📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 কবরের দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করলে কি আঙুল পচে যায়?

📄 কবরের দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করলে কি আঙুল পচে যায়?


কারো কবর দেখাতে গিয়ে যদি কেউ আঙুল দিয়ে ইশারা করে দেখায় যে, ঐটা অমুকের কবর তাহলে কিছু মানুষকে বলতে শোনা যায়- কবরের দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করতে নেই, আঙুল পচে যাবে। এটি একটি ভুল বিশ্বাস, যা অজ্ঞতাবশত মানুষ বলে থাকে। এর কোনো ভিত্তি নেই। এ ধারণা বর্জন করা উচিত。

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 মায়্যেতের খাটিয়া বহনের সময় উচ্চস্বরে কালিমা পড়তে থাকা

📄 মায়্যেতের খাটিয়া বহনের সময় উচ্চস্বরে কালিমা পড়তে থাকা


মায়্যেতের খাটিয়া বহনের সময় অধিকাংশ এলাকায় উচ্চস্বরে কালিমা পড়তে দেখা যায়। এটি একটি ভুল রসম। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম জানাযা বহনের সময় চুপ থাকতেন। আখেরাতের বিষয়ে চিন্তামগ্ন থাকতেন। ইবনু জুরাইজ রাহ. বলেন-
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا تَبِعَ الْجِنَازَةَ أَكْثَرَ السَّكَاتَ، وَأَكْثَرَ حَدِيثَ نَفْسِهِ.
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানাযার পিছনে চলতেন তখন অধিক চুপ থাকতেন এবং চিন্তায় পূর্ণ মগ্ন থাকতেন। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৬২৮২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১১৩১৫
হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
لَا تُتْبَعُ الْجَنَازَةُ بِصَوْتٍ ، وَلَا نَارٍ.
জানাযার পিছনে যেন শব্দ না করা হয় এবং আগুন না নেওয়া হয়। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩১৬৩; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৯৫১৫
সুনানে কুবরা বায়হাকী ও ইবনুল মুনযিরের আলআওসাতের এক বর্ণনা থেকে জানা যায়, সাহাবায়ে কেরামের আমল ব্যাপকভাবে এমনি ছিল; তাঁরা জানাযার পিছনে যাওয়ার সময় কোনো আওয়াজ করতেন না। [-সুনানে কুবরা, বায়হাকী ৪/৭৪; আলআওসাত, ইবনুল মুনযির ৫/৪২২ (৩০৩৪) এ সমস্ত হাদীস ও আছারের আলোকে ফকীহগণ বলেছেন, জানাযার পিছনে চলার সময় মূল কাজ হল আখেরাতের ফিকিরে থাকা। যিকির করতে চাইলে তা হবে অনুচ্চ স্বরে। এক্ষেত্রে যিকির করতে গিয়ে আওয়াজ উঁচু করা ঠিক নয়। -বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৭]

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 দাফনের পরপর মৃতের বাড়িতে খাবারের আয়োজন করা

📄 দাফনের পরপর মৃতের বাড়িতে খাবারের আয়োজন করা


কোনো কোনো এলাকায় প্রচলন আছে, মৃতের বাড়িতে খাবারের আয়োজন করা হয় এবং জানাযার পর এলান করা হয় যে, খাবার না খেয়ে কেউ যাবেন না।
এটিও একটি ভুল রসম ও বিদআত। দাওয়াতের আয়োজন তো করা হয় কোনো আনন্দ-উৎসবের সময়, কোনো বেদনার মুহূর্তে নয়। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নত তো হল মৃতের পরিবার-পরিজনদের জন্য প্রতিবেশীর পক্ষ থেকে খাবারের ব্যবস্থা করা। প্রশ্নোক্ত কাজটি এর সম্পূর্ণ উল্টো ও বিপরীত। তাই অবশ্যই এ থেকে বিরত থাকতে হবে।
সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকেই এটিকে নিষিদ্ধ ও মন্দ কাজ বলে গণ্য করা হত। হযরত জাবির বিন আবদুল্লাহ রা. বলেন-
كُنَّا نَعُدَ الاجْتِمَاعَ إِلَى أَهْلِ الْمَيِّتِ وَصَنِيعَةَ الطَّعَامِ بَعْدَ دَفْنِهِ مِنَ النِّيَاحَةِ.
আমরা মৃতের দাফনকার্য শেষ হওয়ার পর তার বাড়িতে একত্রিত হওয়া এবং (আগতদের জন্য) খাবারের আয়োজন করাকে নিয়াহা (নিষিদ্ধ পন্থায় শোক পালন)-এর অন্তর্ভুক্ত গণ্য করতাম। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৬৯০৫

