📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 দুনিয়া সৃষ্টির পর থেকে আল্লাহ একবারের জন্যও এর দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকান নাই

📄 দুনিয়া সৃষ্টির পর থেকে আল্লাহ একবারের জন্যও এর দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকান নাই


কোনো কোনো মানুষকে বলতে শোনা যায়, দুনিয়া আল্লাহ্‌র কাছে এতই ঘৃণিত যে, দুনিয়া সৃষ্টির পর থেকে আল্লাহ একবারও এর দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকান নাই।
এটি একটি ভুল কথা। এ কথার কোনো ভিত্তি নেই। কারো কারো বলার ধরন থেকে তো মনে হয়- এটি একটি হাদীস। কিন্তু মূলতঃ এটি একটি অবাস্তব ও অমূলক বক্তব্য।
আল্লাহ তাআলা যদি দুনিয়ার দিকে রহমতের দৃষ্টিতে না তাকাতেন তাহলে মানুষ কি এ দুনিয়ায় বসবাস করতে পারত? আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের হেদায়েতের জন্য কিতাব নাযিল করা এবং নবী-রাসূল প্রেরণ কি দুনিয়ার দিকে রহমতের দৃষ্টি দেওয়া নয়?
আল্লাহ দুনিয়ার দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং রহমত নাযিল করেন। প্রমাণ হিসেবে এ সম্পর্কে দু-একটি হাদীস পেশ করা যায়। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
يَطلُعُ اللَّهُ إِلَى خَلْقِهِ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلَّا لِمُشْرِكِ أَوْ مُشَاحِنِ
আল্লাহ তাআলা অর্ধ শা'বানের রাতে (শা'বানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতে) সৃষ্টির প্রতি (রহমতের) দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষপোষণকারী ব্যতীত আর সবাইকে ক্ষমা করে দেন। -সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৫৬৬৫; শুআবুল ঈমান, বায়হাকী, হাদীস ৩৫৫২; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৬৬৪২
আবু হুরাইরা রা.-
سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : جَعَلَ اللهُ الرَّحْمَةَ مِائَةَ جُزْء، فَأَمْسَكَ عِنْدَهُ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ جُزْءًا ، وَأَنْزَلَ فِي الْأَرْضِ جُزْءًا وَاحِدًا ، فَمِنْ ذلِكَ الجُزْءِ يَتَرَاحَمُ الخَلْقُ ...
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আল্লাহ স্বীয় রহমতকে এক শ ভাগে ভাগ করেছেন। নিজের কাছে নিরানব্বই ভাগ রেখে দিয়েছেন আর একভাগ পৃথিবীতে নাযিল করেছেন। সেই একভাগ রহমত দ্বারা মানুষ পরস্পরের প্রতি দয়া করে। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৬০০০
এ বিষয়ে আরও অনেক প্রমাণ রয়েছে। সুতরাং আমরা এমন অমূলক কথা বলব না।
আসলে আল্লাহর কাছে দুনিয়া তুচ্ছ ও মূল্যহীন; এর পিছে পড়ে আখেরাতকে বরবাদ করা ঠিক নয়- এ কথা বলতে গিয়েই হয়ত কেউ কেউ এ বাক্যের অবতারণা করেছেন। অথচ এ বিষয়ে কুরআনের আয়াত ও বহু হাদীস রয়েছে; আমরা সেগুলোই বলব। নিম্নে এর কয়েকটি তুলে ধরছি। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
وَفَرِحُوا بِالْحَيُوةِ الدُّنْيَا وَمَا الْحَيُوةُ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا مَتَاعٌ
কিন্তু এরা পার্থিব জীবনে উল্লসিত, অথচ দুনিয়ার জীবন আখেরাতের তুলনায় ক্ষণস্থায়ী ভোগমাত্র। -সূরা রা'দ (১৩): ২৬
সাহল ইবনে সা'দ রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
لَوْ كَانَتِ الدُّنْيَا تَعْدِلُ عِنْدَ اللهِ جَنَاحَ بَعُوضَةٍ مَا سَقَى كَافِرًا مِنْهَا شَرْبَةً مَاءٍ .
দুনিয়ার মূল্য যদি আল্লাহ্র কাছে মশার ডানা বরাবর হত তাহলে আল্লাহ কোনো অবিশ্বাসী কাফেরকে এক ঢোক পানিও পান করতে দিতেন না। - জামে তিরমিযী, হাদীস ২৩২০
জাবের রা. বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাজারে গেলেন। তিনি একটি খাটো কানবিশিষ্ট মৃত ছাগলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি এর কান ধরে বললেন, কে আছ মাত্র এক দিরহামের বিনিময়ে এটা নিবে? সাহাবীগণ বললেন, সামান্য কিছুর বিনিময়েও কেউ এটা নিতে পছন্দ করবে না। আমরা এটা নিয়ে কী করব? এবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বিনামূল্যেও কি কেউ এটা নিতে পছন্দ করবে? সাহাবীগণ বললেন, এটা তো খাটো কানবিশিষ্ট। জীবিত হলেও এটি একটি ত্রুটি; সেখানে মৃত!! তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
فَوَاللَّهِ لَلدُّنْيَا أَهْوَنُ عَلَى اللَّهِ، مِنْ هَذَا عَلَيْكُمْ
আল্লাহর কসম! তোমাদের কাছে এটা যেমন মূল্যহীন, আল্লাহর কাছে দুনিয়া এর চেয়েও মূল্যহীন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৯৫৭

