📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 সুলাইমান আঃ এর অনুষ্ঠান

📄 সুলাইমান আঃ এর অনুষ্ঠান


লোকমুখে প্রচুর পরিমাণে প্রসিদ্ধ রযেছে যে, হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম একবার আল্লাহ তালাকে বললেন, হে আল্লাহ! আমি সকল সৃষ্টিকে এক বছর খাওয়াতে চাই। আল্লাহ তাআলা বললেন, হে সুলাইমান! তুমি এটা পারবে না। তখন সুলাইমান আলাইহিস সালাম বললেন, হে আল্লাহ! তাহলে এক সপ্তাহ। আল্লাহ বললেনঃ তুমি তা পারবে না। তখন সুলাইমান আলাইহিস সালাম পুনরায় আবার বললেন, হে আল্লাহ! তাহলে অন্তত একদিন। আল্লাহ তাআলা বললেন-হে সুলাইমান! তুমি এটাও পারবে না। একপর্যায়ে আল্লাহ একবেলার অনুমতি দিলেন। অতঃপর সুলাইমান আলাইহিস সালাম জিন ও মানুষকে হুকুম করলেন পৃথিবীতে যত প্রকার খাদ্যশস্য আছে এবং হালাল প্রাণী আছে তা উপস্থিত করো। তারা ছয় মাস পর্যন্ত তা জমা করলো। এরপর বিশাল বিশাল তৈরি করা হলো এবং ছয় মাস পর্যন্ত রান্না করা হলো। এরপর বাতাসকে আদেশ করা হল সে যেন খাদ্যের উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। যাতে খাবার নষ্ট না হয়। তারপর খাবারগুলো সুবিস্তৃত জমিনে রাখা হলো। যে জমিনে খাবার রাখা হলো তার দৈর্ঘ্য ছিল দুই মাসের পথ। খাবার প্রস্তুত শেষ হলে, আল্লাহ বললেন, হে সুলাইমান! কোন প্রাণী দিয়ে শুরু করবে? সুলাইমান আলাইহিস সালাম বললেন সমুদ্রের প্রাণী দিয়ে। আল্লাহ তাআলা সাগরের একটি বড় মাছকে বললেন যাও সুলাইমান এর অনুষ্ঠান খেয়ে আসো। তখন মাছটি সমুদ্র থেকে মাথা উঠিয়ে বলল, হে আল্লাহর নবী সুলাইমান! আপনি কি অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, এইতো খাবার প্রস্তুত, তুমি শুরু করো। তখন সে খাওয়া শুরু করলো এবং খেতে খেতে খাবারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পৌছে গেল। সব খাবার শেষ করে ফেললো। তারপর বললো, আমাকে আরো খাবার দিন। আমি এখনো তৃপ্ত হয়নি। তখন সুলাইমান আলাইহিস সালাম বললেন, তুমি সব খাবার খেয়েছ। তাও তোমার পেট ভরেনি? তখন মাছ বলল মেজবান কি মেহমানের সাথে এভাবে কথা বলে? হে আল্লাহর নবী সুলাইমান! শুনে রাখুন আমার রব আমাকে প্রতিদিন এর তিনগুণ খাবার দেন। আপনি যে খাবার প্রস্তুত করেছেন এগুলো তো আমার একভাগ। আজ আপনার কারণে আমাকে কম খেতে হল। একথা শুনে সুলাইমান আলাইহিস সালাম সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন।
এই ঘটনাটি একটি ভিত্তিহীন ও বানোয়াট ঘটনা। এই ঘটনাটি হাদিস, তাফসির কিংবা ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য কোন গ্রন্থে এর কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায় না। তাছাড়া এই ঘটনার মাঝে এমন কিছু বিষয় আছে যা দ্বারা ঘটনাটি ভিত্তিহীন প্রমাণ করে। যা নিম্নরূপ:
প্রথম: একজন নবী এমন উদ্ভট ও অযৌক্তিক আবদার করবেন তা হতে পারে না। এর অর্থ দবারায় আল্লাহর মাখলুক সম্পর্কে তার ন্যূনতম ধারণা নাই। একজন নবীর ব্যাপারে এরকম ধারণা করা সমীচীন নয়।
দ্বিতীয়: আল্লাহ তাআলা নিষেধ করার পরেও একজন নবী এরকম আবদার করতে থাকবেন। আর আল্লাহ তাআলা তাকে এমন অযুক্তিক বিষয়ের অনুমতি দিবেন, তা কিভাবে সম্ভব হয়?
তৃতীয়: পৃথিবীর সকল প্রাণী কী রান্না করা খাবার খায়? ঘটনায় বলা হযেছে, খাবার যে জমিনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়.কেছে তার দৈর্ঘ্য দুই মাসের পথ। মাছটি কি দুই মাসের পথ মুহূর্তেই অতিক্রম করে ফেলল বা এত দীর্ঘ পথ জলের প্রাণী থাকলো কিভাবে?
চতুর্থ: যে মাছের পেটে এত খাবার সংকুলান হয় সে মাছটি কত বড়?
পঞ্চম: শুধু বাতাস প্রবাহিত হওয়াই কি রান্না করা খাদ্য নষ্ট না হওয়ার জন্য যথেষ্ট? এ ধরণের মিথ্যা ও অযুক্তিক ঘটনা বর্ণনা করা যেমন বৈধ নয় তেমন বিশ্বাস করাটা ও মূর্খ ছাড়া অন্য কোন কিছু নয়। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে এই সমস্ত ঘটনা এবং বিশ্বাস করা থেকে হেফাজত করুন。

