📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 আসহাবে কাহফের কুকুর, সুলাইমান আ.-এর পিঁপড়া, সালেহ আ.-এর উটনী, ইসমাঈল আ.-এর দুম্বা ইত্যাদি কি জান্নাতে প্রবেশ করবে?

📄 আসহাবে কাহফের কুকুর, সুলাইমান আ.-এর পিঁপড়া, সালেহ আ.-এর উটনী, ইসমাঈল আ.-এর দুম্বা ইত্যাদি কি জান্নাতে প্রবেশ করবে?


কোনো কোনো অসতর্ক বক্তার মুখে শোনা যায়। আসহাবে কাহফের কুকুর, সুলাইমান আ.-এর পিঁপড়া, সালেহ আ.-এর উটনী, ইসমাঈল আ.- এর দুম্বা জান্নাতে প্রবেশ করবে। কেউ কেউ এর সাথে আরো যুক্ত করে বলে মূসা আ.-এর গাভী, বিলকিসের হুদহুদ, উযায়ের আ.-এর গাধা, ইউনুস আ.-এর মাছ ইত্যাদিও জান্নাতে প্রবেশ করবে। কেউ এটিকে এভাবে বলে দশটি প্রাণী জান্নাতে প্রবেশ করবে; আসহাবে কাহফের কুকুর, সুলাইমান আ.-এর পিঁপড়া...।
যে যেভাবেই বলুক না কেন, এগুলোর কোনো ভিত্তি পাওয়া যায় না। নির্ভরযোগ্য কোনো মারফু বা মাওকুফ রেওয়ায়েতে আমরা পাইনি। সুতরাং এগুলো বিশ্বাস করা ও বলা থেকে আমরা বিরত থাকা চাই।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 এক নামের সবাইকে মাফ করে দেওয়া হবে

📄 এক নামের সবাইকে মাফ করে দেওয়া হবে


আমরা কোনো নবীর নামে বা কোনো সাহাবী কিংবা উম্মাহর কোনো বড় আলেম-মনীষীর নামে নিজেদের সন্তানের নাম রাখি। এটা অবশ্যই প্রশংসনীয়। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ সন্তানের নাম রেখেছিলেন মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহীম আলাইহিস সালামের নামানুসারে।
কিন্তু কিছু মানুষের মাঝে এ কথা প্রচলিত রয়েছে যে, নিজ সন্তানের নাম যদি কোনো নবী বা কোনো বুযুর্গের নামে রাখা হয় তাহলে কিয়ামতের দিন যখন ঐ নবী বা বুযুর্গের নাম ঘোষণা করা হবে তো ঐ নামের যত মানুষ আছে সকলেই দাঁড়িয়ে যাবে তখন আল্লাহ তাআলা ঐ নামের ওসিলায় সকলকেই মাফ করে দিবেন।
এটি একটি কল্পনাপ্রসূত কথা, যার কোনো ভিত্তি নেই। সাথে সাথে তা শরীয়তের মেযাজেরও খেলাফ কথা। প্রতিটি ব্যক্তির ঈমান-আমল অনুসারে তার ফয়সালা হবে। নামের কারণে কাউকে মাফ করে দেওয়া হবে এমনটি ভাববার কোনো সুযোগ শরীয়তে নেই।
তবে নাম অবশ্যই ইসলামসম্মত ও সুন্দর অর্থবোধক হতে হবে। হাদীস শরীফে এসেছে, নিশ্চয় কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে তোমাদের পিতার নামসহ ডাকা হবে; সুতরাং তোমরা সন্তানদের সুন্দর নাম রাখো। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৯৪৮
প্রসঙ্গত জেনে নিই, সুন্দর অর্থবহ যে কোনো ইসলামসম্মত নাম রাখাই বৈধ। তবে নাম রাখার ক্ষেত্রে প্রাধান্যের পর্যায়ক্রম নিম্নরূপ: ১. আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম। হাদীস শরীফে এসেছে-
أَحَبُّ الأَسْمَاءِ إِلَى اللَّهِ عَبْدُ اللَّهِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ.
আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় নাম হল, আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান। -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৮৩৩ (মেয়েদের ক্ষেত্রে এটা হতে পারে- আমাতুল্লাহ, আমাতুর রহমান।) ২. যে নামের মাঝে আল্লাহ তাআলার আবদিয়‍্যাত (দাসত্বের অর্থ) পাওয়া যায় যেমন- আব্দুল আযীয, আব্দুর রহীম, আব্দুস সালাম ইত্যাদি। (মেয়েদের ক্ষেত্রে এটা হতে পারে- আমাতুল আযীয, আমাতুর রহীম, আমাতুস সালাম ইত্যাদি।)
৩. নবী-রাসূলগণের নামানুসারে নাম রাখা। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সন্তান ইবরাহীম জন্ম নেওয়ার পর নবীজী বললেন-
ولِدَ لِي اللَّيْلَةَ غُلَامٌ فَسَمَّيْتُهُ بِاسْمِ أَبِي إِبْرَاهِيمَ .
আজ রাতে আল্লাহ আমাকে একটি ছেলে সন্তান দান করেছেন। আমি পিতা ইবরাহীম আলাইহিস সালামের নামানুসারে তার নাম রেখেছি- ইবরাহীম। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৩১৫
৪. আল্লাহর যে কোনো নেক বান্দার নামানুসারে নাম রাখা; এক্ষেত্রে নবীজীর প্রিয় সাহবীগণের নাম সবার আগে।
৫. ইসলামসম্মত সুন্দর অর্থবোধক যে কোনো নাম। আল্লাহ আমাদেরকে জীবনের সকল বিষয়ে ইসলামের সঠিক জ্ঞান দান করুন- আমীন。

