📄 কাফনের উপর ইয়াসীন, কালিমা ও মুনকার নাকীরের প্রশ্নের উত্তর লিখে দেওয়া
কোনো কোনো এলাকায় এই প্রচলন রয়েছে- মায়্যেতের কাফনের উপর সূরা ইয়াসীন, কালিমা ও মুনকার নাকীরের প্রশ্নের উত্তর লিখে দেওয়া হয়। এটি সম্পূর্ণ মনগড়া রসম ও বিদআত।
মৃতের শরীরে বা কাফনে কুরআনের আয়াত, কালিমা, সুওয়াল-জওয়াব ইত্যাদি লেখার কথা কুরআন-হাদীসের কোথাও নেই। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবা-তাবেয়ীন কোনো যুগেই এমন কিছুর প্রচলন ছিল না। এর দ্বারা মৃতের কোনো উপকার হয় না। সুতরাং এ মনগড়া রসম ও বিদআত অবশ্যই পরিত্যাজ্য।
তাছাড়া কাফনে ইয়াসীন, কালিমা ইত্যাদি লেখা হলে লাশ যখন গলে যাবে তখন কাফনের লেখা নাপাক-মিশ্রিত হয়ে যাবে এবং এগুলোর অসম্মানী হবে। সুতরাং এটি করা যাবে না।
আর মনে রাখা চাই, কবরের সুওয়াল-জওয়াব কাফনে লেখা বা মুখস্থ করার বিষয় নয়। এটি আমলের বিষয়; দ্বীন অনুযায়ী চলার মাধ্যমে, আল্লাহর হুকুম যথাযথ পালনের মাধ্যমে, রাসূলের সুন্নত অনুযায়ী জীবন গঠনের মাধ্যমে কবরের জবাবের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। কবরের আযাব থেকে বাঁচার ও আখেরাতে নাজাত পাওয়ার জন্য যা করা দরকার তা না করে এসকল অর্থহীন রসম-রেওয়াজের পিছে পড়া আর মনে করা, আল্লাহ এর মাধ্যমে নাজাত দিবেন- মূর্খতা বৈ কিছুই নয়, যা দ্বীন সম্বন্ধে অজ্ঞতার ফল। হাদীস শরীফে এসেছে-
الكَيْسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهُ وَعَمِلَ لِمَا بَعْدَ الْمَوْتِ، وَالعَاجِزُ مَنْ أَتْبَعَ نَفْسَهُ هَوَاهَا وَتَمَنَّى عَلَى اللَّهِ.
বিচক্ষণ ঐ ব্যক্তি যে নিজের হিসাব নেয় এবং মৃত্যুর পরের জন্য আমল করে। পক্ষান্তরে অক্ষম ঐ ব্যক্তি যে নিজেকে প্রবৃত্তির অনুসারী করে আর আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে অলীক আশা পোষণ করে। -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৪৫৯; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৪২৬০
📄 কবরের চার কোণে চার কুল
অনেক এলাকায় প্রচলন আছে, মায্যেতকে দাফন করার পর চার ব্যক্তি কবরের চার কোণে দাঁড়িয়ে চার কুল (অর্থাৎ সূরা কাফিরুন, ইখলাস, ফালাক, নাস) পড়ে। তারপর তারা কবরের চার কোণে চারটি তাজা ডাল পুঁতে দেয়।
কোথাও আবার চার কোণের চারটি খুঁটি হাতে চার কুল পড়ে খুঁটিগুলো গেড়ে দেয়। কোথাও চার খুঁটিতে সূতা পেঁচায়। আবার কেউ বলল, তাদের এলাকায় চারটি কঞ্চি হাতে চার কুল পড়ে কঞ্চি চারটি কবরের উপর রাখে। এটি একটি মনগড়া রসম যার কোনো ভিত্তি নেই। কোনো হাদীসে বা সাহাবা-তাবেয়ীন থেকে এ আমলের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। সুতরাং তা বর্জনীয়। এজাতীয় মনগড়া কোনো রসমের পিছে না পড়ে প্রমাণিত কোনো আমল করা উচিৎ। যেমন দাফন শেষে মায্যেতের জন্য মাগফিরাতের দুআ করা এবং কবরের সুওয়াল জওয়াব সহজ হওয়ার জন্য দুআ করা। সূরা বাকারার শুরু থেকে মুফলিহুন (১-৫ আয়াত) পর্যন্ত এবং শেষে আমানার রাসূলু থেকে শেষ পর্যন্ত (২৮৫-২৮৬ আয়াত) তিলাওয়াত করে ইসালে সওয়াব করা ইত্যাদি。
📄 দাফনের পর কবরে আযান দেওয়া
কোনো কোনো এলাকায় এ প্রচলন রয়েছে, মায্যেতকে দাফন করার পর কবরে দাঁড়িয়ে আযান দেওয়া হয়। তাদের ধারণা, আযান দিলে শয়তান পলায়ন করবে, তাহলে কবরের সুওয়াল-জওয়াবের সময় মায্যেতকে কুমন্ত্রণা দিতে পারবে না।
এটি একটি ভিত্তিহীন রসম। রাসূলে কারীম সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন-তাবে তাবেয়ীন কারো থেকেই এ ধরনের আমল বা বক্তব্য প্রমাণিত নয়। এটি একটি বিদআত, এ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
আর শয়তানকে কবরেও ওয়াসওয়াসা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়- আমাদের জানামতে এটি দলীলবিহীন একটি ধারণা মাত্র।
📄 ঝুড়িতে করে কবরের মাটি এনে বাড়ির মহিলাদের থেকে ছুঁয়ে নেওয়া
কোনো কোনো এলাকায় এ রসম রয়েছে যে, দাফনের সময় কবরের মাটি একটি ঝুড়িতে করে বাড়ির মহিলাদের কাছে নিয়ে আসা হয়। মহিলারা দুআ পড়ে ঐ মাটি ছুঁয়ে দেয়। তারপর তা কবরে ঢেলে দেওয়া হয়। এটি একটি অমূলক রসম, শরীয়তে যার কোনো ভিত্তি নেই। সুতরাং তা অবশ্যই বর্জনীয়।