📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 সাত আসমানের কোনোটি লোহা দিয়ে তৈরি, কোনোটি

📄 সাত আসমানের কোনোটি লোহা দিয়ে তৈরি, কোনোটি


লোকমুখে একথা শোনা যায় যে, সাত আসমানের প্রথম আসমান লোহা দিয়ে তৈরি, দ্বিতীয় আসমান তামা দিয়ে তৈরি ইত্যাদি।
এটি একটি অলৌকিক কল্পনামাত্র। এর কোনো ভিত্তি নেই। কোন্ আসমান কী দিয়ে তৈরি বা আসমানের ধরন কেমন তা আমাদের জানার বাইরের বিষয়। কুরআন হাদীসে আসমান যমীনের সৃষ্টির কথা এসেছে, কিন্তু কোন্ আসমান কী দিয়ে তৈরি এমন কোনো কথা আমরা পাইনি। সুতরাং এ বিষয়ে আমরা কিছু বলব না। আল্লাহ তাআলা বলেন, (তরজমা) “যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই তার পিছে পড়ো না...।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 আমরা ইবাদত করলে কি আল্লাহর লাভ?!

📄 আমরা ইবাদত করলে কি আল্লাহর লাভ?!


এক ভাইয়ের আববা খুব অসুস্থ। তাকে আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়েছে। অক্সিজেনের সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে হচ্ছে। তো তার আববাকে দেখতে গিয়ে তার সাথে কথা চলছিল যে, সুস্থতা আল্লাহ তাআলার অনেক বড় নিআমত। এ নিআমতের উপর বেশি বেশি শুকরিয়া আদায় করা দরকার। তখন সে এক পর্যায়ে বলে বসল, আমরা সুস্থ থাকলে তো আল্লাহরই লাভ; তখন আমরা আল্লাহর ইবাদত করতে পারব।
(আরো কোনো কোনো মানুষকে এজাতীয় বাক্য বলতে শুনেছি।) এটি একটি ভুল চিন্তা, যা ব্যক্তির অজ্ঞতার কারণেই মনে এসে থাকে। আমাদের ইবাদতের সাথে আল্লাহর লাভ ক্ষতির কী সম্পর্ক? আমরা কোনো নেক আমল করলে তার কল্যাণ ও সওয়াব আমরাই লাভ করব। আর আমাদের নাফরমানীর অকল্যাণ ও আপদ আমাদের উপরেই বর্তাবে। আমাদের ইবাদত করা না করা আল্লাহর রাজত্বে সামান্য হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটাবে না। আল্লাহ আমাদের ইবাদতের মুখাপেক্ষী নন। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, "... তোমাদের শুরু থেকে শেষ সকলেই যদি তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে মুত্তাকী (পরহেযগার) ব্যক্তির মত হয়ে যায় তাহলে তা আমার রাজত্বে সামান্য বৃদ্ধিও ঘটাবে না। তেমনিভাবে তোমাদের শুরু থেকে শেষ সকলেই যদি তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে পাপিষ্ঠ ব্যক্তির মত হয়ে যায় তাহলে তা আমার রাজত্বে সামান্য হ্রাস ঘটাবে না। ..." (সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৫৭৭)
কিছু মরুবাসী মনে করছিল, ইসলাম গ্রহণ করে তারা (আল্লাহর উপর) আল্লাহর নবীর উপর অনুগ্রহ করে ফেলেছে। তখন আল্লাহ তাআলা তাদের উদ্দেশ্যে বললেন, (তরজমা) “তারা ইসলাম গ্রহণ করে তোমাকে ধন্য করেছে মনে করে। আপনি বলুন, তোমাদের ইসলাম গ্রহণ আমাকে ধন্য করেছে মনে করো না; বরং আল্লাহই ঈমানের দিকে পরিচালিত করে তোমাদের ধন্য করেছেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।” (সূরা হুজুরাত ৪৯: ১৭)
সুতরাং আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক থাকব, যেন এজাতীয় কথা বা চিন্তা থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারি। আল্লাহই তাওফীক দাতা。

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 খোদার পর বাবা-মা তারপর নবীজী!

📄 খোদার পর বাবা-মা তারপর নবীজী!


