📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 দাফনের পর জুমআ বা রমযান এলে কি কিয়ামত পর্যন্ত আযাব মাফ হয়ে যায়

📄 দাফনের পর জুমআ বা রমযান এলে কি কিয়ামত পর্যন্ত আযাব মাফ হয়ে যায়


আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন। আল্লাহ সকল মুমিন নর-নারীকে ক্ষমা করুন, সকলকে বরযখের আযাব থেকে মুক্তি দান করুন, আখিরাতের সকল মঞ্জিল সহজ ও নিরাপদে পার করিয়ে দিন। কবরের আযাব সত্য। কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এই আযাব থেকে মুক্তির প্রথম শর্ত ঈমান। দ্বিতীয় শর্ত ঈমানের দাবি অনুযায়ী জীবন যাপন, বিশেষত যেসব গুনাহর কারণে কবরে আযাবের কথা বর্ণিত হয়েছে তা থেকে সর্বোতভাবে বেঁচে থাকা এবং যেসব আমলের দ্বারা কবরের আযাব থেকে মুক্তির প্রতিশ্রুতি বর্ণিত হয়েছে সেসব আমল গুরুত্বসহকারে করা।
এখানে আমি যে কথাটি বলতে চাচ্ছি তা এই যে, কাউকে বলতে শোনা যায়, কৃত গুনাহর কারণে যার কবরে আযাব হওয়ার কথা তার দাফনের পর যখনই কোনো জুমআ বা রমযান আসে তখন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত তার আযাব বন্ধ হয়ে যায়।
অনেকে এ কথার পক্ষে আহসানুল ফাতাওয়ার উদ্ধৃতিও দিয়ে থাকেন।
বাস্তবে এ ধারণা ভিত্তিহীন। এ ধরনের কথা কোনো সহীহ হাদীস বা শরীয়তের কোনো দলীল দ্বারা প্রমাণিত নয়। আহসানুল ফাতাওয়ায় (৪/২০৮) যদিও এমন কথা আছে, কিন্তু আহসানুল ফাতাওয়ার তাতিম্মা (পরিশিষ্ট) অর্থাৎ আহসানুল ফাতাওয়ার দশম খন্ডে (পৃষ্ঠা: ৪৩৩-৪৩৫)-এ দলিল-প্রমাণসহ এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এবং আগের কথাটিকে ভিত্তিহীন বলা হয়েছে।
সুতরাং এই ভিত্তিহীন কথা বিশ্বাস করা ও বলা থেকে বিরত থাকা উচিত। আর কবর ও আখিরাতকে সর্বোচ্চ সুন্দর বানানোর চেষ্টায় সর্বদা নিযোজিত থাকা উচিত। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাওফীক দান করুন। আমীন।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 জানাযার আগে মৃত ব্যক্তি ভালো ছিল এ কথার স্বীকৃতি নেওয়া

📄 জানাযার আগে মৃত ব্যক্তি ভালো ছিল এ কথার স্বীকৃতি নেওয়া


অনেক এলাকায় মৃত ব্যক্তির জানাযার নামাজের আগে তার অভিভাবকগণ কিংবা ইমাম সাহেব উপস্থিত মুসল্লিদের জিজ্ঞেস করেন এ লোকটি কেমন ছিল? তখন ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় সবাই উত্তরে বলে থাকে ভালো ছিল। এভাবে তিনবার জিজ্ঞেস করা হয় এবং তিনবার উত্তর নেওয়া হয়। এ প্রথা ও প্রচলন ভুল। শরীয়তে এমন ধরনের কোন আমলের অস্তিত্ব নেই।
সাধারণত মানুষ মনে করে থাকে যে, এভাবে সম্মিলিতভাবে তার ব্যাপারে ভালো ছিল বললে মৃত ব্যক্তি ভালো' হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। আর আল্লাহ তাআলা তাকে মাফ করে দিবেন। কিন্তু বুঝার বিষয় হল কোন ব্যক্তি যদি বাস্তবে ভালো না হয় তাহলে এরূপ বলার কারনে সে ভালো সাব্যস্ত হবে না। এবং মানুষের মনেও এমন বিশ্বাস জন্মাবে না যে, সত্যকি লোকটি ভালো ছিল; আর যদি বাস্তবে সে ভালো থেকে থাকে তাহলে এই ধরনের স্বীকৃতির কোন প্রয়োজন নেই। তাই এই সমস্ত ভুল প্রচলন থেকে আমাদের বেঁচে থাকা উচিত।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 মায়্যেতের রূহ চল্লিশ দিন বাড়িতে আসা যাওয়া করা

📄 মায়্যেতের রূহ চল্লিশ দিন বাড়িতে আসা যাওয়া করা


অনেক এলাকায় প্রচলন আছে, কেউ মারা গেলে চল্লিশ দিন বাড়িতে বা যে ঘরে মারা গিয়েছে সে ঘরে আগরবাতি জ্বালিয়ে রাখে। এর কারণ হিসেবে বলে থাকে মায্যেতের রূহ চল্লিশ দিন পর্যন্ত আসা যাওয়া করে সুতরাং চল্লিশদিন পর্যন্ত আগরবাতি জ্বালাতে হবে।
এ আমলটি একেবারেই ভিত্তিহীন। যেমন ভিত্তিহীন উপরোক্ত ধারণা।
মৃতের রূহ বাড়িতে আসার বিষয়টি ঠিক নয়। জুমার রাতে বা বিশেষ বিশেষ রাতে মায্যেতের রূহ বাড়ির দরজায় আসে এ ধরণের কিছু রেওয়ায়াত সমাজে প্রচলিত আছে কিন্তু তা সহীহ নয়।
হযরত রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী রাহ.কে জিজ্ঞেস করা হল, প্রতি জুমার রাতে মুমিনদের রূহ তাদের পরিবারের কাছে আসে-এটা কি ঠিক? তিনি উত্তরে বলেন, জুমার রাত ও অন্যান্য সময় মৃতের রূহ বাড়িতে আসা প্রমাণিত নয়। এ বিষয়ের রেওয়ায়াত ছহী নয়। সুতরাং এ বিশ্বাস রাখা ঠিক নয়। (-তালিফাতে রশিদিয়্যাহ, পৃ. ২৩৩)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00