📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 কা‘বা ঘর নির্মাণের পর বেঁচে যাওয়া বালু/পাথর যেখানে পড়েছে সেখানে মসজিদ হবে

📄 কা‘বা ঘর নির্মাণের পর বেঁচে যাওয়া বালু/পাথর যেখানে পড়েছে সেখানে মসজিদ হবে


কোনো কোনো মানুষকে বলতে শোনা যায়, ইবরাহীম আলাইহিস সালাম কা'বা ঘর নির্মাণের পর কিছু বালু বেঁচে যায়। (কেউ কেউ বলে, পাথর বেঁচে যায়) তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে বললেন, তুমি একটি পাহাড়ে উঠে এ বালু/পাথর ছিটিয়ে দাও। তখন ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তাই করলেন এবং আল্লাহর কুদরতে সেগুলো পৃথিবীর আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ল। পৃথিবীর যে যে স্থানে এই বালুকণা পড়েছে কিয়ামতের আগেই কোনো না কোনো একদিন সেখানে মসজিদ হবে। এটি একটি বানোয়াট কিসসা। এর কোনো দালীলিক ভিত্তি নেই। (আল- কাউসার: সংখ্যা: ০৫: শা'বান-রমযান ১৪৩৮)

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 কবরের সুওয়াল-জওয়াবের সময় কি নবীজীর ছবি দেখিয়ে প্রশ্ন করা হবে?

📄 কবরের সুওয়াল-জওয়াবের সময় কি নবীজীর ছবি দেখিয়ে প্রশ্ন করা হবে?


কোনো কোনো মানুষের ধারণা, কবরে সুওয়াল-জওয়াবের সময় যখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে তখন সরাসরি নবীজীকে দেখিয়ে বা নবীজীর ছবি দেখিয়ে প্রশ্ন করা হবে। তাদের এ ধারণা ভিত্তিহীন।
কুরআন-হাদীসের কোথাও এমন কথা উল্লেখ নেই। ফলে হাদীস বিশারদগণ নবীজীকে দেখানোর কথা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. বলেন-
أَنْ هَذَا لَمْ يَرِدْ فِي خَبَرٍ صَحِيحٍ.
কোনো সহীহ বর্ণনায় একথা উল্লেখ হয়নি। -মাজমূআতুর রাসায়িলিল মুনিরিয়‍্যাহ খ. ৪ (ফাতাওয়া ইবনে হাজার আসকালানী), পৃ. ৪১; শরহুস সুদূর, সুয়ূতী রাহ. পৃ. ১৪৫
এ সংক্রান্ত বর্ণনার هَذَا الرَّجُلُ (এই ব্যক্তি) শব্দ থেকে কেউ কেউ যদিও বলতে চেয়েছেন যে, নবীজীকে দেখানো হবে- কিন্তু তাদের কথা সহীহ নয়। কারণ, সহীহ বুখারীর বর্ণনায় (হাদীস ১৩৩৮) রয়েছে-
مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ؟
এই ব্যক্তি অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্বন্ধে তোমার কী বিশ^াস ছিল?
হযরত মাওলানা তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুমও তাকমিলা ফাতহুল মুলহিমে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন যে, সুওয়াল-জওয়াবের সময় নবীজীর ছবি দেখানো বিষয়ে যে কথা সমাজে প্রচলিত আছে তা দলীলসিদ্ধ নয়। -তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম খ. ৬, পৃ. ২৪১

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 আবু জাহল কি রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা ছিল

📄 আবু জাহল কি রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা ছিল


আরবের মুশরিক গোষ্ঠীর নেতা আবু জাহল, ইসলামের সঙ্গে তার শত্রুতা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি বিদ্বেষ ও বেআদবী সর্বজনবিদিত। তার সম্পর্কে কোনো কোনো মানুষকে বলতে শোনা গেছে যে, সেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা ছিল, যেভাবে আবু লাহাব তাঁর চাচা ছিলেন। এটা ভুল। আবু লাহাব খাজা আবদুল্লাহর ভাই এবং রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা ছিলেন। কিন্ত আবু জাহল কোরাইশ বংশের লোক হলেও আবদুল মুত্তালিবের সন্তান ছিল না। আবু জাহলের বংশধারা এই-"আবু জাহল আমর ইবনে হিশাম ইবনে মুগিরা ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে মাখ্যুম"। (উমদাতুল কারী, খন্ড : ১৭, পৃষ্ঠা : ৮৪)

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 খাজা আবদুল্লাহ কি ভাইদের মধ্যে সবার বড় ছিলেন

📄 খাজা আবদুল্লাহ কি ভাইদের মধ্যে সবার বড় ছিলেন


উর্দু বা বাংলা ভাষায় রচিত সীরাতের কিতাবসমূহে লেখা থাকে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা নয়জন। যেহেতু পিতার বড় ভাইদেরকে 'তায়া' বাংলায় জ্যাঠা বলা হয় তাই কারো কারো ধারণা হয়েছে যে, খাজা আবদুল্লাহ (রাসূলুল্লাহর পিতা) বয়সের দিক থেকে আবদুল মুত্তালিবের সন্তানদের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। এই ধারণা ঠিক নয়। আবদুল মুত্তালিবের পুত্রদের মধ্যে সবার বড় হলেন হারিস। (সুবুলুল্-হুদা ওয়ার-রাশাদ, খন্ড : ১১, পৃষ্ঠা : ৮২)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00