📄 মুহাররম মাসে বিবাহ করা কি অশুভ
এতে কোনোই সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ তাআলা কতক মাস, দিন ও রাতকে অন্যান্য মাস, দিন ও রাতের চেয়ে বেশি মর্যাদাপূর্ণ বানিয়েছেন এবং তাতে ভাল কাজের অধিক বরকত রেখেছেন। কিন্তু কোনো মাস, দিন ও রাত বা কোনো সময়কে অকল্যাণকর বা অশুভ বানাননি। সময় মাত্রই আল্লাহ তাআলার নেয়ামত ও করুণা। উত্তম ও সঠিক কাজের মাধ্যমে মানুষ যে কোনো সময়কেই ফলপ্রসূ ও বরকতময় করতে সক্ষম।
কোনো মাস, দিন বা রাতকে অশুভ মনে করা বিশেষ কোনো সময়কে বিশেষ কাজের জন্য অশুভ ও অলক্ষুণে মনে করা-সবই জাহেলিয়াতের কুসংস্কার। যেমন ইসলামপূর্ব যুগের কোনো কোনো লোকের এই ধারণা ছিল যে, শাওয়াল মাসে বিবাহ-শাদির অনুষ্ঠান অশুভ ও অকল্যাণকর। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রা. এই ভিত্তিহীন ধারণাকে এই বলে খন্ডন করেছেন যে- “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শাওয়াল মাসেই বিবাহ করেছেন এবং শাওয়াল মাসেই বিবাহ- রজনী উদযাপন করেছেন। অথচ তাঁর অনুগ্রহ লাভে আমার চেয়ে অধিক সৌভাগ্যবতী স্ত্রী আর কে আছে? - সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৪২৩
বর্তমানে কিছু লোক মুহাররম মাসের ব্যাপারে এজাতীয় ধারণা পোষণ করে। সম্ভবত তাদের এই ভ্রান্ত ধারণার পেছনে এ মাসে হযরত হোসাইন রা.-এর শাহাদাত বরণের ঘটনা কার্যকর। অথচ সময় কখনো অশুভ হয় না। বিশেষ করে মুহাররম মাস তো 'আশহুরে হুরুম' তথা মর্যাদাপূর্ণ মাস- চারটির অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। রমযান মাসের পর এ মাসের গুরুত্ব ও ফযীলতই সবচেয়ে বেশি। হযরত হোসাইন রা.-এর শাহাদাত বরণের মাধ্যমে এ মাস কীভাবে অশুভ হতে পারে? অশুভ ও অকল্যাণ তো ওই সব লোকের বদআমলের মধ্যে নিহিত, যারা তাঁকে অন্যায়ভাবে শহীদ করেছে। বছরের কোন্ মাসটি এমন আছে, যাতে কোনো মহান ব্যক্তির শাহাদাতের ঘটনা ঘটেনি? তবে কি বছরের সকল মাসই অশুভ ও অকল্যাণকর হয়ে যাবে?