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 বানর প্রাণিটি কি বনী ইসরাঈলের বানরে রূপান্তরিত হওয়া মানুষের বংশধর?

📄 বানর প্রাণিটি কি বনী ইসরাঈলের বানরে রূপান্তরিত হওয়া মানুষের বংশধর?


বনী ইসরাঈলের জন্য শনিবারে মাছ শিকার করা নিষেধ ছিল। তারা সমুদ্র-উপকূলের অধিবাসী হওয়াতে মাছ শিকার করা ছিল তাদের প্রিয় কাজ। এদিকে অন্যান্য দিনের তুলনায় শনিবারে সমুদ্রকূলে মাছ আসত বেশি। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই তারা মাছ শিকার করতে থাকে। এতে আল্লাহ ওদের প্রতি অসন্তুষ্ট হন এবং তাদের উপর বানর ও শুকরে রূপান্তরিত হওয়ার আযাব নেমে আসে। এ থেকে কারো কারো মনে এ ধারণা জন্মেছে যে, বানর জাতি সেই বিকৃত বনী ইসরাঈলেরই বংশধর। কিন্তু তাদের এ ধারণা ঠিক নয়। মানুষ ও বানর আল্লাহ তাআলার ভিন্ন দুটি সৃষ্টি। বানর মানুষ ছিল না এবং মানুষও বানর ছিল না। এরা সম্পূর্ণ পৃথক দুটি প্রজাতি। আল্লাহ তাআলা আযাব স্বরূপ কিছু মানুষকে বানর-শুকরে রূপান্তরিত করে দিয়েছিলেন। রূপান্তরিত বানর পৃথিবীতে বংশবিস্তার করেনি। সেই অবস্থাতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। সুতরাং বানর স্বতন্ত্র একটি প্রজাতি; বিকৃত ও রূপান্তরিত কোনো প্রজাতি নয়। সহীহ মুসলিমে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, জনৈক ব্যক্তি একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করল, আল্লাহর রাসূল! আমাদের যুগের বানর ও শুকরগুলো কি সেই রূপান্তরিত সম্প্রদায়? নবীজী উত্তরে বললেন, আল্লাহ তাআলা যখন কোনো সম্প্রদায়ের আকৃতি রূপান্তরিত করেন তখন তাদের বংশ বিস্তার হয় না। অর্থাৎ তারা রূপান্তরিত অবস্থায়ই ধ্বংস হয়ে যায়। তিনি আরো বললেন, বানর ও শুকর তো পৃথিবীতে আগেও ছিল। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬৬৩

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 ওলী-বুযুর্গদের কবরকে কি কবর বলা যাবে না, মাযার বলতে হবে?

