের থেকে তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করতেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, আমাকে তিলাওয়াত করে শোনাও। বললাম, আপনাকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাব, কুরআন তো আপনার উপরই নাযিল হয়েছে! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি অন্যের কাছ থেকে তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করি। আমি সূরা নিসা তিলাওয়াত করতে শুরু করলাম। যখন এই আয়াতে পৌছলাম-(অর্থ) "যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং আপনাকে উপস্থিত করব তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে, তখন কী অবস্থা হবে?” তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, থাম (হে আব্দুল্লাহ!)। আমি নবীজীর দিকে তাকিয়ে দেখি তার দুগন্ড বেয়ে অশ্রু ঝড়ছে। (দ্র. সহীহ বুখারী, হাদীস ৪৫৮২)
আল্লাহর কালাম তিলাওয়াত হচ্ছে আর আমি অন্যদিকে মনোযোগ দিব তা হয় না। সুতরাং তিলাওয়াত যখন শুনব তো মনোযোগ দিয়ে তিলাওয়াতই শুনব। আর কাজ করার সময় যদি কিছু শুনতেই হয় তাহলে গুনাহের কিছু না শুনে শরীয়তসম্মত গযল সংগীত শোনা যেতে পারে।

অনেক মানুষকে দেখা যায় ক্যাসেট বা কম্পিউটারে কুরআন তিলাওয়াত চালু করে অন্য কাজ করতে থাকে। তিলাওয়াত একেবারেই শুনছে না বা কাজের কারণে তিলাওয়াতের প্রতি মনোযোগ দিতে পারছে না। বা একটা কিছু শুনতে শুনতে কাজ করার অভ্যাস তাই তিলাওয়াত ছেড়ে রেখেছে। শোনা উদ্দেশ্য নয়। এ কাজটি ঠিক নয়। কুরআন তিলাওয়াত শোনা একটি স্বতন্ত্র আমল। আল কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, (অর্থ) যখন কুরআন তিলাওয়াত হয় তখন তোমরা মনোযোগ সহকারে তা শ্রবণ কর এবং চুপ থাক। যাতে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হয় (সূরা আরাফ, ২০৪) কিন্তু তিলাওয়াত ছেড়ে তা না শোনা এবং অন্য কাজে লিপ্ত থাকা কুরআনের এই হুকুমের খেলাফ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও অন্যের থেকে তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করতেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, আমাকে তিলাওয়াত করে শোনাও। বললাম, আপনাকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাব, কুরআন তো আপনার উপরই নাযিল হয়েছে! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি অন্যের কাছ থেকে তিলাওয়াত শুনতে পছন্দ করি। আমি সূরা নিসা তিলাওয়াত করতে শুরু করলাম। যখন এই আয়াতে পৌছলাম-(অর্থ) "যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং আপনাকে উপস্থিত করব তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে, তখন কী অবস্থা হবে?” তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, থাম (হে আব্দুল্লাহ!)। আমি নবীজীর দিকে তাকিয়ে দেখি তার দুগন্ড বেয়ে অশ্রু ঝড়ছে। (দ্র. সহীহ বুখারী, হাদীস ৪৫৮২)
আল্লাহর কালাম তিলাওয়াত হচ্ছে আর আমি অন্যদিকে মনোযোগ দিব তা হয় না। সুতরাং তিলাওয়াত যখন শুনব তো মনোযোগ দিয়ে তিলাওয়াতই শুনব। আর কাজ করার সময় যদি কিছু শুনতেই হয় তাহলে গুনাহের কিছু না শুনে শরীয়তসম্মত গযল সংগীত শোনা যেতে পারে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00