📄 হুতুম পেঁচা
হুতুম পেঁচাকে অশুভ নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করত। কারো ঘরের উপর বসলে তাদের নিকটাত্মীয়-স্বজনের মৃত হয়েছে বলে ধারণা করত। অথবা তার ঘর ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করত। এ দেখে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সমস্ত ধারণাকে অবাস্তব ও মনগড়া বলে অভিহিত করেছেন। তাই আমাদের জন্য এমন ধারণা করা ঠিক নয়।
📄 কুলক্ষণ
তৎকালে আরবদেশে নিয়ম ছিল যে, তারা যখন কাজ কিংবা ব্যবসা গমনের ইচ্ছা করত তখন কোন এক পাখিকে উড়িয়ে দিত। যদি পাখিটা ডানদিকে যেত তাহলে যাত্রা শুভ মনে করে সেখানে যেত। আর যদি বামে যেত তাহলে তখন অশুভ মনে করে আর যেত না। তাই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইসলামে কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই। সুতরাং উল্লেখিত মিথ্যা খেয়াল এবং ভিত্তিহীন ধারণা আর সংশোধন করা যেমন ঈমান-আমলের হেফাজতের জন্য আবশ্যক তেমনিভাবে দুনিয়ার নিয়ম নেজাম বহাল রাখার জন্যও আবশ্যক।
📄 তোমাকে শনির দশায় পেয়েছে
কারো কোন খারাপ অবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করার জন্য অনেকে বলে থাকে তোমাকে শনির দশায় পেয়েছে অথবা বলে তোমাকে শনিতে পেয়েছে। শরীয়ত গর্হিত একটি বিশ্বাস থেকে এ কথাটির উৎপত্তি। সৌরজগতের একটি গ্রহের নাম যা আল্লাহ তায়ালার হুকুমে চলে। কারো কোন ক্ষতি করার মতো শক্তি এর নেই। কিন্তু এসব জ্যোতিষ্ক পূজারীরা একক নক্ষত্রকে একক বিষয়ে শক্তিধর মনে করে। এর মধ্যে কারো ক্ষতি সাধনের জন্য শনি গ্রহণকে শক্তিধর মনে করে থাকে। সে হিসেবেই খারাপ অবস্থা কিংবা ক্ষতিকর পরিস্থিতির ক্ষেত্রে তারা বলে থাকে তোমাকে শনির দশায় পেয়েছে।
একজন মুসলমান হিসেবে এ কথাটি আমাদের মুখে উচ্চারিত হওয়া ঈমান-আকিদা বিরোধী। সুতরাং এ ভুল কথাটি পরিহার করা সকলের জন্য আবশ্যক।
📄 রাতের বেলা ঝুটা পানি বাহিরে ফেলা কি কুলক্ষণ?
অনেক মানুষই বলে, রাতের বেলায় ঝুটা পানি কিংবা খাবার জাতীয় কিছু বাহিরে ফেলা যাবে না। এ ধরনের কথাটি ভুল বিশ্বাস আমাদের সমাজে প্রচলিত রয়েছে। মনে করা হয় এতে সৌভাগ্য দূর হয়ে যায় এবং এটা মারাত্মক ধরনের কুলক্ষণ। মৃত মুরুব্বীদের রূহ রাতের বেলায় ঘুরাফেরা করে থাকে। তাই ঝুটা পানি ইত্যাদি ফেললে তারা অসন্তুষ্ট হন । এটি একটি ভুল বিশ্বাস। ইসলামের এর কোন ভিত্তি নেই। এমনকি বাস্তবের সাথে বিশ্বাসের কোন মিল নেই। বাসি, পচাপানি, ঝুটা ইত্যাদি সারারাত ঘরে জমিয়ে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এটি এমন একটি মারাত্মক ভুল বিশ্বাস যার আকলি-নকলী কোন ভিত্তি নেই। রূহ ঘুরাফেরার আকিদাও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ।