📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে খাবার খাওয়া

📄 ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে খাবার খাওয়া


القلوب يميت الميت طعام অর্থাৎ মৃতদেরকে কেন্দ্র করে যে খানা খাওয়ানো হয় তা অন্তরকে মৃত বানিয়ে দেয়।' এটা একটা উক্তি, যার অর্থ হচ্ছে,
মৃতদের ঈসালে ছওয়াবের উদ্দেশ্যে খতমে কুরআন বা খতমে তাহলীল করা হয় এবং উপস্থিত লোকদের জন্য খাবার-দাবারের আযোজন করা হয় যেহেতু ঈসালে ছওয়াবের উদ্দেশ্যে কোনো আমল করে তার বিনিময়ে খানা খাওয়া বা খাওয়ানো জায়েয নয় এজন্য এই খাবারের দিকে আগ্রহ লোভ-লালসার পরিচায়ক, যা অন্তরকে প্রাণহীন করে দিতে পারে। একই কথা কারো মৃত্যুর সময় জিয়াফতের খাবার প্রসঙ্গেও। জিয়াফত আনন্দের সময় করা হয়ে থাকে, দুঃখ-মুসীবতের সময় নয়। এই সময় জিয়াফতের কোনো বৈধতা শরীয়তে নেই। এজন্য এ ধরনের খানা নূরহীন ও বরকতহীন হয়ে থাকে। বলাবাহুল্য, এ ধরনের খাবার অন্তরকে ক্লেদাক্ত করা খুবই স্বাভাবিক। এজন্য বুযুর্গরা বলেছেন, মৃতের খাবার অন্তরকে মৃত বানিয়ে দেয়। এটা বুযুর্গদের উক্তি, হাদীস নয়। কেউ কেউ একে হাদীস মনে করে থাকেন। তাদের ধারণা ঠিক নয়। (ফাতাওয়া আযীযিয়্যাহ, শাহ আবদুল আযীয দেহলভী পৃ. ২০২)
উল্লেখ্য, গরীব-মিসকীনকে আহার করানো অনেক বড় ছওয়াবের কাজ এবং তা ঈসালে ছওয়াবের উদ্দেশ্যেও হতে পারে। তবে শর্ত এই যে, হালাল পয়সায় হতে হবে, নিজের সম্পদ দ্বারা হতে হবে, অবন্টিত মীরাছের সম্পদ থেকে না হতে হবে, প্রচলিত তারিখগুলোতে (তৃতীয়, দশম, চল্লিশতম দিনে, শবে বরাত ইত্যাদিতে) না হতে হবে। সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় এই যে, কাউকে খানা খাওয়ালে ওই সময় খতম পড়াবে না, আর যদি খতম পড়ানো হয় তাহলে খানা খাওয়াবে না এবং কোনো হাদিয়াও দিবে না। এরপর অন্যের মাধ্যমেই ঈসালে ছওয়াব করাতে হবে-এরই বা কী অপরিহার্যতা? প্রত্যেকে নিজেই ঈসালে ছওয়াব করতে পারে।
কিছু দান-সদকা করা হল, নফল নামায পড়া হল, সূরা ইখলাস তিনবার পড়া হল, আল্লাহর দরবারে তাদের ক্ষমার জন্য দুআ করা হল-এই সবগুলোই ঈসালে ছওয়াব হিসেবে গণ্য হতে পারে। আল্লাহ তাআলা তাওফীক দান করুন।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 জানাযার নামাযের কাতার কি বেজোড় হওয়া জরুরি?

📄 জানাযার নামাযের কাতার কি বেজোড় হওয়া জরুরি?


কোনো কোনো মানুষের ধারণা, জানাযার নামাযের কাতার বেজোড় হওয়া জরুরি। ফলে তারা জানাযার নামাযের কাতার জোড় সংখ্যা হলে তা বেজোড় করে দেন। তাদের এ ধারণা ঠিক নয়।
একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে- “মালেক ইবনে হুবায়রা রা. যখন দেখতেন জানাযায় উপস্থিতির সংখ্যা কম তখন তিনি তাদেরকে তিন কাতারে ভাগ করে দিতেন। এবং বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে মৃতের উপর তিন কাতার মুসল্লী জানাযা পড়বে তার জন্য (জান্নাত) অবধারিত”। -জামে তিরমিযী, হাদীস ১০২৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩১৬৬
এ হাদীসের ভিত্তিতে ফকীহগণ বলেছেন, জানাযার নামাযে মুসল্লী সংখ্যা কম হলে তাদেরকে তিন কাতারে বিভক্ত করে দাঁড় করানো উত্তম। (শরহুল মুনইয়াহ ৫৮৮; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৬১৩; ফাতহুল বারী ৩/২২২; রওযাতুত্তালেবীন ২/১৩১)
এ থেকে হয়তো কেউ কেউ বুঝেছেন এর দ্বারা বেজোড় উদ্দেশ্য। আসলে এ দ্বারা জানাযার নামাযে তিন কাতারের কম না করা এবং অন্তত তিন কাতার করা যে মুস্তাহাব তা প্রমাণিত হয়। কিন্তু কাতার তিনের অধিক হলে বেজোড় করা জরুরি- এ কথা প্রমাণিত হয় না। তাই তিনের অধিক কাতারের ক্ষেত্রে বেজোড়ের প্রতি লক্ষ রাখা জরুরি নয়। মুসল্লী সংখ্যা বেশি হলে তিন বা তিনের অধিক জোড় বা বেজোড় যত প্রয়োজন কাতার করা যাবে।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 দাফনের পর জুমআ বা রমযান এলে কি কিয়ামত পর্যন্ত আযাব মাফ হয়ে যায়

