📄 দোকান ঝাড়ু দেয়ার আগে ভিক্ষা না দেয়া বা বেচা-কেনা না করা
অনেক দোকানদারকে দেখা যায়, দোকান খোলার পর ঝাড়ু দেয়ার আগে কোনো ভিক্ষুক আসলে ভিক্ষা দেয় না বা কেউ কিছু কিনতে আসলে বিক্রি করে না। এটাকে অলক্ষুণে মনে করে। মনে করে, ঝাড়ু দেয়ার আগে এগুলো করলে সারাদিন বেচা-কেনা ভালো হবে না।
এটি একটি অমূলক ধারণা ও ভিত্তিহীন বিশ্বাস। ঝাড়ু দেয়া যেমন ভালো কাজ, দোকান খোলার পর ভিক্ষুককে দান করা তো আরো ভালো কাজ। দোকান খোলার পর একটি ভালো কাজের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করা হল; এতে আরো বরকত বেশি হওয়ার কথা। তেমনিভাবে পণ্য বিক্রি করা-এটি ব্যবসার সাথে সাথে একটি সেবাও বটে। সুতরাং এটিও একটি ভালো কাজ। শুধু ঝাড়ু দেয়ার ওসিলায় এ ভাল কাজগুলো থেকে বিরত থাকার কোনোই অর্থ হয় না। সুতরাং ঝাড়ু দেয়ার আগে ভিক্ষা দেয়া যাবে না বা বিক্রি করা যাবে না মনে করা ঠিক নয়。
📄 কার মুখ দেখে যে বের হয়েছিলাম
বিপদাপদের সম্মুখীন হলে কোন কোন মানুষকে এই ধরনের কথা বলতে শোনা যায় যে, কার মুখ দেখে যে বের হয়েছিলাম! আজকের দিনটাই মাটি হয়ে গেল।
বাস্তবে এটি আরেকটি গর্হিত কথা। যার কোন ধরনের ভিত্তি নেই। আর এ ধরনের ভিত্তিহীন কথার উপর নির্ভর করে দিনের প্রথম দেখা মানুষটির ব্যাপারে খারাপ ধারণা পোষণ করা তো মারাত্মক অন্যায়। কারণ আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন হিকমতে বান্দাদেরকে বালা-মুসিবত দিয়ে থাকেন। যেমন দিয়ে থাকেন অসংখ্য নিয়ামত। এর সাথে প্রথম দেখা মানুষটির কোন সম্পর্ক নেই। ইসলামে এ ধরনের মানসিকতাকে কঠোরভাবে প্রত্যাহার করেছেন। হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, রোগ লেগে যাওয়া, কুলক্ষণ ইত্যাদি এগুলোর কোন বাস্তবতা নেই। (সহীহ বুখারী শরীফ: ৫৭০৭)
অতএব এই ধরনের অমূলক ধারণা ও অসমীচীন কথা পরিত্যাগ করা একজন মুমিনের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
📄 ডানে শুভলক্ষণ বামে কুলক্ষণ
অনেকে সকালবেলা ঘর থেকে বের হওয়ার সময় পাখি দেখলে ঢিল মারে। এখন পাখিটি যদি ডানে যায় তাহলে মনে করে যাত্রা শুভ। আর যদি পাখিটি বামে যায় তাহলে কুলক্ষণ; যাত্রা আশুভ।
এটি একটি অমূলক ধারণা, যার কোন ভিত্তি নেই। কল্যাণ অকল্যাণ, লাভ ক্ষতি সব আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়। এর সাথে পাখির কী সম্পর্ক?! আল্লাহ চাইলে আমার কল্যাণ হবে নইলে নয়।
আর কুলক্ষণের এ মানসিকতাকে ইসলাম কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ঘেষিত হয়েছে
صَفَرٌ وَلَا هَامَةَ وَلَا طِيَرَةَ وَلَا عَدْوَى
অর্থাৎ রোগ লেগে যাওয়া, কুলক্ষণ, পেঁচা ও সফর-এর কোন বাস্তবতা নেই। (সহীহ বুখারী, হাদীস : ৫৭০৭)
এছাড়া অমূলক ধারণার ভিত্তিতে সকাল বেলা খামোখা নিজের কাজের মনোবল নষ্ট করা কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
সুতরাং এমন অমূলক ধারণা পরিত্যাগ করা প্রতিটি মুমিনের অবশ্যকর্তব্য।