📄 দাফনের পর কবরে আযান দেওয়া
কোনো কোনো এলাকায় এ প্রচলন রয়েছে, মায্যেতকে দাফন করার পর কবরে দাঁড়িয়ে আযান দেওয়া হয়। তাদের ধারণা, আযান দিলে শয়তান পলায়ন করবে, তাহলে কবরের সুওয়াল-জওয়াবের সময় মায্যেতকে কুমন্ত্রণা দিতে পারবে না।
এটি একটি ভিত্তিহীন রসম। রাসূলে কারীম সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন-তাবে তাবেয়ীন কারো থেকেই এ ধরনের আমল বা বক্তব্য প্রমাণিত নয়। এটি একটি বিদআত, এ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
আর শয়তানকে কবরেও ওয়াসওয়াসা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়- আমাদের জানামতে এটি দলীলবিহীন একটি ধারণা মাত্র।
📄 ঝুড়িতে করে কবরের মাটি এনে বাড়ির মহিলাদের থেকে ছুঁয়ে নেওয়া
কোনো কোনো এলাকায় এ রসম রয়েছে যে, দাফনের সময় কবরের মাটি একটি ঝুড়িতে করে বাড়ির মহিলাদের কাছে নিয়ে আসা হয়। মহিলারা দুআ পড়ে ঐ মাটি ছুঁয়ে দেয়। তারপর তা কবরে ঢেলে দেওয়া হয়। এটি একটি অমূলক রসম, শরীয়তে যার কোনো ভিত্তি নেই। সুতরাং তা অবশ্যই বর্জনীয়।
📄 কবরের দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করলে কি আঙুল পচে যায়?
কারো কবর দেখাতে গিয়ে যদি কেউ আঙুল দিয়ে ইশারা করে দেখায় যে, ঐটা অমুকের কবর তাহলে কিছু মানুষকে বলতে শোনা যায়- কবরের দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করতে নেই, আঙুল পচে যাবে। এটি একটি ভুল বিশ্বাস, যা অজ্ঞতাবশত মানুষ বলে থাকে। এর কোনো ভিত্তি নেই। এ ধারণা বর্জন করা উচিত。
📄 মায়্যেতের খাটিয়া বহনের সময় উচ্চস্বরে কালিমা পড়তে থাকা
মায়্যেতের খাটিয়া বহনের সময় অধিকাংশ এলাকায় উচ্চস্বরে কালিমা পড়তে দেখা যায়। এটি একটি ভুল রসম। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম জানাযা বহনের সময় চুপ থাকতেন। আখেরাতের বিষয়ে চিন্তামগ্ন থাকতেন। ইবনু জুরাইজ রাহ. বলেন-
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا تَبِعَ الْجِنَازَةَ أَكْثَرَ السَّكَاتَ، وَأَكْثَرَ حَدِيثَ نَفْسِهِ.
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানাযার পিছনে চলতেন তখন অধিক চুপ থাকতেন এবং চিন্তায় পূর্ণ মগ্ন থাকতেন। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৬২৮২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১১৩১৫
হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
لَا تُتْبَعُ الْجَنَازَةُ بِصَوْتٍ ، وَلَا نَارٍ.
জানাযার পিছনে যেন শব্দ না করা হয় এবং আগুন না নেওয়া হয়। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩১৬৩; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৯৫১৫
সুনানে কুবরা বায়হাকী ও ইবনুল মুনযিরের আলআওসাতের এক বর্ণনা থেকে জানা যায়, সাহাবায়ে কেরামের আমল ব্যাপকভাবে এমনি ছিল; তাঁরা জানাযার পিছনে যাওয়ার সময় কোনো আওয়াজ করতেন না। [-সুনানে কুবরা, বায়হাকী ৪/৭৪; আলআওসাত, ইবনুল মুনযির ৫/৪২২ (৩০৩৪) এ সমস্ত হাদীস ও আছারের আলোকে ফকীহগণ বলেছেন, জানাযার পিছনে চলার সময় মূল কাজ হল আখেরাতের ফিকিরে থাকা। যিকির করতে চাইলে তা হবে অনুচ্চ স্বরে। এক্ষেত্রে যিকির করতে গিয়ে আওয়াজ উঁচু করা ঠিক নয়। -বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৭]