📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 খোদার পর বাবা-মা তারপর নবীজী!

📄 খোদার পর বাবা-মা তারপর নবীজী!


এ কথাটি লোকমুখে আগেও শুনেছি। কিন্তু কদিন আগে যখন দেশের বড় একজন লেখকের লেখায় কথাটি দেখলাম তখন ভাবলাম এটা আলকাউসারের 'প্রচলিত ভুল' বিভাগে আসা দরকার।
এ কথা সত্য যে আল্লাহ তায়ালা মা-বাবার হককে অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন এবং মা বাবার সাথে সদাচরণ সন্তানের উপর আবশ্যক করে দিয়েছেন। এমনকি মা-বাবা যদি সন্তানকে কুফ্রী করতে বলে তবুও। কুফরীর ক্ষেত্রে তাদের আনুগত্য করবে না কিন্তু এর পরও তাদের সাথে সদাচরণ করবে। আলকুরআনুল কারীমে আল্লাহর সাথে শিরক না করার আদেশের সাথে সাথেই মাতা পিতার সাথে সদাচরণের কথা এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, (অর্থ) তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন, তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করতে ও পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে ...। সূরা বনী ইসরাঈল : ২৩
কিন্তু 'খোদার পরে বাবা মা তারপর নবীজী' এ জাতীয় কথা কুরআন হাদীসের কোথাও নেই। হাদীস শরীফে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট বলেছেন, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হবে না যতক্ষণ আমি তার কাছে তার পিতা (মাতা) সন্তান এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় না হব। (সহীহ বুখারী, হাদীস ১৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৪৪)
বরং নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালবাসতে হবে। হাদীস শরীফে এসেছে, তোমরা কেউ ঐ পর্যন্ত মুমিন হবে না, যে পর্যন্ত আমি তার কাছে তার প্রাণের চেয়েও বেশি প্রিয় না হই। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৮০৪৭; সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৬৩২) আলকুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, (অর্থ) নবী মুমিনদের কাছে তাদের প্রাণ অপেক্ষা বেশি প্রিয়...। (সূরা আল আহযাব, (৩৩):৬)

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 দিনের প্রথম উপার্জনকে ভক্তি জানানো

📄 দিনের প্রথম উপার্জনকে ভক্তি জানানো


সকাল বেলা রাস্তায় চলাচল করলে অনেক সময় দেখা যায় যে, অনেক মানুষ বিশেষ করে রিকশাচালক, গাড়ির ড্রাইভার তারা দিনের প্রথম উপার্জন হাতে পাওয়ার পর তাকে চুমু দেয় কিংবা গাড়ির কোন অংশে ছোয়ানোর পরে বুকে ও চোখে লাগায়। অনেককে কপালে ঠেকাতেও দেখা যায়। তেমনিভাবে কোন কোন ব্যবসায়ীও দিনের প্রথম উপার্জনকে এভাবে ভক্তি জানিয়ে থাকে।
নিজের কষ্টার্জিত অর্থের উপর মানুষের মায়া থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু উপরুক্ত কপালে ঠেকানোর মত ভক্তিমূলক আচরণ অবশ্যই পরিত্যাজ্য। প্রথম উপার্জনকে ভক্তি জানালে পরবর্তী উপার্জনের পথ সুগম হবে। এমন ধারনা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এসব আচরণের সবচেয়ে নিন্দিত দিকটি হলো উপার্জনের মাধ্যমকে অথবা গাড়ি পণ্য কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে উপার্জনদাতা মনে করা। এমনকি কারো কারো কথাবার্তা থেকে তো পৌত্তলিকতারও অভ্যাস পাওয়া যায়।
বাস্তব কথা এই যে, উপার্জন ও রিযিক একমাত্র আল্লাহ তা'আলার হাতে। তিনি কোথা থেকে কিভাবে রিযিক দিবেন এবং কোন উপায়ে দিবেন তা একমাত্র তিনিই জানেন। মানুষের কাজ হলো হালাল উপার্জনের চেষ্টায় আল্লাহ তালার দেওয়া মেধা ও শক্তিকে ব্যবহার করা এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করা। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা দয়া করে বান্দাকে যা কিছু দান করেন তার উপর সন্তুষ্ট থাকা ও তার শুকর আদায় করা। সর্বোপরি এই অটল বিশ্বাস রাখা যে, উপার্জন আল্লাহর নেয়ামত। আর নেয়ামতের শুকর আদায় করলে আল্লাহ তায়ালা তা বাড়িয়ে দেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন, তোমরা যদি নেয়ামতের শুকর আদায় করো তাহলে অবশ্যই তোমাদেরকে আরো বেশি নেয়ামত বারিয়ে দিব ।
উপার্জন হাতে আসার পর আল্লাহ তাআলার কৃতজ্ঞতা আদায় করাই হলো একজন মুমিনের কর্তব্য। তা না করে উপার্জনের মাধ্যমে এবং উপার্জিত অর্থ কাউকে ভক্তি নিয়ে মাথা, কপালে টেকানো সম্পূর্ণ অর্থহীন আচরণ ও গর্হিত কাজ। এই সমস্ত কর্ম থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক。

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 আলোচনা চলাকালে উপস্থিত হলে হায়াত দীর্ঘ হয়

📄 আলোচনা চলাকালে উপস্থিত হলে হায়াত দীর্ঘ হয়


অনেক মানুষকে দেখা যায় তারা অনুপস্থিত কাউকে নিয়ে আলোচনা করার সময় সে ব্যক্তি যদি উপস্থিত হয়ে যায় তাহলে বলে যে তুমি লম্বা হায়াত পাবে। তোমার হায়াত তো অনেক। আমরা তো তোমার কথাই আলোচনা করছিলাম। একটু চিন্তা করলেই বুঝা যায় যে, এর সাথে হায়াত বাড়া কিংবা কমার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বিশ্বাস। শরীয়তের যেমন এর কোন ভিত্তি নেই তেমনি বিবেক-বুদ্ধিও এ ধরনের ভ্রান্ত ধারণা সমর্থন করেনা। অতএব এ ধরনের বিশ্বাস পোষণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত。

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 একসাথে দুই টুপি মাথায় দেওয়া

📄 একসাথে দুই টুপি মাথায় দেওয়া


অনেক মানুষকে বলতে শোনা যায় যে, একসাথে দুই টুপি মাথায় দেওয়া গুনাহের কাজ। আবার অনেকে বলে একসাথে দুই টুপি মাথায় দিলে কাফের হয়ে যাবে। ইত্যাদি ইত্যাদি... তবে জেনে রাখা উচিত যে, এই সমস্ত কথা সত্য নয়। তবে এটা যে অনর্থক কাজ তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অবশ্য কেউ যদি অধিক সোয়াবের আশায় এমনটি করে থাকে তবে তা নাজায়েজ বলে গণ্য হবে। তবে কাফের হবে কিংবা গুনাহের কাজ এমনটি ধারণা করা ঠিক নয়。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00