📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 হযরত মা ফাতেমার শাড়ি

📄 হযরত মা ফাতেমার শাড়ি


মা ফাতেমার শাড়ি নামে একটি মিথ্যা ঘটনা আমাদের সমাজে বিশেষ করে গ্রামের মহিলাদের নিকট খুব আলোচিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মেয়ে উম্মে কুলসুম (রা.) যিনি হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর স্ত্রী ছিলেন। হযরত ওসমান গনি রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রী হওয়ার কারণে উম্মে কুলসুম রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা ছিলেন অনেক সম্পদের অধিকারীনী। অপরদিকে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অপর কন্যা তার কলিজার টুকরা হযরত ফাতেমা রাযিআল্লাহু তা'আলা আনহা ছিলেন অত্যন্ত গরীব। তার স্বামী হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন সহায়-সম্বলহীন।
উম্মে কুলসুম রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু মদিনার মহিলাদেরকে দাওয়াত করেছিলেন। কিন্তু আপন বোন ফাতেমাকে দাওয়াত করেননি, কারণ ফাতেমা রাযিআল্লাহু আনহা গরিব হওয়ায় তার উপযুক্ত এমন কোনো পোশাক ছিল না, যা পরিধান করে এত বড় দাওয়াতের মজলিসে তিনি হাজির হতে পারেন। ফাতেমাকে দাওয়াত করলে সে পুরানো তালি দেওয়া পোশাক পড়ে আসলে উম্মে কুলসুমের মান ইজ্জত চলে যাবে (নাউজুবিল্লাহ!) এজন্য তিনি তাকে দাওয়াত করেন নি
ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহা যখন জানতে পারলেন তার আপন বোন মদিনার সব মহিলাকে দাওয়াত করেছেন, কিন্তু তাকে দাওয়াত করেননি। তখন তার মনে খুব ব্যথা লাগল। তিনি মনের দুঃখে কেঁদে ফেললেন। অপরদিকে দাওয়াতি মেহমানরা যখন উম্মে কুলসুমের বাড়িতে খেতে বসে তখন তারা দেখে যে, পাকানোর সব ভাত চাল হয়ে গেছে। আর সব গোশত পাথর হয়ে গেছে। ইত্যাদি ইত্যাদি.......... ঘটনাটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। ইতিহাস কিংবা সীরাত গ্রন্থের কোথাও এর কোন অস্তিত্ব নেই। উপরুক্ত বানানো ঘটনার দ্বারা নবী করিম সাঃ এর প্রিয় কন্যা বিশিষ্ট সাহাবীয়া হযরত উম্মে কুলসুম এর উপর একটি মিথ্যা অপবাদ ও কালিমা লেপন করা হয়, যা নিঃসন্দেহে গুনাহে কবিরা গুনাহ। যারা এগুলো প্রচার করে, শুনে ও বিশ্বাস করে তারা সবাই এ কবীরা গুনাহে লিপ্ত। অথচ এগুলো সবই বানোয়াট কথাবার্তা, যার কোন প্রমাণাদি নেই。

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 নবীজীকে হুসাইন রা.-এর প্রশ্ন- নানাজী! আপনি বড় না আমি বড়?

📄 নবীজীকে হুসাইন রা.-এর প্রশ্ন- নানাজী! আপনি বড় না আমি বড়?


একবার হাসান-হুসাইন নবীজীর সাথে খেলা করছিল। হঠাৎ হুসাইন নবীজীর কোলে বসে বলল, নানাজী! বলুন তো, আপনি বড় না আমি বড়! ছোট্ট নাতীর এমন প্রশ্ন শুনে নবীজী আশ্চর্য হলেন। বললেন, আমি বড়! হুসাইন বলল, না, আমি বড়! নবীজী বললেন, বুঝলাম তুমি বড়; কিন্তু কীভাবে?
হুসাইন তখন প্রশ্ন করল, বলুন তো আপনার পিতার নাম কী? নবীজী বললেন, আব্দুল্লাহ। হুসাইন বলল, আর আমার পিতার নাম জানেন? আমার পিতা হলেন, আসাদুল্লাহিল গালিব আলী ইবনে আবি তালিব।
হুসাইন আবার প্রশ্ন করল, আপনার মায়ের নাম কী? নবীজী বললেন, আমেনা। হুসাইন তখন বলল, আর আমার মায়ের নাম জানেন? আমার মা হলেন, সায়্যিদাতু নিসা-ই আহলিল জান্নাহ-জান্নাতের রমনীদের সরদার ফাতিমাতুয যাহরা।
হুসাইন আবার প্রশ্ন করল, আপনার নানীর নাম বলেন। নবীজী নিজের নানীর নাম বললে হুসাইন বলল, আর আমার নানীকে চিনেন? আমার নানী হলেন ঐ নারী, যাকে আল্লাহ সালাম পাঠিয়েছেন। খাদিজাতুল কুবরা।
এবার প্রশ্ন করল, বলুন তো আপনার নানার নাম কী? নবীজী নিজের নানার নাম বললে হুসাইন বলল, আর আমার নানা কে জানেন? আমার নানা হলেন, দোজাহানের সরদার, সায়্যিদুল মুরসালীন, খাতামুন্নাবিয়্যীন মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
কিছু কিছু অসতর্ক বক্তার মুখে খুব চটকদার উপস্থাপনায় এ কিসসাটি শোনা যায়। কিন্তু এর নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র নেই। এটি একটি বানোয়াট কিসসা। সুতরাং আমরা এটা বলা থেকে বিরত থাকব। (আল- কাউসার: সংখ্যা: ১১: রবিউল আউয়াল ১৪৪০)

