📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 কিয়ামতের আলামত : বেগুন গাছ তলায় হাট বসবে

📄 কিয়ামতের আলামত : বেগুন গাছ তলায় হাট বসবে


কিছু লোককে বলতে শোনা যায় যে, কিয়ামতের একটি আলামত হল, মানুষ ছোট হতে হতে এত ছোট হবে যে, বেগুন গাছ তলায় হাট বসবে। এটি একটি ভুল বিশ্বাস, যা একেবারেই ভিত্তিহীন।
একটি ইসরায়িলী রেওয়ায়াতে ইয়াজুজ মাজুজ সম্বন্ধে এমন কথা পাওয়া যায় যে, তাদের কারো দৈর্ঘ্য এক বিঘত, কারো দুই বিঘত। আর তাদের যারা সবচেয়ে লম্বা তারা তিন বিঘত...। কিন্তু এ রেওয়ায়াতের কোনোই ভিত্তি নেই। বহু হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের বিভিন্ন আলামতের কথা বলেছেন। কোথাও এমন কথা নেই। সুতরাং এ ধরনের ভিত্তিহীন কথা বলা বা বিশ্বাস করা কোনোটিই ঠিক নয়。

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 আখেরী যামানায় একজন পুরুষের বিপরীতে ১৫/২০ জন নারী হবে

📄 আখেরী যামানায় একজন পুরুষের বিপরীতে ১৫/২০ জন নারী হবে


লোকমুখে শোনা যায়, আখেরী যামানায় এমন অবস্থা হবে যে, একজন পুরুষের বিপরীতে ১৫/২০ জন নারী হবে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি এমন দাঁড়াবে যে কয়েকজন নারী একজন পুরুষকে তাড়া করবে আর সে দৌড়ে পালাবে এবং নিরুপায় হয়ে গাছে আশ্রয় নিবে। সেখান থেকে সে প্রস্রাব করবে। সেই প্রস্রাব পান করে তারা গর্ভবতী হবে। এটি একেবারেই মনগড়া অলীক কাহিনী মাত্র। নির্ভরযোগ্য কোনো কিতাবে এর কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। এমন কথাবার্তা বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
তবে এ কথা সত্য যে, কিয়ামতপূর্ব যুগে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 খতমসমূহ কি ইমাম ছাহেবের মাধ্যমে বখশানো জরুরি?

📄 খতমসমূহ কি ইমাম ছাহেবের মাধ্যমে বখশানো জরুরি?


গ্রামাঞ্চলের মসজিদগুলোতে এবং শহরেরও কোনো কোনো মসজিদে দেখা যায় যে, ইমাম ছাহেবের কাছে মৌখিকভাবে বা লিখিত আকারে এই আবেদন এসে থাকে যে, 'অমুক ব্যক্তি কুরআন মজীদ খতম করেছেন, তা বখশে দিবেন।' তাদের আবেদনের ভঙ্গি থেকে অনুমিত হয় যে, কুরআন মজীদ খতম করার পর ইমাম ছাহেবের মাধ্যমে বা কোনো বুযুর্গের মাধ্যমে তা বখশানোকে তারা জরুরি মনে করেন।
এই ধারণা ঠিক নয়। কুরআন মজীদ খতম করা অনেক বড় ইবাদত, যা মূলত একটি ইনফেরাদী ইবাদত। প্রযোজন ছাড়া অন্যকে এ বিষয়ে অবগত করাও মুনাসিব নয়। আল্লাহর জন্য পড়া হয়েছে, আল্লাহ তাআলা দেখেছেন, এই যথেষ্ট। যদি এই খতমের ছওয়াব কবরবাসীকে পৌঁছাতে হয় তবে মুখে বলারও প্রযোজন নেই, শুধু মনে মনে এটুকু বললেই হবে যে, ইয়া আল্লাহ, এর ছওয়াব সকল মুসলিম কবরবাসীর আমলনামা বা অমুক অমুকের আমলনামায় পৌঁছে দিন। ছওয়াব বখশানোর জিনিস নয়, যা অন্যের মাধ্যমে বখশাতে হবে। শুধু ছওয়াব রেসানী অর্থাৎ ছওয়াব পৌঁছে দেওয়ার নিয়ত করাই যথেষ্ট。

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 ঈদের জন্য কি সবকিছুর নতুন হওয়া মাসনূন?

📄 ঈদের জন্য কি সবকিছুর নতুন হওয়া মাসনূন?


সঠিক মাসআলা এই যে, ঈদের দিন বিদ্যমান কাপড়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো কাপড় পরিধান করবে এবং তা যেন অবশ্যই পরিষ্কার হয়। কিন্তু সমাজের প্রচলন বিষয়টিকে এমন বিকৃত করেছে যে, যেন ঈদ উপলক্ষে নতুন কাপড় পরা এবং ঘরের সবাইকে নতুন কাপড় পরানো একটি মাসনূন কাজ? এরপর শুধু কাপড়ই নয়; বরং জুতো-মোজা, টুপি-গেঞ্জি ইত্যাদি সবই নতুন চাই। এমনকি যথাসম্ভব ঘরের আসবাবপত্রও নতুন হওয়া চাই। মনে রাখা উচিত যে, এই ধারণা ঠিক নয়। মাসনূন শুধু এটুকু যে, ঈদের দিন গোসল করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হবে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করবে, যা বিদ্যমান কাপড়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00