📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 আঠারো হাজার মাখলুকাত

📄 আঠারো হাজার মাখলুকাত


লোকমুখে আঠারো হাজার মাখলুকাত এর কথা এতই প্রসিদ্ধ যে, অনেকের কাছে তা কোরআন হাদীসের বাণী'র মতো মনে হয়। কিন্তু মাখলুকাতের এই নির্দিষ্ট সংখ্যা না কোরআনে আছে না হাদীসের কোন কিতাবে আছে। বাস্তবতা হলো, আল্লাহ তায়ালা অগণিত মাখলুক সৃষ্টি করেছেন এবং তার নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ভরযোগ্য কোনো বর্ণনায় বর্ণিত হয়নি।
এই কারণে এর কোনোটিকেই প্রমাণিত সত্য মনে করার কোনো কারণ নেই; বরং এ বিষয়ে ইবনে কাসীর রহমতুল্লাহি আলাইহি এর কথাটি মূলকথা; যা তিনি আবুল আলিয়ার কথাটি পূর্ণভাবে উদ্ধৃত করার পর বলেছেন। আর তা হল,
وهذا كلام غريب يحتاج إلى دليل صحيح .
অর্থাৎ এটি এমন একটি আজব কথা, যার জন্য বিশুদ্ধ দলিলের প্রয়োজন রয়েছে। (তাফসীরে ইবনে কাসীর:১/২৬; আল মাওযূআত: ইবনুল জাওযী:২/২১৬; আল ফাওয়ায়িদুল মাজমূআ:৪৫৮-৪৫৯)
অতএব আঠারো হাজার নয়; বরং বলা উচিত যে, আল্লাহ তাআলা অসংখ্য অগণিত মাখলুক সৃষ্টি করেছেন, যা আমরা গণনা ও হিসাব করে শেষ করতে পারবো না।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 পরকালে লাইলি মজনুর বিয়েতে শরীক হওয়া

📄 পরকালে লাইলি মজনুর বিয়েতে শরীক হওয়া


অনেক মানুষকে বলতে শোনা যায়, যে ব্যক্তি জীবনে কখনো দাড়ি কাটবে না সে ব্যক্তি পরকালে লাইলি মজনুর বিয়েতে শরিক হতে পারবে।
এটি একটি ভুল বিশ্বাস। আমাদের সমাজের সাধারণ মানুষের অনেকেই এই ভুল ধারণাটি পোষণ করে থাকে, যা একেবারেই ভিত্তিহীন।
প্রথমত পরকালে লাইলি-মজনুর বিয়ের কথাটি একটি ভিত্তিহীন কথা। এরপর দাড়ি কাটা না কাটার সাথে এর সম্পৃক্ততা একেবারেই কল্পনাপ্রসূত।
দাড়ি রাখা ও না রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধ করার জন্য অনেক সহীহ হাদীস রয়েছে। এছাড়া এটি সকল নবী আলাইহিমুস সালাম এর সুন্নত ছিল। একে মুসলমানের ফিতরত বলা হয়েছে। এ কথাগুলো বলেই দাড়ি রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা উচিত। দাড়ি রাখা ওয়াজিব। এক মুষ্টির কম রাখা নাজায়েজ তথা হারাম। লক্ষণীয় বিষয় হলো এগুলো ভিত্তিহীন কথাবার্তা। এগুলোর কোনো সঠিক প্রমাণাদি পাওয়া যায় না。

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 কা‘বা ঘর নির্মাণের পর বেঁচে যাওয়া বালু/পাথর যেখানে পড়েছে সেখানে মসজিদ হবে

📄 কা‘বা ঘর নির্মাণের পর বেঁচে যাওয়া বালু/পাথর যেখানে পড়েছে সেখানে মসজিদ হবে


কোনো কোনো মানুষকে বলতে শোনা যায়, ইবরাহীম আলাইহিস সালাম কা'বা ঘর নির্মাণের পর কিছু বালু বেঁচে যায়। (কেউ কেউ বলে, পাথর বেঁচে যায়) তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে বললেন, তুমি একটি পাহাড়ে উঠে এ বালু/পাথর ছিটিয়ে দাও। তখন ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তাই করলেন এবং আল্লাহর কুদরতে সেগুলো পৃথিবীর আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ল। পৃথিবীর যে যে স্থানে এই বালুকণা পড়েছে কিয়ামতের আগেই কোনো না কোনো একদিন সেখানে মসজিদ হবে। এটি একটি বানোয়াট কিসসা। এর কোনো দালীলিক ভিত্তি নেই। (আল- কাউসার: সংখ্যা: ০৫: শা'বান-রমযান ১৪৩৮)

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 কবরের সুওয়াল-জওয়াবের সময় কি নবীজীর ছবি দেখিয়ে প্রশ্ন করা হবে?

📄 কবরের সুওয়াল-জওয়াবের সময় কি নবীজীর ছবি দেখিয়ে প্রশ্ন করা হবে?


কোনো কোনো মানুষের ধারণা, কবরে সুওয়াল-জওয়াবের সময় যখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে তখন সরাসরি নবীজীকে দেখিয়ে বা নবীজীর ছবি দেখিয়ে প্রশ্ন করা হবে। তাদের এ ধারণা ভিত্তিহীন।
কুরআন-হাদীসের কোথাও এমন কথা উল্লেখ নেই। ফলে হাদীস বিশারদগণ নবীজীকে দেখানোর কথা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. বলেন-
أَنْ هَذَا لَمْ يَرِدْ فِي خَبَرٍ صَحِيحٍ.
কোনো সহীহ বর্ণনায় একথা উল্লেখ হয়নি। -মাজমূআতুর রাসায়িলিল মুনিরিয়‍্যাহ খ. ৪ (ফাতাওয়া ইবনে হাজার আসকালানী), পৃ. ৪১; শরহুস সুদূর, সুয়ূতী রাহ. পৃ. ১৪৫
এ সংক্রান্ত বর্ণনার هَذَا الرَّجُلُ (এই ব্যক্তি) শব্দ থেকে কেউ কেউ যদিও বলতে চেয়েছেন যে, নবীজীকে দেখানো হবে- কিন্তু তাদের কথা সহীহ নয়। কারণ, সহীহ বুখারীর বর্ণনায় (হাদীস ১৩৩৮) রয়েছে-
مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ؟
এই ব্যক্তি অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্বন্ধে তোমার কী বিশ^াস ছিল?
হযরত মাওলানা তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুমও তাকমিলা ফাতহুল মুলহিমে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন যে, সুওয়াল-জওয়াবের সময় নবীজীর ছবি দেখানো বিষয়ে যে কথা সমাজে প্রচলিত আছে তা দলীলসিদ্ধ নয়। -তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম খ. ৬, পৃ. ২৪১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00