সফর মাসের ব্যাপারেও জাহেলি যুগে এই ভ্রান্ত বিশ্বাস ছিল যে, এ মাসটি অশুভ। নাউযুবিল্লাহ! এজাতীয় শুভাশুভের ধারণা একটি কুসংস্কার, যাকে ইসলাম বাতিল- সাব্যস্ত করেছে এবং এভাবে বান্দাদেরকে এক বিরাট মুসীবত থেকে মুক্তি দিয়ে আরাম ও স্বস্তির জীবন-যাপনের পথ সুগম করেছে।
📄 সন্ধ্যার বাতি
অনেকের ধারণা, মাগরীবের আযান দিলে দোকান পাট বা গাড়িতে বাতি জ্বালাতে হয় নইলে ব্যবসায় ক্ষতি হয়। এটাকে 'সন্ধ্যার বাতি' বলে। এ ধরণা ঠিক নয়। সন্ধ্যা হলে প্রয়োজনে খাতিরে এমনিতেই দোকান পাট বা গাড়িতে বাতি জ্বালাতে হয় এর সাথে লাভ ক্ষতির কী সম্পর্ক? লাভ ক্ষতি তো হয় আল্লাহর পক্ষ হতে বাতি; জ্বালা না জ্বালার এখানে কোনো দখল নেই। প্রয়োজন হলে বাতি জ্বালাবে না হলে জ্বালাবে না।
📄 বরকতের জন্য সকালে গোলাপজল সন্ধ্যায় আগরবাতি
বিভিন্ন দোকানে বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দেখা যায় বরকতের জন্য সকালে গোলাপজল ছিটায় আর সন্ধ্যা হলে আগরবাতি জালায়।
গোলাপজল একটি সুগন্ধি পানি আর আগরবাতি একটি সুগন্ধি ধূপ। এর সাথে বরকতের কী সম্পর্ক? বরকত তো আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে, তাঁর দেওয়া নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে এবং তাঁর কাছে বরকতের দুআর মাধ্যমে। শুকরিয়া আদায় (যবানের মাধ্যমে ও আমলের মাধ্যমে) বরকত লাভের সবচেয়ে বড় উপায়।
আল্লাহ তাআলা আলকুরআনুল কারীমে বলেছেন (অর্থ) তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করেছেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় কর তাহলে অবশ্যই আমি বাড়িয়ে দিব।... (ইব্রাহীম ১৪: ৭) মুমিন বরকত কামনা করবে নেক আমলের মাধ্যমে ও সকাল সন্ধ্যা আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া শিখিয়েছেন-
اللهم ما أصبح بي من نعمة أو بأحد من خلقك، فمنك وحدك لا شريك لك، فلك الحمد ولك الشكر.
সন্ধ্যায় বলবে
اللهم بي أمسى ما অর্থ : হে আল্লাহ এই সকালে (বা এই সন্ধ্যায়) আমি অথবা আপনার যে কোন মাখলুক যত নেয়ামত ভোগ করছে সকল নেয়ামত কেবল আপনারই দান। আপনার কোন শরীক নেই। সুতরাং আপনারই প্রশংসা এবং আপনারই জন্য শোকরগোজারী।
সুতরাং আমরা দ্বীন অনুযায়ী চলার মাধ্যমে ও নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে বরকত কামনা করব। কোন রসম-সর্বস্ব বিষয়ের মাধ্যমে নয়।
📄 দোকান ঝাড়ু দেয়ার আগে ভিক্ষা না দেয়া বা বেচা-কেনা না করা
অনেক দোকানদারকে দেখা যায়, দোকান খোলার পর ঝাড়ু দেয়ার আগে কোনো ভিক্ষুক আসলে ভিক্ষা দেয় না বা কেউ কিছু কিনতে আসলে বিক্রি করে না। এটাকে অলক্ষুণে মনে করে। মনে করে, ঝাড়ু দেয়ার আগে এগুলো করলে সারাদিন বেচা-কেনা ভালো হবে না।
এটি একটি অমূলক ধারণা ও ভিত্তিহীন বিশ্বাস। ঝাড়ু দেয়া যেমন ভালো কাজ, দোকান খোলার পর ভিক্ষুককে দান করা তো আরো ভালো কাজ। দোকান খোলার পর একটি ভালো কাজের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করা হল; এতে আরো বরকত বেশি হওয়ার কথা। তেমনিভাবে পণ্য বিক্রি করা-এটি ব্যবসার সাথে সাথে একটি সেবাও বটে। সুতরাং এটিও একটি ভালো কাজ। শুধু ঝাড়ু দেয়ার ওসিলায় এ ভাল কাজগুলো থেকে বিরত থাকার কোনোই অর্থ হয় না। সুতরাং ঝাড়ু দেয়ার আগে ভিক্ষা দেয়া যাবে না বা বিক্রি করা যাবে না মনে করা ঠিক নয়。