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 আঠারো হাজার মাখলুকাত

📄 আঠারো হাজার মাখলুকাত


লোকমুখে আঠারো হাজার মাখলুকাত এর কথা এতই প্রসিদ্ধ যে, অনেকের কাছে তা কোরআন হাদীসের বাণী'র মতো মনে হয়। কিন্তু মাখলুকাতের এই নির্দিষ্ট সংখ্যা না কোরআনে আছে না হাদীসের কোন কিতাবে আছে। বাস্তবতা হলো, আল্লাহ তায়ালা অগণিত মাখলুক সৃষ্টি করেছেন এবং তার নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ভরযোগ্য কোনো বর্ণনায় বর্ণিত হয়নি।
এই কারণে এর কোনোটিকেই প্রমাণিত সত্য মনে করার কোনো কারণ নেই; বরং এ বিষয়ে ইবনে কাসীর রহমতুল্লাহি আলাইহি এর কথাটি মূলকথা; যা তিনি আবুল আলিয়ার কথাটি পূর্ণভাবে উদ্ধৃত করার পর বলেছেন। আর তা হল,
وهذا كلام غريب يحتاج إلى دليل صحيح .
অর্থাৎ এটি এমন একটি আজব কথা, যার জন্য বিশুদ্ধ দলিলের প্রয়োজন রয়েছে। (তাফসীরে ইবনে কাসীর:১/২৬; আল মাওযূআত: ইবনুল জাওযী:২/২১৬; আল ফাওয়ায়িদুল মাজমূআ:৪৫৮-৪৫৯)
অতএব আঠারো হাজার নয়; বরং বলা উচিত যে, আল্লাহ তাআলা অসংখ্য অগণিত মাখলুক সৃষ্টি করেছেন, যা আমরা গণনা ও হিসাব করে শেষ করতে পারবো না।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 পরকালে লাইলি মজনুর বিয়েতে শরীক হওয়া

📄 পরকালে লাইলি মজনুর বিয়েতে শরীক হওয়া


অনেক মানুষকে বলতে শোনা যায়, যে ব্যক্তি জীবনে কখনো দাড়ি কাটবে না সে ব্যক্তি পরকালে লাইলি মজনুর বিয়েতে শরিক হতে পারবে।
এটি একটি ভুল বিশ্বাস। আমাদের সমাজের সাধারণ মানুষের অনেকেই এই ভুল ধারণাটি পোষণ করে থাকে, যা একেবারেই ভিত্তিহীন।
প্রথমত পরকালে লাইলি-মজনুর বিয়ের কথাটি একটি ভিত্তিহীন কথা। এরপর দাড়ি কাটা না কাটার সাথে এর সম্পৃক্ততা একেবারেই কল্পনাপ্রসূত।
দাড়ি রাখা ও না রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধ করার জন্য অনেক সহীহ হাদীস রয়েছে। এছাড়া এটি সকল নবী আলাইহিমুস সালাম এর সুন্নত ছিল। একে মুসলমানের ফিতরত বলা হয়েছে। এ কথাগুলো বলেই দাড়ি রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা উচিত। দাড়ি রাখা ওয়াজিব। এক মুষ্টির কম রাখা নাজায়েজ তথা হারাম। লক্ষণীয় বিষয় হলো এগুলো ভিত্তিহীন কথাবার্তা। এগুলোর কোনো সঠিক প্রমাণাদি পাওয়া যায় না。

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 কা‘বা ঘর নির্মাণের পর বেঁচে যাওয়া বালু/পাথর যেখানে পড়েছে সেখানে মসজিদ হবে

📄 কা‘বা ঘর নির্মাণের পর বেঁচে যাওয়া বালু/পাথর যেখানে পড়েছে সেখানে মসজিদ হবে


কোনো কোনো মানুষকে বলতে শোনা যায়, ইবরাহীম আলাইহিস সালাম কা'বা ঘর নির্মাণের পর কিছু বালু বেঁচে যায়। (কেউ কেউ বলে, পাথর বেঁচে যায়) তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে বললেন, তুমি একটি পাহাড়ে উঠে এ বালু/পাথর ছিটিয়ে দাও। তখন ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তাই করলেন এবং আল্লাহর কুদরতে সেগুলো পৃথিবীর আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ল। পৃথিবীর যে যে স্থানে এই বালুকণা পড়েছে কিয়ামতের আগেই কোনো না কোনো একদিন সেখানে মসজিদ হবে। এটি একটি বানোয়াট কিসসা। এর কোনো দালীলিক ভিত্তি নেই। (আল- কাউসার: সংখ্যা: ০৫: শা'বান-রমযান ১৪৩৮)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00