📄 ওলী-বুযুর্গদের কবরকে কি কবর বলা যাবে না, মাযার বলতে হবে?


কিছু মানুষের ধারণা, ওলী-বুযুর্গগণের কবরকে কবর বলা যাবে না; মাযার বলতে হবে। কবর বললে নাকি তাঁদের সাথে বেয়াদবি হবে। এটি একটি অমূলক কথা। কবর শব্দের অর্থ দাফনস্থল অর্থাৎ যে স্থানে মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হয়। আর মাযার শব্দের অর্থ দুটি: যিয়ারত করা এবং যিয়ারত স্থল। তাই যে কোনো মুসলমানের দাফনস্থলকে যেমন কবর বলা যায় তেমনি যে কোনো মুসলমানের কবরকে আভিধানিক অর্থে মাযারও বলা যায়। কেননা, সকল মুসলমানের কবরই কমবেশি যিয়ারত করা হয়। বুযুর্গ, নেককার ও ওলীদের দাফনস্থলকে কবর বলা যাবে না- এমন কোনো বিধান শরীয়তে নেই। হাদীসে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ নবীগণের দাফনস্থলকেও কবর বলা হয়েছে। এমনকি হাদীসে নবী-রাসূলগণের কবরকেও কবর শব্দেই উল্লেখ করা হয়েছে। সহীহ বুখারীতে বর্ণিত একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
مَسَاجِدَ أَنْبِيَائِهِمْ قُبُورًا تخَذُوا وَالنَّصَارَى اليَهُودِ عَلَى اللَّهِ لَعْنَةُ
ইহুদী ও নাসারাদের উপর আল্লাহর লা'নত, কারণ তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে সিজদার স্থান বানিয়েছে। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৪৩৫ এই হাদীসে নবীদের দাফনস্থলকে কবর বলা হয়েছে। অন্য এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিজের ব্যাপারেই বলেন-
عِيدًا قَبْرِي تَجْعَلُوا لَا
আমার কবরকে তোমরা উৎসবের স্থান বানিও না। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২০৪২ সুতরাং বোঝা গেল, যত সম্মানিত ব্যক্তিই হোক তার দাফনস্থলকে কবর বলা দোষণীয় নয়। তাই ওলি-বুযুর্গগণের দাফনস্থলকেও কবর বলা যাবে। এতে বেয়াদবির কিছু নেই; বেয়াদবি তো তাঁদের শিক্ষার বিপরীতে তাঁদের কবরে সিজদা করা, ওরছ করা, মান্নত করা ইত্যাদি। (আল-কাউসার: সংখ্যা: ০১: রবিউস সানি ১৪৩৯)

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 ইবরাহীম আ. কি আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার সময় আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন?

📄 ইবরাহীম আ. কি আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার সময় আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন?


লোকমুখে প্রচলিত আছে, ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে যখন আগুনে নিক্ষেপ করা হচ্ছিল, তখন জিবরীল আলাইহিস সালাম এসে বললেন, আপনাকে কি আমি কোনো সাহায্য করতে পারি? তিনি বললেন, আপনার কাছে আমার কোনো সাহায্যের প্রয়োজন নেই। তখন জিবরীল আলাইহিস সালাম বললেন, তাহলে আপনি আপনার রবের কাছে প্রার্থনা করুন। তখন ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বললেন, যিনি আমার অবস্থা জানেন তাঁর কাছে আমার প্রার্থনা করার প্রয়োজন নেই। তাঁর জানাটাই আমার জন্য যথেষ্ট।
এটি একটি ভিত্তিহীন কাহিনী। ইবনে তাইমিয়া রাহ. বলেন, এর নির্ভরযোগ্য কোনো সনদ নেই। এটি একটি ভিত্তিহীন কথা। বরং ইবনে আব্বাস রা. থেকে সহীহ বর্ণনায় (সহীহ বুখারী, হাদীস ৪৫৬৪) এসেছে, ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এই দুআ করেছিলেন- حَسْبِيَ اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ -মাজমুউল ফাতাওয়া, ইবনে তাইমিয়া ১/১৮৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00