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 সন্তানকে বলা : তুমি আমার লক্ষ্মী!

📄 সন্তানকে বলা : তুমি আমার লক্ষ্মী!


অনেক বাবা-মা সন্তানকে আদর করে বলেন, তুমি আমার লক্ষ্মী! এটি একটি মারাত্মক ভুল কথা যা আকীদা-বিশ্বাসকে কলুষিত করে। এ ধরনের কথা মূলত হিন্দুদের থেকে মুসলমানদের মাঝে সংক্রমিত হয়েছে। লক্ষ্মী হল হিন্দুদের দেবী যাকে হিন্দুরা ধন-ঐশ্বর্য ও সৌভাগ্যের দেবী মনে করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে ভাষার শব্দ-চয়নের সুন্দর-অসুন্দরও শিখিয়েছেন। সেখানে কোনো শব্দের সাথে যদি শিরকের সম্পৃক্ততা থাকে তাহলে তা যে বর্জনীয় একথা বলারই অপেক্ষা রাখে না। সুতরাং এ ধরনের হিন্দুয়ানী কথা বলা থেকে বিরত থাকা জরুরী।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 যে রাস্তায় দাওয়াতের কাজ নিয়ে মানুষ চলে সে রাস্তা অন্যান্য রাস্তার উপর ফখর করতে থাকে

📄 যে রাস্তায় দাওয়াতের কাজ নিয়ে মানুষ চলে সে রাস্তা অন্যান্য রাস্তার উপর ফখর করতে থাকে


মানুষকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার ফযীলত বলতে গিয়ে কেউ কেউ বলে, যে রাস্তায় দাওয়াতের কাজ নিয়ে মানুষ চলে, সে রাস্তা অন্যান্য রাস্তার উপর ফখর করতে থাকে।
এটি একটি সম্পূর্ণ বানোয়াট কথা এবং মনগড়া ফযীলত, যা বলা এবং বিশ্বাস করা যাবে না।
মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকার ফযীলত তো কুরআনে কারীমেই এসেছে- وَ مَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّنْ دَعَا إِلَى اللهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ.
তার চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে ডাকে, সৎকর্ম করে এবং বলে, আমি আনুগত্য স্বীকারকারীদের একজন। -সূরা হা-মীম আসসাজদা (৪১) : ৩৩ হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে- مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى ، كَانَ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ، لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا.
যে ব্যক্তি হেদায়েতের দিকে আহ্বান করল; তার আহ্বানে যত মানুষ সারা দিবে সে এর প্রতিদান পাবে। এতে অনুসরণকারীদের প্রতিদান একটুও কমবে না।-সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬৭৪ আলী রা.-কে একবার নবীজী বললেন- لَأَنْ يُهْدَى بِكَ رَجُلٌ وَاحِدٌ خَيْرٌ لَكَ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ .
তোমার মাধ্যমে একজন লোকও হেদায়েতপ্রাপ্ত হওয়া তোমার জন্য আরবের লাল উটনী অপেক্ষা উত্তম। -সহীহ বুখারী, হাদীস ২৯৪২ এছাড়াও কুরআন-হাদীসে আরো ফযীলত বর্ণিত হয়েছে।
মোটকথা, মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকা অনেক বড় ফযীলতের আমল; কুরআন-হাদীসে এর অনেক ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু যে ফযীলতের কথা কুরআন-হাদীসে নেই; নিজ থেকে বানিয়ে এমন কথা বলা অনেক বড় গুনাহের কাজ। আমরা এ থেকে বিরত থাকব এবং কুরআনে কারীম ও সহীহ হাদীসে বর্ণিত ফযীলতগুলোই বলব; মনগড়া কোনো কিছু বলব না。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00