📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 শিক্ষক ছাত্রকে শরীরের যে স্থানে আঘাত করবে তা জান্নাতে যাবে!

📄 শিক্ষক ছাত্রকে শরীরের যে স্থানে আঘাত করবে তা জান্নাতে যাবে!


কিছু মানুষকে বলতে শোনা যায়, পড়াতে গিয়ে বা তারবিয়াত করতে গিয়ে শিক্ষক যদি ছাত্রকে প্রহার করেন তাহলে শরীরের যে স্থানে প্রহার করা হয়েছে ঐ স্থান জান্নাতে যাবে বা জাহান্নামে যাবে না।
একথার কোনো ভিত্তি নেই। কাউকে শিক্ষক প্রহার করলে হয়ত সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য তার হিতাকাঙ্খী কেউ একথাটি বলে-শিক্ষক প্রহার করলে মন খারাপ করার কিছু নেই। কারণ,শিক্ষক ছাত্রকে শরীরের যে স্থানে আঘাত করবে তা জান্নাতে যাবে বা জাহান্নামে যাবে না।
উদ্দেশ্য ভালো হলেও এটি একটি ভিত্তিহীন কথা। তবে কোনো শিক্ষক যখন পড়ার কারণে বা আদব শিক্ষা দিতে গিয়ে ছাত্রকে প্রহার করেন এটা তিনি ছাত্রের ভালোর জন্যই করেন। সুতরাং ছাত্রের উচিত মাথা পেতে তা গ্রহণ করা। জিদ না করে যে কারণে তাকে প্রহার করা হয়েছে তা শুধরে নেওয়া।
তেমনি পিতা-মাতা, মুরব্বী যদি ছোটকে কখনো বিশেষ কারণে প্রহার করেন সেটাও তার ভালোর জন্যই করেন, নিজের ভালোর জন্যই তা মেনে নেওয়া উচিত।
এখন উস্তায বা পিতা-মাতা কতটুকু প্রহার করতে পারেন কিংবা কখন পারেন কখন পারেন না ইত্যাদি ভিন্ন আলোচনা। শরীয়তে এর মূলনীতি রয়েছে। ছাত্র বা সন্তানের এর পিছনে পড়া উচিত নয়। তার উচিত, মুরব্বীর সাথে বেআদবী না করা এবং যে কারণে তাকে প্রহার করা হয়েছে তা সংশোধন করা。

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 কিয়ামতের আলামত : বেগুন গাছ তলায় হাট বসবে

📄 কিয়ামতের আলামত : বেগুন গাছ তলায় হাট বসবে


কিছু লোককে বলতে শোনা যায় যে, কিয়ামতের একটি আলামত হল, মানুষ ছোট হতে হতে এত ছোট হবে যে, বেগুন গাছ তলায় হাট বসবে। এটি একটি ভুল বিশ্বাস, যা একেবারেই ভিত্তিহীন।
একটি ইসরায়িলী রেওয়ায়াতে ইয়াজুজ মাজুজ সম্বন্ধে এমন কথা পাওয়া যায় যে, তাদের কারো দৈর্ঘ্য এক বিঘত, কারো দুই বিঘত। আর তাদের যারা সবচেয়ে লম্বা তারা তিন বিঘত...। কিন্তু এ রেওয়ায়াতের কোনোই ভিত্তি নেই। বহু হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের বিভিন্ন আলামতের কথা বলেছেন। কোথাও এমন কথা নেই। সুতরাং এ ধরনের ভিত্তিহীন কথা বলা বা বিশ্বাস করা কোনোটিই ঠিক নয়。

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 আখেরী যামানায় একজন পুরুষের বিপরীতে ১৫/২০ জন নারী হবে

📄 আখেরী যামানায় একজন পুরুষের বিপরীতে ১৫/২০ জন নারী হবে


লোকমুখে শোনা যায়, আখেরী যামানায় এমন অবস্থা হবে যে, একজন পুরুষের বিপরীতে ১৫/২০ জন নারী হবে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি এমন দাঁড়াবে যে কয়েকজন নারী একজন পুরুষকে তাড়া করবে আর সে দৌড়ে পালাবে এবং নিরুপায় হয়ে গাছে আশ্রয় নিবে। সেখান থেকে সে প্রস্রাব করবে। সেই প্রস্রাব পান করে তারা গর্ভবতী হবে। এটি একেবারেই মনগড়া অলীক কাহিনী মাত্র। নির্ভরযোগ্য কোনো কিতাবে এর কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। এমন কথাবার্তা বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
তবে এ কথা সত্য যে, কিয়ামতপূর্ব যুগে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 খতমসমূহ কি ইমাম ছাহেবের মাধ্যমে বখশানো জরুরি?

📄 খতমসমূহ কি ইমাম ছাহেবের মাধ্যমে বখশানো জরুরি?


গ্রামাঞ্চলের মসজিদগুলোতে এবং শহরেরও কোনো কোনো মসজিদে দেখা যায় যে, ইমাম ছাহেবের কাছে মৌখিকভাবে বা লিখিত আকারে এই আবেদন এসে থাকে যে, 'অমুক ব্যক্তি কুরআন মজীদ খতম করেছেন, তা বখশে দিবেন।' তাদের আবেদনের ভঙ্গি থেকে অনুমিত হয় যে, কুরআন মজীদ খতম করার পর ইমাম ছাহেবের মাধ্যমে বা কোনো বুযুর্গের মাধ্যমে তা বখশানোকে তারা জরুরি মনে করেন।
এই ধারণা ঠিক নয়। কুরআন মজীদ খতম করা অনেক বড় ইবাদত, যা মূলত একটি ইনফেরাদী ইবাদত। প্রযোজন ছাড়া অন্যকে এ বিষয়ে অবগত করাও মুনাসিব নয়। আল্লাহর জন্য পড়া হয়েছে, আল্লাহ তাআলা দেখেছেন, এই যথেষ্ট। যদি এই খতমের ছওয়াব কবরবাসীকে পৌঁছাতে হয় তবে মুখে বলারও প্রযোজন নেই, শুধু মনে মনে এটুকু বললেই হবে যে, ইয়া আল্লাহ, এর ছওয়াব সকল মুসলিম কবরবাসীর আমলনামা বা অমুক অমুকের আমলনামায় পৌঁছে দিন। ছওয়াব বখশানোর জিনিস নয়, যা অন্যের মাধ্যমে বখশাতে হবে। শুধু ছওয়াব রেসানী অর্থাৎ ছওয়াব পৌঁছে দেওয়ার নিয়ত করাই যথেষ্ট。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00