📄 রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় কি দর্জি ছিল না?
কয়েকদিন পূর্বে এক ভাই ফোনে জিজ্ঞাসা করলেন, আমরা তো জানতাম সাহাবীগণ কাপড় কোনো রকম শরীরে বেঁধেই পোশাকের কাজ সারতেন। হঠাৎ ওই দিন একজন বললেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাকি একটি জুববা ছিল। আমার কাছে বড় আশ্চর্য মনে হল যে, সে যামানায় আবার দর্জি কোথায় ছিল? জুববাই বা কীভাবে তৈরি হবে!
তাকে উত্তরে বলা হল, এ ধারণা ঠিক নয়। দর্জি পেশা অনেক আগ থেকেই আছে। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায়ও ছিল। এটি একটি বাস্তব ইতিহাস। তাছাড়া বিভিন্ন সহীহ হাদীসেও বিষয়টি উদ্ধৃত আছে। বুখারী শরীফ, বুয়ু' অধ্যায়ে হাদীস নং: ২০৯২ এ সে যুগের এক দর্জির আলোচনা রয়েছে。
📄 কিয়ামতের দিন কি নবীজী তিন স্থানে বেহুশ হবেন? (নাউযুবিল্লাহ)
মীযান, আমলনামা ও পুলসিরাতের ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে কাউকে বলতে শোনা গেছে, এই তিন স্থানে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত এই তিন স্থানে বেহুশ হয়ে যাবেন (নাউযুবিল্লাহ)।
এ কথার কোনোই ভিত্তি নেই। এ ধরণের কথা বলা মারাত্নক গুনাহের কাজ। বরং হাদীস শরীফে তো এসেছে, হযরত আনাস রা. বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কিয়ামতের দিন আমার জন্য সুপারিশের আবেদন জানালাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (হ্যাঁ) আমি তোমার জন্য সুপারিশ করব। আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল! আমি (সেদিন) আপনাকে কোথায় খুঁজব। নবীজী বললেন, প্রথমে (পুল) সিরাতের কাছে খুঁজবে। বললাম, সেখানে যদি আপনার সাথে আমার সাক্ষাৎ না হয় তাহলে কোথায় খুঁজব? তিনি বললেন, তাহলে আমাকে মীযানের কাছে খুঁজবে। আমি বললাম, সেখানেও যদি আপনাকে না পাই? নবীজী বললেন, তাহলে হাউজের (হাউজে কাউসার) কাছে খুঁজবে। কারণ আমি সেদিন এই তিন স্থানের কোনো না কোনো স্থানে থাকবই।[-জামে তিরমিযী, হাদীস: ২৪৩৩; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস: ১২৮২৫]
এর চেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেহুশ হবেন না। হাশরের ময়দানে যখন আল্লাহ তাআলা কঠিন ক্রোধের অবস্থায় থাকবেন। মানুষ সুপারিশের জন্য বড় বড় নবীগণের কাছে যাবে, সকলে অপারগতা প্রকাশ করবেন। অবশেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলে তিনি সুপারিশ করবেন (বিস্তারিত: জামে তিরমিযী, হাদীস : ২৪৩৪; সহীহ বুখারী, হাদীস : ৩৩৪০)
হ্যাঁ, একথা ঠিক যে, এ সকল স্থানে বান্দাদের অবস্থা অনেক নাজুক ও ভয়াবহ হবে। কিন্তু এ তিন স্থানে নবীজী বেহুশ হয়ে যাবেন এ কথা একেবারেই অবাস্তব。
📄 নবীজী কি জন্মের সাথে সাথে উঠে আল্লাহকে সিজদা করেছিলেন ?
লোকমুখে প্রসিদ্ধ, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাকি জন্মের পরপরই উঠে আল্লাহ তাআলাকে সিজদা করেছিলেন এবং কাপড় পরতে চেয়েছিলেন। যখন ভূমিষ্ঠ হন তখন ঘরে আলো না থাকায় আকাশের চাঁদ নিচে নেমে এসে মা আমেনার ঘরে আলো দিয়েছিল।
কথাগুলো শুনতে ভালো লাগলেও এর কোনো দালীলিক ভিত্তি নেই। নির্ভরযোগ্য কোনো বর্ণনায় তা পাওয়া যায় না। অবশ্য সহীহ হাদীসে এটা পাওয়া যায় যে, “নবীজী বলেছেন, আমি সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপ যা আমার মাতা দেখেছিলেন- তাঁর থেকে একটি নূর বের হয়, যার আলোয় সিরিয়ার প্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়ে যায়”। এ ধরনের স্বপ্ন নবী-জননীগণ (নবীদের জন্মের আগে) দেখে থাকেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আম্মা তাঁকে জন্মদানের সময় এক নূর দেখতে পান, যার আলোয় সিরিয়ার প্রাসাদসমূহ তাঁর সামনে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৭১৬৩; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ৪১৭৫; আলমুজামুল কাবীর, তবারানী, হাদীস ৬২৯; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৬৪০৪; শুআবুল ঈমান, বায়হাকী, হাদীস ১৩২২; মুসনাদে বাযযার, হাদীস ৪১৯৯; আলখাসাইসুল কুবরা ১/৮২-৮৩
📄 পৃথিবীর ষাঁড়ের শিং এর উপর
প্রায় মানুষকে একটি বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কথা বলতে শোনা যায় যে, পৃথিবী একটি পাথরের উপর। পাথরটি একটি ষাঁড়ের শিং এর উপর। যখন ষাঁড়টি শিং হেলায় তখন পাথর নড়ে ওঠে, সাথে সাথে পৃথিবী প্রকম্পিত হয়। আর এটাই হচ্ছে ভূমিকম্প।
আবার অনেকে এটাকে হাদিস বলে মনে করে থাকে। বাস্তব কথা হল এটা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস নয়। হাদিসের নবীর সাথে এর আদৌ কোনো সম্পর্ক নেই।
আল্লামা ইবনুল কাইয়ুম রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ও ইমাম আবু হায়্যান রহঃ প্রমুখ হাদীস বিশারদগণ একে বানোয়াট ও জাল বলেছেন। (আল মানারুল মুনীফ:৭৮)