📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 অবাঞ্চিত লোম চল্লিশ দিন পর কাটা প্রসঙ্গে

📄 অবাঞ্চিত লোম চল্লিশ দিন পর কাটা প্রসঙ্গে


প্রায় ক্ষেত্রেই মানুষকে বলতে শোনা যায় যে, অবাঞ্ছিত লোম কিংবা নখ যদি চল্লিশ দিনের উপরে হয়ে যায় তাহলে তার ইবাদত কবুল হয় না। এটাও একটি ভুল ধারণা।
ইসলাম স্বভাবজাত ধর্ম। মানুষের পরিচ্ছতা ও সৌন্দর্য এবং সুস্থতা ও কমনীয়তার নেয়ামত রক্ষায় ইসলামে অনেক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যার কারণে ইসলাম মানুষের শরীরের অবাঞ্ছিত লোম, নখ ইত্যাদি বিনা ওজরে চল্লিশ দিন পর কাটাকে মাকরূহ তাহরীমি বা গোনাহর কাজ বলেছে। এ মর্মে সাহাবী আনাস রাযি. বলেন, وُقِّتَ لَنَا فِي قَضِ الشَّارِبِ، وَتَقْلِيمِ الأَظْفَارِ، وَنَتْفِ الإِبِطِ، وَحَلْقِ الْعَانَةِ، أَنْ لَا نَتْرُكَ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ يَوْماً.
অর্থাৎ, গোঁফ ছোট রাখা, নখ কাঁটা, বগলের লোম উপড়িয়ে ফেলা এবং নাভীর নিচের লোম চেঁছে ফেলার জন্যে আমাদেরকে সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল যেন, আমরা তা করতে চল্লিশ দিনের অধিক দেরী না করি। (মুসলিম ২৫৮)
তবে যে বলা হয়, এই সময় অতিক্রম করলে ইবাদত কবুল হয়না; এই কথা ঠিক নয়。

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 রোজা অবস্থায় অবাঞ্চিত লোম ও চুল, নখ কাটা প্রসঙ্গে

📄 রোজা অবস্থায় অবাঞ্চিত লোম ও চুল, নখ কাটা প্রসঙ্গে


রমজান মাসে অনেক মানুষ বলে যে, এখন তো রোজা কিভাবে চুল, নখ, অবাঞ্ছিত পশম কাটবো? তাহলে তো রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। এই ধারণা করে অনেকে এগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থেকে বিরত থাকে। অতচ এটাও একটি ভুল ধারণা এবং বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কথা। রমজান মাসে এগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন দ্বারা রোজার কোন ক্ষতি হয় না। তবে সে ক্ষেত্রে একটু লক্ষ করতে হবে যেন, এগুলো পরিষ্কার করতে গিয়ে রক্ত বের না হয়ে যায়। তবে এটা বলা যাবে না যে, রমজান মাসে এগুলো পরিষ্কার করলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে।
আর তাছাড়া রোজা ভঙ্গের সাথে চুল, নখ ও অবাঞ্ছিত লোম কাটার সাথে কোন সম্পর্ক নেই। রোযা নষ্ট হবার সম্পর্ক হল পানাহার ও সহবাসের সাথে। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস : ৭৪৬৮) আর অবাঞ্ছিত লোম কাটার পর গোসল ফরজ হয় না。

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 শিক্ষক ছাত্রকে শরীরের যে স্থানে আঘাত করবে তা জান্নাতে যাবে!

📄 শিক্ষক ছাত্রকে শরীরের যে স্থানে আঘাত করবে তা জান্নাতে যাবে!


কিছু মানুষকে বলতে শোনা যায়, পড়াতে গিয়ে বা তারবিয়াত করতে গিয়ে শিক্ষক যদি ছাত্রকে প্রহার করেন তাহলে শরীরের যে স্থানে প্রহার করা হয়েছে ঐ স্থান জান্নাতে যাবে বা জাহান্নামে যাবে না।
একথার কোনো ভিত্তি নেই। কাউকে শিক্ষক প্রহার করলে হয়ত সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য তার হিতাকাঙ্খী কেউ একথাটি বলে-শিক্ষক প্রহার করলে মন খারাপ করার কিছু নেই। কারণ,শিক্ষক ছাত্রকে শরীরের যে স্থানে আঘাত করবে তা জান্নাতে যাবে বা জাহান্নামে যাবে না।
উদ্দেশ্য ভালো হলেও এটি একটি ভিত্তিহীন কথা। তবে কোনো শিক্ষক যখন পড়ার কারণে বা আদব শিক্ষা দিতে গিয়ে ছাত্রকে প্রহার করেন এটা তিনি ছাত্রের ভালোর জন্যই করেন। সুতরাং ছাত্রের উচিত মাথা পেতে তা গ্রহণ করা। জিদ না করে যে কারণে তাকে প্রহার করা হয়েছে তা শুধরে নেওয়া।
তেমনি পিতা-মাতা, মুরব্বী যদি ছোটকে কখনো বিশেষ কারণে প্রহার করেন সেটাও তার ভালোর জন্যই করেন, নিজের ভালোর জন্যই তা মেনে নেওয়া উচিত।
এখন উস্তায বা পিতা-মাতা কতটুকু প্রহার করতে পারেন কিংবা কখন পারেন কখন পারেন না ইত্যাদি ভিন্ন আলোচনা। শরীয়তে এর মূলনীতি রয়েছে। ছাত্র বা সন্তানের এর পিছনে পড়া উচিত নয়। তার উচিত, মুরব্বীর সাথে বেআদবী না করা এবং যে কারণে তাকে প্রহার করা হয়েছে তা সংশোধন করা。

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 কিয়ামতের আলামত : বেগুন গাছ তলায় হাট বসবে

📄 কিয়ামতের আলামত : বেগুন গাছ তলায় হাট বসবে


কিছু লোককে বলতে শোনা যায় যে, কিয়ামতের একটি আলামত হল, মানুষ ছোট হতে হতে এত ছোট হবে যে, বেগুন গাছ তলায় হাট বসবে। এটি একটি ভুল বিশ্বাস, যা একেবারেই ভিত্তিহীন।
একটি ইসরায়িলী রেওয়ায়াতে ইয়াজুজ মাজুজ সম্বন্ধে এমন কথা পাওয়া যায় যে, তাদের কারো দৈর্ঘ্য এক বিঘত, কারো দুই বিঘত। আর তাদের যারা সবচেয়ে লম্বা তারা তিন বিঘত...। কিন্তু এ রেওয়ায়াতের কোনোই ভিত্তি নেই। বহু হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের বিভিন্ন আলামতের কথা বলেছেন। কোথাও এমন কথা নেই। সুতরাং এ ধরনের ভিত্তিহীন কথা বলা বা বিশ্বাস করা কোনোটিই ঠিক নয়。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00