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় কি দর্জি ছিল না?

📄 রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় কি দর্জি ছিল না?


কয়েকদিন পূর্বে এক ভাই ফোনে জিজ্ঞাসা করলেন, আমরা তো জানতাম সাহাবীগণ কাপড় কোনো রকম শরীরে বেঁধেই পোশাকের কাজ সারতেন। হঠাৎ ওই দিন একজন বললেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাকি একটি জুববা ছিল। আমার কাছে বড় আশ্চর্য মনে হল যে, সে যামানায় আবার দর্জি কোথায় ছিল? জুববাই বা কীভাবে তৈরি হবে!
তাকে উত্তরে বলা হল, এ ধারণা ঠিক নয়। দর্জি পেশা অনেক আগ থেকেই আছে। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায়ও ছিল। এটি একটি বাস্তব ইতিহাস। তাছাড়া বিভিন্ন সহীহ হাদীসেও বিষয়টি উদ্ধৃত আছে। বুখারী শরীফ, বুয়ু' অধ্যায়ে হাদীস নং: ২০৯২ এ সে যুগের এক দর্জির আলোচনা রয়েছে。

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 কিয়ামতের দিন কি নবীজী তিন স্থানে বেহুশ হবেন? (নাউযুবিল্লাহ)

📄 কিয়ামতের দিন কি নবীজী তিন স্থানে বেহুশ হবেন? (নাউযুবিল্লাহ)


মীযান, আমলনামা ও পুলসিরাতের ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে কাউকে বলতে শোনা গেছে, এই তিন স্থানে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত এই তিন স্থানে বেহুশ হয়ে যাবেন (নাউযুবিল্লাহ)।
এ কথার কোনোই ভিত্তি নেই। এ ধরণের কথা বলা মারাত্নক গুনাহের কাজ। বরং হাদীস শরীফে তো এসেছে, হযরত আনাস রা. বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কিয়ামতের দিন আমার জন্য সুপারিশের আবেদন জানালাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (হ্যাঁ) আমি তোমার জন্য সুপারিশ করব। আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল! আমি (সেদিন) আপনাকে কোথায় খুঁজব। নবীজী বললেন, প্রথমে (পুল) সিরাতের কাছে খুঁজবে। বললাম, সেখানে যদি আপনার সাথে আমার সাক্ষাৎ না হয় তাহলে কোথায় খুঁজব? তিনি বললেন, তাহলে আমাকে মীযানের কাছে খুঁজবে। আমি বললাম, সেখানেও যদি আপনাকে না পাই? নবীজী বললেন, তাহলে হাউজের (হাউজে কাউসার) কাছে খুঁজবে। কারণ আমি সেদিন এই তিন স্থানের কোনো না কোনো স্থানে থাকবই।[-জামে তিরমিযী, হাদীস: ২৪৩৩; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস: ১২৮২৫]
এর চেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেহুশ হবেন না। হাশরের ময়দানে যখন আল্লাহ তাআলা কঠিন ক্রোধের অবস্থায় থাকবেন। মানুষ সুপারিশের জন্য বড় বড় নবীগণের কাছে যাবে, সকলে অপারগতা প্রকাশ করবেন। অবশেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলে তিনি সুপারিশ করবেন (বিস্তারিত: জামে তিরমিযী, হাদীস : ২৪৩৪; সহীহ বুখারী, হাদীস : ৩৩৪০)
হ্যাঁ, একথা ঠিক যে, এ সকল স্থানে বান্দাদের অবস্থা অনেক নাজুক ও ভয়াবহ হবে। কিন্তু এ তিন স্থানে নবীজী বেহুশ হয়ে যাবেন এ কথা একেবারেই অবাস্তব。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00