এ কথাটি লোকমুখে আগেও শুনেছি। কিন্তু কদিন আগে যখন দেশের বড় একজন লেখকের লেখায় কথাটি দেখলাম তখন ভাবলাম এটা আলকাউসারের 'প্রচলিত ভুল' বিভাগে আসা দরকার।
এ কথা সত্য যে আল্লাহ তায়ালা মা-বাবার হককে অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন এবং মা বাবার সাথে সদাচরণ সন্তানের উপর আবশ্যক করে দিয়েছেন। এমনকি মা-বাবা যদি সন্তানকে কুফ্রী করতে বলে তবুও। কুফরীর ক্ষেত্রে তাদের আনুগত্য করবে না কিন্তু এর পরও তাদের সাথে সদাচরণ করবে। আলকুরআনুল কারীমে আল্লাহর সাথে শিরক না করার আদেশের সাথে সাথেই মাতা পিতার সাথে সদাচরণের কথা এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, (অর্থ) তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন, তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করতে ও পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে ...। সূরা বনী ইসরাঈল : ২৩
কিন্তু 'খোদার পরে বাবা মা তারপর নবীজী' এ জাতীয় কথা কুরআন হাদীসের কোথাও নেই। হাদীস শরীফে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট বলেছেন, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হবে না যতক্ষণ আমি তার কাছে তার পিতা (মাতা) সন্তান এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় না হব। (সহীহ বুখারী, হাদীস ১৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৪৪)
বরং নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালবাসতে হবে। হাদীস শরীফে এসেছে, তোমরা কেউ ঐ পর্যন্ত মুমিন হবে না, যে পর্যন্ত আমি তার কাছে তার প্রাণের চেয়েও বেশি প্রিয় না হই। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৮০৪৭; সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৬৩২) আলকুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, (অর্থ) নবী মুমিনদের কাছে তাদের প্রাণ অপেক্ষা বেশি প্রিয়...। (সূরা আল আহযাব, (৩৩):৬)

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 দিনের প্রথম উপার্জনকে ভক্তি জানানো

📄 দিনের প্রথম উপার্জনকে ভক্তি জানানো


সকাল বেলা রাস্তায় চলাচল করলে অনেক সময় দেখা যায় যে, অনেক মানুষ বিশেষ করে রিকশাচালক, গাড়ির ড্রাইভার তারা দিনের প্রথম উপার্জন হাতে পাওয়ার পর তাকে চুমু দেয় কিংবা গাড়ির কোন অংশে ছোয়ানোর পরে বুকে ও চোখে লাগায়। অনেককে কপালে ঠেকাতেও দেখা যায়। তেমনিভাবে কোন কোন ব্যবসায়ীও দিনের প্রথম উপার্জনকে এভাবে ভক্তি জানিয়ে থাকে।
নিজের কষ্টার্জিত অর্থের উপর মানুষের মায়া থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু উপরুক্ত কপালে ঠেকানোর মত ভক্তিমূলক আচরণ অবশ্যই পরিত্যাজ্য। প্রথম উপার্জনকে ভক্তি জানালে পরবর্তী উপার্জনের পথ সুগম হবে। এমন ধারনা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এসব আচরণের সবচেয়ে নিন্দিত দিকটি হলো উপার্জনের মাধ্যমকে অথবা গাড়ি পণ্য কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে উপার্জনদাতা মনে করা। এমনকি কারো কারো কথাবার্তা থেকে তো পৌত্তলিকতারও অভ্যাস পাওয়া যায়।
বাস্তব কথা এই যে, উপার্জন ও রিযিক একমাত্র আল্লাহ তা'আলার হাতে। তিনি কোথা থেকে কিভাবে রিযিক দিবেন এবং কোন উপায়ে দিবেন তা একমাত্র তিনিই জানেন। মানুষের কাজ হলো হালাল উপার্জনের চেষ্টায় আল্লাহ তালার দেওয়া মেধা ও শক্তিকে ব্যবহার করা এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করা। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা দয়া করে বান্দাকে যা কিছু দান করেন তার উপর সন্তুষ্ট থাকা ও তার শুকর আদায় করা। সর্বোপরি এই অটল বিশ্বাস রাখা যে, উপার্জন আল্লাহর নেয়ামত। আর নেয়ামতের শুকর আদায় করলে আল্লাহ তায়ালা তা বাড়িয়ে দেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন, তোমরা যদি নেয়ামতের শুকর আদায় করো তাহলে অবশ্যই তোমাদেরকে আরো বেশি নেয়ামত বারিয়ে দিব ।
উপার্জন হাতে আসার পর আল্লাহ তাআলার কৃতজ্ঞতা আদায় করাই হলো একজন মুমিনের কর্তব্য। তা না করে উপার্জনের মাধ্যমে এবং উপার্জিত অর্থ কাউকে ভক্তি নিয়ে মাথা, কপালে টেকানো সম্পূর্ণ অর্থহীন আচরণ ও গর্হিত কাজ। এই সমস্ত কর্ম থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00