📄 রাতের বেলা ঝুটা পানি বাহিরে ফেলা কি কুলক্ষণ?
অনেক মানুষই বলে, রাতের বেলায় ঝুটা পানি কিংবা খাবার জাতীয় কিছু বাহিরে ফেলা যাবে না। এ ধরনের কথাটি ভুল বিশ্বাস আমাদের সমাজে প্রচলিত রয়েছে। মনে করা হয় এতে সৌভাগ্য দূর হয়ে যায় এবং এটা মারাত্মক ধরনের কুলক্ষণ। মৃত মুরুব্বীদের রূহ রাতের বেলায় ঘুরাফেরা করে থাকে। তাই ঝুটা পানি ইত্যাদি ফেললে তারা অসন্তুষ্ট হন । এটি একটি ভুল বিশ্বাস। ইসলামের এর কোন ভিত্তি নেই। এমনকি বাস্তবের সাথে বিশ্বাসের কোন মিল নেই। বাসি, পচাপানি, ঝুটা ইত্যাদি সারারাত ঘরে জমিয়ে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এটি এমন একটি মারাত্মক ভুল বিশ্বাস যার আকলি-নকলী কোন ভিত্তি নেই। রূহ ঘুরাফেরার আকিদাও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ।
📄 রাতে সুই বিক্রি করা কি কুলক্ষণ?
অনেক মানুষ মনে করে রাতে সুই কিনতে যাওয়া কিংবা বিক্রি করা অশুভ লক্ষণ। অথচ ইহা একটি কুসংস্কার। এসব ধারণা আমাদের সমাজে কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে আল্লাহই ভাল জানে। এগুলো মানুষের মনে এমনই বদ্ধমূল হয়েছে যে, তারা এগুলোকে এক ধরনের আকিদা বানিয়ে নিয়েছে। পরিতাপের বিষয় এই যে, ইসলামের বিশুদ্ধ আকিদা গুলোর উল্লেখযোগ্য প্রভাব তাদের দৈনন্দিন জীবনে দেখা না গেলেও এই সমস্ত আকিদার বেশ গভীর প্রভাব তাদের কাজকর্মের পরিলক্ষিত হয়। এ ধরনের অলৌকিক ধারণার কোন সীমারেখা নেই।
তাই এই জাতীয় বিষয়গুলো আলোচনায় আসা উচিত। যদিও এগুলোর মধ্যে অধিকাংশ হল বিভিন্ন অঞ্চল ভিত্তিক কুসংস্কার। যা শুধু ওই অঞ্চলের লোকদের মধ্যেই পাওয়া যায়। অন্য অঞ্চলের লোকদের মধ্যে পাওয়া যায় না। আবার কিছু কুসংস্কার আছে যা বিশেষ শ্রেণীর লোকদের মধ্যে পাওয়া যায় অন্য শ্রেণীর লোকদের মধ্যে পাওয়া যায় না। যাই হোক সমস্ত কুসংস্কারের ক্ষেত্রে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে।
📄 হাত চুলকালে টাকা আসে
অনেক মানুষকে বলতে শোনা যায়, কারো হাত কিংবা হাতের তালু চুলকালে তার হাতে টাকা কিংবা অর্থকরী আসবে। বাস্তবে এটাও একটি ভিত্তিহীন কথা। হাত বা হাতের তালু চুলকানোর সাথে টাকা-পয়সা আসা-যাওয়ার কোনই সম্পর্ক নেই। এ ধরনের অবাস্তব ও অযৌক্তিক কথা পরিহার করা উচিত।
📄 মুহাররম মাসে বিবাহ করা কি অশুভ
এতে কোনোই সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ তাআলা কতক মাস, দিন ও রাতকে অন্যান্য মাস, দিন ও রাতের চেয়ে বেশি মর্যাদাপূর্ণ বানিয়েছেন এবং তাতে ভাল কাজের অধিক বরকত রেখেছেন। কিন্তু কোনো মাস, দিন ও রাত বা কোনো সময়কে অকল্যাণকর বা অশুভ বানাননি। সময় মাত্রই আল্লাহ তাআলার নেয়ামত ও করুণা। উত্তম ও সঠিক কাজের মাধ্যমে মানুষ যে কোনো সময়কেই ফলপ্রসূ ও বরকতময় করতে সক্ষম।
কোনো মাস, দিন বা রাতকে অশুভ মনে করা বিশেষ কোনো সময়কে বিশেষ কাজের জন্য অশুভ ও অলক্ষুণে মনে করা-সবই জাহেলিয়াতের কুসংস্কার। যেমন ইসলামপূর্ব যুগের কোনো কোনো লোকের এই ধারণা ছিল যে, শাওয়াল মাসে বিবাহ-শাদির অনুষ্ঠান অশুভ ও অকল্যাণকর। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রা. এই ভিত্তিহীন ধারণাকে এই বলে খন্ডন করেছেন যে- “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শাওয়াল মাসেই বিবাহ করেছেন এবং শাওয়াল মাসেই বিবাহ- রজনী উদযাপন করেছেন। অথচ তাঁর অনুগ্রহ লাভে আমার চেয়ে অধিক সৌভাগ্যবতী স্ত্রী আর কে আছে? - সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৪২৩
বর্তমানে কিছু লোক মুহাররম মাসের ব্যাপারে এজাতীয় ধারণা পোষণ করে। সম্ভবত তাদের এই ভ্রান্ত ধারণার পেছনে এ মাসে হযরত হোসাইন রা.-এর শাহাদাত বরণের ঘটনা কার্যকর। অথচ সময় কখনো অশুভ হয় না। বিশেষ করে মুহাররম মাস তো 'আশহুরে হুরুম' তথা মর্যাদাপূর্ণ মাস- চারটির অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। রমযান মাসের পর এ মাসের গুরুত্ব ও ফযীলতই সবচেয়ে বেশি। হযরত হোসাইন রা.-এর শাহাদাত বরণের মাধ্যমে এ মাস কীভাবে অশুভ হতে পারে? অশুভ ও অকল্যাণ তো ওই সব লোকের বদআমলের মধ্যে নিহিত, যারা তাঁকে অন্যায়ভাবে শহীদ করেছে। বছরের কোন্ মাসটি এমন আছে, যাতে কোনো মহান ব্যক্তির শাহাদাতের ঘটনা ঘটেনি? তবে কি বছরের সকল মাসই অশুভ ও অকল্যাণকর হয়ে যাবে?
সফর মাসের ব্যাপারেও জাহেলি যুগে এই ভ্রান্ত বিশ্বাস ছিল যে, এ মাসটি অশুভ। নাউযুবিল্লাহ! এজাতীয় শুভাশুভের ধারণা একটি কুসংস্কার, যাকে ইসলাম বাতিল- সাব্যস্ত করেছে এবং এভাবে বান্দাদেরকে এক বিরাট মুসীবত থেকে মুক্তি দিয়ে আরাম ও স্বস্তির জীবন-যাপনের পথ সুগম করেছে।