📄 দাফনের পর জুমআ বা রমযান এলে কি কিয়ামত পর্যন্ত আযাব মাফ হয়ে যায়


আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন। আল্লাহ সকল মুমিন নর-নারীকে ক্ষমা করুন, সকলকে বরযখের আযাব থেকে মুক্তি দান করুন, আখিরাতের সকল মঞ্জিল সহজ ও নিরাপদে পার করিয়ে দিন। কবরের আযাব সত্য। কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এই আযাব থেকে মুক্তির প্রথম শর্ত ঈমান। দ্বিতীয় শর্ত ঈমানের দাবি অনুযায়ী জীবন যাপন, বিশেষত যেসব গুনাহর কারণে কবরে আযাবের কথা বর্ণিত হয়েছে তা থেকে সর্বোতভাবে বেঁচে থাকা এবং যেসব আমলের দ্বারা কবরের আযাব থেকে মুক্তির প্রতিশ্রুতি বর্ণিত হয়েছে সেসব আমল গুরুত্বসহকারে করা।
এখানে আমি যে কথাটি বলতে চাচ্ছি তা এই যে, কাউকে বলতে শোনা যায়, কৃত গুনাহর কারণে যার কবরে আযাব হওয়ার কথা তার দাফনের পর যখনই কোনো জুমআ বা রমযান আসে তখন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত তার আযাব বন্ধ হয়ে যায়।
অনেকে এ কথার পক্ষে আহসানুল ফাতাওয়ার উদ্ধৃতিও দিয়ে থাকেন।
বাস্তবে এ ধারণা ভিত্তিহীন। এ ধরনের কথা কোনো সহীহ হাদীস বা শরীয়তের কোনো দলীল দ্বারা প্রমাণিত নয়। আহসানুল ফাতাওয়ায় (৪/২০৮) যদিও এমন কথা আছে, কিন্তু আহসানুল ফাতাওয়ার তাতিম্মা (পরিশিষ্ট) অর্থাৎ আহসানুল ফাতাওয়ার দশম খন্ডে (পৃষ্ঠা: ৪৩৩-৪৩৫)-এ দলিল-প্রমাণসহ এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এবং আগের কথাটিকে ভিত্তিহীন বলা হয়েছে।
সুতরাং এই ভিত্তিহীন কথা বিশ্বাস করা ও বলা থেকে বিরত থাকা উচিত। আর কবর ও আখিরাতকে সর্বোচ্চ সুন্দর বানানোর চেষ্টায় সর্বদা নিযোজিত থাকা উচিত। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাওফীক দান করুন। আমীন।

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 জানাযার আগে মৃত ব্যক্তি ভালো ছিল এ কথার স্বীকৃতি নেওয়া

📄 জানাযার আগে মৃত ব্যক্তি ভালো ছিল এ কথার স্বীকৃতি নেওয়া


অনেক এলাকায় মৃত ব্যক্তির জানাযার নামাজের আগে তার অভিভাবকগণ কিংবা ইমাম সাহেব উপস্থিত মুসল্লিদের জিজ্ঞেস করেন এ লোকটি কেমন ছিল? তখন ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় সবাই উত্তরে বলে থাকে ভালো ছিল। এভাবে তিনবার জিজ্ঞেস করা হয় এবং তিনবার উত্তর নেওয়া হয়। এ প্রথা ও প্রচলন ভুল। শরীয়তে এমন ধরনের কোন আমলের অস্তিত্ব নেই।
সাধারণত মানুষ মনে করে থাকে যে, এভাবে সম্মিলিতভাবে তার ব্যাপারে ভালো ছিল বললে মৃত ব্যক্তি ভালো' হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। আর আল্লাহ তাআলা তাকে মাফ করে দিবেন। কিন্তু বুঝার বিষয় হল কোন ব্যক্তি যদি বাস্তবে ভালো না হয় তাহলে এরূপ বলার কারনে সে ভালো সাব্যস্ত হবে না। এবং মানুষের মনেও এমন বিশ্বাস জন্মাবে না যে, সত্যকি লোকটি ভালো ছিল; আর যদি বাস্তবে সে ভালো থেকে থাকে তাহলে এই ধরনের স্বীকৃতির কোন প্রয়োজন নেই। তাই এই সমস্ত ভুল প্রচলন থেকে আমাদের বেঁচে থাকা উচিত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00