📘 ভুলে ভুলে জীবন পার > 📄 ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে খাবার খাওয়া

📄 ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে খাবার খাওয়া


القلوب يميت الميت طعام অর্থাৎ মৃতদেরকে কেন্দ্র করে যে খানা খাওয়ানো হয় তা অন্তরকে মৃত বানিয়ে দেয়।' এটা একটা উক্তি, যার অর্থ হচ্ছে,
মৃতদের ঈসালে ছওয়াবের উদ্দেশ্যে খতমে কুরআন বা খতমে তাহলীল করা হয় এবং উপস্থিত লোকদের জন্য খাবার-দাবারের আযোজন করা হয় যেহেতু ঈসালে ছওয়াবের উদ্দেশ্যে কোনো আমল করে তার বিনিময়ে খানা খাওয়া বা খাওয়ানো জায়েয নয় এজন্য এই খাবারের দিকে আগ্রহ লোভ-লালসার পরিচায়ক, যা অন্তরকে প্রাণহীন করে দিতে পারে। একই কথা কারো মৃত্যুর সময় জিয়াফতের খাবার প্রসঙ্গেও। জিয়াফত আনন্দের সময় করা হয়ে থাকে, দুঃখ-মুসীবতের সময় নয়। এই সময় জিয়াফতের কোনো বৈধতা শরীয়তে নেই। এজন্য এ ধরনের খানা নূরহীন ও বরকতহীন হয়ে থাকে। বলাবাহুল্য, এ ধরনের খাবার অন্তরকে ক্লেদাক্ত করা খুবই স্বাভাবিক। এজন্য বুযুর্গরা বলেছেন, মৃতের খাবার অন্তরকে মৃত বানিয়ে দেয়। এটা বুযুর্গদের উক্তি, হাদীস নয়। কেউ কেউ একে হাদীস মনে করে থাকেন। তাদের ধারণা ঠিক নয়। (ফাতাওয়া আযীযিয়্যাহ, শাহ আবদুল আযীয দেহলভী পৃ. ২০২)
উল্লেখ্য, গরীব-মিসকীনকে আহার করানো অনেক বড় ছওয়াবের কাজ এবং তা ঈসালে ছওয়াবের উদ্দেশ্যেও হতে পারে। তবে শর্ত এই যে, হালাল পয়সায় হতে হবে, নিজের সম্পদ দ্বারা হতে হবে, অবন্টিত মীরাছের সম্পদ থেকে না হতে হবে, প্রচলিত তারিখগুলোতে (তৃতীয়, দশম, চল্লিশতম দিনে, শবে বরাত ইত্যাদিতে) না হতে হবে। সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় এই যে, কাউকে খানা খাওয়ালে ওই সময় খতম পড়াবে না, আর যদি খতম পড়ানো হয় তাহলে খানা খাওয়াবে না এবং কোনো হাদিয়াও দিবে না। এরপর অন্যের মাধ্যমেই ঈসালে ছওয়াব করাতে হবে-এরই বা কী অপরিহার্যতা? প্রত্যেকে নিজেই ঈসালে ছওয়াব করতে পারে।
কিছু দান-সদকা করা হল, নফল নামায পড়া হল, সূরা ইখলাস তিনবার পড়া হল, আল্লাহর দরবারে তাদের ক্ষমার জন্য দুআ করা হল-এই সবগুলোই ঈসালে ছওয়াব হিসেবে গণ্য হতে পারে। আল্লাহ তাআলা তাওফীক দান করুন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00